হোলিতে কুরুক্ষেত্র কুলটি, ঘায়েল পুলিশ আধিকারিক সহ বহু
প্রান্তভূমি ।। ৫ মার্চ::
হোলিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের গোলমাল ঘটে গেল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার কুলটি থানা এলাকায়। এখানকার করিমডাঙ্গাল অঞ্চলে দুটি এলাকার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে ৪ মার্চ। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে চোটগ্রস্ত হয়েছেন পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ মুখার্জি সহ অন্ততপক্ষে ৬ জন। সোমনাথ বাবুর মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তার চোখের নিচের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু বল প্রয়োগ করতে হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাথে স্থানীয় পুলিশের পিকেটিংও চলছে।
জানা গেছে এদিন দুপুরে করিমডাঙ্গাল এলাকার কিছু যুবক বক্সে গান বাজানোর সঙ্গে নাচতে নাচতে পাশাপাশি একটি বিশেষ অঞ্চলে চলে যায় এবং সেখানকার একটি ডাস্টবিনে ভাঙচুর চালায়। ঘটনাটি জানতে পেরেই অতি দ্রুত সেখানকার বিশাল সংখ্যক মানুষজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং হোলি খেলায় মত্ত যুবকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। হঠাৎ করেই সেখানে এরপর ইঁট পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়ে যায়। এমনকি কয়েকজনের আশঙ্কা যে দু'পক্ষের এই ঝামেলার মধ্যেই দেশি বোমা ছোঁড়া হয়, গুলি চলারও আওয়াজ পাওয়া যায় বলে তারা অনুমান করেন। এরপরই পুরো এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সেখানে চকোলেট বোম ফাটানো হয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন কিছু যুবক বক্সে গান বাজিয়ে নাচানাচি করছিলেন এবং রং খেলছিলেন। হঠাৎই দুই আড়াইশো মানুষ তাদের ঘিরে ধরেন এবং বোম গুলি চালানোর মত ঘটনাও ঘটে যায় বলে তাদের আশঙ্কা। এই ঘটনায় হোলি খেলায় যুক্ত থাকা যুবকদের মধ্যে জনা দশেক আহত হয়েছেন বলে তারা জানান। যদিও আর এক পক্ষ বলছেন জনা পনেরো যুবক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একটি ডাস্টবিন ভাঙচুর করার পর পাশের মসজিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা বড় আকার নিয়ে নেয়। এই ঘটনায় মসজিদ এলাকার জনা পাঁচেক মানুষ আহত হয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্বভাবতই এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপি তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের চেষ্টা শুরু করেছে। বিজেপি বলছে এই হিংসা আগাম পরিকল্পনা করে করা হয়েছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে। তবে বিজেপি এও বলেছে যদি প্রকৃতই দুষ্কৃতীরা এই কাজ করে থাকে তাহলে পুলিশকে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হোলির মধ্যে সামান্য একটি বিবাদ হঠাৎই উগ্ররূপ ধারণ করে। এক্ষেত্রে যারাই দোষী হোক না কেন তাদের যেন কড়া শাস্তি হয় সেই বিষয়টি তৃণমূলের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের ক্ষেত্রে কোন ধর্ম বা জাতি দেখার কোনরকম চেষ্টা যেন না করা হয় সেই আবেদন জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। আপাতত ঐ এলাকায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা মোতায়েন রয়েছেন।@প্রান্তভূমি
কল্যাণেশ্বরীতে পুজো দিয়ে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা শুরু
প্রান্তভূমি ।। ৫ মার্চ::
কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করল বিজেপি। আজ ৫ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ৯ টি জায়গা থেকে এই পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হয়েছে। ১০ মার্চ কলকাতায় একটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই পর্বের পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি হবে বলে জানা গেছে। এদিন কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে সকাল ১১ টা নাগাদ পুজো দেন বিজেপির নেতা-নেত্রী এবং কর্মীরা। ছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার, আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, বারাবনির বিধায়ক পদে লড়াই করা অরিজিৎ রায় সহ বাবন মন্ডল, গোপাল রায় ও অন্যান্যরা। সুসজ্জিত রথের আকারের গাড়িতে বিজেপি নেতারা এবং বাইকে সমর্থকেরা শোভাযাত্রা করতে করতে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া আল্লাডি হয়ে রূপনারায়ণপুরে পৌঁছান। এখানকার ডাবর মোড়ে মঞ্চ বাঁধা হলেও সেইভাবে কোন বড় সভা হয়নি। গাড়ির ওপর থেকেই বর্তমান তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধে বক্তব্য রাখেন অরিজিৎ রায়। অন্যদিকে গোপাল রায় বলেন পরিবর্তন যাত্রার পথটিকে সুসজ্জিত করতে বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পতাকা ফ্লেক্স রাস্তার ধারে লাগিয়েছিলেন, কিন্তু দুষ্কৃতীরা সেসব খুলে ফেলে দিয়েছে। এদিন তারা খবর পান বারাবনি ব্লক এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, সেজন্য ডাবর মোড়ে সভা তারা করলেন না। এরপর রূপনারায়ণপুর থেকে শোভাযাত্রা গৌরাঙ্গডি জামুড়িয়া হয়ে আসানসোলে শেষ হবে বলে গোপাল রায় জানান। কল্যাণেশ্বরীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৪০০ বিচারপতি কাজ করছেন, ফলে যাদের নথিপত্র ঠিক আছে তাদের নাম ভোটার তালিকায় ঠিকই উঠবে। এছাড়াও তিনি বলেন ৫ মে রাত বারোটার মধ্যে নতুন সরকার গড়তে হবে। কিন্তু তা না হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। বাংলার মানুষ সেই শাসনই চাইছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে মন্তব্য করেন। অগ্নিমিত্রা বলেন, শোনা যাচ্ছে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য পোলিং এজেন্টদের বুথের বাইরে বসানোর কথাবার্তা চলছে; কিন্তু তার বক্তব্য বাড়ি থেকে বুথ পর্যন্ত নির্ভয়ে যাতে ভোটাররা আসতে পারেন সেই ব্যবস্থা আগে করতে হবে।@প্রান্তভূমি
সিএলডব্লুকে গ্যারেজে পরিণত করার বিরুদ্ধে সিআরএমসি'র ক্ষোভ নতুন জিএমের কাছে
প্রান্তভূমি ।। ২৬ ফেব্রুয়ারি::
চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা দেশের বৃহত্তম এবং প্রথম ইঞ্জিন উৎপাদনকারী সংস্থা হওয়া সত্বেও এখন সেই কাজের পরিবর্তে ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্যারেজের মত বিশ্বখ্যাত এই কারখানাকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করল চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেস। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি সিএলডব্লুর নতুন জেনারেল ম্যানেজার মোহিত চন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিআরএমসি নেতৃত্ব বলেন কিভাবে আরো উন্নত মানের ইঞ্জিন বানানো যাবে সেই বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে চিত্তরঞ্জনকে "পিওএইচ" কাজে ব্যস্ত রাখার চক্রান্ত চলছে। অথচ এজন্য অতিরিক্ত কোন কর্মী দেওয়া হচ্ছে না। রেল বোর্ডের এই পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর এবং ভারতীয় রেল ও রেল কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে নতুন ইঞ্জিন উৎপাদনেই বেশি জোর দেওয়ার প্রয়োজন বলে জেনারেল ম্যানেজারকে সিআরএমসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়। সি আর এম সি নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং আরো বলেন, ক্রমাগত ইঞ্জিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এখানে বৃদ্ধি করা হচ্ছে কিন্তু কোভিডের সময় থেকে এই কারখানায় ৩ শিফটের ডিউটিকে দুই শিফটে নামিয়ে আনা হয়। সেই পরিবর্তন এখনো চলছে। তিনি বলেন তিন শিফট কাজ না হওয়ায় ইঞ্জিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেজন্য ৩ শিফট কাজের নিয়ম আবার ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা। এরই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসঙ্গ জেনারেল ম্যানেজারের সামনে আজ উত্থাপিত হয়। ইন্দ্রজিৎ বাবু বলেন সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। নির্বাচনের কাজে রেল কর্মীদের নিযুক্ত করা হবে। কিন্তু প্রতিবছরই কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তারা জেনারেল ম্যানেজারের কাছে দাবি জানান বয়স্ক এবং "মেডিক্যালি আনফিট" কর্মীদের যেন নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে টাউনশিপ মেনটেনেন্স এবং কোয়ার্টার অ্যালটমেন্ট সহ বিভিন্ন বিষয় তারা আলোচনায় নিয়ে আসেন। বিষয়গুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস জেনারেল ম্যানেজার তাদের দিয়েছেন বলে ইন্দ্রজিৎ বাবু জানান।@প্রান্তভূমি
বাবা মৃত্যুশয্যায়, কন্যা ছুটলেন সোনার দৌড়
প্রান্তভূমি ।। ২৬ ফেব্রুয়ারি::
বাবার মুখে হাসি ফোটাতে প্রাণ বাজি রেখে দৌড়ে চলেছেন তার আদরের মেয়ে। এমন মরিয়া দৌড় সেদিনও দৌড়েছিলেন প্রণমিতা। সবাইকে পিছনে ফেলে জিতেও নিয়েছিলেন সর্বভারতীয় অ্যাথলেটিক মিটের মহার্ঘ্য স্বর্ণপদক। কিন্তু তিনি জানতেন না তার দৌড়ের অন্যতম শক্তি, প্রেরণা তার বাবা তখন মৃত্যু শয্যায়। সুদূর শিলংয়ে যখন প্রণমিতা নিজেকে সফল প্রমাণ করে আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন ঠিক তখন দুর্গাপুরে তার বাবার প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেল। এমনই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল ডিভিসি'র পি টি ঊষা নামে খ্যাত প্রনমিতা চন্দ্রকে। বহুদিন ধরেই প্রণমিতা ডিভিসি মাইথন বিপি নিয়োগী হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছেন । কিন্তু তার লক্ষ্য ডিভিসি'র স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিজের কর্মজীবনকে পাকা করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারে বাবার সহায় হওয়া এবং বাবার ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে ভারত খ্যাত ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠা। এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণমিতা ডিভিসির বিভিন্ন কঠিন প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। ভারত সরকারের নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড-এর আয়োজনে পাওয়ার স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের সর্বভারতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় শিলং জয় করেন প্রণমিতা। তিনি ৮০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করার পাশাপাশি ২০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় প্রণমিতা মহিলা বিভাগের ফার্স্ট রানার আপের খেতাব জয় করেন। কিন্তু তার এই বহু প্রতীক্ষিত জয় দেখে যেতে পারলেন না দুর্গাপুর আরা কালিনগর এলাকার বাসিন্দা তরুণ চন্দ্র। পেশায় দর্জি তরুণবাবুর কন্যা প্রণমিতা। বাবা, মা, ভাইকে নিয়ে তার স্বপ্নের সংসার। এবার সেই স্বপ্ন সাকার করতে বাবা পাশে নেই, তাই চাপ আরও বেড়ে গেল। দায়িত্ব পালনের এই চাপ মাথায় নিয়েই প্রণমিতা দৌড়ের ট্র্যাককে নিজের সঙ্গী করে নিয়েছেন। দিনের পর দিন শাসন করে চলেছেন এই ট্র্যাককে। ডিভিসি অল ভ্যালি অ্যাথলেটিক মিটে (২০২৫-২৬) ৮০০, ৪০০ এবং ২০০ মিটার দৌড়ে একম অদ্বিতীয়ম হয়ে ওঠেন প্রণমিতা। তিনটি বিভাগেই স্বর্ণপদক জয় করে হয়ে ওঠেন চ্যাম্পিয়ন। এমন বহু প্রতিযোগিতায় নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন বাংলার পি টি ঊষা।
কিন্তু এমন দুর্ধর্ষ দৌড়বিদ হয়েও ডিভিসি'র চাকরি স্থায়ী হলো না পি টি ঊষা নামে পরিচিত প্রণমিতার। তবে, ছাড়ার পাত্রী নন অদম্য সাহসী এই কন্যা। বাবা নেই, কিন্তু লক্ষ্য তার স্থির।@প্রান্তভূমি
উদ্ধার খেঁসারিলাল, গ্রেফতার মাদারি কলন্দর::বন বিভাগের তৎপরতায় বন্দী জীবনের মুক্তি
প্রান্তভূমি ।। ২৫ ফেব্রুয়ারি::
অবশেষে উদ্ধার হল খেঁসারিলাল। আপাতত তার ঠিকানা আগ্রার পুনর্বাসন কেন্দ্র। সেখানে চিকিৎসা এবং পরিবেশগত সুবিধায় অভ্যস্ত হওয়ার পর পরিচিত জায়গায় ফিরে যাবে খেঁসারি লাল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার বন বিভাগ উদ্ধার করেছে। আসলে খেঁসারিলাল হল একটি ভালুকের নাম। তাকে অবৈধভাবে নিজের কাছে আটকে রেখে এক "মাদারি" খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করছিলেন বলে বন বিভাগ গোপন সূত্রে জানতে পারে। এরপরই আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি কারমাটার থানা এলাকার রতনডিহি গ্রামে হানা দেয় বন বিভাগ। সেখানে হাতেনাতে ধরা পড়ে মাদারির খেলা দেখানো মহম্মদ আনোয়ার কলন্দর। তার বাড়ি বিহারের বাঁকা জেলায়। এরপরই অবৈধভাবে বন্য জন্তু আটকে রাখা এবং তাকে রোজগারের উপায় করার অভিযোগে কলন্দরকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় খেঁসারিলাল তথা ভালুকটিকে। জানা গেছে দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় ভালুকের পুনর্বাসন কেন্দ্রটি অত্যন্ত কার্যকরী। তাই জামতাড়া থেকে খেঁসারিলালকে সেখানেই পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। অন্যদিকে বন্যজীব সংরক্ষণ আইনের আওতায় কলন্দরকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে বন দপ্তরের আধিকারিকেরা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলা বন্য জন্তুদের সাধারণভাবে আটকে রাখা কিংবা তাকে খেলা দেখানোর মতো কাজ করানোর ঘটনা দেখলে যেন বন দপ্তরে সংবাদ পাঠানো হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এইসব জীবজন্তুদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তাই তাদের সংরক্ষণের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গেই সচেতন মানুষজনকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে গ্রেফতার হওয়া কলন্দরের জীবিকার বিষয়টি এরপর কি হবে, তার পরিবারই বা কিভাবে চলবে সেই বিষয়ে কোন উত্তর নেই। বন্যজীব ভালুককে জনপ্রিয় নাম দিয়ে আদর করে ডাকা কলন্দরের পরিবারের সঙ্গেই খেঁসারিলালেরও পরবর্তী অবস্থা কি হবে সে বিষয়েও অনেকেই সন্দিহান।@প্রান্তভূমি
ফল ২৭শে, ৮ বছর পর হল মিহিজাম নগর পরিষদের ভোট গ্রহণ
প্রান্তভূমি ।। ২৪ ফেব্রুয়ারি: অত্যন্ত কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল মিহিজাম নগর পরিষদের ভোট গ্রহণ। ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোন পক্ষই তেমন কোন অভিযোগও তোলেননি নির্বাচনকে ঘিরে। উল্লেখ্য, ৮ বছর পর মিহিজাম নগর পরিষদের ভোট পর্ব সম্পন্ন হল। বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও করোনা লকডাউন ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এই সময় পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলে চলেছিলেন কমল গুপ্তা। এবার তার আসনটি মহিলা নির্ধারিত হওয়ায় তিনি নিজে ভোটে না দাঁড়ালেও নির্বাচনের ময়দানে পুরোপুরিই ছিলেন। উল্লেখ্য, এখানে কুড়িটি ওয়ার্ড সম্বলিত বোর্ডের প্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য পৃথক ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ভোটারেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে ব্যক্তি নামে ভোটে অবতীর্ণ হলেও কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীদের এই দ্বন্দ্ব বেশ কিছুটা বিজেপির দিকেই ঝুঁকে আছে। এবার ভোটের হার কিছুটা কমে ৬১% হয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭ হাজার ৫৬।
ওয়াকিবহাল মহল নগর পরিষদ দখলে বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাব কংগ্রেসকে সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন।
ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই ভোটের ফলাফল জানা যাবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। ঐদিন ভোট গণনা হবে জামতাড়ায়।@প্রান্তভূমি
বিষ্ফোরণে উড়বে আসানসোল আদালত - হুমকি-মেলে কাঁপুনি::খালি হয়ে গেল চত্বর, বন্ধ মামলা
প্রান্তভূমি ।। ২৪ ফেব্রুয়ারি::
হুমকি দেওয়া হয়েছিল বেলা একটায় আসানসোল আদালত বোম বিস্ফোরণের সাহায্যে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ভয়ংকর এই অঘটন ঘটানোর জন্য আগেই ১৫টি আর ডি এক্স বোম বিচারকের চেম্বার এবং আদালতের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে রাখা হয়েছে বলেও হুমকি-ইমেলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ১১ টি আইইডি ডিভাইসের মাধ্যমে সি-ফোর এবং আরডিএক্স সমৃদ্ধ বোমাগুলির বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে আসানসোল আদালতের কাজ যখন পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ঠিক তখনই ডিস্ট্রিক্ট জাজের মেলে বাংলায় লেখা এই আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ইমেল আসে। ভয়ানক এই মেসেজ দেখামাত্রই বিচারক সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি জানান। আসানসোল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অয়ন রঞ্জন মুখার্জি এ বিষয়ে অবহিত হন। এরপরই অতি দ্রুত আদালত কক্ষগুলি খালি করে দেওয়া হয়। আসানসোল জেল থেকে যেসব অভিযুক্তদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের সুরক্ষিত ভাবে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যেসব মামলাকারি আদালতে পৌঁছেছিলেন আইনজীবীদের সঙ্গেই তাদেরও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত চত্বরে তল্লাশিতে নামে পুলিশ, বোম স্কোয়াড এবং প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড। তারা চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন আদালতের প্রতিটি কোনায়। সকলেই প্রার্থনা করছেন এই হুমকি মেল যেন প্রকৃতই সত্যি না হয়। এদিকে এই ঘটনার জেরে আজ আসানসোল আদালতে কোনো মামলা হবে না বলে জানিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অয়ন রঞ্জন মুখার্জি। তিনি বলেন, আসানসোল আদালতের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না।
এদিকে বিচারকদের চেম্বার সহ পুরো আসানসোল আদালত বিস্ফোরণের জেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির সঙ্গে আই এস আই সেল এবং প্রাক্তন মাওবাদীদের নাম সংযুক্ত করে এই হুমকিকে আরো গুরুতর করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পুলিশ এই ইমেইলকে একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছেন না, তারা সম্ভাব্য সমস্ত প্রযুক্তি সহ আদালত চত্বরে তল্লাশি জারি রেখেছেন।@প্রান্তভূমি
দুয়ারে প্রিন্সিপাল::ডিএভি স্কুলের চেষ্টা বোর্ড পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল লাভ
প্রান্তভূমি ।। ১৪ ফেব্রুয়ারি::
একেবারে সকালে কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলতেই দেখেন বাইরে স্কুলের প্রিন্সিপাল দাঁড়িয়ে। তাঁকে দেখে হকচকিয়ে যান বাড়ির অভিভাবকের সঙ্গেই পড়ুয়াটিও। কারণ সক্কালবেলায় তাদের বাড়িতে স্বয়ং প্রিন্সিপাল ছুটে এসেছেন। আসলে এভাবেই আসন্ন বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন নিচ্ছে পড়ুয়ারা সেটাই খতিয়ে দেখতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন ডিএভি স্কুলের প্রিন্সিপাল ডক্টর পুনম সিং। তবে তিনি বিশেষ করে সেই সব ছেলেমেয়েদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন যারা কিছুটা হলেও কমজোরি হয়ে আছে। পরীক্ষার আর কয়েকটা দিন বাকি, সেই সময়টা পরীক্ষার্থীরা ঠিকমত ব্যবহার করছে কিনা সেটা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি তিনি এই সময়ে কোন কোন চ্যাপ্টারগুলিতে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে সেটিও বুঝিয়ে দিচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের। এখন আর এইসব ছেলে মেয়েরা নিয়মিত স্কুলে আসে না, বাড়িতেই তাদের প্রস্তুতি চলছে। তাই প্রিন্সিপাল নিজে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে ছেলেমেয়েদের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। ডক্টর সিংয়ের লক্ষ্য, তার স্কুলের সব ছেলে মেয়েই যেন বোর্ড পরীক্ষায় উজ্জ্বল ফলাফল করতে পারে। এজন্য চিত্তরঞ্জন কল্যাণগ্রাম রূপনারায়ণপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ম করে তিনি সকালবেলায় পৌঁছে যাচ্ছেন সহশিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে। তাঁর এই মানবিক প্রয়াসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা। তারা বলছেন পরীক্ষার আগে প্রিন্সিপাল তাদের ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি যেভাবে বিভিন্ন চ্যাপ্টার ধরে ধরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং বলে দিচ্ছেন পরীক্ষার ঠিক আগে কোন পদ্ধতিতে রিভিশন করতে হবে তা ছেলে-মেয়েদের কাছে অত্যন্ত উপযোগী হয়ে উঠছে। তারা বলেন অনেক সময়ই বাবা-মায়ের কথা ছেলেমেয়েদের কাছে একঘেয়ে লাগে, শাস্তি বলে মনে হয় কিন্তু পরীক্ষার আগে একটু বেশি করে পড়া এবং ঠিকমতো পড়া যে জরুরী সেটাই যখন স্কুলের প্রিন্সিপাল তাদের বাড়িতে এসে বলেন তখন ছেলে মেয়েরা আরও বেশি সতর্ক হয়। নিঃসন্দেহে এই প্রক্রিয়া তাদের রেজাল্ট উন্নত করতে সহযোগিতা করবে বলে তারা মনে করেন। এক অভিভাবক বলেন এই রাজ্য বিভিন্ন প্রকার সরকারি পরিষেবা দুয়ারে পৌঁছে যেতে দেখছেন, কিন্তু একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষা পরিষেবাও যে দুয়ারে পৌঁছে যায় তা ডিএভি স্কুল প্রমাণ করেছে। এ প্রসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় বসতে চলা প্রতিটি পরীক্ষার্থীই সমান মেধাবী নয় সেটা সকলেই জানেন, কিন্তু সকলেই যাতে সম্মানজনক ফলাফল করতে পারে সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই অধ্যক্ষা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছরও এমন উদ্যোগ স্কুলের অধ্যক্ষের তরফে রূপায়িত হয়েছিল। ভোর বেলায় পড়ুয়াদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছিলেন স্কুলের শিক্ষকেরা। এবার প্রিন্সিপাল স্বয়ং পৌঁছে যাচ্ছেন বিভিন্ন পড়ুয়ার বাড়িতে, যা তাদের অতিরিক্ত তাগিদ সৃষ্টি করছে আরো ভালো ফলাফল করার জন্য।@প্রান্তভূমি
নদীর জলে মৃত মাছের সারি:: তীর্থক্ষেত্র কল্যাণেশ্বরীতে দূষণের কালো ছায়া
প্রান্তভূমি ।। ১৩ ফেব্রুয়ারি::
দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র তথা পর্যটন এলাকা কল্যানেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন ঝর্ণার জলে প্রতিনিয়ত মিশছে রাসায়নিক মিশ্রিত বিষাক্ত পদার্থ। এর ফলে ওই জলের মাছ বাঁচতে পারছে না। সারি সারি মাছের মৃতদেহের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী চরম বিপন্ন হয়ে পড়ছেন। এই বয়ে যাওয়া জলস্রোতকে এলাকাবাসী চালনাদহি নদী বলে ডাকেন। সেই চালনাদহির জল দুর্গন্ধময় কালচে হয়ে উঠেছে স্থানীয় কারখানাগুলির অপরিশোধিত রাসায়নিক মিশ্রিত জল সরাসরি তাতে পড়ার ফলেই বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি বলেন এই জলস্রোত উচ্চ অংশের মহেশপুর জোড় থেকে নেমেছে। সেটি ক্রমশ বহমান হয়ে কল্যাণেশ্বরী মন্দিরের পাশ দিয়ে গিয়ে বরাকর নদে পড়েছে। চালনাদহির জল দূষিত হয়ে পড়া এবং সেই জলে থাকা মাছ সহ অন্যান্য প্রাণীকুলের জীবন সংকটময় হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
তবে এই বিষয়ে স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ যে, কল্যানেশ্বরী শিল্প তালুক এলাকার একাধিক কারখানার অপরিশোধিত জল সরাসরি নর্দমার মাধ্যমে এই নদীতে পড়ছে। কারখানাগুলি তাদের বর্জ্য জল পরিশোধিত না করেই সরাসরি নদীতে বইয়ে দিচ্ছে। এর ফলে আজ মাছ মরছে, কাল মানুষও মরবে বলে তাদের গুরুতর আশঙ্কা। কারণ তারা বলেন এই নদীর জল তারা দৈনন্দিন সমস্ত প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। এমনকি তীর্থক্ষেত্র কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে আগত পুণ্যার্থীরা এই জলকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করে স্নান করেন, মানত পূরণ করেন এবং বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যান। এই জল সরাসরি ব্যবহার করার ফলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রোগ বাসা বাঁধছে, বাড়ছে চর্মরোগ বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় মানুষজন বলছেন বহু কোটি টাকা ব্যয় করে কারখানাগুলি স্থাপিত হলেও তারা তাদের ব্যবহৃত জল পরিশোধন করার ব্যবস্থাকে কেন সচল রাখছেন না তা বিস্ময়কর। বিষয়টি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হলেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
দূষণের কবলে পড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জোড় তথা নদীটি কি ক্রমশঃ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আর যদি সেটাই হয়, তাহলে চালনাদহি নদীর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।@প্রান্তভূমি
দেশব্যাপী ধর্মঘটের সমর্থনে চিত্তরঞ্জনে দিনভর ধর্ণা
প্রান্তভূমি ।। ১২ ফেব্রুয়ারি::
দেশের প্রায় সবকটি ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনের ডাকে আজকের ধর্মঘটের সমর্থনে চিত্তরঞ্জনে সকাল ন'টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত গণ ধর্ণায় সামিল হল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তার পাশে এই গণধর্ণা চলে। দেশের অন্যত্র সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান থাকলেও পরীক্ষার মরশুম বলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। নয়া শ্রম কোড বাতিল করা, রেল সহ রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রকে বিক্রি না করা, পুরনো পেনশন প্রকল্প ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ সহ বিভিন্ন দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের পক্ষে রাজীব গুপ্ত স্নেহাশীষ চক্রবর্তী চিন্ময় গুহ, সিএলডব্লু আরইইউ-এর পক্ষে প্রদীপ ব্যানার্জি কৃশানু ভট্টাচার্য স্বদেশ চক্রবর্তী, সিএলডব্লিউ এমইউ-এর পক্ষে অর্ধেন্দু মুখার্জি ইউ হাঁসদা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, রিটায়ার্ড পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে নির্মল মুখার্জি অচিন্ত্য সূপকার এন বি সাহা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এই ধর্মঘট কেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল সেই প্রেক্ষাপট অত্যন্ত বিস্তৃত আকারে বক্তারা তুলে ধরেন। সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেই এর আগে শ্রমিকদের অধিকার অর্জিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই অধিকার রক্ষা করা এবং নতুন নামিয়ে আনা বিপত্তি গুলিকে সরানোর জন্য ধর্মঘট আন্দোলনের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়।@প্রান্তভূমি
আসানসোল-বোকারো মেমু ট্রেন চলাচল শুরু
প্রান্তভূমি ।। ৮ ফেব্রুয়ারি:: আসানসোল-বোকারো স্টিল সিটি মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়ে গেল। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রেনের ভার্চুয়ালি আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের দুটি ইস্পাত শহরের মধ্যে এই রেল যোগাযোগ দুই রাজ্যের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে । ৬৩৫৯১/৯২ ট্রেনটি রবিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন গুলিতে নিয়মিত যাতায়াত করবে। ট্রেনটি আসানসোল স্টেশন থেকে ছাড়বে সকাল ৭ টায়, এরপর আদ্রা না ঢুকে জয়চন্ডী পাহাড় হয়ে সকাল ন'টা পাঁচ মিনিটে ঢুকবে পুরুলিয়ায়, তারপর বোকারো স্টিল সিটি পৌঁছাবে সকাল ১১: ১৫ মিনিটে। ফিরতি পথে বোকারো থেকে ট্রেনটি ছাড়বে বিকেল তিনটে চল্লিশ মিনিটে, পুরুলিয়া পৌঁছাবে চারটে পঞ্চান্ন মিনিটে এবং আসানসোলে পৌঁছাবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। উল্লেখ্য, করোনার সময় দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতকারী অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই ট্রেনটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় এটি চালু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এই এলাকার ব্যবসায়ীদেরও বিশেষ উপকার হবে।@প্রান্তভূমি
সকাল থেকে বিকেল প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে ইসিএল
প্রান্তভূমি ।। ৬ ফেব্রুয়ারি::
আর্থিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে ইসিএল। ইসিএল-এর আবাসিক এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ এর ফলে ৯ ঘন্টা বন্ধ হয়ে যাবে। বিকট এই পরিস্থিতির শিকার মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরাও দিনের মুখ্য সময়ে ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকার অসুবিধায় পড়বেন। বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কার্যকরী না থাকার সম্ভাবনায় উদ্বেগে পড়েছেন মানুষজন। ই সি এল সাতগ্রাম এরিয়ার জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে সমগ্র খনি এলাকায়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে 'ডোমেস্টিক পাওয়ার সাপ্লাই' সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শাটডাউন করা হচ্ছে। কারণ বিদ্যুৎ খাতে টাকার অভাব। আরো বলা হয়েছে অবিলম্বে এই ব্যবস্থা এখনই কার্যকরী না করা হলে মার্চ মাস থেকে ডোমেস্টিক পাওয়ার সাপ্লাই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির সৃষ্টি কেন হলো তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন যে, সরকারি হাতে খনিগুলিকে তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসিএল এটা তারই কুফল। কেউ কেউ বলছেন ইসিএল কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি বা সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে যে অর্থ রেখেছে এখন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সেই অর্থ ব্যয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ জারি রাখুক। তাহলে পরীক্ষার মুখে হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে না।@প্রান্তভূমি
খুশির খবর, বন্ধ হচ্ছে না আমলাদহি পোস্ট অফিস::নির্দেশ জারি ডাক বিভাগের
প্রান্তভূমি ।। ৫ ফেব্রুয়ারি::
ফিরে এলো আমলাদহি পোস্ট অফিস। ধারাবাহিক আন্দোলন, প্রশাসনিক স্তরে নিবিড় তদ্বির এবং ক্রমাগত প্রচারের সুফল ফললো। আমলাদহি উপ ডাকঘরের আর স্থানান্তরিত হওয়া হলো না, রয়ে গেল পুরনো অবস্থানেই। মানুষের দাবিকে সরকার মান্যতা দিল, পোস্ট অফিসটির এখানে বিশেষ প্রয়োজনও ছিল বলে উল্লেখ করলেন আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট অফিসেস দেবরাজ শেঠি। মানবিক এই পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের তরফ থেকে শ্রী শেঠিকে ধন্যবাদ জানান হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ ঘোষ। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত। তিনি বলেন তাদের লড়াই আন্দোলনের জয় হল। অসুবিধার হাত থেকে রেহাই পেলেন বহু মানুষ। আজ ৫ ফেব্রুয়ারি এস এস পি'র জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে (নং ইএসটি/ রিভিউ/এ্যবোলিশন/কারেকশন, তারিখ ৫/২/২০২৬) উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টমাস্টার জেনারেলের সম্মতির ভিত্তিতে আসানসোল ডিভিশনের দুটি পোস্ট অফিসের স্থানান্তরের নির্দেশ স্থগিত করা হচ্ছে। সেগুলি হল পলাশবাগান সাব পোস্ট অফিস এবং আমলাদহি সাব পোস্ট অফিস। এর ফলে আমলাদহি পোস্ট অফিসটিকে চিত্তরঞ্জন প্রধান পোস্ট অফিসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল সেটি স্থগিত হলো। পুনরায় আমলাদহি এলাকার ২২ নম্বর রাস্তার রেল আবাসনেই সুদীর্ঘকাল ধরে থাকা পোস্ট অফিসের কাজ আগের মতোই চলবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখ একেবারে হঠাৎ করে আমলাদহি পোস্ট অফিসটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চিত্তরঞ্জনের পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন প্রধান ডাকঘরে। এর ফলে চূড়ান্ত অসুবিধার সম্মুখীন হন হাজার হাজার গ্রাহক। তারা আমলাদহি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের মেন পোস্ট অফিসে যেতে অরাজি হন। বিষয়টি নিয়ে সেদিন থেকেই আন্দোলনে নামেন লেবার ইউনিয়ন নেতাকর্মীরা। তারা ধারাবাহিক আন্দোলনের পাশাপাশি হুমকি দিয়েছিলেন যে, আমলাদহি পোস্ট অফিসটিকে বন্ধ করে দিলে তারা মেন পোস্ট অফিসের কাজকর্মও বন্ধ করে দেবেন। এদিকে পোস্ট অফিসটিকে আমলাদহিতেই রেখে দেওয়ার দাবি জানিয়ে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা কর্তৃপক্ষ, আসানসোল ডিভিশনের এসএসপি এবং কলকাতায় পোস্টমাস্টার জেনারেলের কাছে আবেদন পাঠান হিউম্যান রাইটস কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ ঘোষ। মানুষের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট অফিসটিকে পুরনো অবস্থানেই রাখার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেস কর্তৃপক্ষও। এই বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয় প্রান্তভূমির ডিজিটাল এবং মুদ্রিত সংস্করণে। এদিকে ক্ষুব্ধ মানুষজন পোস্ট অফিসের দরজায় তালাও লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আসানসোল ডিভিশনের এক কর্মকর্তা সেই ঘটনা সরেজমিনে দেখতে এসেও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে আর আসেননি। শেষ পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পোস্ট অফিসটিকে পুরনো জায়গাতেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ডাক বিভাগ। এর ফলে আমলাদহি পোস্ট অফিস অবলুপ্তির হাত থেকে রেহাই পেল। একই সঙ্গে আমলাদহি বাজারের শত শত ব্যবসায়ী, চিত্তরঞ্জন রেল শহরের চারের পল্লী ছয়ের পল্লী এবং পাঁচের পল্লীর বিরাট অংশের মানুষজন ও চিত্তরঞ্জন স্নিহিত কল্যাণগ্রাম অরবিন্দ নগর নেতাজিকলোনি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার গ্রাহকের বড় অসুবিধা লাঘব হল। এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ ঘোষ বলেন সঠিক বিষয় সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে পারলে সরকারি বিভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে পোস্টমাস্টার জেনারেল এবং সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট অফিসেস যেভাবে মানুষের কথা বিবেচনা করলেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পোস্ট অফিস তার পুরনো জায়গাতেই থাকছে জানতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত এখানকার দীর্ঘদিনের গ্রাহকেরা। এই পোস্ট অফিসের বহু পুরনো গ্রাহক ডঃ সুজিত কুমার কর্মকার বিষয়টি জানতে পেরেই সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যান পোস্ট অফিসে। তিনি বলেন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উপযোগী হল হাজার হাজার গ্রাহকের জন্য। সিআরএমসি নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং ডাক বিভাগকে সময়োচিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।@প্রান্তভূমি
তিনটি আধার কেন্দ্র পেতে চলেছে চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর
প্রান্তভূমি ।। ৪ ফেব্রুয়ারি::
প্রা:প্র:: চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর সন্নিহিত এলাকা খুব শীঘ্রই তিন তিনটি আধার কেন্দ্র পেতে চলেছে। আমলাদহি ডাকঘর চিত্তরঞ্জন মূল ডাকঘরের সাথে মিশে যাওয়ার পর আধার কেন্দ্রের অপ্রতুলতা ও ফলত: সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা জানিয়ে অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস সালানপুর ব্লক-এর পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি জানান আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট অফিসেস দেবরাজ শেঠি। তিনি জানান রূপনারায়ণপুর, হিন্দুস্তান কেবলস এবং চিত্তরঞ্জন প্রধান ডাকঘরে এই আধার কেন্দ্রের সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়াও বরিষ্ঠ নাগরিকদের সুবিধার জন্য হিন্দুস্তান কেবলস পোস্ট অফিসে দেওয়া হবে বসার জন্য নতুন চেয়ার। শ্রী শেঠি জানান, এই মুহূর্তে সারা দেশের ডাক বিভাগে আর্থিক বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। কিন্তু কর্মী কম থাকায় সুষ্ঠুভাবে কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না বলে এসএসপি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি চারশো খালি পদের বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তবে, লিফলেট বিলি; ব্যানার প্রদর্শন ইত্যাদি করে গ্রাহক সংখ্যা বাড়াবার প্রচেষ্টা চলছে। সার্বিক খরচ আরো কমাবার জন্য বিভিন্ন ডাকঘরের অদল বদল করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তার আশ্বাস পোস্ট অফিস তার এলাকার সমস্ত মানুষকে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে - যা সব সময় বজায় থাকবে।(ছবিতে একেবারে বাঁদিকে এসএসপি)@প্রান্তভূমি
ওসির বাড়িতে ইডির হানা:: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে তিন বস্তা টাকা নথি সঙ্গে নিয়ে ১২ ঘন্টা পর বেরলো বাহিনী
প্রা:প্র:: দিনভর তল্লাশি শেষে দৃশ্যত যা দেখা গেল তা হল চালের তিনটি বস্তা ভর্তি নগদ টাকা এবং নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেলেন ই ডি আধিকারিকেরা। কিন্তু সকাল থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে বিভিন্ন বাড়ি কার্যালয় ইত্যাদিতে অভিযান শেষে ই ডি ঠিক কি সাফল্য পেল তা খোলসা করেনি। উল্লেখ্য, আজ ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার দুর্গাপুর এবং আসানসোল অঞ্চল মিলিয়ে একযোগে নয়টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করে ইডি সকাল ছয়টা থেকেই। এবং এই অভিযান তারা শেষ করে প্রায় 12 ঘন্টা পর সন্ধ্যায়। যে সকল ব্যক্তির বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি হয়েছে তারা সকলেই কয়লা বালি পাচার এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। অবৈধ কয়লা বালি পাচারের টাকা হাওলার মাধ্যমে কোন পথে কোথায় পাঠানো হয়েছে, কারা পেয়েছে সেইসব অর্থের ভাগ, এই কাজ করতে গিয়ে কাদের প্রোটেকশন মানি দেওয়া হতো সেই সবের খোঁজেই ইডির এই তল্লাশি বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
এদিন জামুড়িয়ার ব্যবসায়ী রমেশ বনশলের বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণ নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করার পর সেই টাকা গুনতে স্থানীয় স্টেট ব্যাংকের কর্মীদের যন্ত্রসহ ওই বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
এছাড়াও ইডির অন্য দল হানা দেয় অন্ডালের বক্তারনগর, পাণ্ডবেশ্বরের নবগ্রাম এবং জামুড়িয়া থানা ও রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় সংলগ্ন একাধিক জায়গায়। বক্তারনগরে কিরণ খাঁ নামে এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেওয়ার পিছনে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দামোদর নদ থেকে অবৈধ উপায়ে বালি তুলে পাচারের অভিযোগ আছে। অন্যদিকে জামুড়িয়ার ব্যবসায়ী রমেশ বনশল ও তার দুই পুত্র সুমিত এবং অমিত বনশলের বাড়িতে হানা দেয় ইডি, আগে তারা অবৈধ কারবারে জড়িত ছিল বলে ইডি অভিযোগ পায়। এছাড়াও পাণ্ডবেশ্বর থানার নবগ্রামে শেখ মইজুল শা নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির দল। আসানসোলের কালীপাহাড়ি এলাকায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অংশীদারী ছাড়াও উখড়া শংকরপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় তার বহুতল শপিং কমপ্লেক্স আছে বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপের বাসিন্দা প্রবীর দত্তের বাড়িতে, ১১ মাইলের বাসিন্দা গৌতম দেবনাথ, শেখ হাসান মির্জা বেগ ও উত্তম কেশের বাড়িতে এবং কার্যালয়ে অভিযান চালায় ই ডি। অভিযান চলে দুর্গাপুর সিটি সেন্টার সংলগ্ন আম্বেদকর সরণি এবং কাঁকসা থানার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বাইপাসের ধারে একটি বাড়িতে। যদিও সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলে দুর্গাপুরের অভিজাত বেঙ্গল অম্বুজা এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশীর ঘটনা। এই বাড়িটি পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মন্ডলের। বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন এক রাজনৈতিক নেতার জন্মদিন থানার ভেতরেই পালন করে তিনি পুলিশের উচ্চ মহলে তিরস্কৃত হন। তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে থানার দায়িত্ব না দিলেও কমিশনারেটে অন্য দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি দিন কয়েক আগে তাকে বুদবুদ থানার ওসি পদে নিযুক্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে যোগদানের আগেই তার বাড়িতে ইডি হানা দিল। উল্লেখ্য, বুদবুদ থানার বর্তমান ওসি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়েছেন, কিন্তু তার স্থানান্তর না হওয়ায় মনোরঞ্জন মন্ডল সেখানকার ও সি পদে যোগ দিতে পারেননি।
এখন দেখার পশ্চিম বর্ধমান জেলার এতগুলি জায়গায় এক সঙ্গে ইডির অভিযান শেষ পর্যন্ত কোন তথ্য সামনে নিয়ে আসে। তবে এদিন কলকাতা দিল্লিতেও ইডি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
পরপর চারদিন ছুটির পর ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পঞ্চম দিনে:: দাবি আদায়ে অনড় ইউনিয়ন
প্রান্তভূমি ।। ২৩ জানুয়ারি::
পরপর চার দিন ছুটির পরের দিনই দেশের সমস্ত ব্যাংকে ধর্মঘট হতে চলেছে। এবার সরকারি বেসরকারি ব্যাংক সহ সমস্ত প্রকার এটিএমও ২৭ জানুয়ারি এর ফলে স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে যাদের নগদ অর্থের প্রয়োজন তারা ২৬ জানুয়ারি তা এটিএম থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। জানা গেছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যাকে সমর্থন করেছে দেশের সমস্ত ব্যাংক এবং তাদের সংগঠনগুলি। ধর্মঘট এড়াতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস কেন্দ্রীয় লেবার কমিশনের সঙ্গে পরপর দু'দিন বৈঠকে বসলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে ২৭ জানুয়ারির প্রস্তাবিত ধর্মঘট এক প্রকার অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস-এর পশ্চিমবঙ্গের আহ্বায়ক সুদীপ দত্ত বলেছেন দেশের সরকার তাদের সঙ্গে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকে কাজের বিষয়টিতে চুক্তি করলেও নানান বাহানায় তা লাগু করছেন না। ২৭ জানুয়ারি ধর্মঘটে যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য হল ব্যাংকে কাজের দিন সপ্তাহে পাঁচ দিন নির্দিষ্ট করা। এ বিষয়ে তিনি বলেন আগে প্রতি শনিবার ব্যাংকে অর্ধ দিবস কাজ হত। ২০১৫ সালে চুক্তির মাধ্যমে মাসের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার ছুটির সঙ্গেই অন্য শনিবারগুলিতে পুরো দিন কাজ করতে হয়। সেই সময়েই ইউনিয়নের দাবি ছিল সপ্তাহে ৫ দিন কাজের দিন হিসেবে স্থির করতে হবে। সরকার এই দাবিতে সম্মতি জানালেও তা রূপায়িত হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৮ বছর পর ২০২৩ সালে সব পক্ষকে নিয়ে ৫ দিন সপ্তাহে কাজের বিষয়টিতে সব পক্ষ চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু সেই চুক্তি সরকার ফাইলবন্দি করে রেখে দিয়েছেন। চুক্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে একাধিক আলোচনা হলেও তা কার্যকরী না হওয়ায় গত বছর(২০২৫) মার্চে দুদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ইউনিয়ন। কিন্তু সে সময় ধর্মঘট আটকাতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস-এর দাবিকে দ্রুত কার্যকরী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও সেই বিষয়ে সরকার টালবাহানা করতে থাকায় ২৭ জানুয়ারি এই দাবি পূরণে ধর্মঘটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই বলেই সুদীপবাবু জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন এবারও ধর্মঘট রুখে দিতে দিল্লিতে চিফ লেবার কমিশনার সোনাল মিশ্র আলোচনায় বসেছিলেন। ২২ এবং ২৩ জানুয়ারি সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রক বিভিন্ন ব্যাংক আইবিএ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নসের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। কিন্তু এই বৈঠকও নিষ্ফলা রয়ে যায়। এরপরই ২৭ জানুয়ারির ব্যাঙ্ক ধর্মঘট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে । সুদীপবাবু বলেন সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে অতিরিক্ত ৪০ মিনিট করে ব্যাংকিং আওয়ার্স বৃদ্ধি করে গ্রাহক পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নিলেও সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের বিষয়টি সরকার মেনে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন এটি সব পক্ষকে নিয়ে বিশদে আলোচনার পর চুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকর না করার অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য সমস্ত পক্ষগুলিকে অবমাননা করা। তাই নিজেদের সম্মান এবং দাবী আদায়ে তারা গ্রাহকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করেও ধর্মঘটের পথেই যেতে বাধ্য হলেন বলে সুদীপবাবু জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন ইতিমধ্যেই এলআইসি রিজার্ভ ব্যাংক নবার্ড-এর মতো সংস্থায় সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ হয়। সেই একই চুক্তির আওতায় ব্যাংকগুলি থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকরী করার কোন সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না সরকার ।
২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো এবং নেতাজি জয়ন্তী, ২৪ তারিখ চতুর্থ শনিবার, ২৫ তারিখ রবিবার, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটির পর ২৭ তারিখ ধর্মঘটের কারণে ব্যাংক এবং এটিএম পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে , ফলে গ্রাহকেরা অসুবিধায় পড়বেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন এলাকার এস বি আই সহ প্রায় ১০টি ব্যাংকের শাখা এবং এটিএমগুলিও ২৭ তারিখ বন্ধ থাকবে বলে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যাদের নগদ অর্থ অত্যন্ত প্রয়োজন তারা যেন এর মধ্যেই তা সংগ্রহ করে রাখেন সেই আবেদনও করা হয়েছে।@প্রান্তভূমি
.
.
কেবলস পরিদর্শনে কেন্দ্র-রাজ্য উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল:: নতুন করে শিল্প সম্ভাবনা
প্রান্তভূমি ।। ১৯ জানুয়ারি:: বেশ কিছুদিন চাপা পড়ে থাকার পর হিন্দুস্তান কেবলসে আবার নতুন করে শিল্প সম্ভাবনা জেগে উঠলো। আজ ১৯ জানুয়ারি সরাসরি দিল্লি থেকে হিন্দুস্তান কেবলসে পৌঁছে গেলেন ভারী শিল্প দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি কে ডি প্রসাদ। একইসঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকেরা। দু'ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ পরিদর্শন বহুদিন পর ঘটল। হিন্দুস্তান কেবলসে বিগত এক দশকে আন্ডার সেক্রেটারির মতো পদস্থ কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকের আগমন এই প্রথম। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে কেবলস এলাকার দুটি মৌজার অত্যন্ত লোভনীয় বিশাল এলাকা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হতে চলেছে। এই জমিতে একাধিক বড় সংস্থা তাদের উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে তদ্বির করেছিল এবং রাজ্য সরকার সেই উদ্যোগকে রূপায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অনুমান। জানা গেছে মাস কয়েক আগে থেকেই ভেতরে ভেতরে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকেরা আগেই এখানকার জমি সম্বন্ধে খুঁটিনাটি তথ্য নিয়ে রেখেছিলেন। আজ দেশবন্ধু পার্ক সংলগ্ন বিশাল ফাঁকা জায়গা এবং আপারকেশিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন জলাধার ঘেঁষা এলাকা পরিদর্শন করেন অতি উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধিদল। উৎসাহী মানুষজন তাদের দেখার জন্য ভিড় করেছিলেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভারি শিল্প মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি কে ডি প্রসাদ, হিন্দুস্তান কেবলসের পক্ষে ডি সামন্ত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আর এন ওঝা, রাজ্য সরকারের ভূমি দপ্তরের এ ডি এস আর কুলটি দেবাশীষ সাউ, বর্ধমান রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন বিভাগের আধিকারিক অশোক কুমার বিশ্বাস এবং সুরজিৎ রায়চৌধুরী।
জানা গেছে, এখানকার জমির মানচিত্র ধরে আগেই কোন কোন প্লট সরকার আপাতত নিতে চাইছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। এদিন বড়মুড়ি এবং জোড়বাড়ি মৌজার ওইসব এলাকা সরেজমিনে দেখলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই জমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকার নেওয়ার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বাজারদর অনুযায়ী নির্দিষ্ট জমির মূল্যায়ন এবং পরবর্তীতে তা রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে। আজকের এই পরিদর্শনের ফলে প্রায় হাজার একর জমি সহ পড়ে থাকা হিন্দুস্তান কেবলসে নতুন করে আবার শিল্প সম্ভাবনা দেখা দিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী। উল্লেখ্য, এর আগে দেশের একাধিক আধা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখানকার জমি পরিদর্শন করা হয়। সেই বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে দু একটি বিষয় অনুমোদনের বিলম্বে যাবতীয় প্রক্রিয়া থেমে আছে।@প্রান্তভূমি
শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের, বিধায়ক বললেন দায়ী নির্বাচন কমিশন
প্রান্তভূমি ।। ১৮ জানুয়ারি::
সালানপুর ব্লকে এস আই আর- এর বলি হলেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। ওই ব্যক্তি এবং তার ছোট মেয়ের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, ডাক পেয়েছিলেন শুনানিতে। কিন্তু এ্যডমিট কার্ড নেওয়া হচ্ছে না, পিএফ পেনশন বুকও যথাযথ নথি নয় - এইসব নানান গরমিলের মাঝে পড়ে ভয়ংকর চাপ অনুভব করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ঐ বৃদ্ধ নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা হা-হুতাশ করছেন।
অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এই অঘটন ঘটেছে আজ ১৮ জানুয়ারি বেলা বারোটা নাগাদ হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন অরবিন্দ নগরের ৭ নম্বর রাস্তায়। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রাক্তন কর্মী নারায়ণ চন্দ্র সেনগুপ্ত (৭০) পরিবার নিয়ে এখানেই দীর্ঘকাল বসবাস করছেন। তার তিন মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার। তিন মেয়েই বিবাহিতা। কিন্তু ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর পর নারায়ণ বাবু জানতে পারেন তার এবং তার ছোট মেয়ে দুজনের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে তিনি যথেষ্ট চাপে পড়ে গিয়েছিলেন বলে তার বন্ধু-বান্ধবেরা জানাচ্ছেন। প্রায়ই এই বিষয়টি তিনি তাদের কাছে উল্লেখ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত কি হবে তাই নিয়ে ঘাবড়ে থাকতেন। সংশ্লিষ্ট বি এল ও শান্তনু দাসকেও তিনি শুনানিতে ডাক পাওয়ার বিষয়টি জানালে শান্তনু বাবু তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন তিনি শুনানির সময় থাকবেন কোনো অসুবিধা হবে না। এদিকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার অবসরপ্রাপ্ত অন্যান্য সংগীদের কাছেও সান্ধ্য আড্ডায় এই বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার আলোচনা করেছেন। যদি তার কাছে থাকা তথ্য কমিশনের লোকজন মেনে না নেন তাহলে তার এবং তার ছোট মেয়ের কি হবে সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। নারায়ণ বাবুর প্রতিবেশী সমাজকর্মী প্রিন্স দাস বলেন দিন তিনেক ধরেই নারায়ণ বাবু অত্যন্ত চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। আজ সকালে তিনি পাড়ার সেলুনে দাড়ি কাটিয়েছেন। তারপর রবিবারের সকাল হওয়ায় দস্তুর মতো বাজার করেছেন। এরপর দোতলা বাড়ির নিচের তলায় স্ত্রী এবং ছোট কন্যার হাতে বাজারের থলে দিয়ে উপর তলায় গেছেন। সেখানেই নারায়ণ বাবু বিছানার চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি স্থানীয় মানুষজন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। যদিও সকলেই তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, শুনানিতে বহু মানুষ ডাক পেয়েছেন - সেই রকম তিনিও পেয়েছেন এতে অসুবিধার কিছু নেই। কিন্তু এই চাপ সহ্য করা তার কাছে মুশকিলের হয়ে উঠেছিল বলে তারা মনে করছেন। এদিকে দেখা যাচ্ছে ২০০২ ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট বুথে ১০০২ সিরিয়াল নম্বরে তার মেয়ের নামের পাশে পিতা হিসেবে নারায়ণ বাবুর নাম উল্লেখ করা আছে। যদিও সেই তালিকায় নারায়ণ বাবুর নিজের নামটি নেই। এই ঘটনা নানান রকম বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং নির্বাচন কমিশনের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও শুনানিতে তথ্য হিসেবে জমা দেওয়া নথিপত্রের ঘন ঘন পরিবর্তনই দায়ী বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। চরম এই ঘটনায় তার অসুস্থ স্ত্রী বাকরোহিত হয়ে পড়েছেন, শোকে পাথর হয়ে গেছেন তার কন্যা। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় বলেন শুনানির নামে বারবার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের এবং মহিলাদের মারাত্মক চাপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। বিধান বাবু বলেন এত কম সময়ে তাড়াহুড়ো করে এসআই আর না করে অন্তত পাঁচ ছয় মাস সময় ধরে এটি করা হলে মানুষজন এমন আতঙ্কিত হতেন না। তিনি আরো বলেন এসআইআরের পর নির্বাচন করার যদি চিন্তাভাবনা কমিশন করেছিল তাহলে এই প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু করতে হতো। @প্রান্তভূমি
.
.
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসা যৌনকর্মীর পাসপোর্ট জাল নথিপত্রে পাইয়ে দিয়ে গ্রেফতার দেন্দুয়ার যুবক
প্রান্তভূমি ।। ১১ জানুয়ারি::
২০২২ সালের একটি পাসপোর্টের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখার। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এদেশে নিয়ে আসা এক কিশোরী যৌনকর্মীর ওই পাসপোর্ট জাল নথিপত্রের সাহায্যে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সালানপুর থানার দেন্দুয়ার বাসিন্দা এক যুবক পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আজ ১১ জানুয়ারি ধৃত যুবক ছোটন সেনকে আসানসোল আদালতে তোলে সালানপুর পুলিশ। তবে, পুরো ঘটনাক্রম সিনেমাকেও হার মানাবে।
জানা গেছে ২০২২ সালে ময়না সেন ওরফে কলি'র নামে একটি পাসপোর্ট আবেদনের (ফাইল নম্বর সিএ০১সি৫০৮৯৬২৮১২২) পুলিশ ভেরিফিকেশনের যাবতীয় তথ্য পুনরায় যাচাই করার জন্য এফ আর ও বা বিদেশি নিবন্ধন অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা ময়না ওরফে কলির পাসপোর্ট আবেদনপত্র, বার্থ সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ করা ছোটন সেন-এর যাবতীয় নথিপত্র ও ময়নার বাবা হিসেবে উল্লেখ করা উৎপল সেন ও শুভঙ্করী সেনের সমস্ত নথিপত্র যাচাই করার কাজ শুরু করে। পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য এইসব তথ্যের সঙ্গেই দেওয়া হয়েছিল একটি গ্যাসের বিলও। যেটি ছিল ছোটন সেনের নামে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তদন্তকারী অফিসার পাসপোর্ট প্রাপক ময়না সেন সহ সকলকেই নোটিশ পাঠান যাবতীয় তথ্য সহ দেখা করার জন্য। এই নোটিশ ময়নার উল্লেখ করা ঠিকানায় দিতে গিয়ে ওই আধিকারিক ময়নাকে সেখানে না পেয়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়ে দেন ছোটন সেন আগেই বিবাহ করেছে, তার স্ত্রীর নাম কবিতা সেন। তাদের দুটি কন্যাও আছে। ময়নার বাবা হিসেবে ছোটন যাদের পাসপোর্টের নথিতে উল্লেখ করেছে তারা আসলে ছোটনের কাকা ও কাকিমা। ছোটনের কাকা দেন্দুয়া নিবাসী উৎপল সেনের দুই পুত্র থাকলেও কোন কন্যা নেই। এই তথ্য পাওয়ার পরেই তদন্তকারী আধিকারিক ৩ নভেম্বর সকলকে এফআরও অফিসে ডেকে পাঠান। ঐদিন সেখানে ছোটন, উৎপল সেন এবং শুভঙ্করী সেন উপস্থিত হলেও ময়না অনুপস্থিত ছিল। এই সময় জিজ্ঞাসাবাদে উৎপলবাবু এবং শুভঙ্করীদেবী জানিয়ে দেন, ময়না সেন নামে তারা কাউকে কোনদিনই চিনতেন না। তাদের যাবতীয় তথ্য জাল করে তাদের ভাইপো ছোটন ময়নার পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে দিয়েছে। এরপরই আসল রহস্য বেরিয়ে আসে ছোটনের মুখ থেকে। দেন্দুয়ার বাসিন্দা ছোটন তদন্তকারী আধিকারিককে জানিয়ে দেন ময়না বা কলি তার স্ত্রী নন, প্রেমিকা এবং লিভ ইন পার্টনার। ছোটন জানায়, লছিপুর নিষিদ্ধপল্লী এলাকায় ২০১৯ সালে ময়নার সাথে তার সংযোগ ঘটে এবং তার প্রেমে পড়ে যায়। ময়না ছোটনকে জানায় যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এই দেশে এনে এক দালাল তাকে বিক্রি করে দেয় এবং পরবর্তীতে সে যৌন পেশায় যুক্ত হয়ে পড়ে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাকে এদেশে আনা হয়েছিল। এদিকে ময়নার প্রেমে পড়ে ২০২০ সালে ছোটন তার বিবাহিতা স্ত্রী কবিতা সেনকে ছেড়ে ময়নার সাথে লছিপুর গেট সংলগ্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। এই সময় কলি ছোটনকে অনুরোধ করে তার পাসপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করার জন্য। ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে ছোটন এরপরই তার কাকা ও কাকিমার আধার কার্ড ভোটার কার্ড ইত্যাদি হাতিয়ে নেয় এবং ময়নার বাবা-মা হিসেবে তাদের উল্লেখ করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে। যদিও এসবের বিন্দু বিসর্গ জানতেন না ছোটনের কাকা কাকিমা। তারা বলেন যৌথ পরিবার ভাগ হওয়ার পর তাদের ভোটার কার্ড আধার কার্ড জেরক্স করানোর জন্য ছোটনকে দিয়েছিলেন, সেই সময়েই ছোটন সেগুলির একাধিক কপি নিজের কাছে রেখে দেয়। তবে অবৈধ এই কাজে বিভিন্ন জায়গায় টাকা খরচ করে ছোটন এবং সেই টাকা যোগায় ময়না। তদন্তকারী আধিকারিক জানতে পারেন প্রথমে ময়নার নামে অবৈধ উপায়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে বার্থ সার্টিফিকেট জোগাড় করে ছোটন। এরপরই একে একে ময়নার আধার কার্ড রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ভোটার কার্ড প্যান কার্ড বানিয়ে নেয় অবৈধ উপায়ে টাকার বিনিময়ে। এজন্য একাধিক দালালকে সে যথেষ্ট টাকা দেয়। প্রাথমিক এইসব নথিপত্র হাতে নিয়ে ২০২২ সালে ময়না পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে এবং তা পেয়েও যায়। ভারতীয় সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ময়না এবং ছোটন একাধিকবার ময়নার বাড়ি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জেও যায়। এদিকে ময়না মুসলিম ধর্মাবলম্বি এবং তার আসল নাম ঠিক কি তা ছোটনের জানা ছিল না বলে সে তদন্তকারী আধিকারিককে জানায়। বিস্তারিত এই তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে ময়না ওরফে কলি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসে এবং জাল নথিপত্রের সাহায্যে ভারতের পাসপোর্ট জোগাড় করে। এই অবৈধ কাজে তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে ছোটন। ছোটনের দেওয়া ময়নার মোবাইল নম্বর এখন সুইচড অফ এবং ময়নাও বেপাত্তা।
গুরুতর এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই সালানপুর পুলিশ দেন্দুয়ার বাসিন্দা ছোটন সেনকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় (সালানপুর পি এস কেস নাম্বার ১৮৫/২৫, আন্ডার সেকশন ৩১৯ (২)/ ৩১৮ ( ৪), ৩৩৬ (২)(৩)/ ৩৩৮ /৩৪০ (২)/ ৬১ (২) বিএনএস এ্যক্ট ২০২৩) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার, ছোটনকে এই অবৈধ কাজে কারা কিভাবে সহযোগিতা করেছিল, কোথায় কত টাকা সে দিয়েছিল তারা সামনে আসে কিনা। তাছাড়া প্রথমবার পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য যে কাজ হয়েছিল তা কতটা সঠিক ছিল তাও এবার তদন্তকারীদের আওতায় আসে কিনা!(ছবিতে গ্রেফতার হওয়া যুবক ছোটনকে {লাল টুপি পরে} সালানপুর থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে)@প্রান্তভূমি
সিএলডব্লুর অফিসার পেলেন অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার
প্রান্তভূমি ।। ১০ জানুয়ারি::
চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ইতিহাসে সম্মান প্রাপ্তির বিরল নজির স্থাপিত হলো। এই সংস্থার ডেপুটি চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার/লোকো হরিওম চৌহান ভূষিত হলেন "অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার ২০২৫" সম্মানে। ভারতীয় রেল প্রদত্ত অত্যন্ত সম্মানীয় এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ৯ জানুয়ারি নতুন দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী তথা তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৭০-তম এই অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার প্রাপকদের হাতে তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন রেলের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা জল শক্তি মন্ত্রী ভি সোমান্না, রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার সহ রেলবোর্ডের সদস্যরা এবং বিভিন্ন রেল জোন ও প্রোডাকশন ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজারেরা।
কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং অন্যদের কাছে উদাহরণ সৃষ্টিকারী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতেই সারা দেশ থেকে ১০০ জন সুদক্ষ রেলকর্মী এবং আধিকারিককে এই সম্মান দেওয়া হয়। কর্মীদের উদ্বাবনী ক্ষমতা, কাজের দক্ষতা, সুরক্ষা, নিরাপত্তা, সংস্থার আয় বৃদ্ধিতে যোগদান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা, ক্রীড়া ক্ষেত্রে নজির রাখা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরাদের সারা দেশ থেকে নির্বাচিত করা হয় মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের জন্য। দেশের ১০০ জন পুরস্কৃতের মধ্যে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার হরিওম চৌহান এই পুরস্কার অর্জন করেছেন তার অনন্য দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে। এই পুরস্কার সমগ্র সিএলডব্লু পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বলে উল্লেখ করেন সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার অনিল কুমার গুপ্তা। তিনি এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য যেমন শ্রী চৌহানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তেমনই ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় রেলকেও।@প্রান্তভূমি
মালবহাল থেকে সোজা ভারতের জাতীয় দলে জায়গা করে নিল সোনালী::ফুটবলেই অভাবকে হারানোর স্বপ্ন সফল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ লড়াকু মেয়ে
প্রান্তভূমি ।। ৯ জানুয়ারি::
সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করেই ভারতের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে জায়গা করে নিল মালবহাল ফুটবল একাডেমির লড়াকু খেলোয়াড় সোনালী মন্ডল। একাধিক কঠিন ট্রায়াল শেষে দেশের হয়ে খেলার জন্য ১৪ জনের যে চূড়ান্ত তালিকা ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বা আইএফএ প্রকাশ করেছে তাতে অন্যতম নামটিই হল সোনালীর। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যে "সাফ ওমেন্স ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬" অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি তাতেই খেলার জন্য বেঙ্গালুরু থেকে থাইল্যান্ড উড়ে গেছে সোনালী।
মালবহাল ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষক সঞ্জীব বাউরি জানান কলকাতা বেহালার অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়ে সোনালী। তিন বোন এক ভাইয়ের পরিবারে রোজগেরে একমাত্র তাদের বাবা ভ্যান চালিয়ে কোনোক্রমে সংসার চালান। এদিকে বেলঘরিয়া গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশের পরেই সোনালির সঙ্গে যোগাযোগ হয় সঞ্জীব বাবুর। তারই একান্ত আগ্রহে বেলঘরিয়া থেকে সোনালী চলে আসে হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন মালবহালে। সঞ্জীব বাবুর তত্ত্বাবধানে কঠোর ফুটবল অনুশীলনের পাশাপাশি লেখাপড়ার পাঠ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভর্তি হয় চিত্তরঞ্জনের মহিলা সমিতি গার্লস হাই স্কুলে। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে সঞ্জীব বাবু তাকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাটগোবিন্দপুরের কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। টানা ৩ বছর মালবহালের এমআরবিসি কোচিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে সোনালী নিজেকে ক্ষুরধার ফুটবলার করে তোলে। ইতিমধ্যে আইএফএ পরিচালিত সাফ ফুটসল ২০২৬-এর জন্য খেলোয়াড় বাছতে কলকাতার সল্টলেকে ট্রায়াল আয়োজিত হয়। সেখানে বাংলার তিনজন মহিলা ফুটবলার সুযোগ পান। এরপর চূড়ান্ত ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয় বেঙ্গালুরুতে। চূড়ান্ত ট্রায়ালে বাংলার অন্য দুই খেলোয়াড় বাদ পড়ে গেলেও সোনালীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে তাকে বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ পাননি নির্বাচকেরা। ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ৬ জনুয়ারি সোনালী সহ ১৪ জনের ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল বেঙ্গালুরু থেকেই থাইল্যান্ড উড়ে যায়।
সেখানে ভারত শ্রীলঙ্কা ভুটান নেপাল বাংলাদেশ মালদ্বীপ পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবে। ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ব্যাংককের নোন্থাবুড়ি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতা চলবে। প্রতিযোগিতা শেষে যে দেশের পয়েন্ট সর্বোচ্চ হবে তারাই বিজয়ী বলে ঘোষিত হবে। ১৩ই জানুয়ারি ভারতের প্রথম খেলা মালদ্বীপের বিরুদ্ধে।
সোনালীর এই উত্থানের বিষয়ে তার কোচ সঞ্জীব বাউরি বলেন এই মেয়ের অসম্ভব জেদ। বাড়ির সবচেয়ে ছোট হয়েও তার স্বপ্ন দুঃস্থ বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো । ফুটবল খেলার সময় তার চোখে মুখে সেই দৃঢ়তার ছাপ বারবার ফুটে ওঠে। তার দুই দিদির বিয়ে হয়েছে, ভাই সংসারের দিকে নজর দিতে পারেনা। তাই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ফুটবলকেই আশ্রয় করেছে সোনালী। সঞ্জীব বলেন অত্যন্ত "স্কিলফুল প্লেয়ার" সোনালী। তার ফুটবল জীবন নিশ্চিতভাবেই আরও দুর্দান্ত হবে।@প্রান্তভূমি
সস্ত্রীক মাদুরোর মুক্তির দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চিত্তরঞ্জনে বিক্ষোভ বামেদের
প্রান্তভূমি ।। ৭ জানুয়ারি::
গৌরাঙ্গ ঘোষ:: মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হল এলাকার বামপন্থী সংগঠনগুলি। অবিলম্বে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মুক্তি দিতে হবে এই দাবিতে সোচ্চার হলেন তারা। এই উপলক্ষে ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চিত্তরঞ্জন অমলাদহি বাজার বাসস্ট্যান্ডে একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভসভা অনুষ্ঠিত হয়। যার নেতৃত্বে ছিল সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়ন। উপস্থিত ছিলেন সিএলডব্লু রিটায়ার্ড এমপ্লয়িজ এ্যসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, সিপিআইএম আঞ্চলিক সংগঠন সহ সমস্ত ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলির প্রতিনিধিবৃন্দ। লেবার ইউনিয়ন সভাপতি আর এস চৌহান বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন দুনিয়াতে পুঁজিবাদ যত সংগঠিত হবে ততই এইভাবে জঙ্গলরাজ আসবে। আজ পৃথিবীতে যেখানে যত লড়াই চলছে সব জায়গায় আমেরিকার হাত আছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অন্যায়ভাবে মধ্যরাতে তার শয়নগৃহ থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করতে গিয়ে রিটায়ার্ড এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের অচিন্ত্য সূপকার বলেন ডলার ডিপ্লোমেসি করছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ। নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তার বিচার করবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের আদালত। দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করার অধিকার তাদেরই। সেখানে আমেরিকার দাদাগির বিরুদ্ধে সমস্ত সার্বভৌম রাষ্ট্রের এক জোট হয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রসূন রায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন আবার বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে। আলোচনায় উঠে আসে হিরোসিমা ভিয়েতনাম ইরাক আফগানিস্তান সহ সমস্ত দেশে মার্কিন আগ্রাসনের ইতিহাস। তারা আবেদন রাখেন সুস্থ গণতান্ত্রিক বোধ বা অধিকারকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য প্রত্যেক মানুষের আমেরিকার আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানানো উচিত। প্রচন্ড শীতের কামড়কে উপেক্ষা করেও এই সভায় প্রতিবাদী মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলেন।@প্রান্তভূমি
গাড়ি অটোর ভয়াবহ সংঘর্ষ চিত্তরঞ্জনে
প্রান্তভূমি ।। ৬ জানুয়ারি::
রেল শহরে চারচাকা গাড়ির (ডব্লু বি ৩৭এইচ ৭৬৬৪) সঙ্গে যাত্রী বোঝাই অটোর(জেএইচ২১কে ৬১২৫) ভয়ানক সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর চোট পেয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সঙ্গীন বলে জানা গেছে। মারাত্মক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে চিত্তরঞ্জন ফতেপুর অঞ্চলের রিভার সাইটে। চিত্তরঞ্জন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বারাবনির দোমোহানি অঞ্চল থেকে অটোয় চড়ে চিত্তরঞ্জনের দিকে আসছিলেন সাত জন যাত্রী। আর সাইট এলাকায় আচমকা একটি চার চাকা গাড়ি ওই অটোর পাশাপাশি চলে আসে এবং সংঘর্ষের চোটে যাত্রী বোঝাই অটোটি উল্টে যায়। এরফলে অটোর সমস্ত যাত্রী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। আহত হন অটোচালক রঞ্জিত শর্মা (৫০) সহ পার্বতী হাঁসদা (১৮), রোহিত সরেন (৩), আরতি টুডু, রাধিকা টুডু, মিনতি সরেন(৪০), বেবি সরেন (১৩) এবং সুমিতা সরেন (৩১)। সংঘর্ষের চোটে আহত হন চারচাকা গাড়ির চালক অভিজিৎ সেনও (৩১)। দুর্ঘটনার পরে পরেই স্থানীয় মানুষজন এবং চিত্তরঞ্জন পুলিশ আহতদের সকলকে চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কেজি হাসপাতাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে অটোচালক রঞ্জিত শর্মা এবং দুই যাত্রী মিনতি সরেন ও সুমিতা সরেনকে। বাকিরা কেজি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে অনেককেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
কাশ্মীরে আটক ৫ কর্মী, টাকা না দিলে 'প্রাণে মারার হুমকি'তে তোলপাড় চিত্তরঞ্জন সংলগ্ন মিহিজামে
প্রান্তভূমি ।। ৫ জানুয়ারি::
ভয়ানক ঠান্ডা এবং তুষারপাতের মধ্যে কাশ্মীরে আটকে পড়েছেন পাঁচ শ্রমিক। এই অবস্থায় তারা বাড়ি ফিরতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তাদের ফিরতে দিচ্ছেন না এবং প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি ফিরতে দেওয়ার জন্য হতদরিদ্র এই মানুষগুলির কাছে ওই ঠিকাদার চল্লিশ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন বলেও ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন পাঁচ যুবক। টাকা না পেলে তাদের মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদের বাড়ি চিত্তরঞ্জন সংলগ্ন মিহিজামের কৃষ্ণনগর ৫ নম্বর রোড এবং রেলপার গান্ধীনগর এলাকায়। প্রাণভয়ে ভীত আটক এই কর্মীদের নাম রবি মুশাহর, দিলীপ বাউরি, শিবা দাস, ভোলা তুরি এবং সিকান্দার তুরি।
ওই পাঁচ যুবক জানিয়েছেন মাসখানেক আগে দুমকার বিজয় মির্ধা এবং মালিক মির্ধা ও আরো একজন ঠিকাদার কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাশ্মীরে নিয়ে আসেন। কাশ্মীরে রাস্তার ধারে পাথরের দেওয়াল তৈরীর কাজে তাদের লাগানো হয়। প্রচন্ড ঠান্ডা এবং তুষারপাতের মধ্যেই জীবন হাতে করে তাদের কাজ করতে হচ্ছে কিন্তু ঠিকমতো খাবার দাবার দেওয়া হচ্ছে না, আবার ঘরেও ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। ঠিকেদার সব সময় তাদের ভয় দেখাচ্ছেন। অত্যন্ত সঙ্গীন এই পরিস্থিতিতে তারা স্থানীয় প্রশাসন বা অন্য কোথাও বিষয়টি জানাতে পারেন নি। শেষ পর্যন্ত মোবাইলের মাধ্যমে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পারেন এবং সমস্ত বিষয়টি জানান। ঘরে ফিরে আসতে উন্মুখ ওই পাঁচ যুবক জানিয়েছেন মিহিজামের সামাজিক সংগঠন এবং ঝাড়খন্ড প্রশাসন যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করেন। তবে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়া দুমকার যে ঠিকাদারদের নাম তারা বলেছেন তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। ফলে প্রকৃত কি ঘটনা সেখানে ঘটছে তা ওইসব শ্রমিকদের মুখ থেকেই ভিডিও বার্তায় শুনতে পাওয়া।@প্রান্তভূমি
খনিজ সমৃদ্ধ মাটি কেটে পাচার হচ্ছে কেবলস থেকে, ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই
প্রান্তভূমি ।। ৪ জানুয়ারি::
প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়াভাবে খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে সালানপুর ব্লকের হিন্দুস্তান কেবলসে। একেবারে জেসিবি মেশিন দিয়ে সেই মোরাম মাটি ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র। এই চিত্র ধরা পড়েছে হিন্দুস্তান কেবলস এলাকার লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদের মধ্যবর্তী ফাঁকা পড়ে থাকা অঞ্চলে। একসময় এখান থেকে সাদা পাথর পাচারের গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছিল। আজ ৪ জানুয়ারি সকাল থেকে দেখা যায় ওই এলাকায় সার দিয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, আর জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সেই সব ট্রাক ভর্তি করা চলছে। যেহেতু এলাকাটি হিন্দুস্তান কেবলস কর্তৃপক্ষের আওতাধীন, তাই স্থানীয় জিতপুর- উত্তররামপুর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তবে যাদের দেখার কথা সেই সালানপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক সুমন সরকার বলেন তিনি এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন। আজ রবিবার হওয়ায় লোক লস্কর তার কাছে নেই, কিন্তু অতি দ্রুত তিনি প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়ে ওই এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে যাবেন এবং মাটি পাচার রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ বি এল এল আর ও দফতরকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে হিন্দুস্তান কেবলস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে যে তারা এই পাচারের বিষয়টিতে ওয়াকিবহাল হলেও তা আটকানোর বিষয়ে নিরূপায়। আগে এই ধরনের চুরি আটকাতে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক এবং আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা রক্ষীর ব্যবস্থা করারও আবেদন জানিয়েছিলেন কেবলস কর্তৃপক্ষ। ওইসব নিরাপত্তা রক্ষীর আর্থিক দায়ভার কেবলস কর্তৃপক্ষ বহন করতে রাজি হয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সদর্থক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একাধিক নিরাপত্তা বিভাগ হিন্দুস্তান কেবলসের জমি পর্যবেক্ষণে এলে তাদের কাছেও এই চুরির বিষয়টি খোলসা হয়। মাটি পাথর কাঁকর মিশ্রিত মোরাম কেটে পাচারের ঘটনা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও সেই সূত্রে লিপিবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এতসবের পরও রমরমিয়ে চলছে খনিজ সমৃদ্ধ মাটি কেটে পাচার করার ঘটনা। লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদ যাওয়ার পথে, অন্য দিকে জিতপুর রামপুর থেকে চিত্তরঞ্জন রেল শহর যাওয়ার পথে এই দৃশ্য প্রতিদিন অস্বস্তিতে ফেলছে সমাজ সচেতন মানুষজনকে। তারা চাইছেন প্রাকৃতিক সম্পদকে লুটের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। কারণ এর ফলে এই এলাকার ভূপ্রকৃতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ভবিষ্যতে এই এলাকায় নতুন কোন শিল্প বা উদ্যোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এইসব ভূ-মাফিয়াদের অপরিণামর্শী কার্যকলাপে।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে একই দিনে পাঁচ সিজারিয়ান শিশুর জন্মে উচ্ছ্বাস
প্রান্তভূমি ।। ২ জানুয়ারি:: সাম্প্রতিক অতীতে এমন ভালো ঘটনার সাক্ষী হয়নি চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতাল। এই হাসপাতালে একসময় দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন এবং এখন হাসপাতালের অধিকর্তা পি সি এম ও ডাক্তার অজয় কুমারও বলছেন, এমনটা আগে কখনও হয়েছে বলে তার অন্ততঃ মনে পড়ছে না। এই হাসপাতালে একই দিনে পরপর পাঁচটি সিজারিয়ান শিশুর জন্ম হলো আজ ২ জানুয়ারি। সকাল দশটা উনিশ থেকে অপারেশন শুরু করে বিকেল তিনটে সাতাশে ডাক্তার মানিক কুমার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই বিরল ঘটনা ঘটালেন। এদিন চারটি পুত্র সন্তান এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলো সিজারের মাধ্যমে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে প্রথম শিশু জন্ম নেয় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে, দ্বিতীয় শিশুটি ১১টা ১৮ মিনিটে, তৃতীয় শিশুটি দুপুর একটা সাত মিনিটে, চতুর্থ শিশু দুপুর দু'টো ২৯ মিনিটে এবং পঞ্চম শিশুটির জন্ম হয় দুপুর তিনটে সাতাশ মিনিটে। শিশুদের সঙ্গেই তাদের জন্মদাত্রী মায়েরাও সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে পিসিএমও ডাক্তার অজয় কুমার বলেন এখন চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে "ইয়াং গ্রুপ" কর্মরত আছেন তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিজেদের পেশায় বিশেষভাবে দক্ষ। এই সাফল্য হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগগুলিকে আরো অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।@প্রান্তভূমি
ফোন সহ ধরা পড়লেই নজিরবিহীন শাস্তি! ইস্পাত কারখানার বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তীব্র অসন্তোষ কর্মীদের
প্রান্তভূমি ।। ২ জানুয়ারি::
অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহ ধরা পড়লেই ফোন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি এক মাসের জন্য কাজ থেকে সাসপেন্ড করার কঠিন বিধি-নিষেধ জারি করল সালানপুর থানা এলাকার একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানা। দেন্দুয়া থেকে কল্যানেশ্বরী যাওয়ার রাস্তার পাশে শাকম্ভরী গ্রুপের এই কারখানা এলোকুইন্ট স্টিল প্রাইভেট লিমিটেডে বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তারা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন কারখানার কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্যতম নজর না দিয়ে কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন কারখানার ভেতরের কোন খবরা খবর, দুর্ঘটনার বিষয় বাইরে বের না হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর এই কারখানায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী চন্দন কুমার ক্রেন থেকে পড়ে গিয়ে ভয়ংকর জখম হয়েছেন। তার একটি পা পিষে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশে মারাত্মক চোট লেগেছে। তড়িঘড়ি অত্যন্ত সন্তর্পণে দুর্ঘটনাগ্রস্থ ওই কর্মীকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই দিনই কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের অধিকর্তা জিতেন্দ্র ঝা এ্যন্ড্রয়েড মোবাইল সম্পর্কিত এই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন।
কর্মীদের অভিযোগ যে, সুরক্ষার বিষয়ে তাদের কোনরকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, কাজের সময় কারখানার ভেতরে সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। কর্মীদের ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয় বলেও তাদের অভিযোগ। কিন্তু এজন্য সরকার নির্ধারিত বেতনও তাদের দেওয়া হয় না বলে তারা অভিযোগ করেছেন। কর্মীদের দুর্দশার কথা জানিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে। অবিলম্বে উপযুক্ত তদন্ত করে এই কারখানায় কর্মীদের জীবনের স্বার্থে সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত বেতন যাতে দেওয়া হয় সেই দাবি করা হয়েছে জেলা শাসকের কাছে পাঠানো ই-মেলে।
বাইরে থেকে এসে কর্মীরা পেটের দায়ে এখানে কাজ করলেও উপযুক্ত কাজের পরিবেশ পান না বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠছে যে, বারবার কর্মীরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত হলেও কর্তৃপক্ষ "তদন্ত চলছে" বলা ছাড়া ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ করছেন না। বিহারের বাসিন্দা চন্দন কুমার ৩১ ডিসেম্বর দুর্ঘটনা গ্রস্ত হওয়ার আগে এই কারখানাতেই বিস্ফোরণের জেরে রাহুল ভান্ডারী নামে অন্য এক কর্মী গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সেই কর্মীর দেহে এখনো ক্ষত চিহ্ন রয়ে গেছে। স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন কারখানার ভেতরে কাজের সময় কর্মীদের সুরক্ষার জন্য হেলমেট সেফটি সু বেল্ট গ্লাভস ইত্যাদি সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বিষয়গুলি কারখানা কর্তৃপক্ষ বরাবর মেনে চলছেন কিনা সেই বিষয়ে নজরদারি করার জন্য ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগী হওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই কর্মীদের অতি প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলিকে ছাঁটাই করতে তৎপর হয়ে ওঠেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। ৩১ ডিসেম্বর জারি করা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পিছনে যতটা না সুরক্ষা ব্যবস্থায় জোর দেওয়ার ইচ্ছে তার চেয়ে বেশি কারখানার ভেতরের কোন তথ্য যাতে বাইরে বের না হয় সেই চেষ্টা তীব্রতর বলে তারা অভিযোগ এনেছেন।@প্রান্তভূমি
ঠিক নথি আনছেন না প্রায় ৫০%, সালানপুর ব্লকে শুনানি চলছে রাত পর্যন্ত
প্রান্তভূমি ।। ৩০ ডিসেম্বর::
রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই চলছে এসআইআরের শুনানি পর্ব। তবে এত দেরির কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে যে শুনানিতে ডাক পাওয়া প্রায় অর্ধেক ব্যক্তি যথাযথ নথি নিয়ে আসছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সাধারণভাবে আধার প্যান ভোটার কার্ড ইত্যাদি নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এইসব নথি সাধারণভাবে গ্রাহ্য হলেও শুনানিতে নিশ্চিত উতরে যাওয়ার জন্য এগুলির সঙ্গেই প্রয়োজন বার্থ সার্টিফিকেট কিংবা স্কুলের বোর্ড স্বীকৃত সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট অথবা ১৯৮৭ সালের আগের কোন পারিবারিক ডকুমেন্ট ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রেই অনেকে এইসব নথির কোন একটিও নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে না আসায় তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে বাড়িতে এবং পুনরায় তারা সেইসব ডকুমেন্ট নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন ফলে যথেষ্ট দেরীর কবলে পড়তে হচ্ছে কমিশনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গেই শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদেরও। ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি পর্ব সালানপুর ব্লকের দুটি জায়গায় চলছে। রূপনারায়ণপুর আইটিআই এবং বিডিও অফিসে প্রতিদিনই ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে এখানে ৬ জন এইআরও এবং একজন আরও শুনানির চূড়ান্ত পর্যায়টি সামলাচ্ছেন। দিন প্রতি গড়ে প্রতি আধিকারিকের কাছে দেড়শো জনের শুনানি হচ্ছে। জানা গেছে যেসব ব্যক্তি নিশ্চিত ভাবে সঠিক ডকুমেন্ট পেশ করতে পারছেন তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকার জন্য সঙ্গে সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, বাকিদের বিষয়গুলি হোল্ডে রাখা হচ্ছে পরবর্তী বিবেচনার জন্য। এ বিষয়ে সালানপুর ব্লক কর্তৃপক্ষ শুনানিতে ডাক পাওয়া ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন তারা যেন আধার প্যান ভোটার কার্ড ইত্যাদির সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩ টি নথির যেকোনো একটি অবশ্যই সঙ্গে আনেন। তাহলে হয়রানি সকলেরই কম হবে। বিশেষ সূত্রে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, শুনানিতে ডাক পাওয়া অর্ধেক মানুষই কমিশনের নির্ধারিত নথি সঙ্গে আনছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে গ্রামীণ এলাকার মানুষজন বিষয়টি নিয়ে এখনো খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। তারা অন্যান্য বিষয়ের মতই নির্বাচন কমিশনের শুনানিকেও একটি সাধারণ বিষয় বলে মনে করছেন - যা আদৌ ঠিক নয়। আজ ৩০ ডিসেম্বর প্রান্তভূমির প্রতিনিধি আইটিআই এবং বিডিও অফিসে সরেজমিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন দুটি কেন্দ্রেই ভিড় থাকলেও মোটামুটি ভাবে মানুষজন কমিশনের কাজে সন্তুষ্ট। লাইনে দাঁড়ানো মানুষজন বলেন দেরি হলেও শুনানির সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে প্রথম তিনদিন শুনানিতে সালানপুর ব্লকে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। পুলিশ প্রশাসন ভিড় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় আছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে ব্লক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, শুনানির নির্দিষ্ট দিনে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হতে না পারলে পর্যাপ্ত কারণ সহ কমিশনে লিখিত আবেদন করলে কমিশন সেই আবেদনের সারবত্বা বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এছাড়াও অশক্ত ব্যক্তি যদি শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারেন তাহলে বাড়িতে গিয়ে সেই শুনানি করা হতে পারে বলেও নির্বাচন কমিশন চিন্তা ভাবনা করছে।@প্রান্তভূমি
ব্লকে ডাক ১০৮০০ জনকে, শুনানি আইটিআই বিডিও অফিসে::জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ শুনানির কবলে
প্রান্তভূমি ।। ২৬ ডিসেম্বর:: আগামীকাল ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এস আই আর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব। শুনানি চলবে এক মাস, জানুয়ারির ২৮, ২৯ হবে মপ-আপ রাউন্ড; তারপর যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে - যার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভার ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে এই শুনানি পর্বে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল শুধুমাত্র সালানপুর ব্লকেই শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন ১০ হাজার ৮০০ জন ভোটার। পুরো বারাবনি বিধানসভায় শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে ১৩ হাজার ১১৮ জনকে। সালানপুর ব্লকে শুনানির জন্য দুটি কেন্দ্র স্থির করেছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলি হল দেশবন্ধু পার্ক সংলগ্ন রূপনারায়ণপুর আইটিআই এবং সালানপুর বিডিও অফিস। আইটিআইয়ে চিত্তরঞ্জন, হিন্দুস্তান কেবলস, জিতপুর -উত্তররামপুর পঞ্চায়েত এলাকার ভোটারদের শুনানি হবে। ব্লকের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য বিডিও অফিসে শুনানি প্রক্রিয়া চলবে। জানা গেছে প্রতিদিন দেড়শো জন করে ভোটার ডাক পাবেন শুনানির জন্য। সংশ্লিষ্ট বিএলও'রা শুনানির জন্য ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানো শুরু করেছেন।
এদিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে মোট ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭০৬ জন ভোটারকে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে এইসব ভোটারদের ম্যাপিং হয়নি। তবে শুনানিতে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩ টি নথির মধ্যে যে কোনো একটি দেখিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম তোলার সুযোগ থাকছে।
এদিকে জেলার আটটি বিধানসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার শুনানির জন্য ডাক পাচ্ছেন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের। জানা গেছে আসানসোল উত্তর কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৩৫৪ জন, আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে ২৩১২৯ জন, কুলটি বিধানসভা এলাকার ১৯৫১১ জন, রানীগঞ্জের ১৫৭১১ জন, দুর্গাপুর পশ্চিমের ১৫,১৪০ জন, দুর্গাপুর পূর্বের ১৩৯৭৯ জন, বারাবনি বিধানসভায় ১৩১১৮ জন এবং পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভায় সবচেয়ে কম ১১২৬১ জন শুনানির জন্য ডাক পাচ্ছেন।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন শহরে হায়নার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত প্রাক্তন রেলকর্মী, চেপে বসেছে আতঙ্ক
#প্রান্তভূমি ।। ১৬ ডিসেম্বর::
হায়নার আক্রমণে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের কেন্দ্রস্থলে গুরুতর জখম হলেন এক প্রাক্তন রেল কর্মী। তিনি সম্প্রতি সন্ধে পৌনে ছ'টা নাগাদ কেজি হাসপাতালের সামনে এই ভয়ংকর ঘটনার সম্মুখীন হন। ওই রেল কর্মী যথেষ্ট সাহসী এবং ডাকাবুকো হলেও হায়নার আক্রমণে তিনি একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তার একটি পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত রেল হাসপাতালের চিকিৎসায় তিনি সেরে উঠছেন। নিতে হচ্ছে একাধিক প্রতিষেধক। যার শেষ ডোজ নিতে হবে ২৬ ডিসেম্বর। তবে জানা গেছে শুধু ওই ব্যক্তিই নন, এর আগেও একাধিক ব্যক্তি রেল শহরের বিভিন্ন এলাকায় হায়নার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে কেজি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে গিয়েছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা, দুঁদে শ্রমিক নেতা ওই প্রাক্তন রেল কর্মী জানান তিনি ওইদিন সন্ধ্যায় রূপনারায়ণপুরে ফেরার জন্য কেজি হাসপাতালের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎই তিনি খেয়াল করেন তার পায়ের পাতায় কোন কিছু কমড়ে ধরেছে। আধো অন্ধকারে তিনি মনে করেন হয়তো কোন কম বয়সী কুকুর তার পায়ের কাছে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ভুল ভাঙে এবং বুঝতে পারেন একটি হায়না সজোরে তার পা কামড়ে ধরে আছে। হতচকিত ওই রেল কর্মী সাহায্যের আশায় ঠিক সে সময় পাশ দিয়ে যাওয়া এক স্কুটার আরোহীকে আবেদন জানালে স্কুটারসহ তিনি হায়নাটিকে সজোরে আঘাত করেন। কিন্তু এরপরও হয়নাটি তার পা ছাড়ে নি। এ সময় দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ওই রেল কর্মী সজোরে তার পা'টি সামনের দিকে ছুঁড়ে দেন এবং তার ফলেই হয়নাটি তার পা ছেড়ে দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ইতিমধ্যে পথ চলতি কিছু মানুষজন তার কাছে পৌঁছান। তারা দেখেন ওই ব্যক্তির পায়ের ক্ষত থেকে অঝোরে রক্ত পড়ছে। তারাই ধরাধরি করে ওই রেল কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং সেখানে দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু হয়। আক্রান্ত ঐ ব্যক্তি জানান হায়নার দাঁতের জোর এতটাই বেশি ছিল যে তার পায়ের পাতা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি চিকিৎসা চলাকালীন পায়ের ঐ অংশ যথেষ্ট ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তবে, আপাতত তিনি বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় চিত্তরঞ্জনের বাসিন্দা সহ কাজকর্মে যারা এই শহরে যাতায়াত করেন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত সংশ্লিষ্ট মহল। সন্ধ্যার পরে একাকী বিশেষ করে ছোট, বয়স্ক কিংবা মহিলাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বন্য জীবজন্তুর আক্রমণ এখন আধুনিক এই রেল শহরে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রেল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন বন্য জীবজন্তুদের ক্ষতি না করে কিভাবে রেল শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা মজবুত করা যায় সে বিষয়ে দ্রুত ভাবনাচিন্তা করতে হবে।@প্রান্তভূমি
রূপনারায়ণপুরে ডিজিটাল এ্যরেস্টের চেষ্টা রুখে দিলেন রেলকর্মীর স্ত্রী
#প্রান্তভূমি ।। ১৪ ডিসেম্বর::
রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন রেলকর্মী এক ব্যক্তির আধার নম্বর ব্যবহার করে মুম্বাইয়ে মোবাইলের সিম কার্ড নেওয়া হয়েছে। এবং সেই মোবাইল থেকে হুমকি দিয়ে ফোন করা হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। তাই অবিলম্বে ওই ফোন নম্বর বন্ধ করার জন্য রূপনারায়ণপুরের ব্যক্তিটির আধার কার্ড প্রয়োজন, যাতে দুষ্কৃতকারীরা ওই সিম ব্যবহার করে আরও অন্য অবৈধ কাজ না করতে পারে। নতুন সিম কার্ড নেওয়া ছাড়াও ওই আধার নম্বর ব্যবহার করে অবৈধ জিনিস কেনা হয়েছে। ফলে এইসব অনৈতিক কার্যকলাপের দায় আধার কার্ডধারী রূপনারায়ণপুরের ব্যক্তিটিরই। এমনই গুরুতর অভিযোগ এনে প্রথমে মোবাইলে কল করেন এক মহিলা। ফোন ধরেন রূপনারায়ণপুরের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রেল কর্মী অশোক দত্ত। ফোনে কথা বলতে বলতেই অপরপ্রান্তের মহিলা অশোক বাবুকে বলেন বিষয়টি বড়ই গুরুতর, তাকে মুম্বাইয়ে আসতে হতে পারে, তাই মুম্বাইয়ের কোলাবা থানার আধিকারিক হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে তার সাথে কথা বলবেন। এর পরই অশোক বাবুর হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল চালু হয়। এবং তিনি দেখতে পান অপরপ্রান্তে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে তার সাথে কথা বলছেন। পুলিশের পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তি অশোক বাবুর কাছে জানতে চান তার আধার কার্ড হারিয়ে গেছে কিনা কিংবা তিনি মুম্বইয়ে এসে আধার কার্ড কোথাও ব্যবহার করেছেন কিনা। এর উত্তরে অশোক বাবু বলেন তিনি কোনদিন মুম্বাইয়ে যাননি, তার আধার কার্ডও হারায় নি। এরপরই পুলিশের উর্দিধারী ওই ব্যক্তি বলেন এক্ষুনি ব্যবস্থা না নিলে অশোক বাবুর সমস্ত ফোন বন্ধ হয়ে যাবে, ফোনের সাথে যেসব অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক আছে সেগুলিও অকেজো হয়ে যাবে । তাই ভিডিও কলে অশোক বাবুর আধার কার্ডের ছবি ঐ পুলিশ দেখাতে বলে। বিষয়টি মিটিয়ে না নিলে তাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়। এইসব কথাবার্তার মধ্যেই অশোক বাবুর স্ত্রী পলিকণা দত্ত গৃহ কর্মের ব্যস্ততার মাঝেও দেখতে পান তার স্বামী কার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছেন কিন্তু কিছুটা যেন ভয়ার্ত। এরপরই তিনি বলেন এইসব কল ভুয়ো, এদের গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। এই কথা শুনে পুলিশের উর্দিধারী ওই ব্যক্তি পলিকণা দেবীকেও ভয় দেখানোর নানান চেষ্টা করতে থাকেন। বলেন তার কথা না শুনলে এখনই তার ফ্ল্যাটে পুলিশ যাবে এবং তাদের গ্রেফতার করবে। এই কথা শুনে পলিকণাদেবী বলেন স্থানীয় পুলিশ তাদের কাছে আসার আগে তিনি নিজেই এই ভয় দেখানো ফোন কলের বিষয়টি জানিয়ে থানায় অভিযোগ করবেন। পলিকণা দেবী বলেন এতক্ষণ এক অদ্ভুত মারাঠি টোনের হিন্দিতে কথা বলে যাওয়া পুলিশের উর্দিধারী ব্যক্তিটি এরপরই ঝরঝরে হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করেন এবং বলেন এইভাবে তাদের অবজ্ঞা করার ফল ভুগতে হবে। যদিও কোনভাবেই অশোক বাবু এবং তার স্ত্রীকে বাগে আনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ফোন কল কেটে দেয় প্রতারক।
এ বিষয়ে পলিকণা দেবী বলেন ১২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ প্রথমে ৯৪০১৯৭৪১১০ নম্বর থেকে অশোক বাবুর মোবাইলে সাধারণ একটি কল আসে। ট্রুকলারে পরে তিনি দেখেন সেটি "ফ্রড" হিসেবে চিহ্নিত। এরপরই ৭২১৮৪ ৭৩১৭১ নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল করা হয়, কিন্তু তাতে কোন নাম ওঠেনি। তাদের আধার নম্বর ব্যবহার করে মুম্বইয়ের কোলাবা থানা এলাকায় মোবাইলের সিম কার্ড নেওয়া হয়েছে, তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গালাগাল দেওয়া হয়েছে, অবৈধ জিনিসপত্র কেনা হয়েছে এইসব অভিযোগ শুনেই তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি ফ্রড কল। ফলে কোনভাবেই প্রতারকেরা তাদের জব্দ করতে পারেনি বলে পলিকণাদেবী উল্লেখ করেন। বিভিন্নভাবে ডিজিটাল অ্যারেস্টের বিষয়ে যেসব সচেতনতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে তার ফলে তাদের কাছে বিষয়টি বুঝে নিতে সুবিধা হয়েছে বলে পলিকণা দেবী উল্লেখ করেন। তার এই উপস্থিত বুদ্ধির তারিফ করেছেন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল রেলকর্মী এক ব্যক্তি। তিনি বলেন এই ধরনের কল এলে ঘাবড়ে না গিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতে হবে - যেটি পলিকণাদেবী করেছেন।@প্রান্তভূমি
দাবি আদায়ে রেল কারখানার ভেতরে মহামিছিল সিআরএমসি'র
প্রান্তভূমি ।। ১২ ডিসেম্বর::
বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ভেতরে মহামিছিল করলো সিআরএমসি/ এনএফআইআর/ আইএনটি ইউসি ইউনিয়ন। ইউনিয়নের সভ্য সমর্থকেরা এদিন কারখানার বিভিন্ন শপে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে পরিক্রমা করেন। মিছিল থেকে দাবি তোলা হয় - অবিলম্বে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার সমস্ত শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও কোনরকম দেরি না করে অষ্টম বেতন কমিশন লাগু করা, এনপিএস এবং ইউ পিএস বাতিল করে একমাত্র ও পি এস বা পুরনো পেনশন প্রকল্প লাগু করা, সিএলডব্লু সহ ভারতীয় রেলে বাড়তে থাকা বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা এবং নতুন শ্রম আইন-২০২৫ বাতিল করার দাবি জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন তাদের দীর্ঘদিনের দাবীগুলি পূরণ না হওয়ায় এভাবেই মিছিল করে সেই সব দাবি আদায়ে নামতে হলো। তিনি বলেন চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার বহু কর্মী এই মিছিলে অংশ নেন।@প্রান্তভূমি
পালামৌ চলে যাচ্ছে মাইথনের সমস্ত হরিণ:: শূন্য হবে ডিয়ার পার্ক
প্রান্তভূমি ।। ১১ ডিসেম্বর:: মাইথন জলাধারে ঘুরতে গিয়ে আর হরিণের দেখা পাওয়া যাবে না। কারণ ডিভিসি কর্তৃপক্ষ মাইথনের ডিয়ার পার্ক থেকে হরিণ গুলিকে পর্যায়ক্রমে ঝাড়খণ্ডের পালামৌ পার্কে স্থানান্তরিত করতে চলেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রায় ২৫০ টি হরিণকে মাইথন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদিও শুরু হয়েছে। এই কাজে ঝাড়খন্ড সরকারের বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরাও বিশেষ সহায়তা করছেন। হরিণ গুলিকে মাইথনের জলাধার সংলগ্ন পার্ক থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিয়ার পার্ক থেকে হাইডেল পর্যন্ত ১৫ ফুট চওড়া একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই রাস্তায় হরিণ বহনকারী ট্রাকগুলি সরাসরি ডিয়ার পার্কে পৌঁছে যেতে পারবে। এছাড়াও নিরাপদে ট্রাকের মাধ্যমে হরিণগুলিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাকের ভেতরের ব্যবস্থা আরামদায়ক করা হচ্ছে। পার্ক থেকে যাতে সরাসরি হরিণগুলি ট্রাকের মধ্যে উঠতে পারে সেজন্য বাঁশের জাল তৈরি করা হচ্ছে, এই জালের মাধ্যমে হরিণগুলি সহজেই পার্কের জমি থেকে হেঁটে ট্রাকের ভেতরে চলে যাবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন যাতে পার্কের বাইরে হরিণ চলে না যায় সেজন্য পার্কের চারপাশেও বেড়া দেওয়া হচ্ছে। বড়দিন এবং নববর্ষের জন্য যখন মাইথন ড্যামে বিভিন্ন রকম সাজসজ্জার প্রস্তুতি চলছে, তখন অন্যদিকে এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ডিয়ার পার্ক বন্ধ করারও সক্রিয় উদ্যোগ চলছে। ফলে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই মাইথন জলাধার সংলগ্ন এলাকা থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে হরিণের পাল।@প্রান্তভূমি
রাজ্যে তৃতীয় রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগ::এই প্রথম এলো অনন্য সম্মান
প্রান্তভূমি ।। ১০ ডিসেম্বর::
রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগ কাজের নিরিখে সারা রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নজির গড়লো। ২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষে সার্বিক কাজকর্মের খতিয়ানের ভিত্তিতে অনন্য এই সম্মান রূপনারায়ণপুর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারকে দিচ্ছে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতর। কলকাতার বিদ্যুৎ ভবন থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আজ, ১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সারা রাজ্যের প্রায় ৫৫০ টি বিদ্যুৎ বিভাগ (কাস্টমার কেয়ার সেন্টার)-এর মধ্যে প্রথম সাঁইথিয়া, দ্বিতীয় দোমোহানি এবং তৃতীয় রূপনারায়ণপুর। রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ইতিহাসে এত বড় সম্মান এর আগে কখনো জোটেনি। ২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষের জন্য এই সম্মান লাভের ক্ষেত্রে তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব মন্ডলের নিরলস প্রচেষ্টা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক সম্বলিত রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের যাবতীয় দিকগুলিতে ওই সময়ে ব্যাপক উন্নতি ঘটে। এর আগে রূপনারায়ণপুরের সার্বিক নেতিবাচক 'লস' ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ। কিন্তু দফতরের বিভিন্ন দিকগুলির কাজের সমন্বয় ঘটিয়ে তৎকালীন আধিকারিক বিপ্লব মন্ডল এই নেতিবাচক লসের পরিমাণ ১৭ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলেন। এজন্য নিয়মিত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ এবং সঙ্গে জরিমানা আদায় বিদ্যুৎ দপ্তরের অধীনে করা হতো। এছাড়াও বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেওয়া, নিয়মিত গ্রাহকদের কাছে বিল পাঠিয়ে টাকা সংগ্রহ করা, চুরি আটকানোর জন্য এবি কেবল ব্যবহার করা, লো ভোল্টেজ সমস্যা মেটানোর জন্য দীর্ঘ এলাকাকে ছোট অংশে ভাগ করে নতুন ট্রান্সফর্মার বসানো সহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলিতে নিয়মিত গতি আনা বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা নেয় এই পুরস্কার অর্জনে। উল্লেখ্য, তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লববাবু চলতি বছরের ১০ নভেম্বর রূপনারায়ণপুর থেকে বদলি হয়ে আসানসোল-১'এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রূপনারায়ণপুরকে প্রথমবার এই অনন্য সম্মান প্রাপ্তির সুযোগ তিনিই করে দিলেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।@প্রান্তভূমি
.
.
খনি অঞ্চলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেবে না ইসিএল - প্রচারে মাইকিং
প্রান্তভূমি ।। ৮ ডিসেম্বর::
সালানপুর এরিয়ায় ই সি এল- এর ড্রিম প্রোজেক্ট ইটাপাড়া ওসিপি'র জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখান থেকে এমডিও পদ্ধতিতে ই সি এল কয়লা উত্তোলন করবে। বছরে ৩৫ লাখ টন কয়লা উৎপাদিত হবে এবং এই উৎপাদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৮ বছর ধরে। খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রাথমিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। চলতি আর্থিক বছরে ৯ লক্ষ টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইসিএল।
কিন্তু এর মধ্যেই এক নতুন সমস্যার সম্মুখীন ই সি এল কর্তৃপক্ষ। তারা লক্ষ্য করছেন যে ইটাপাড়া প্রজেক্ট এরিয়ায় থাকা মানুষজন তাদের জায়গাতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পাকা ঘর নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ি তৈরীর এই কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে চলছে আমডিহা বালিয়াপুর ইটাপাড়া বেলা গ্রামাঞ্চলে। বাড়ি তৈরির তৎপরতা এতটাই বেশি যে, যেন মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই ইট বালি সিমেন্ট রড ইত্যাদি সামগ্রী বাজার থেকে উধাও হয়ে যাবে। তার আগেই যেন তাদের বাড়ি তুলেতে হবে। এই তৎপরতা দেখেই ইসিএল কর্তৃপক্ষ সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। কারণ একবার ওই জমিতে ঘর উঠে গেলে তার ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। জমি অধিগ্রহণের অর্থের চেয়েও বাড়ি ঘরদোর অধিগ্রহণের জন্য অর্থের পরিমাণ এতটাই বেশি হয় যে সেক্ষেত্রে ইসিএলের এই ড্রিম প্রজেক্টের জন্য আনুমানিক ক্ষতিপূরণের অর্থ অনেক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। স্থানীয় মানুষজনের বাড়ি তৈরীর এই প্রবণতা রোধ করার জন্য ইসিএলও অভিনব উপায় অবলম্বন করেছে। তারা ওইসব এলাকায় ৭ ডিসেম্বর রীতিমতো মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছেন এখন এইসব বাড়ি ঘরদোর তৈরি করা হলে তার জন্য কোন রকম ক্ষতিপূরণ ইসিএল দেবে না।
এই বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানোর জন্য এদিন মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হয় ইটাপাড়া মেগা প্রজেক্টের আশেপাশে থাকা আমডিহা বালিয়াপুর ইটাপাড়া বেলা গ্রামের অলিগলিতে। অধিবাসীদের জানানো হয় যে, এখানে ইটাপাড়া মেগা প্রজেক্টের খনন কাজ খুব দ্রুত শুরু হতে চলেছে। সেজন্য ইসিএলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন নতুন করে কোন ঘরবাড়ি তৈরি না করেন। নতুন করে তৈরি করা এইসব ঘরবাড়ির জন্য কোনরকম ক্ষতিপূরণ ই সি এল দেবে না বলেও পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়। মাইকের প্রচারে এও বলা হয় যদি এইভাবে অধিগৃহীত জমিতে ঘরদোর বানানোর কাজ চলতে থাকে তাহলে খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যাবে।
যদিও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা বলছেন তারা নিজেদের জমির উপর ঘর তৈরি করছেন। তারা বলছেন জমি অধিগ্রহণ ইসিএল করেছে ঠিকই কিন্তু এই বাবদ চাকরি দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসিএল। কিন্তু চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের জমিতে বাড়ি তৈরির উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন। ইটাপাড়া প্রজেক্টের কাজও যাবতীয় প্রতিশ্রুতি পূরণের পরেই গতি পাবে বলে বাসিন্দারা জানিয়ে দিয়েছেন।
একদিকে ই সি এলের মাইকিং, অন্যদিকে গ্রামবাসীদের চাকরির দাবি - এই অবস্থায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে সালানপুর এরিয়ার ড্রিম প্রোজেক্ট।@প্রান্তভূমি
ডাবর খনির সুড়ঙ্গে মৃত্যু বহু কয়লা চোরের
প্রান্তভূমি ।। ৬ ডিসেম্বর:
ইসিএল সালানপুর এরিয়ার ডাবর কোলিয়ারিতে ৫ ডিসেম্বর ভোরে কয়লা চুরি করতে গিয়ে ৬ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর রটেছে। অবৈধভাবে কয়লা কাটার সময় উপরের চাল ধসে গিয়ে ভয়াবহ ঐ অঘটন ঘটেছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় কয়লা চোরেদের মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে দুর্ঘটনার পরেই কোনক্রমে দুজনকে সেখান থেকে বের করা সম্ভব হয়, তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি ডাবর হাসপাতাল সংলগ্ন মল্লাডি গ্রামে এবং আরেকজনের বাড়ি রামপুর গ্রামে। চাপা পড়ে যাওয়া অন্যদের বের করে আনা সম্ভব হয়নি, কারণ তা করার জন্য কোলিয়ারির পোকলেন যন্ত্রের প্রয়োজন। কিন্তু সেই যন্ত্রটি খারাপ হয়ে পড়ে আছে। এই অঘটনের সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ সিআইএসএফ এবং খনির নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। যদিও তারা সেখান থেকে কোন ব্যক্তির হদিশ পায়নি। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গেছে যে, ঐদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ একটি সুড়ঙ্গের চাল ধসে পড়ে। এর ফলে সেখানে থাকা বহু অবৈধ খননকারী আটকে পড়েন। যে বিশাল কয়লার চাঙড় ঐ লোকগুলিকে ঢাকা দিয়ে দেয় সেটিকে সরানোর জন্য ইসিলের পোকলেন মেশিন চাওয়া হয়। কিন্তু ওই মেশিন খারাপ থাকায় সুড়ঙ্গের আশেপাশে থাকা অন্যান্য লোকজন চাপা পড়া লোকগুলিকে সরানোর কাজ শুরু করেন নিজেরাই। তারাই দুজনকে বের করে আনতে সমর্থ হলেও বাকিদের খুঁজে পান নি। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে যে মৃতদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও আছেন। যদিও খনি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে "অফিসিয়ালি" কোন মন্তব্য করেননি। অবশ্য অবৈধ কয়লা কাটতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বারবার এমনটাই হয়ে থাকে। হতভাগ্য মানুষগুলি কয়লা খনির অন্ধকারেই হারিয়ে যান। কিছু ক্ষেত্রে কয়লা মাফিয়ারা ওইসব দেহ তুলে পরিজনদের হাতে তুলে দেন, কিছু টাকাও ধরিয়ে দেন নিকটাত্মীয়দের হাতে। কিন্তু কোথাও কোন অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয় না।
কোলিয়ারির নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে সালানপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযোগে কয়লা চুরির ঘটনা উল্লেখ করার সাথে সাথে এও বলা হয়েছে যে ডাবর কোলিয়ারির শ্মশানকালী মন্দিরের দিকে অবৈধভাবে কয়লা কাটার জন্য যে গ্যালারি খনন করা হয়েছে তাতে সংলগ্ন এলাকার বড় বিপদের সম্ভাবনা আছে।
সংশ্লিষ্ট মহল এই কয়লা চুরির বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। সালানপুর এরিয়ার ডাবর কোলিয়ারিতে প্রতিদিন রাত দু'টো থেকে ভোর ছ'টা পর্যন্ত কয়েকশত পুরুষ মহিলা এবং কম বয়সী ছেলে-মেয়ে কয়লা আনার জন্য ঢোকে। এদের আটকানোর কোন ব্যবস্থাই নেই। যদিও এই চুরির বিষয়ে নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবুও অবস্থার কোন হেরফের হয়নি। তবে এই চুরির ঘটনা শুধুমাত্র ডাবর কোলিয়ারিতেই ঘটছে এমনটা নয়, ই সি এল-এর প্রায় সব খনিতেই একই চিত্র।@প্রান্তভূমি
জমি চক্রের নজিরবিহীন কাণ্ড সালানপুর ব্লকে
প্রান্তভূমি ।। ৪ ডিসেম্বর::
যে ব্যক্তির ১৯৮৪ সালের ১২ অক্টোবর মৃত্যু হয়েছে বলা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিই ২০১১ সালের ২৪ মে এবং ৩১ অক্টোবর তার প্রায় ৪৬ বিঘা জমি অন্যকে বিক্রি করছেন, বিক্রির দস্তাবেজে সই করছেন এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো সালানপুর ব্লকে। ওই জমির বর্তমান মূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে একই জমি একাধিকবার একাধিক জনের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলির মনে হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তিটির নাম করে অন্য ব্যক্তিকে সামনে এনে জমি বিক্রির দালালচক্র এই কাজ হাসিল করেছে। যদিও পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক পুরো বিষয়টি নিয়ে একেবারে ধোঁয়াশার মধ্যে পড়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে এর আগা গোড়া কোন কিছুরই আপাতত হদিশ মিলছে না বলে জানা যাচ্ছে।
ঘটনা সালানপুর ব্লকের আমঝরিয়া মৌজায় জে এল নম্বর ৩৪, খতিয়ান নম্বর ৩০৩, আরএস এন্ড এলআর প্লট নম্বর ২৩৯ অন্তর্ভুক্ত ১৫.২৮ একর বা প্রায় ৪৬ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে। এই জমিটি হরিশাডি গ্রাম থেকে জেমারি বাসুদেবপুরের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বাঁদিকে। রেজিস্ট্রি ডিড অনুযায়ী ঝাড়খণ্ডের দেওঘর মধুপুর এলাকার বাসিন্দা হরিবল্লভ ভাদুড়ি ২০১১ সালের ২৪ মে আসানসোলের বাসিন্দা নাদিম ইকবাল এবং আমির সিদ্দিকিকে এই জমি ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। নাদিমের বাড়ি আসানসোল দক্ষিণ থানার ১১, ডক্টর এমএন সাহা রোড এবং ইকবালের বাড়ি ৭০, ডক্টর এমএন সাহা রোড অঞ্চলে। প্রথম দফায় এই বিক্রির পর ওই একই জমি আবার দুটি আলাদা আলাদা ডিডের মাধ্যমে পুরো জমিটিকে আধা আধি ভাগ করে তিনজন তিনজন করে মোট ছজনকে বিক্রি করা হয় । অর্ধেক জমির মধ্যে ৭.৪৬ একর জমি রেজিস্ট্রি করা হয় রূপনারায়ণপুরের উজ্জ্বল কুমার সেন (পিতা নদীয়া চাঁদ সেন), জেমারির তপন সেন (পিতা প্রয়াত হরি সেন) এবং জেমারির শেখ ইশতেহারের নামে। অন্য অর্ধেক অংশ ৭.৪৬ একর জমি রেজিস্ট্রি করা হয় সালানপুর থানা এলাকার কল্যাণেশ্বরী অঞ্চলের বাসিন্দা সিন্টু মন্ডল, দীনেশ মন্ডল এবং বিকাশ দত্তের নামে। এই ছয় জনকেও জমি বিক্রি করেন হরিবল্লভ ভাদুড়িই। কিন্তু জমি কেনার পর সেই জমির দখল নিতে গিয়ে এই ছয় ব্যক্তি জানতে পারেন ওই জমি আগেই অন্যকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরেই তারা ওই জমি পাওয়ার আশা ত্যাগ করেন। কারণ তারা বুঝে গিয়েছিলেন যে তাদের নামে এই জমি রেজিস্ট্রি পরে হয়েছে। এ পর্যন্ত বিষয়টি ঠিকঠাক মনে হলেও ২০১১ সালের ১৪ বছর পর চলতি ২০২৫-এ এই জমির ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। ১৪ বছর পর ওই জমির আসল মালিক বলে নিজেকে দাবি করে এক ব্যক্তি সালানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চলতি মাসের ১ তারিখ সালানপুর থানায় (কেস নাম্বার ১৯৮ / ২৫, তারিখ ১.১২.২০২৫) উক্ত ৮ জন ক্রেতার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ঠকিয়ে বিপুল এই সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। যদিও এই এফ আই আর-এর পরিপ্রেক্ষিতে জমির ক্রেতারা বলছেন যে তারা নিজেরাই বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন, তারা জমির মালিকানা তো পানইনি, উল্টে তাদের বহু অর্থ জলে গেছে।
সালানপুর থানায় এই জমি নিয়ে ১ ডিসেম্বর অভিযোগ জানিয়েছেন আসানসোলের ডক্টর এম এন সাহা রোড অঞ্চলের বাসিন্দা হরিশ শর্মা। তিনি বলেছেন আমঝরিয়া মৌজার ওই প্রায় ৪৬ বিঘা জমির বৈধ দাবিদার হলেন হরিবল্লভ ভাদুড়ির পুত্রবধূ গার্গী ভাদুড়ি। গার্গী ওই জমির জন্য হরিশ শর্মা এবং তার সহযোগী অনন্ত আর্যর নামে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছেন। গার্গীর শ্বশুর এবং স্বামীর অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। তার ফলে পুত্রবধূ হিসেবে তিনি এই জমির আইনত উত্তরাধিকারী। তার শ্বশুর হরিবল্লভের মৃত্যু ১৯৮৪ সালের ১২ অক্টোবর হয়েছে, অথচ তারই নাম করে ২০১১ সালে এই জমি বিক্রি করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং দুর্নীতিপূর্ণ বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
কিন্তু কিভাবে জানা গেল যে এই জমি আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে? হরিশ এবং অনন্ত আর্যর নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পরেই তারা সালানপুর বি এল এল আর ও অফিসে ওই জমির জন্য খাজনা জমা করতে এসে জানতে পারেন জমিটি অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করা আছে। এরপরই তারা খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন এবং থানায় এফ আই আর দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে সালানপুর বি এল এল আর ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে তাদের বিশেষ কিছু করার ছিল না। যা হওয়ার তা উপর থেকেই হয়েছে। তবে, এবার এফ আই আরের নথিসহ তাদের কাছে কোন আবেদন এলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মিউটেশনের কাজ তারা আটকে দিতে পারেন। অন্যদিকে অভিযোগের তদন্তভার পড়েছে সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির যে আধিকারিকের হাতে তিনি বলেন জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে কিছু সময়ে লাগবে বলে তার ধারণা।
এখন এই জমিটির মিউটেশন প্রথম দুই ক্রেতা নাদিম এবং আমিরের নামে থাকলেও তারা প্রকৃত ক্রেতার কাছ থেকে ওই জমি কিনেছিলেন কিনা, সত্যিই হরিবল্লভ ভাদুড়ির মৃত্যু জমি বিক্রির আগেই হয়েছিল কিনা, হয়ে থাকলে ২০১১ সালে কোন্ ব্যক্তিকে হরিবল্লভ সাজিয়ে আনা হয়েছিল, হরিবল্লভের পুত্রবধূ গার্গী ভাদুড়ির দেওয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি হরিশ এবং অনন্ত কবে কোথায় কিভাবে পেলেন , ২০১১ সালে যে জমি বিক্রি হয়েছে তার খাজনা ২০২৫ সালে কেন তারা দিতে গেলেন, যারা আগে কিনেছিলেন তারা এই জমির জন্য আদৌ খাজনা দিয়েছেন কিনা বা সেগুলি ভূমি দপ্তরে জমা পড়েছে কিনা , এই জমির এখন প্রকৃত হকদার কে, নকল হরিবল্লভ এখন কোথায়, কি তার পরিচয় - এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তদন্তকারীদের খুঁজতে হবে। এ প্রসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি বলেন হরিশাডি গ্রামের পিছন দিকে বিশাল ডাঙ্গা জমি দীর্ঘকাল ধরে পড়ে আছে। এক সময় এইসব জমির দিকে কারো নজর পড়তো না, জমির দামও ছিল অতি সামান্য । কিন্তু সম্প্রতি কোলিয়ারি সম্প্রসারণের জন্য এইসব জমি ই সি এল নিতে পারে বলে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। এরপরই জমির দখল নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে বিভিন্ন মহল। ২০১১ সালে যে ৪৬ বিঘা জমি প্রায় ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে উল্লেখ আছে, ই সি এল-এর অধিগ্রহণের খবরে সেই জমিরই দাম এখন কম করেও প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রলোভনকেই হাতিয়ার করছে জমি মাফিয়ারা। এখন আমঝরিয়া মৌজার এই জমির আসল রহস্য কি তা জানার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।@প্রান্তভূমি
বাড়ি বিক্রয়
৫ কাঠা জায়গার মধ্যে আড়াই কাঠা বাগান, বাকি আড়াই কাঠার ওপর ২৮০০ বর্গফুটের (১৪০০ + ১৪০০) পাঁচ বছরের পুরনো বাড়ি বিক্রয় আছে।
উদয় নগর, অতি মনোরম পরিবেশ। সর্বসুবিধাযুক্ত
ব্যবস্থা।
সত্বর যোগাযোগ : 8391951378.
আন্তঃরাজ্য নকল মদ চোরাচালানের বিরুদ্ধে বছরের সবচেয়ে বড় অভিযানে বিপুল সাফল্য পুলিশের
#প্রান্তভূমি ।। ১ ডিসেম্বর::
আন্তঃরাজ্য নকল মদের বিরাট চক্র সক্রিয় আছে পশ্চিমবঙ্গ ঝাড়খন্ড বিহার জুড়ে। অভিযোগ এই বড়সড় নেটওয়ার্কের মাথা হল ধানবাদের রাজা যাদব। তার অধীনে নকল মদের কারখানা চলছে পশ্চিমবঙ্গের সালানপুর লাগোয়া চৌরঙ্গি এবং ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ বালিয়াপুর এলাকায়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিহারে বিপুল পরিমাণ নকল মদ অবৈধভাবে পাচার করা
হচ্ছে বলে সংবাদ পায় ঝাড়খন্ড পুলিশ। এরপরই তারা এই চক্রটিকে পাকড়াও করার জন্য জাল পাতে। এবং তাতেই ধরা পড়ে যায় পাচার চক্রের একাধিক ব্যক্তি ও একাধিক গাড়ি। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নকল বিদেশী মদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। একেবারে সিনেমার কায়দায় ৩০ নভেম্বর গোবিন্দপুর- সাহেবগঞ্জ হাইওয়ের পান্ডেডিহি মোড়ের কাছে নাকা চেকিং-এর মাধ্যমে ঝাড়খন্ড পুলিশ এই সাফল্য অর্জন করে। ধরা পড়ে যায় একটি ডিসিএম ট্রাক, মদ বোঝাই ওই ট্রাকটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া দুটি দামি গাড়ি। পাচারকারীরা ডিসিএম ট্রাকটিতে (ডব্লুবি ৫১ সি ৫৭৫২) কুড়কুড়ের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ভান করে তারই মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল প্রায় ৫৪০০ বোতল নকল বিদেশী মদ, যেসব বোতলের গায়ে রয়্যাল স্ট্যাগের নকল লেবেল লাগানো ছিল, এছাড়াও ৩১২০ লিটার স্পিরিট বাজেয়াপ্ত হয়। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা মাদক সামগ্রীর মূল্য ঝাড়খন্ডে প্রায় ১৫.৯৫ লক্ষ টাকা হলেও বিহারে এরই দাম অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা। সেখানে ঝাড়খণ্ডের চারগুণ দামে মদ বিক্রি করা হতো। পুলিশ কুড়কুড়ের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মদ সহ ডিসিএম ট্রাকটির সঙ্গেই বাজেয়াপ্ত করেছে হুন্ডাই অওরা (জেএইচ০৯ এ ডব্লিউ ১৭৩৪) এবং সুইফট (জে এইচ ১০ ডি সি ৪৭৮২) গাড়ি দুটিকেও। এই গাড়ি দুটি নকল মদ বোঝাই ট্রাকটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ এই প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করেছে ট্রাকের চালক দারা সিং, কারমাটারের বাসিন্দা চন্দ্রদেব মন্ডল, ধানবাদ বালিয়াপুরের বাসিন্দা মহম্মদ রহিম আনসারী এবং ধানবাদ হীরাপুরের বাসিন্দা সন্তোষ পাশোয়ানকে। এদের কাছ থেকে সাতটি মোবাইল, একাধিক পরিচয়পত্র, ৩৩ হাজার টাকা নগদ এবং কুড়কুড়ে জাতীয় সামগ্রী ভর্তি ৫০ টি বস্তা।
বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় থাকা নকল মদ কারবারের এই চক্রের সঙ্গে ধানবাদ এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমানা এলাকার চৌরঙ্গি অঞ্চল বিশেষভাবে জড়িত বলে জামতাড়ার এসপি রাজকুমার মেহতা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন ধানবাদের বালিয়াপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের চৌরঙ্গি এলাকায় নকল মদের কারখানা থেকে এই জাতীয় কারবার চালানো হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জেলাগুলিতে জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেছেন। ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় এই অভিযানে বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন জামতাড়ার এসডিপিও বিকাশ আনন্দ লঙ্গুরি, ইন্সপেক্টর রবীন্দ্র যাদব এবং তাদের টিম। অত্যন্ত সন্তর্পণে দক্ষতার সঙ্গে পুলিশের এই টিম মদ মাফিয়াদের কোমর ভেঙে দিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেছে।@প্রান্তভূমি
ট্রেনের সামনে ট্রাক্টর এসে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ১ আহত একাধিক
প্রান্তভূমি ।। ১ ডিসেম্বর::
রেল লাইনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একজনের, গুরুতর জখম আরো দুই। কয়লা বোঝাই মালগাড়ির সামনে ট্রাক্টর এসে পড়ায় মারাত্মক এই ঘটনা ঘটেছে। মাল গাড়িটি ওই ট্রাকটারটিকে কয়েকশো মিটার ঠেলে নিয়ে যায়। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনায় ট্রাক্টরের ভিতরে থাকা তিনজনের মধ্যে একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ভুটকা সরেন (৩৫), বাড়ি জামুড়িয়ার শিশিরডাঙ্গায়। আহত দুই ব্যক্তির নাম রাজু মুর্মু এবং সুনীল টুডু ।
আজ ১ ডিসেম্বর এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জামুড়িয়া থানা এলাকার নন্ডি ও দামোদরপুরের মাঝে নন্ডি শ্মশানের কাছে । বারাবনি থেকে অন্ডালের দিকে কয়লা বোঝাই মালগাড়িটি যাচ্ছিল। সে সময় হঠাৎই ইঁট বোঝাই ট্রাক্টরটি ট্রেনের একেবারে সামনে চলে আসে। গতিময় মালগাড়িটি ওই ট্রাক্টরটিকে বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত রেললাইন ধরে ঠেলে নিয়ে যায়। এরপর সেটি রেললাইনেই আটকে পড়ে । আটকে যায় মাল গাড়িটিও। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে জামুড়িয়া থানার পুলিশ রেল পুলিশকে জানালে তাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর আহত দুজনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
রেললাইন জটমুক্ত করার জন্য যন্ত্র দিয়ে মালগাড়ির সঙ্গে আটকে পড়া ট্রাক্টরটিকে কেটে সরানো হয়।
এদিকে যে এলাকায় রেল লাইনের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে নিয়মিত যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিল কিনা সে সম্বন্ধে স্পষ্ট কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন নন্ডি থেকে কম সময়ে দামোদরপুর যাওয়ার জন্য লাইন পারাপার করে অনেকেই যাতায়াত করেন, এমনকি ট্রাক্টর ও ছোটখাট বাহন রেললাইন পেরিয়ে চলাচল করে। তাদের আশঙ্কা সেই কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিনমজুর ভুটকা সরেন এদিন সকাল প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ অন্য দুই সঙ্গীকে নিয়ে ট্রাক্টরে করে নন্ডির একটি ইঁটভাটা থেকে ইঁট নিয়ে যাওয়ার সময় মালগাড়ির সামনে পড়েন এবং তাতেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলে স্থানীয়দের অনুমান।@প্রান্তভূমি
.
.
মন্ত্রী কোটায় রেলে চাকরির নামে দুর্নীতির দায়ে আসানসোল ডিআরএম অফিস ওএসের তিন বছরের কারাদন্ডের আদেশ
প্রান্তভূমি ।। ২৮ নভেম্বর:: দুর্নীতির দায়ে আসানসোল ডিআরএম অফিসের ওএস বা অফিস সুপারিনটেনডেন্ট পদে কর্মরত শম্ভুনাথ সরকারের তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হলো। সিবিআই বিশেষ আদালতের বিচারক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় ২৭ নভেম্বর একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছেন। তিন বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি আইপিসি'র ১২০ বি/৪২০ তথা দুর্নীতি বিরোধী আইনের ১৩(২) ধারায় পৃথকভাবে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন বিচারক। অভিযুক্ত শম্ভুনাথ সরকারের এক সহযোগী অটোচালক মহঃ রিয়াজেরও এই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানার সাজা শোনানো হয়েছে। এই মামলায় সরকারি পক্ষের বরিষ্ঠ অ্যাডভোকেট রাকেশ কুমার মোট ১৯ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেছিলেন এবং তাদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তের দোষ প্রমাণিত হয়। এদিকে অভিযুক্ত ওএস শম্ভুনাথ সরকার ট্রায়ালের সময় আদালতে উপস্থিত হননি, ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল । তাকে মাসখানেক আগে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালত সাজা ঘোষণা করে।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগকারী মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বিলাস কলেল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে সেখানকার গরীব চাষী পরিবারের ১২-১৪ জন যুবককে মন্ত্রী কোটায় রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আসানসোল ডিআরএম অফিসে কর্মরত ওএস শম্ভুনাথ সরকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং নগদে মিলিয়ে প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন। ঘটনা ২০১১-১২ সালের। ওইসব চাকরিপ্রার্থী যুবকদের বিভিন্ন সময়ে কখনো আসানসোলে আবার কখনো ধানবাদে ডেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ৬২ লক্ষ টাকার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি টাকা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর ৩ বছর ধরে ঘোরাঘুরি করেও চাকরি কিংবা দেওয়া টাকা ফেরত না পেয়ে সিবিআই-এর কাছে তারা অভিযোগ জানান। ঘটনাটি কলকাতা রিজিয়নের হওয়ায় মহারাষ্ট্র থেকে কলকাতা সিবিআই (এসিবি)- এর কাছে অভিযোগটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন সিবিআই খোঁজ পায়, যে একাউন্টে টাকা নেওয়া হয়েছিল সেটি একজন অটোচালকের। এরপর ঐ অটোচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পেয়ে যায় সিবিআই। ৯ বছর ধরে শুনানি চলার পর এই মামলার রায় ঘোষিত হয় চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর।
কিন্তু কিভাবে আসানসোল ডিআরএম অফিসের ওএসের পাল্লায় পড়লেন মহারাষ্ট্রের যুবকেরা সেই বিষয়টি সিবিআইকে অভিযোগকারী বিলাস জানিয়েছেন। বিলাস বলেছেন যে তারা রেলে চাকরি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা দিতে যেতেন। এই পরীক্ষা দেওয়ার সময়ই শম্ভুনাথের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটে । শম্ভুনাথ তাদের আশ্বাস দেয় যে পরীক্ষা দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, মন্ত্রী কোটায় রেলে তাদের চাকরি তিনি করে দেবেন। তার কথাবার্তায় ওই যুবকেরা প্রভাবিত হয়ে শম্ভুনাথের কথা মত টাকা দেওয়া শুরু করেন। বিলাসের দেখাদেখি তার এলাকার আরো কিছু যুবক চাকরির আশায় শম্ভুনাথকে টাকা দেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও চাকরি না হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে তাদের হয়রান করার পরই সিবিআই -র দ্বারস্থ হন ওই যুবকেরা।@প্রান্তভূমি
১০০% এসআইআর কাজ সম্পূর্ণ করে সম্মানিত ব্লকের ৫ বিএলও
প্রান্তভূমি ।। ২৬ নভেম্বর:: এসআইআর-এর কাজে দক্ষতার নিদর্শন রেখে সালানপুর ব্লকের ৫ বি এল ও জেলাশাসকের হাত থেকে বিশেষ পুরস্কার লাভ করলেন। তাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মান জানালো পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এই পাঁচজন বিএলও হলেন শাশ্বতী ভৌমিক বসাক, সীমা মাজি (মন্ডল), অনামিকা মন্ডল, বিনীতা কুমারী এবং ঋতু মন্ডল। আজ ২৬ নভেম্বর জেলাশাসক এস পোন্নামবলম আসানসোলে এদের সম্মানিত করেন। সালানপুর ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যে ব্লকের আরও তিনজন বিএলও তাদের কাজ সম্পূর্ণ করে নজির গড়েছেন। এদের মধ্যে বিনীতাকুমারী সালানপুর ব্লকের প্রথম বি এল ও যিনি এসআইআর ফরম বিলি, ম্যাপিং এবং জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। ১৪৫ জন বি এল ও 'র মধ্যে তিনিই প্রথম এই কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। বারাবনি বিধানসভা ক্ষেত্রের মনোহরা ফ্রি প্রাইমারি স্কুল ১১৫ নম্বর বুথের বি এল ও বিনীতাকুমারী তার আওতায় থাকা ৭৩২ জন ভোটারের প্রত্যেকের নাম ডিজিটাইজড করে সফলতার সঙ্গে আপলোড করেছেন। তার এই কর্মদক্ষতাকে আগেই স্বীকৃতি জানিয়ে সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বিনীতা দেবীর হাতে সম্মাননা তুলে দিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন ব্লক ইনফরমেশন অফিসার শুভাশিস রায়। আজ জেলাশাসকের হাত থেকে বিশেষ সম্মাননা বিনীত দেবীর সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন সালানপুর ব্লকের ২২ নম্বর বুথ চিত্তরঞ্জনের পঞ্চম পল্লী বিদ্যালয়ের শাশ্বতী ভৌমিক বসাক, পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয় ৮৩ নম্বর বুথের সীমা মাজি (মন্ডল), শিয়াকুলবেড়িয়া প্রাইমারি স্কুল ১০৯ নম্বর বুথের অনামিকা মন্ডল, খুদিকা জুনিয়ার বেসিক স্কুল ১৩৯ নম্বর বুথের ঋতু মন্ডল।
শাশ্বতী ৯৮০, সীমা ৭০৭, অনামিকা ৫৭৭, ঋতু ৭১৮ জন ভোটারের প্রত্যেকের নাম ডিজিটালাইজড করে আপলোড করার কাজ সম্পূর্ণ করেছেন।
অন্যদিকে আসানসোল মহকুমা শাসকের হাত থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পত্র গ্রহণ করেছেন করুণা মাজি। প্রাথমিক শিক্ষিকা করুণা আসানসোল উত্তর বিধানসভার ৪৭ নম্বর বুথের বিএলও। তবে আসানসোলবাসী করুণা রূপনারায়ণপুরের কন্যা । তিনি বিবাহ সূত্রে আসানসোলবাসী হয়েছেন। তিনি এসআইআর ফর্ম বিলি পুরণ এবং আপলোডের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করে এই সম্মান লাভ করেছেন। মহাকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য তাকে সম্মানিত করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন নানান জটিলতার কথা বিভিন্নভাবে উঠে এলেও ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ যথেষ্ট গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং প্রায় প্রতিদিন ১০০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করা বি এল ও'র সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে।
এই কাজে আরো গতি আনতে নিয়মিত জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন শিবিরে যাচ্ছেন মহাকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। আজ ২৬ নভেম্বর তিনি আসানসোল পলিটেকনিক, গুজরাটি এফপি স্কুল, দয়ানন্দ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন এলাকায় যান। তার সঙ্গে ছিলেন ইলেকশন সেল সদস্য অনুজ চক্রবর্তী, এইআরও, সুপারভাইজার, এবং সংশ্লিষ্ট সব বিএলও , বি এল এ'রা। এদিন তারা ৩০ টি বুথ এলাকার কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন । সেখানে এসআইআর ফর্ম পূরণ, জমা এবং ডিজিটাইজেশনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন। এমনকি মহাকুমা শাসক নিজে শিবিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের ফর্ম পূরণ করে দেন। দ্রুত নির্ভুল এসআইআর ফরম পূরণ এবং আপলোড করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উৎসাহ দেন মহকুমা শাসক শ্রী ভট্টাচার্য।
@প্রান্তভূমি
৪৪ ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে ১৪ কোটি টাকা, সোনাদানা সহ বিপুল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করল ইডি:: জারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রান্তভূমি ।। ২৩ নভেম্বর::
পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খন্ডে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ইডি'র তল্লাশি অভিযান নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করল ডিরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্ট। ২১ এবং ২২ নভেম্বর এই তল্লাশি অভিযানে ই ডি বিপুল সাফল্য লাভ করেছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যাচ্ছে। ইডি জানিয়েছে, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের ৪৪ টি জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের সূত্র ছিল বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা খনন চুরি পরিবহন এবং মজুত করে রাখা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ। এই অভিযানে নগদ অর্থ এবং সোনাদানা মিলিয়ে ১৪ কোটি টাকার অধিক মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রচুর সম্পত্তির দলিল, কয়লা সিন্ডিকেটের চুক্তির কাগজ, জমির নথিপত্র, বহু ডিজিটাল যন্ত্রসামগ্রী, হিসাব পত্র রাখার রেজিস্টার এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সম্বলিত ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের ২০ টি জায়গায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সেই সব জায়গা গুলি হল ধানবাদ দুমকা জেলা অঞ্চলের। তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে লালবাহাদুর সিং, অনিল গোয়েল, সঞ্জয় খেমকা, অমর মন্ডল প্রমুখ কোম্পানির ঠিকানাম অফিস কার্যালয়ে এবং সম্পর্কিত ব্যক্তিদের অফিস ও বাড়িতে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৪টি জায়গায় ইডি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। সেইসব জায়গার মধ্যে আছে দুর্গাপুর পুরুলিয়া হাওড়া কলকাতা অঞ্চল। পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালানো হয়েছে নীরদ বরণ মন্ডল, চিন্ময় মন্ডল, লোকেশ সিং, রাজকিশোর যাদব, যুধিষ্ঠির ঘোষ, কৃষ্ণ মুরারি কয়াল, নরেন্দ্র খারকার অফিস বাড়ি এবং বিভিন্ন কার্যালয়ে। মূলত অবৈধ টোল আদায় বুথ, কয়লার কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে কয়লার অবৈধ করবার সংক্রান্ত যাবতীয় নথি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের জন্যই এই অভিযান চালানো হয়। ইডি সূত্র জানিয়েছে সিআরপিএফের নিরাপত্তা নিয়ে ১০০ জনেরও বেশি ইডি আধিকারিক এই তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
কেন এই তল্লাশি অভিযান পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানা অঞ্চলে একসঙ্গে চালানো হয়েছিল সেই প্রসঙ্গে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কয়লার অবৈধ চোরাচালান নিয়ে এই দুই রাজ্যের বিভিন্ন থানায় একাধিক এফ আই আর নথিভুক্ত হয়েছিল। সমস্ত এফআইআরেই অভিযোগ করা হয়েছিল যে ঝাড়খন্ড এবং বাংলার সীমানা অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণ কয়লার অবৈধ চক্র চলছে। বিশেষ করে ঝাড়খন্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে কয়লার চোরা চালান হচ্ছে কোনরকম বৈধ নথিপত্র ছাড়াই। এইসব অভিযোগগুলির সারবত্তা ইডির এই তল্লাশি অভিযানে পাওয়া নথির সঙ্গে মিলে গেছে। বিরাট এই কয়লা কারবারের চক্রকে বিনাশ করতে যেসব নথির প্রয়োজন সেই সব রেজিস্টার ডায়েরি ডিজিটাল ডকুমেন্টস সমস্ত কিছুই ইডি হস্তগত করতে পেরেছে বলে জানানো হয়েছে।@প্রান্তভূমি
আসানসোল গার্লস কলেজের ৭৫ বছর পূর্তিতে উঠে এলো নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ
প্রান্তভূমি ।। ২২ নভেম্বর:: আসানসোল গার্লস কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুদিনের অনুষ্ঠান শুরু হল আজ ২২ নভেম্বর। এদিন রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন আসানসোল মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস, ই এস আই হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ অতনু ভদ্র, জেলার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষগণ, গার্লস কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডক্টর প্রফুল্ল কুমার দে সরকার, আসানসোল কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় সহ বহু গুণীজন। এদিন কলেজের প্রাক্তন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা প্রয়াত ডক্টর অঞ্জলি রায়ের মর্মর মূর্তির উন্মোচন করেন মন্ত্রী শ্রীঘটক।
গার্লস কলেজের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা ডঃ মনিকা সাহা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৫ বছর পূর্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ও গর্বের বিষয়। তিনি বলেন আসানসোল গার্লস কলেজের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ হাজার ছাত্রী পড়াশোনা করেন। কুড়িটি বিষয়ে অনার্স কোর্স পড়ানো হয়। কলেজের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপনে সহযোগিতা করার জন্য প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক, কলেজ কর্তৃপক্ষ, পড়ুয়া এবং কলেজ পরিচালন সমিতির অধ্যক্ষ মলয় ঘটককে মনিকাদেবী ধন্যবাদ জানান।
এদিন মন্ত্রী শ্রীঘটক বলেন জেলার অন্যান্য কলেজের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি বহন করে চলেছে আসানসোল গার্লস কলেজ। এখান থেকে পড়াশোনা করে বহু প্রাক্তনী জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি বলেন এই কলেজ একসময় মনিমালা স্কুল নামে পথ চলা শুরু করেছিল, পরে মনিমালা গার্লস কলেজ নামাঙ্কিত হয়। এখন সেটি আসানসোল গার্লস কলেজ হিসেবে শিল্পাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই কলেজকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডক্টর অঞ্জলি রায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।@প্রান্তভূমি
.
.
রেলকে বাঁচাতে মিলিটারি এয়ারফোর্সকেও আন্দোলনে সামিল হওয়ার ডাক সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের
প্রান্তভূমি ।। ২১ নভেম্বর::
রেলকে ক্রমশ দুর্বল করে দিয়ে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সমস্যা শুধুমাত্র রেল কর্মীদের নয়, দেশের সমস্ত শ্রেণীর মানুষের কাছেই এই সমস্যা ভয়ংকর হয়ে উঠতে চলেছে - তাই রেলকে বাঁচাতে রেল কর্মীদের পাশাপাশি দেশের সমস্ত কর্মীমহল এবং সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে নামার ডাক দিলেন সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত। এমনকি এই আন্দোলনে দেশের মিলিটারি, এয়ার ফোর্সকেও শামিল করার জন্য তারা উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানান রাজীব বাবু। আজ ২১ নভেম্বর চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা মহাপ্রবন্ধকের কার্যালয়ের সামনে লেবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এরপর জেনারেল ম্যানেজারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে অবিলম্বে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় সমস্ত ধরনের বেসরকারিকরণ বন্ধ করতে হবে। এখানকার সমস্ত শূন্য পদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে । এছাড়াও পুরনো পেনশন প্রকল্প ফিরিয়ে আনা, ঠিকা কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শহরের কর্মী আবাসনগুলি সংস্কার করা, হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করা, অস্বচ্ছতা দূর করে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ সহ অন্যান্য দাবি এবং শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। এরই সঙ্গে রাজীব বাবু বলেন চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার কর্মীরা যেসব কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেন সেই সব কাজ বাইরে থেকে আর কোনোভাবেই করানো চলবে না। বন্ধ পড়ে থাকা স্টিল ফাউন্ড্রি বিভাগকে পরিবর্তিত কোন উৎপাদনের কাজে লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রান্তভূমির প্রতিনিধিকে রাজীব বাবু বলেন তারা কোন মতেই রেলকে বিক্রি হতে দেবেন না। তিনি বলেন এখন চিত্তরঞ্জনে এমন কোন বিভাগ নেই যেখানের কাজ আউটসোর্সিং করা হয়নি। এতে রেল কর্মীদের পাশাপাশি বিপন্ন হচ্ছে সমগ্র দেশ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন এইসব কাজ অস্থায়ী ভিত্তিতে ঠিকাদারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে কিন্তু ঠিকা কর্মীদের বেতন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা অনিশ্চিত। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার ১৯ নম্বর শপের ঠিকা কর্মীরা ৫১ দিন ধরে বেতন না পেয়ে ২০ নভেম্বর কারখানার ভেতরেই ধর্নায় বসেছিলেন। কারখানার বাইরে স্যানিটেশন ইত্যাদির কাজে প্রাইভেট কর্মীরা ৩-৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এই অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই কি আগামী প্রজন্মকে ঠেলে দেওয়া হবে সেই প্রশ্ন রেখে রাজীব বাবু বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। তিনি বলেন এখন আত্মনির্ভর ভারত বলতে কর্পোরেট নির্ভর ভারত গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে আর্থিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু থাকবে না। তাই দেশব্যাপী সমস্ত ক্ষেত্রের কর্মী ও মানুষকে নিয়ে তারা সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলনে নামছেন বলে উল্লেখ করেছেন। রাজীব বাবু বলেন এরপরেও সরকারের ঘুম না ভাঙলে তারা দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘটে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজীব গুপ্ত, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, অভিরূপ চৌধুরী, চিন্ময় গুহ, সৌমেন দত্ত, সম্পদ কোনার, সন্তোষ কুমার, অচিন্ত্য সূপকার, তাপস চৌধুরী, প্রহ্লাদ কর্মকার, সমীরণ চক্রবর্তী, বিল্ব মুর্মু, দিলীপ দেব, বিজয় যাদব, পার্থ দাস।@প্রান্তভূমি
কয়লা বালির কারবারে ইডি হানা ৪০ জায়গায়, ভোর ৫টা থেকে চাঞ্চল্য
প্রান্তভূমি ।। ২১ নভেম্বর::
কলকাতা পাণ্ডবেশ্বর কুলটি ধানবাদ সহ দুই রাজ্যের প্রায় ৪০ টি জায়গায় একসাথে ইডি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ভোর ৫ টা থেকে। অনুমান কয়লা খনন এবং অবৈধ চুরির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সম্পূর্ণ চক্রের খোঁজেই বিরাট এই তল্লাশি অভিযান চলছে। বিশাল কেন্দ্রীয়বাহিনীর উপস্থিতিতে ইডির আধিকারিকেরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে সামিল হয়েছেন। কয়লা ও বালিকারবারীদের অফিসগুলি ঘিরে রেখে কর্মীদের একটি জায়গায় আটক করে রাখা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ডিজিটাল লেনদেনের সাক্ষ্য সমস্ত কিছুই তারা বাজেয়াপ্ত করছেন বলে জানা গেছে। ইদানিং কালে পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের এলাকাগুলিতে একসঙ্গে ৪০ টি জায়গায় অভিযানের মত বড় মাপের ঘটনা আগে ঘটেনি। জানা গেছে বহু কোটি টাকার এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বাড়ি এবং অফিসেও একসাথে তল্লাশি অভিযান চলছে। এদিকে পাণ্ডবেশ্বরের খোট্টাডিহি গ্রামের দোনাপাড়ায় যুধিষ্ঠির ঘোষের বাড়িতে এই অভিযান ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা চলছে। যুধিষ্ঠির ঘোষ আগে কয়লা কারবারের মামলায় জেলে গিয়েছিলেন এবং এখন জামিনে মুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ বেশ কয়েক বছর ধরে যুধিষ্ঠির অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি খনন করে পাচারের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ই ডি সূত্রে জানা গেছে পি এম এল এ বা মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট- এর অন্তর্ভুক্ত এই অভিযানে অবৈধ কয়লা খনন এবং পাচারের সঙ্গে সংযুক্ত আর্থিক লেনদেনের পুরো চক্রের হদিশ পেতেই একযোগে বাংলা ঝাড়খন্ডে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। ধানবাদের বেশকিছু কয়লা কারবারের মাথা, কুলটিতে কয়লা কারবারীদের সহযোগী এবং অন্যান্যদের বাড়ি ও অফিসে ভোর থেকে এই তল্লাশিতে এলাকার মানুষের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তেমনই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অফিস ও বাড়িতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তল্লাশি অভিযান ক্রমাগত চলছে। আপাতত এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তর থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।@প্রান্তভূমি
অন্ডাল বিমানবন্দরকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দিলেন সাংসদ
প্রান্তভূমি ।। ২০ নভেম্বর::
২১ লক্ষ টাকার একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স অন্ডাল বিমানবন্দরকে দিলেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। আজ, ২০ নভেম্বর এই অ্যাম্বুলেন্সের চাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে সাংসদ বলেন এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন, তাদের প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সটি কাজে লাগবে। সাংসদ তহবিলের অর্থে এই অতি প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাংসদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আজ এই উপলক্ষে সাংসদের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক এস পোন্নামবলম সহ প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্তাব্যক্তিরা।@প্রান্তভূমি
এডিডিএ'র নতুন সিইও
প্রান্তভূমি ।। ২০ নভেম্বর::
আদতে তামিলনাড়ু ক্যাডারের আইএএস অফিসার একম জে সিং আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডি)- এর নতুন সিইও হিসেবে নিযুক্ত হলেন। এখন পশ্চিম বঙ্গ ক্যাডারের এই আধিকারিক এর আগে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক হিসেবে দায়িত্বভার সামলেছেন । এডিডিএ'র দায়িত্ব নেওয়ার আগে ছিলেন মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক। রাজ্য সরকার এবার উদ্যমী এই প্রশাসকের কাঁধে শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার দায়িত্বভার তুলে দিলেন।@প্রান্তভূমি
.
.
.
.
কুলটির শ্রী হাসপাতালের সঙ্গে চিত্তরঞ্জনের টাই-আপ:: সিআরএমসি'র ধন্যবাদ রেল কর্তৃপক্ষকে, সঙ্গে আরও দাবি নতুন জিএমের কাছে
প্রান্তভূমি ।। ১৯ নভেম্বর::
কুলটির শ্রী হাসপাতালের সঙ্গে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার টাই-আপ হওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানালেন সিআরএমসি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কুলটি বরাকর নিয়ামতপুর এলাকার রেল কর্মী ও তাদের পরিবার জরুরি ভিত্তিতে এই হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা নিতে পারবেন। সময়োচিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি বিষয় সিআরএমসি নেতারা তুলে ধরেছেন সিএলডব্লুর নতুন জেনারেল ম্যানেজার অমিত কুমার গুপ্তার কাছে। আজ, ১৯ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং, এস কে শাহী, নেপাল চক্রবর্তী প্রমুখ জেনারেল ম্যানেজারের সাথে দেখা করেন। এদিন রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তারা আবেদন জানিয়ে বলেছেন, হায়দ্রাবাদের এআইজি হাসপাতাল (গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি) এবং দুর্গাপুরের দিশা হাসপাতাল (অপথালমোলজি)-এর সঙ্গে যেন দ্রুত পরিষেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এরই সঙ্গে রাজ্যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যাতে রেল কর্মীদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অশক্ত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে। একই কর্মীকে বারবার ভোটের ডিউটিতে না পাঠিয়ে কর্মীদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভোটের কাজে নিযুক্তির আবেদনও জানানো হয়েছে সিআরএমসির পক্ষ থেকে।
এছাড়াও ডানকুনি ইউনিটে কর্মরত রেল কর্মীদের অবসরকালীন অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন ডানকুনিতেই করা হয় সেই আবেদন রাখা হয়েছে জেনারেল ম্যানেজারের কাছে।
এদিন জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের আবাসনগুলির দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া নর্দমা পরিষ্কারের বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
১২ দফা দাবির মধ্যে আরো আছে - শহরের নিরাপত্তায় আরো সিসি ক্যামেরা লাগানো, ওভারটাইম সিলিং ১৫ হাজার টাকায় স্থির না রাখা, গ্রুপ ডি কর্মীদের মধ্য থেকে হেল্পার পদ পূরণ করা, বকেয়া এইচআরএ মেটানোর মত জরুরী বিষয়গুলি।
এই বৈঠক প্রসঙ্গে সিআরএমসি নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন তাদের উত্থাপন করা বিষয়গুলি মহাপ্রবন্ধক অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং সময়মতো ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। রেল কর্মীদের কাজের পরিবেশ এবং বসবাসের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা সঠিক রাখার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।@প্রান্তভূমি
মা'কে খুনের অভিযোগে আটক ছেলে
#প্রান্তভূমি ।। ১৯ নভেম্বর::
রাতে মায়ের মাথায় আঘাত করে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে কুলটি থানা এলাকার এল সি মোড় অঞ্চলে থাকতেন সুশীলা সিনহা (৪৫)। তিনি একটি ছোট মুদিখানা এবং সঙ্গে চা-বিস্কুট ইত্যাদির দোকান চালাতেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মুম্বাইয়ে কর্মরত, ছোট ছেলে বিশাল সিনহা প্রায়ই কাজের সূত্রে বাইরে যেত, আবার ঘরে ফিরতো। আজ ১৯ নভেম্বর স্থানীয় মানুষজন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মর্মান্তিক এই অঘটনের কথা জানতে পারেন। পুলিশ ঘরের ভেতর থেকে সুশীলা দেবীর দেহ উদ্ধার করে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বিশালকে। স্থানীয়দের অনুমান রাতে কোথাও সুশীলা দেবীর মাথায় আঘাত করে মৃত্যু ঘটানোর পর ঘরের ভেতর নিয়ে আসে বিশাল। তবে কি কারনে ছেলের হাতে মাকে খুন হতে হলো সেই বিষয়টি কারো কাছে পরিষ্কার নয়। কুলটি থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। স্থানীয়রা জানান বিশাল কাজের সূত্রে মাঝেসাজেই বাইরে যেত, মদ্যপানেরও বদভ্যাস ছিল তার। কিন্তু এত বড় অঘটন কিভাবে ঘটলো সেটাই সকলের কাছে বড় রহস্য।@প্রান্তভূমি
.
.
ইসিএল কর্মী, দোতলা বাড়ির মালিকও হুকিংয়ের মায়াজালে, বিদ্যুৎ বিভাগের কড়া অভিযান
প্রান্তভূমি।।৩০ অক্টোবর::
ইসিএলের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, অর্থের অভাব নেই, মোটা পেনশন আছে। তারপরও নতুন একতলা বাড়ি বানিয়ে তাতে হুকিং করে বিদ্যুৎ নিয়েছিলেন। অবৈধ এই কান্ড হাতে নাতে ধরা পড়তেই কড়া ব্যবস্থা নিল বিদ্যুৎ বিভাগ। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং পুলিশে এফআইআর দায়ের হয়েছে। আইনি এই ব্যবস্থার পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকার বেশি জরিমানাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনা সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের অন্তর্গত দেন্দুয়া পঞ্চায়েত এলাকার নাকড়াজোড়িয়ায়। একই অবস্থা এথোড়া ধীবরপাড়ায়। দোতলা বাড়ি, কিন্তু বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ তার সংযুক্ত করে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পেয়েই বিদ্যুৎ বিভাগ অভিযানে যায় এবং হাতেনাতে অবৈধ কারবার ধরে ফেলে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। আজ ৩০ অক্টোবর ব্লকের দুই প্রান্তে এই দুটি ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের স্টেশন ম্যানেজার বিপ্লব মন্ডল বলেন, বৈধভাবে অনুমতি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করলে সামান্য কয়েক হাজার টাকায় যে কাজ হয়ে যায় তাকেই অযথা অবৈধ উপায়ে করতে গিয়ে মানুষজন প্রচুর টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য হন। তাই কেউ যেন হুকিং করে বিদ্যুৎ সংযোগ না নেন সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেন তিনি। এদিকে ব্লক জুড়ে কয়েকশো কিলোমিটার বিদ্যুতের তার নতুন ভাবে লাগানো হচ্ছে যাতে হুকিং করার কোন সুযোগ নেই। এই কাজ পুরো এলাকাতেই করা হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তবুও এর ফাঁকে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিদ্যুৎ চুরির মত গর্হিত কাজ করছেন যা অত্যন্ত অনুচিত বলে স্টেশন ম্যানেজার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন সকলেই সচেতন থাকুন। নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। তাহলে পরিষেবা পেতেও সুবিধা হবে। হুকিং প্রতিরোধে এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয় এবং আরো জোরদার চলবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে। @প্রান্তভূমি
.
.
চিত্তরঞ্জনে সর্বভারতীয় রেল ফুটবলের প্রথম ম্যাচেই বিরাট জয় সিএলডব্লুর
#প্রান্তভূমি ।। ২৩ অক্টোবর::
সর্বভারতীয় আন্ত:রেল ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচেই জয়ী হলো চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা। উদ্বোধনী এই খেলায় চিত্তরঞ্জন ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রেল হুইল ফ্যাক্টরি ব্যাঙ্গালোর +আর ডাব্লিউ এফ)- কে। উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর থেকে চিত্তরঞ্জনে শুরু হয়েছে ৮০-তম অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ পর্যায়ের খেলা। এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রিন্সিপাল চিফ মেটেরিয়াল ম্যানেজার তথা সিএলডব্লু স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে মেশরাম। সিএলডব্লু স্পোর্টস এসোসিয়েশনের পরিচালনায় সর্বভারতীয় এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছে সিএলডব্লু, সিআর, এন এফ আর, আর সি এফ, আর ডব্লু এল, ডব্লু আর, এস ই আর, এন আর, আর পি এফ, ইসিআর, আর বি, এস ডব্লু আর এবং অন্যান্য দলগুলি।
চিত্তরঞ্জনে খেলাগুলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইনডোর স্টেডিয়াম এবং শ্রীলতা ফুটবল ময়দানে।
প্রথম দিনের খেলায় চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার দুর্দান্ত জয় হয়েছে। এছাড়াও আরো দুটি খেলা এ দিন অনুষ্ঠিত হয় - তাতে সেন্ট্রাল রেলওয়ে ৩-১ গোলে সাউদার্ন রেলওয়েকে এবং আরসিএফ ১-০ গোলে এনএফআর-কে পরাজিত করেছে।@প্রান্তভূমি
.
.
আন্তর্জাতিক মেলায় তুমুল আগ্রহ চিত্তরঞ্জনের রেল ইঞ্জিনকে ঘিরে
প্রান্তভূমি ।। ১৭ অক্টোবর::
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দুর্দান্তভাবে নিজেদের তুলে ধরলো চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সামনে সিএলডব্লুর প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির প্রদর্শনী বিশেষ সাড়া ফেলেছে। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৬-তম আন্তর্জাতিক রেলওয়ে যন্ত্রাংশ প্রদর্শনীতে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রদর্শিত ডব্লিউ এ জি-৯ এইচ সি, ডব্লু এ পি-৫ পুশ পুল এ্যরোডায়নামিক এবং ডব্লু এ জি-৯ এইচ সি টুইন বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক স্তরের এই মেলায় চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ৭৫ বছরের গৌরবময় পথ চলার ইতিহাস অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। এই কারখানা নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমানের রেল ইঞ্জিন তৈরি করে "আত্মনির্ভর ভারত" স্লোগানকেও দৃঢ় করছে।
এই মেলায় বিভিন্ন দিনে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়েছিলেন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা সিইও সতীশ কুমার এবং সদস্য এইচ মালহোত্রা।
সিএলডব্লুর যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিন বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য ছিলেন চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন হরিশ মিত্তাল, জনসংযোগ আধিকারিক চিত্রসেন মন্ডল, উপ মহাপ্রবন্ধক উত্তম কুমার মাইতি, ডেপুটি সিএমএম কুমার পরমানন্দ, এস ই ই আশীষ কুমার, সুনীল কুমার প্রমুখ।
আন্তর্জাতিক এই মেলায় যোগ দিয়ে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা তার দক্ষতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দিকটিতেও বিশেষ অগ্রগতি ঘটিয়েছে বলে সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
বালির কারবারে ইডির হানা, ভোর থেকে তল্লাশি একাধিক জায়গায়
#প্রান্তভূমি ।। ১৬ অক্টোবর::
ভোর পাঁচটা থেকে প্রায় ৪০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি অফিস এবং কারখানায় তল্লাশি চালাচ্ছে ই ডি। আসানসোলের খ্যাতনামা ব্যবসায়ী পরিবার বাগাড়িয়া পরিবারের একাধিক জায়গায় এই তল্লাশিতে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইডির এই হানা বালি পাচারকে কেন্দ্র করে বলেই বিভিন্ন মহল থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ প্রসঙ্গে এক প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী বলেন বড় ব্যবসায়ীদের মাঝেমধ্যেই কখনো জিএসটি, কখনো ইনকাম ট্যাক্স, কখনো আবার ইডির তল্লাশীর মুখে পড়তে হয়। আজকের এই অভিযান ঠিক কি কারণে তা স্পষ্ট নয়। যদিও বালি ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই আজ রাজ্যের কলকাতা বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম সহ সাতটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি এবং সেই সূত্রেই জড়িয়ে গেল আসানসোলও।
জানা গেছে, আজ ১৬ অক্টোবর ভোর পাঁচটার সময় আসানসোল মুর্গাশোলের বাসিন্দা মনীশ বাগাড়িয়ার বাড়ি অফিস এবং কারখানায় একযোগে এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের সংবাদ চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাগাড়িয়া অটোমোবাইলের সামনে কৌতুহলবশত জড়ো হতে থাকেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা সমস্ত জায়গা ঘিরে রাখে। যদিও এদিন মনীশ আসানসোলে ছিলেন না, তিনি কলকাতায়। জানা গেছে বাগাড়িয়া পরিবারের তিন ভাই একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তার মধ্যে বালি ব্যবসাও আছে। এই ব্যবসায় গত তিন চার বছরে তাদের ব্যাপক আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। এই পরিবারের সিমেন্ট তৈরির কারখানাও আছে বলে তারা বলছেন। তবে এদিনের অভিযান বালির কারবারকে কেন্দ্র করে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। উল্লেখ্য, আসানসোল শিল্পাঞ্চলের দুদিকে থাকা দামোদর ও অজয় নদ থেকে বালি তুলে পাচার করার অভিযোগ বারবার উঠেছে। পুলিশ প্রশাসন অবৈধ এই কারবার বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে অভিযানের মাধ্যমে ব্যাপক ধরপাকড়ও করেছে। প্রশাসনিক নির্দেশে বর্ষার সময় মাস তিনেক নদী থেকে এই বালি তোলা বন্ধ থাকলেও বালির অবৈধ কারবারে রাশ টানা যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়েছে। এবার ইডির হানা অবৈধ বালির কারবারে কি প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। @প্রান্তভূমি
ডাক্তারি পড়ুয়াকে বলাৎকারের ঘটনায় ধরা পড়লো ৫ অভিযুক্তই
#প্রান্তভূমি ।। ১৩ অক্টোবর::
প্রা:প্র:: দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। অত্যন্ত জঘন্য এই ঘটনা সামনে আসার পরেই প্রথম আটক হয়েছিল ওই ছাত্রীর সহপাঠী বন্ধু। এরপর ১২ অক্টোবর আরো তিন অভিযুক্ত পুলিশের হাতে আসে। তাদের বাড়ি দুর্গাপুর থানা এলাকার বিজড়া গ্রামে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন মুসলিম সম্প্রদায়ের এবং একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের আছে বলে জানা গেছে। তাদের বয়স ৩১ বছরের মধ্যে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত কড়া মনোভাব হলো যে এখানে সম্প্রদায় বিবেচ্য নয়, অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণিত হলে পৈশাচিক এই কাজের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে হয় সেটি দেখাই প্রধান দিক। ১২ অক্টোবর ধৃতদের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে এসিজেএম দেবকল্প সরকার পুলিশের আবেদন অনুযায়ী ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন। এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে কোন আইনজীবী সওয়াল করার জন্য ছিলেন না। অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী (পিপি) অনমিত্র দেব এবং বিজেপির পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী পার্থ ঘোষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। তারা টিআই প্যারেড এবং নিগৃহীতা ছাত্রীর গোপন জবানবন্দী নেওয়ার আবেদন জানান।
এদিকে ঘটনার দেড়দিনের মধ্যে অভিযুক্ত চারজনকে এবং দুদিনের মধ্যেই আরও এক অভিযুক্তকে পুলিশ নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এই ঘটনার কিনারা করার দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেল।(ছবিতে - ঘটনাস্থলে তদন্তে ফরেনসিক দল)@প্রান্তভূমি
বাইরে থেকে চিত্তরঞ্জনে আসছে ৫০ টি ইঞ্জিন! উদ্যোগ রুখতে শহর অবরোধের ডাক লেবার ইউনিয়নের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।।
১৯ সেপ্টেম্বর:: আর ইঞ্জিনের শুধু যন্ত্রাংশ নয়, এবার একেবারে গোটা ইঞ্জিন বাইরে থেকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় নিয়ে আসার ব্যাপক তোড়জোড় চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুললো লেবার ইউনিয়ন। ইউনিয়ন নেতা রাজীব গুপ্তের অভিযোগ, বাইরে থেকে ৫০ টি স্মার্ট ইঞ্জিন চিত্তরঞ্জনে ঢোকানোর সব রকম চেষ্টা চলছে। কিন্তু এমনটা তারা কোনভাবেই হতে দেবেন না। প্রয়োজনে শহরে ঢোকার সবকটি গেট অবরোধ করে রেল কর্তৃপক্ষের এই অপচেষ্টা রুখে দেবেন। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়ন চিত্তরঞ্জন রেল কর্তৃপক্ষের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। তার আগে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব বাবু গুরুতর এই অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন বাইরে থেকে এখানে ইঞ্জিন ঢোকানোর চেষ্টা রুখতে যতদূর যেতে হয় তারা যাবেন। রেল কর্তৃপক্ষের এই তোড়জোড়ের বিরোধিতা করে তারা বলেন অবিলম্বে এই উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। এদিন অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গেই আরো গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আসানসোল- চিত্তরঞ্জন রোডের সংস্কার। লেবার ইউনিয়ন তাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছে যে চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় যন্ত্রাংশ নিয়ে আসার জন্য অত্যন্ত ভারী ট্রাক ট্রেলার এই রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করছে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত ভগ্ন। যত্রতত্র গর্ত, জমা জলে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রেল কর্মীরা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিয়মিত এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। তাই সবদিক বিবেচনা করে এই রাস্তা সংস্কারের জন্য পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে চিত্তরঞ্জন রেল কর্তৃপক্ষ যেন উদ্যোগ নেন সেই দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও চিত্তরঞ্জন শহরের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্র মঞ্চের অবিলম্বে পূর্ণ সংস্কারের দাবী জানানো হয়েছে। লেবার ইউনিয়ন জানিয়েছে সাংস্কৃতিক এই মঞ্চটির টিনের ছাউনি যত্রতত্র খুলে পড়েছে, বাথরুমগুলি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, মঞ্চ এবং দেওয়াল বৃষ্টির জলে নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে রবীন্দ্র মঞ্চের পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানানোর পাশাপাশি চিল্ড্রেন পার্কটিরও সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও বোনাসের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা, লাগামছাড়া আউটসোর্সিং বন্ধ করা, রবিবার এবং অন্যান্য ছুটির দিনে কাজের জন্য ওভারটাইম সুবিধা দেওয়া সহ বেশ কিছু দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ সভায় রাজীব গুপ্ত ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আর এস চৌহান, চিন্ময় গুহ, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী।@প্রান্তভূমি
কেবলসে এলো বিএসএফ::চলতি বছরেই বড়ো কিছুর সম্ভাবনা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন::১৫ সেপ্টেম্বর:: হিন্দুস্তান কেবলসে এবার এলো বিএসএফ। আজ একনাগাড়ে বৃষ্টির মধ্যেই বিএসএফের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল হিন্দুস্তান কেবলসে এসে পৌঁছান। তারা রূপনারায়ণপুর ইউনিটের আধিকারিক আর এন ওঝার সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেন এবং জমির বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন। সময় নিয়ে তারা নথিপত্রের সঙ্গে সরেজমিন বিষয়গুলি খুঁটিয়ে দেখছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে যে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এখানকার বেশ কিছুটা জমিতে তাদের একটি বড়সড় ইউনিট গড়ে তুলতে আগ্রহী। যার মধ্যে ফায়ারিং রেঞ্জ, ট্রেনিং গ্রাউন্ড, ট্রেনিং স্কুল, নিজস্ব বাজার, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সহ বৃহদাকারের একটি টাউনশিপ। তবে বিএসএফের ইউনিটটি সম্পূর্ণ বাউন্ডারি ঘেরা জায়গার ভেতর হতে হবে। সেই হিসেবে প্রায় ৩০০ একর জমি তারা একলপ্তে লোয়ার কেশিয়ার শেষে জিতপুর সংলগ্ন অজয় নদ ঘেঁষা জায়গায় তারা পেয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সবুজ সংকেতে দ্রুত কার্যকরী হবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। আজ, ১৫ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে বিএসএফের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট চন্দন কুমার সিং, এসএম লক্ষণচন্দ্র সাহা এবং জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার শ্রী মুকুল সরাসরি গাড়িতে হিন্দুস্তান কেবলসে এসে পৌঁছান। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন বিএসএফের ইলেভেন ব্যাটেলিয়ানের অংশ।
এই পরিদর্শনের ফলে হিন্দুস্তান কেবলসে আপাতত আধা সামরিক বাহিনীর চারটি ইউনিটের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলো। সিআইএসএফ, সিআরপিএফ, এসএসবি এবং বিএসএফ হিন্দুস্তান কেবলসের পড়ে থাকা জমি এবং কারখানা কোয়ার্টার্স ইত্যাদি এলাকা নিজের নিজের ইউনিটের প্রয়োজন মত আয়ত্তে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এখানকার জমির যাবতীয় খুঁটিনাটি হিন্দুস্তান কেবলস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। পরিদর্শনকারী দলগুলি এখানকার জমি জলাশয় জঙ্গল নিজেদের চোখে দেখে সেইসব নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা চলতি বছরের মধ্যেই এখানে বড়সড় উদ্যোগ শুরু হয়ে যাবে।@প্রান্তভূমি
.
.
.
.
.
.
ডিসেম্বরের মধ্যেই কেবলসে নতুন উদ্যোগ! আজ দ্বিতীয়বার পরিদর্শনে সশস্ত্র সীমা বল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ৩ সেপ্টেম্বর
প্রা:প্র:: আড়াই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার হিন্দুস্তান কেবলস পরিদর্শনে এলো সশস্ত্র সীমা বল বা এস এস বি। প্রথমবার ২৪ জুন এসএসবির প্রশাসনিক আধিকারিকেরা পরিদর্শন করে যাওয়ার পর আজ ৩ সেপ্টেম্বর তাদের টেকনিক্যাল টিম এখানে এলেন। এই পরিদর্শনের ফলে হিন্দুস্তান কেবলসের পড়ে থাকা জমিতে কলকাতার বাইরে সশস্ত্র সীমা বলের নতুন একটি ইউনিট শুরু হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। আজ, কলকাতা সংলগ্ন বারাসত থেকে এসএসবির চারজনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল সকাল ১১ টা নাগাদ কেবলসে এসে পৌঁছান। তাদের মধ্যে ছিলেন কমান্ড্যান্ট অশোক বিশ্বাস, সেকেন্ড কমান্ড্যান্ট রামকুমার প্রসাদ, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট রাজেশ কুমার কুজুর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট শংকর কুমার আরিয়া। শ্রী আরিয়া দক্ষ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তারা হিন্দুস্তান কেবলস এলাকার প্রায় সমস্ত জায়গা দীর্ঘ তিন ঘন্টা ধরে ঘুরে দেখেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন হিন্দুস্তান কেবলসের তত্ত্বাবধায়ক আধিকারিক আর এন ওঝা। জানা যায় যে কেবলসের প্রশাসনিক ভবন, আর এন্ড ডি বিল্ডিং, কারখানা চত্বর, ব্যারাক, ফুটবল মাঠ, গেস্ট হাউস থেকে শুরু করে স্কুল বিল্ডিং মাঠ এবং লোয়ার কেশিয়া ও অজয় নদের তীর পর্যন্ত কেবলসের পুরো এলাকা তারা পর্যবেক্ষণ করেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট শ্রী আরিয়া সুনির্দিষ্ট ভাবে বেশ কিছু অঞ্চলের পরিমাপ করেন। এরপর প্রশাসনিক ভবনে আনুষঙ্গিক বৈঠক করেন শ্রী ওঝার সাথে। তারা কেবলসের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে হাসপাতাল রেলস্টেশন স্কুল বাজার ইত্যাদি কত দূরে সে সম্বন্ধে ধারণা নেন। কথা প্রসঙ্গে এসএসবির আধিকারিকেরা বলেছেন যে এখানকার জমি এবং জলসহ অন্যান্য পরিকাঠামো তাদের বিশেষ পছন্দ হয়েছে। এখানে খুব শীঘ্রই তারা এসএসবির স্থায়ী ট্রেনিং ক্যাম্প গড়ে তুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য যে জমির প্রয়োজন তা সরকারের কাছ থেকে তারা ইতিমধ্যেই চেয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। এসএসবির উচ্চপর্যায়ের এই দলটির এখানকার জমি সম্বন্ধে আগ্রহের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের নজর কেড়েছে। মনে করা হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ ঘটবে।
এ বিষয়ে কেবলসের আধিকারিক শ্রী ওঝাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন এসএসবির টেকনিক্যাল টিম গুরুত্ব সহকারে এখানকার জমি সহ অন্যান্য পরিকাঠামো দেখেছেন। তারা যেসব তথ্য জানতে চেয়েছেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই এখানে নতুন কিছু গড়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে মালবহাল অঞ্চল থেকে আর এ্যন্ড ডি বিল্ডিং পর্যন্ত এলাকা এসএসবির বিশেষ উপযোগী হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যেই সিআইএসএফ সহ একাধিক বাহিনী কেবলসের জমি পরিদর্শন করে গেছেন। তারাও এখানে নতুন ইউনিট গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেই হিসাবে সরকারি তরফে কাদের কতটা জমি কোন এলাকায় দেওয়া হবে তা এখনই সুনির্দিষ্ট নয়।
এদিকে চলতি মাসেই আধা সামরিক বাহিনীর অতি বৃহৎ আরও একটি উইং কেবলসে আসতে চলেছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন এইসব বিভাগগুলি হিন্দুস্তান কেবলসের জমিতে তাদের ব্যারাক প্রশিক্ষণ শিবির সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির সম্পাদক সুভাষ মহাজন বলেছেন নতুন কিছু হলে তারা খুশি হবেন, বেকারদের হাতে কাজ এলে এলাকার আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত হবে।@প্রান্তভূমি
৫৫০ নতুন নিয়োগ শীঘ্রই সিএলডব্লুতে::সিআরএমসিকে জানালেন জিএম
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২৯ আগস্ট :: চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় ৫৫০টি নতুন পদে শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে বলে আশ্বাস দিলেন জেনারেল ম্যানেজার বিজয় কুমার। আজ সিআরএমসি/এনএফআইআর/ আইএনটিইউসি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জেনারেল ম্যানেজারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেখানেই নতুন নিয়োগের বিষয়টি জানান বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উল্লেখ করেছেন সিআরএমসি'র সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং । তারা দাবি জানিয়েছিলেন কোনোভাবেই সিএলডব্লুর পদ অবলুপ্ত করে অন্য রেলে সেইসব পদের স্থানান্তর করা চলবে না এবং শীঘ্রই শূন্য পদে নতুন নিয়োগ করতে হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল ম্যানেজার শ্রী কুমার তাদের আশ্বাস দেন অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রেলবোর্ডের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে কোনভাবেই চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার কোন পদ অন্য রেলে স্থানান্তরিত করা হবে না এবং খুব শীঘ্রই ৫৫০ টি নতুন পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আজ, ২৯ আগস্ট ইন্দ্রজিৎ সিং এবং অন্যান্যরা আরো দাবী রাখেন যে, ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান-১ ও অন্যান্য পদগুলিতে দ্রুত নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শূন্য পদগুলি পূরণ করা হবে বলে জেনারেল ম্যানেজার তাদের কথা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ইন্দ্রজিৎ বাবু। এছাড়াও রেলবোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মোটর ড্রাইভার, পাবলিক হেলথ, পাওয়ার এবং টাউন সাপ্লাই বিভাগের কর্মীদের ওভারটাইম হয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কিংবা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন কোনভাবেই এই পদক্ষেপ করা চলবে না । এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার তাদের আশ্বাস দিয়েছেন কারখানার ওয়ার্কশপের কর্মীদের সমান হারে এইসব বিভাগের কর্মীরাও ওভারটাইম বাবদ অর্থ পাবেন। আজ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ বাবু বলেন চিত্তরঞ্জন রেল শহরের আবাসনগুলি ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। অবিলম্বে ছাদ মেরামত, জঙ্গল পরিষ্কার, আবাসনের পিছনের দিকের নর্দমা সংস্কার সহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার অতিশীঘ্র ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলে শ্রী সিং জানান। এছাড়াও কস্তুরবা গান্ধী হাসপাতালে বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং রোগীদের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন তারা। এরই সঙ্গে তারা বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশমতো রেলের হাসপাতাল গুলিকে রাজ্য সরকারের পরিচালনায় তুলে দিতে হবে বলে যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা কোন মতেই মেনে নেওয়া হবে না । জেনারেল ম্যানেজার এই বিষয়টি মনোযোগ সহকারে শোনার পর এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলে ইন্দ্রজিৎ বাবু জানিয়েছেন। আজকের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন রেল কারখানা, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং শহর যাতে ঠিকঠাক থাকে তার জন্য তারা অনবরত চেষ্টা করে চলেছেন।@প্রান্তভূমি
দেন্দুয়ার ইস্পাত কারখানায় ফার্নেস থেকে গলিত লোহা উছলে দগ্ধ একাধিক কর্মী
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২৮ আগস্ট ::
আবার সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া অঞ্চলের একটি ইস্পাত কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটলো। জানা গেছে আজ দুপুর পৌনে একটা নাগাদ এলোকুইন্ট ইস্পাত কারখানার এই দুর্ঘটনায় তিন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা জটিল হওয়ায় তাকে দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুলটির শ্রী হাসপাতালে। জানা গেছে কারখানার চুল্লি থেকে অত্যন্ত উত্তপ্ত গলিত লোহা উছলে কর্মীদের গায়ে পড়ে। ভয়ংকর ওই অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রায় ২ তলা উঁচু ফার্নেস থেকে এক কর্মী নিচে ঝাঁপ দেন। সকলেই গলিত লোহায় দগ্ধ হয়েছেন বলে প্রকাশ। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অভিষেক রজক। তার বাড়ি বরাকরে। আরো দুই জখমের বাড়ি কুলটি এলাকাতে। দুর্ঘটনার পরে পরেই কারখানা কর্তৃপক্ষ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। অন্যদিকে তাদের বাড়িতেও বিষয়টি জানানো হয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সালানপুর ব্লক আইএনটিটিইউসি সভাপতি মনোজ তেওয়ারি বলেন যথেষ্ট সর্তকতা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা সমস্ত বিষয়টিতে খোঁজখবর রাখছেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দেন্দুয়া অঞ্চলের আরেকটি বড় শিল্প সংস্থা এমএসপিএল-এ কারখানার ছাউনি ভেঙে পড়ে একাধিক কর্মী আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে গয়ার বাসিন্দা এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের মাধ্যমে মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়েছিলেন। আজকের দুর্ঘটনার পরেও তারা আহত কর্মীদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিতে কড়া নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন মনোজ বাবু।
এদিকে এ বিষয়ে ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর দেবব্রত চক্রবর্তীকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেন নি। তবে, কি কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটলো সেই বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল শ্রমিক নেতৃত্ব।@প্রান্তভূমি
.
.
রোগীর পা বাঁচিয়ে অসাধ্য সাধন রূপনারায়ণপুরের গ্রামীণ হাসপাতালে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২২ আগস্ট :: আবার অসাধ্য সাধন রূপনারায়ণপুরের গ্রামীণ হাসপাতালে। পা কেটে বাদ দিতে হতো এমনই এক অসুস্থকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে দিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবারও এই অসম্ভবকে সম্ভব করার কারিগর হাসপাতালের আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায়।
জানা গেছে, সপ্তাহ তিনেক আগে মুকেশ বাউরি (৩৫) নামের এক ব্যক্তি পায়ে ঘা নিয়ে সালানপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসক দেখেন মুকেশের পায়ে মারাত্মক ঘায়ের সৃষ্টি হয়েছে। পা ফুলে ঢোল। ঘা থেকে পোকা বের হচ্ছে। ভয়ংকর এই অবস্থায় রোগীকে গ্রামীণ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা যথেষ্ট বিপদজনক। তবুও বিএমওএইচ ডাক্তার রায় নিজের তত্ত্বাবধানে মুকেশকে ভর্তি করিয়ে নেন। এরপর নিয়মিত চিকিৎসা এবং ড্রেসিং- এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার ঘা সেরে উঠতে থাকে। চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে দেখে উৎসাহিত হন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা। এবং সপ্তাহ তিনেকের নিবিড় চিকিৎসায় মুকেশের পায়ের ঘা সেরে ওঠে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে এরপর মুকেশ বাড়ি ফিরে যান। এ বিষয়ে বিএমও এইচ ডাক্তার বিনয় রায় বলেন, আর কয়েকদিন দেরি করে মুকেশ বাবু হাসপাতালে এলে তার পা হয়তো কেটে বাদ দিতে হতো। কিন্তু যে কাজ জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজে করা সম্ভব তা কি করে একটি গ্রামীণ হাসপাতালে করা গেল সেই প্রশ্ন করায় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার রায় বলেন, তিনি চেষ্টা করেছেন এবং আন্তরিক চেষ্টার ফল পেয়েছেন। একজনের পা বাদ যাওয়া থেকে তাকে রক্ষা করতে পেরেছেন এর থেকে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন সীমিত পরিকাঠামো নিয়েও পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে চেষ্টা তারা করছেন তা এভাবেই সফল হচ্ছে।@প্রান্তভূমি
ফার্নেসে বিষ্ফোরণ, ঝলসে মৃত ১, গুরুতর জখম ৫
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২০ আগস্ট ::
ইস্পাত কারখানার ফার্নেসে বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু হল এক কর্মীর। ফার্নেস থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত উত্তপ্ত গলিত লোহা গায়ে ছিটকে পড়ায় ঘটনাস্থলেই দগ্ধে মৃত্যু হয় ওই কর্মীর। এছাড়াও তার সহকর্মী অন্য ৬ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজন। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে দশটা নাগাদ দুর্গাপুরের কমলপুর অঞ্চলের একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায়। মৃত কর্মীর নাম নবীন কুমার (২৪)। তার বাড়ি বিহারের নওয়াদা জেলায়। অন্য জখম ৬ কর্মীর বাড়িও ভিন রাজ্যে। তারা সকলেই দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন এই ৬ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের নব্বই শতাংশই ঝলসে গেছে। বাকিদের ৩৫ থেকে ৫০% পর্যন্ত শরীর গলিত লোহায় দগ্ধ হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় যে, রাতের বেলায় ওই কারখানায় কর্মীরা একটি বড় আকারের লোহার পাত্রের (ল্যাডেল) মাধ্যমে ফার্নেসে লৌহ আকরিক এবং আনুষঙ্গিক উপকরণ ঢালছিলেন। সেই সময়ই ফার্নেসে বিস্ফোরণ ঘটে যায় এবং ফার্নেসের ভিতর থেকে প্রচন্ড উত্তপ্ত গলিত লোহা ছিটকে কর্মীদের গায়ে এসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নবীনের। দুর্ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সহকর্মীরা সকলকে উদ্ধার করে মিশন হাসপাতালে নিয়ে যান। মারাত্মক এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এদিকে আইএনটিটিইউসি শ্রমিক নেতারা জখম কর্মীদের সঠিক চিকিৎসা এবং মৃত কর্মীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।@প্রান্তভূমি
সিএলডব্লুর সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক::রেকর্ড সময়ে ৩০০ ইঞ্জিন
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১৮ আগস্ট ::
দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩০০ অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিন উৎপাদন করে নজির স্থাপন করল সিএলডব্লু। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মাত্র ১১৫ টি কর্ম দিবসে এই ৩০০ ইঞ্জিন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ১৪ আগস্ট চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা থেকে ৩০০-তম ইঞ্জিনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সৃষ্টি হল সেই ইতিহাস যা কারখানা শুরু হওয়ার পর থেকে কোন আর্থিক বছরে সম্ভব হয়নি। গত আর্থিক বছরের চেয়েও ৩৩ দিন কম সময়ের মধ্যে উৎপাদনের এই মাত্রায় পৌঁছানো কর্মীদের উচ্চ দক্ষতার পরিচায়ক বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থার মহাপ্রবন্ধক বিজয় কুমার। তিনি এই সাফল্যের জন্য টিম সিএলডব্লুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কারখানার জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে যে এই সময়ের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে ৩০২ টি ইঞ্জিন উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে ২২৮ টি চিত্তরঞ্জনে এবং ৭৪ টি ডানকুনিতে তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার সামনে ৭৭৭টি বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে রেলবোর্ড। সেই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়তার সঙ্গে সংস্থা এগিয়ে চলেছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ১০০টি ইঞ্জিন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ৪১ টি কাজের দিনে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা ক্রমাগত তার মুকুটে নতুন নতুন সাফল্যের পালক গেঁথে চলেছে।@প্রান্তভূমি
হায়না ধরতে বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তে বনবিভাগ পুলিশের অভিযান
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৪ আগস্ট ::
বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমানায় ক্রমাগত হায়নার দেখা মিলছে বলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ধাংগুড়ি ডোমদহ এবং ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম এলাকায় একাধিক আক্রমণের সংবাদ ছড়িয়েছে। এরপরই মিহিজাম থানার পুলিশ এবং জামতাড়া বন বিভাগ মিহিজাম রাজবাড়ি সংলগ্ন ময়লা ফেলার জায়গায় অভিযানে নামে। জানা যায় এখানে বেশ কিছুদিন ধরে হায়নার আনাগোনা লেগে আছে । স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন দিন তিনেক আগে এখানেই একটি বাছুরকে শিকার বানিয়েছিল হায়নার পাল। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক চরমে ওঠে। ধাংগুড়ি ডোমদহ এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন সেখানকার মাঠে-ঘাটে শেয়ালের দেখা মিলছে না, কুকুরও অনেক কমে গেছে । তাদের আশঙ্কা রাতের অন্ধকারে হায়নার পাল এদের শিকার করছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে মিহিজাম থানার ওসি বিবেকানন্দ দুবে জামতাড়া বন বিভাগের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধ জানান। এরপরই ১৩ আগস্ট রাত থেকে বন বিভাগের একটি দল মিহিজাম রাজবাড়ি এলাকায় তল্লাশিতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে হায়নার গতিবিধি সম্বন্ধে খোঁজখবর নেওয়া হয়। তারা ওই এলাকায় হায়নার চলাচল সম্পর্কে কিছু নমুনা পেলেও হায়নার নাগাল পাননি। এ বিষয়ে বনাধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় কুমার বলেছেন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন যেন রাতের অন্ধকারে বাইরে নোংরা ফেলার জন্য না আসেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন নিয়মিত তল্লাশি এবং নজরদারি চালিয়ে তারা হায়নার পালকে খুঁজে বার করবেন এবং তাদের এলাকা ছাড়া করবেন। পুলিশ এবং বনবিভাগ এই কাজকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।@প্রান্তভূমি
মন্দিরের সামনে বাটি হাতে বসতে হবে - দুর্গাপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে বেনজির আক্রমণ দেবাংশু ভট্টাচার্যের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১৩ আগস্ট ::
পাল্টা সভায় তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য শুভেন্দু অধিকারীকে বেনজির আক্রমণ করলেন। দুর্গাপুরে তৃণমূল আইটি সেলের রাজ্য সভাপতি দেবাংশু বলেন ২০২৬ বিধানসভায় পরাজয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীকে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে বাটি হাতে বসতে হবে।
উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট দুর্গাপুর ফরিদপুর লাউদোহা ব্লকের গোগলায় মিছিল ও জনসভা করেছিল বিজেপি। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছিলেন। শুভেন্দু বাবু বলেছিলেন ২০২৬-এ পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতার বদল হবে এবং তারপর বদলাও হবে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরাসরি নানান অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। আজ গোগলাতে ওই একই জায়গায় পালটা মিছিল এবং সভা করে তৃণমূল। এই সভায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পাশাপাশি প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। এদিন পানশিউলি মোড় থেকে মাদারবনী পর্যন্ত মিছিল হয়, তারপর দুর্গা মন্দির মাঠে হয় জনসভা। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্য শুরু থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে "কুলাঙ্গার" ইত্যাদি বলে আক্রমণ শুরু করেন। তিনি বলেন তৃণমূলে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে পরিচিতি পেয়েছিলেন শুভেন্দু বাবু, কিন্তু দুর্নীতি থেকে বাঁচতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এখন সেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই নানান অপশব্দ ব্যবহার করছেন। দেবাংশু বলেন, কিন্তু শুভেন্দু বাবু যতই লম্প ঝম্প করুন না কেন ২০২৬-এ তৃণমূল আবার সরকার গড়বে, আর তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে বাটি হাতে বসতে হবে শুভেন্দুকে। এরই সঙ্গে দেবাংশু বলেন এবছরের ডিসেম্বরেই বিজেপি সরকার কেন্দ্র থেকে সরে যাবে, বিহারের নির্বাচনে নীতিশ কুমারের সরকার পরাজিত হবে। তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এস আই আর নিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। দেবাংশু বলেন বাংলা এবং বাঙালিকে নিয়ে বিজেপির বিদ্বেষ মানুষ টের পাচ্ছেন, এর ফলে '২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন আরো কমবে।@প্রান্তভূমি
বিয়ের নামে একাধিক মেয়েকে পাচারের অভিযোগে আসানসোলে দম্পতি গ্রেফতার সিবিআইয়ের হাতে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১২ আগস্ট ::
দম্পতিকে আসানসোল থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে গেল সিবিআই। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের গুরুতর অভিযোগ আছে। ১০ আগস্ট আসানসোল রেলপার হাজিনগর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সিবিআইয়ের ৪ সদস্যের দল সিআরপিএফ জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাড়ি থেকে রানী খাতুন ও মহম্মদ বিলালকে গ্রেফতার করে। সিবিআই দলের নেতৃত্বে ছিলেন আধিকারিক মুকেশ কুমার।
অভিযোগ, এই দম্পতি বিভিন্ন এলাকার গরিব মেয়েদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিক্রি করে দিত; বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা আয় করতো। জানা গেছে ২০২৪ সালে রেলপারের একটি মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বর্ধমানে। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপরই কোনক্রমে মেয়েটি সেখান থেকে পালিয়ে রায়না থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সেই বিষয়ে পুলিশ কোন সদর্থক পদক্ষেপ না করায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেন। মেয়েটির দেওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে সিবিআই নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ১০ আগস্ট আসানসোলে অভিযানে নামে। অভিযুক্ত দম্পতি ধরা পড়ার পরেই রেলপার এলাকার অনেকেই আসানসোল উত্তর থানায় জড়ো হয়ে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে থাকেন।
সিবিআইয়ের অনুমান এই পাচার চক্র যথেষ্ট শক্তিশালী। এখনো পর্যন্ত অনেক মেয়েকেই বিয়ের নামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ প্রসঙ্গে রেলপারের এক মহিলা বলেছেন তার আত্মীয় নূরজাহান খাতুন রেলপার ওকে রোড নুরানী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত প্রায় ৯ বছর ধরে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্র তাকে কোথাও পাচার করে দিয়েছে বলে আশঙ্কা। নূরজাহানের খোঁজে বহু চেষ্টা চরিত্র করলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরকমই একাধিক নিখোঁজ জনের খোঁজ পাওয়ার আশায় রেলপারের মানুষজন। তারা বলছেন রেলপারের বিভিন্ন এলাকায় মানব পাচারের চক্র অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তবে সিবিআই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এখান থেকে দুজনকে গ্রেফতার করায় তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে বলে বাসিন্দারা আশাবাদী।@প্রান্তভূমি
বন্ধ আইডিবিআই ব্যাঙ্ক, রূপনারায়ণপুরে হয়রানি গ্রাহকদের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১১ আগস্ট :: রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন এলাকার অন্যান্য সমস্ত ব্যাংক খোলা থাকলেও সকাল থেকে ঝাঁপ বন্ধ আইডিবিআই ব্যাংকের। এই ব্যাংকের রূপনারায়ণপুর শাখা এবং সংলগ্ন এটিএম দুটিই বন্ধ হয়ে আছে। এরফলে ব্যাংকের গ্রাহকেরা পরিষেবা না পেয়ে ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও এই বিষয়ে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক রূপনারায়ণপুরের ম্যানেজার কিষন প্রসাদ বলেন তারা ব্যাংক বন্ধ রাখেননি, কিন্তু বনধ সমর্থনকারী পিকেটাররা সকালে উপস্থিত হয়ে ব্যাংকের শাটার নামিয়ে দিয়েছেন। ধর্মঘটের সমর্থনে ব্যাংকের দরজায় পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিটি ফোরামের ডাকে আজ আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হচ্ছে। ইউনিটি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিলি করে জানানো হয়েছে যে, এশিয়ার বৃহত্তম শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক আইডিবিআই-কে বেসরকারিকরণের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক সময় এই চেষ্টা থেকে তারা পিছিয়ে এলেও আবার জোরদার সেই প্রচেষ্টা সরকার নিচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার এবং এলআইসি'র ৯৪ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব আছে আইডিবিআই ব্যাংকের। কিন্তু তারা ৬০.৭২% অংশীদারিত্ব বেসরকারি হাতে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করতে চলেছে। এরই বিরুদ্ধতা করে আজ আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলেছেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী গ্রাহক কেউই সুরক্ষিত নন, তবুও দেশের অন্যতম এই ব্যাংকটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ায় ধর্মঘটের মাধ্যমে প্রবল বিরোধিতা প্রকাশ করা হলো। এরপরও সরকার আইডিবিআই ব্যাংককে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা থেকে সরে না এলে অন্যরকম আন্দোলনের মুখোমুখি সরকারকে হতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।@প্রান্তভুমি
ফৌজি-বাড়িতে চুরির কিনারায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রূপনারায়ণপুরে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৫ আগস্ট :: রূপনারায়ণপুরে প্রাক্তন ফৌজির বাড়িতে চুরির ঘটনার কিনারায় উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। ২৭ জুলাই চুরির ঘটনা জানাজানির পর তিন দিনের মধ্যে কলকাতার ভবানী ভবন থেকে সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ রূপনারায়ণপুরে এসেছিলেন। এবার তদন্তে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে এই বাড়িতে এলেন দুর্গাপুরের ফরেনসিক ল্যাবরেটরির ৪ বিশেষজ্ঞ। আজ ৫ আগস্ট প্রায় দু ঘন্টা যাবত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ওই বাড়িতে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। যে ঘর দুটি মূলত চোরেদের উৎপাতের শিকার হয়েছে সেই সব ঘরের আসবাবপত্রের ভাঙ্গা অংশের ছবি, তালা-চাবি, দরজার কব্জা সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় অংশ যা পুলিশের তদন্তে সহযোগী ভূমিকা নেবে সেগুলির ছবি সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কোনরকম মুখ না খুললেও বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে যে বড়সড়ো এই চুরির ঘটনায় রূপনারায়ণপুর পুলিশ বেশ কিছু সূত্র পেয়েছে এবং সেই অনুযায়ী জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চুরির কিনারা করার বিষয়ে পুলিশ আশাবাদী বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
উল্লেখ্য, রূপনারায়ণপুর শান্তশ্রী পল্লীর বাসিন্দা সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেন সতীশচন্দ্র শর্মা তার স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে ২১ জুলাই অমরনাথ দর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের বড় ছেলে রাহুল কুমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত। রূপনারায়ণপুরের বাড়ি তালা বন্ধ করেই তারা গিয়েছিলেন। ২৭ জুলাই সকালের দিকে বাড়ি ফিরেই চুরির ঘটনা দেখতে পান। লিখিতভাবে সতীশবাবু পুলিশের কাছে অভিযোগে জানিয়েছেন চোরেরা প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা দানা, ২ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১০০ টি সিলভার কয়েন নিয়ে গেছে। সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর পুলিশ এই চুরির কিনারায় প্রথম থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় আছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্র কাজে লাগিয়ে তারা দুষ্কৃতিদের ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারই মধ্যে সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশের এই উদ্যোগ শর্মা পরিবারকে ভরসা যোগানোর পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও আশ্বস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে চোরেদের লন্ডভন্ড করে যাওয়া ঘর দুটি এখনো ব্যবহার করতে পারছেন না শর্মা পরিবার। এ বিষয়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করলে তারা রূপনারায়ণপুর পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান শর্মা পরিবারের সদস্যদের।
এদিকে চুরির ১০ দিন পরেও তদন্তে অগ্রগতির বিষয়ে কিছু বলতে চান নি রূপনারায়ণপুর পুলিশ। শুধু তারা বলেন তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। আজ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বরাবর ছিলেন রূপনারায়নপুর ওসি অরুণাভ ভট্টাচার্য, এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক সুশীল কিস্কু সহ অন্যান্যরা।@প্রান্তভূমি
জাতীয় স্তরের মহিলা ফুটবলার তৈরির মাঠে মোষের দাপাদাপি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ৪ আগস্ট :
জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড় তুলে আনা ফুটবল মাঠ এবার মোষের দখলে। রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন হিন্দুস্তান কেবলস কারখানার পাশে মালবহালের এই ফুটবল মাঠ থেকেই ভারতের জাতীয় দলে একাধিক মহিলা ফুটবলার সুযোগ পেয়েছেন। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দাপটের সঙ্গে খেলছেন এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মহিলা ফুটবলারেরা। নানান অসুবিধা সত্ত্বেও প্রশিক্ষক সঞ্জীব বাউরি এখানে মেয়েদের নিজের উদ্যোগে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই সঞ্জীব বাবুর তত্ত্বাবধানে থেকেই ফুটবল প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এবার এই "এমএসসি মালবহাল ফুটবল কোচিং ক্যাম্প" অদ্ভুত এক তাণ্ডবের শিকার। প্রতিদিন এই মাঠের উপর দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে ৪০-৫০ টা করে মোষ। সঞ্জীব বাবু মোষ পালকদের বারবার আবেদন জানাচ্ছেন যাতে তারা এই ছোট্ট ফুটবল মাঠের পাশ দিয়ে মোষগুলিকে নিয়ে যান। কিন্তু সাময়িক তার কথা শুনলেও পরের দিন আবার মোষের দঙ্গল ওই মাঠের উপর দিয়েই পারাপার করে । এর ফলে মাঠটি খেলার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রশিক্ষণের আগে মাঠ পরিষ্কার করে তবেই খেলা শুরু করতে হচ্ছে।ভরাট করতে হচ্ছে গর্ত । সঞ্জীব বাবু বলেন কয়েকদিন আগেই মাঠে প্রশিক্ষণ চলাকালীন মোষ ঢুকে পড়েছিল এবং বছর দশকের দুটি মেয়ে মোষের ধাক্কায় মাঠে পড়ে গিয়েছিল। যদিও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই মোষগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সঞ্জীব বাবু বলেন যারা মোষ চরাতে আসছেন তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে মোষগুলিকে পারাপার করাচ্ছেন, অথচ মাঠের অন্যান্য দিকে যথেষ্ট জায়গা আছে সেদিকে মোষ গুলিকে চালনা করছেন না। সঞ্জীব বাবুর কাতর আবেদন - ফুটবল প্রশিক্ষণের এই মাঠটিকে মোষের তাণ্ডব থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সকলেই যেন এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু মেয়ে ভারতের জাতীয় দলে দাপটের সঙ্গে খেলেছে, এখনো খেলে চলেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তারা খেলার জন্য গেছে। এখানকার মহিলা ফুটবলারেরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে পুলিশ সহ নানা রকম সরকারি কাজের সুযোগ পেয়ে। কর্ণাটক সহ বিভিন্ন রাজ্যের ফুটবল লীগে দাপটের সঙ্গে খেলছে এখানকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েরা। কলকাতার একাধিক ক্লাবে মালবহাল ফুটবল কোচিং ক্যাম্পের মেয়েরা সুনামের সঙ্গে অনেক বছর ধরেই খেলে চলেছে। কিন্তু আজ তিনি বড়ই অসহায় বোধ করছেন, কারণ এখানকারই কিছু মানুষ এই মাঠটিকে নষ্ট করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ, পঞ্চায়েত ব্লক প্রশাসন এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন সঞ্জীব বাবু।@প্রান্তভূমি
পুজোর মুখে কাজ হারিয়ে বিক্ষোভ রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে, হস্তক্ষেপ বিধায়কের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১ আগস্ট ::
পুজোর মুখে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন ঠিকা কর্মীরা। তবে বিধায়কের হস্তক্ষেপে এবং ব্লক তৃণমূল নেতা ভোলা সিংয়ের তৎপরতায় কয়েকদিনের মধ্যেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগে ঠিকাদারের পরিবর্তন হয়েছে। আগের ঠিকা সংস্থা সুদেষ্ণা এন্টারপ্রাইজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছে। এই সংস্থার অধীনে ২০১৪ সাল থেকে ৯ জন স্থানীয় ব্যক্তি কাজ করছিলেন। কিন্তু রানীগঞ্জের নতুন সংস্থা মহাদেব এন্টারপ্রাইজ এখানে ঠিকা সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে। তারা আজ ১ আগস্ট থেকে পরিষেবা দেওয়া শুরু করেছেন। কিন্তু নতুন ঠিকা সংস্থায় পুরনো কর্মীদের নেওয়া হয়নি। যাতে তাদের রূপনারায়ণপুরেই কাজ দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়ে আজ সকালে বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা। এ বিষয়ে এক কর্মী কৃষ্ণা গরাই বলেন প্রায় ১০ বছর তারা এখানে কাজ করলেও হঠাৎই ৩১ জুলাই রাতে তারা জানতে পারেন নতুন ঠিকা সংস্থা দায়িত্ব পেয়েছে। আজ ১ আগস্ট সকালে তারা কার্যালয়ে এসে জানতে পারেন নতুন ঠিকা সংস্থা অন্য কর্মীদের নিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য পরিষেবা দিতে বেরিয়ে পড়েছে। হঠাৎ কাজ হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করে তারা বলেন রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় যাতে তাদের কাজে রাখা হয় সেই দাবি তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিক বিপ্লব মন্ডল বলেন বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং বলেন বিষয়টি বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় জানতে পারার পরেই তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন যাতে দীর্ঘদিন কাজ করা ৯ জন কর্মী এখানেই কাজ পান সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় যে ৪ আগস্ট সোমবার নতুন ঠিকা সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে এই টানাপোড়নের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবায় কোন অসুবিধা ঘটে নি বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবির ২ আগস্ট থেকে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১ আগস্ট ::
আগামীকাল ২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিশেষ পরিষেবা প্রদানকারী নতুন উদ্যোগ "আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান"। বারাবনি বিধানসভার অন্তর্গত সালানপুর ব্লকের প্রথম শিবির ২ আগস্ট আয়োজিত হচ্ছে রূপনারায়ণপুর এফ পি স্কুলে। ৬৮, ৬৯, ৭০ নম্বর বুথের বাসিন্দারা এই শিবিরে গিয়ে তাদের পাড়া, গলি, রাস্তা সহ যে কোন সমস্যার সমাধান চাইতে পারবেন।
এদিকে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবির যাতে ঠিকমতো আয়োজিত হয়, মানুষ যাতে সেখানে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা নির্বিঘ্নে বলতে পারেন এবং সেগুলির সমাধানে প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নেয় সেই বিষয়ে আসানসোল মহকুমার সমস্ত বিডিও ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে ৩১ জুলাই আসানসোলে বৈঠক করেন মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। মহকুমা শাসক বলেন প্রতিটি এলাকার প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধানে এই শিবির বিশেষ উপযোগী ভূমিকা নেবে। সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন জনসাধারণ নিজে শিবিরে পৌঁছে নিজের আশেপাশের সমস্যার কথা বলবেন ফলে প্রত্যেকটি বিষয় প্রশাসনিক নজরে আসবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছেন যে, বুথ পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে ব্যয় করা হবে উন্নয়নের জন্য।
এদিকে সালানপুর ব্লকে মোট ৫১ টি শিবির অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২ আগস্ট থেকে শুরু করে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ব্লকের ১১ টি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় এই শিবিরগুলি অনুষ্ঠিত হবে। ২ তারিখের পর ৪ আগস্ট মহিষমুড়া প্রাইমারি স্কুলে ১৩৬, ১৩৭ নম্বর বুথ নিয়ে শিবির হবে। এছাড়াও ৫ আগস্ট বুথ নম্বর ৩৪, ৩৫ নিয়ে ধাঙ্গুড়ি আপার প্রাইমারি স্কুল এবং ৫৩, ৫৪ নম্বর বুথের জন্য বনবিড্ডি স্কুলে শিবির হবে। ৬ আগস্ট আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশনে ৯২, ৯৩ বুথের জন্য এবং রূপনারায়ণপুর এফপি স্কুলে ৬৫, ৬৬, ৬৭ নম্বর বুথের জন্য শিবির হবে। ৭ আগস্ট বাঁশকেটিয়া আদিবাসী এফপি স্কুলে ৪৪, ৪৫ নম্বর বুথের জন্য। ৮ আগস্ট প্রান্তপল্লী এফ পি স্কুলে ৯৭, ৯৮ বুথের জন্য এবং খুদিকা কমিউনিটি হলে ১৩৮, ১৩৯ নম্বর বুথের জন্য শিবির হবে।@প্রান্তভূমি
দুর্গামন্দির রোডের হাল ফেরাতে এগিয়ে এলো এডিডিএ
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ৩১ জুলাই ::
রূপনারায়ণপুরের অন্যতম লাইফ লাইন দুর্গামন্দির রোডের ভোগান্তি শেষ হতে চলেছে। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) সহযোগিতায় ব্যস্ততম এই রাস্তার পাশে হাইড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। আজ ৩১ জুলাই এডিডিএ'র দুই ইঞ্জিনিয়ার রূপনারায়ণপুরে এসে রেলগেট থেকে ইয়ুথ ক্লাব সংলগ্ন মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির মাপজোক এবং পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর দ্রুত এই কাজের খরচের হিসাব করার পরেই হাইড্রেন নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এই পর্যবেক্ষণের সময় সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন ড্রেনটি স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা থাকবে, রাস্তার এক পাশ দিয়ে এই ড্রেন তৈরি হবে। এছাড়াও দুই একটি জায়গায় কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ফলে জল জমার সমস্যা থেকে দুর্গামন্দির রোড মুক্ত হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।
এদিনই এডিডিএ'র ইঞ্জিনিয়াররা রূপনারায়ণপুর হোন্ডা শোরুম সংলগ্ন শ্রীগুরুপল্লী থেকে রূপনারায়ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটিও খতিয়ে দেখেন। এই রাস্তার সংস্কার কাজ এডিডিএ'র মাধ্যমে হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও আল্লাডি মোড় থেকে সিধাবাড়ির দিকে চলে যাওয়া রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণেও হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এডিডিএ, ওই এলাকাটিও আজ পরিদর্শন করা হয়।@প্রান্তভূমি
দেওঘরগামী তীর্থযাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় মৃত বহু
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২৯ জুলাই:
সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে বাসের ছাদ সহ পুরো কাঠামো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বাসের যাত্রীরা বহু দূরে ছিটকে পড়েন। তীর্থযাত্রী বোঝায় বাস এবং ট্রাকের সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তীর্থযাত্রী বোঝায় বাসটি বাবাধাম দেওঘরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। আজ ২৯ জুলাই সকালের দিকে দেওঘর-বাসুকিনাথ প্রধান রাস্তার উপর জামুনিয়া চকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে ছয় জনের মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ্যে এলেও পরবর্তী সময়ে ঝাড়খন্ড প্রশাসনের তরফেই এখনো পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। দুর্ঘটনার পরেই সকলকে অতি দ্রুত দেওঘর সদর হাসপাতাল, বাসুকিনাথ স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ আশেপাশের চিকিৎসালয় গুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার কাজে নামে। যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করার জন্য ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে।@প্রান্তভূমি
ফৌজি পরিবারে দুঃসাহসিক চুরি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৭ জুলাই ::
রূপনারায়ণপুরে বন্ধ ঘরে আবার দুঃসাহসিক চুরি। এবার পুরোদস্তুর একটি ফৌজি পরিবারে এই চুরির ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বাড়ির কর্তা একসময় দেশের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন তার বড় ছেলে সেনাবাহিনীতে আছেন। এ হেন পরিবারে চুরির ঘটনা জনমানসে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে আর্মির অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সতীশ চন্দ্র শর্মা রূপনারায়ণপুর শান্তশ্রী পল্লীতে (লাল বাংলো) বাড়ি বানিয়েছিলেন। তার বড় ছেলে আর্মিতে আছেন, তার পোস্টিং পহেলগাঁওয়ে। কিন্তু অমরনাথ যাত্রার এই সময়ে যাত্রীদের সুরক্ষায় অমরনাথে ডিউটি পড়ায় ছেলের কাছে সপরিবার ঘুরতে গিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন শর্মা। সঙ্গে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী হৈমন্তী দেবী এবং ছোট ছেলে অনুজ। ২১ জুলাই তারা রূপনারায়ণপুরের বাড়ি তালা বন্ধ করে অমরনাথ থেকে ফিরে আসেন আজ ২৭ জুলাই ভোরে। কিন্তু বাড়ির পাঁচিলের গেটের তালা খুলে ভেতরে গিয়েই তাদের চক্ষু চড়ক গাছ। দেখেন ঘরের তিনটি দরজার সমস্ত তালা, একটি ইন্টারলক ভেঙে ঘর একেবারে তছনছ করেছে দুষ্কৃতিরা। অনুমান যে প্রায় ভরি দশেক সোনার গয়না এবং নগদ এক লক্ষ আশি হাজার টাকা চোরেরা নিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন শর্মার স্ত্রী হৈমন্তী দেবী বলেন, ক্যাপ্টেনের হাত ভেঙেছে কিছুদিন আগে। তাতে বড় অপারেশন করানো প্রয়োজন। সেজন্য কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে রাখছিলেন। সেই টাকাই ঘরে ছিল। অন্যদিকে কলকাতায় কর্মরত ছোট ছেলের বিয়ের যোগাড়যন্ত্র হিসেবে কিছু কিছু করে গয়না বানিয়ে রাখছিলেন। সব মিলিয়ে গয়নার পরিমাণ ১০ ভরি অন্তত। চোরেরা ঘরের সমস্ত আলমারি ডিভান সোফা তছনছ করে যা পেরেছে নিয়ে গেছে। তারা যে দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে তাণ্ডব চালিয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে ঘরের যত্রতত্র পানের পিক গুটকার থুতু পড়ে আছে। ইন্টারলক চাড় দিয়ে উপড়ানো হয়েছে, তালাগুলিকে খেলনার মত বাঁকিয়ে অকেজো করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন শর্মা ঘর বন্ধ করে যাওয়ার সময় মেন সুইচ বন্ধ করে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে দেখেন সমস্ত ঘরের আলো জ্বলছে। জনবহুল শান্তশ্রী পল্লীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই বাড়িতে চুরির ঘটনায় সকলেই বিস্মিত। তবে নাগাড়ে বৃষ্টি এবং মাঝে মাঝেই লোডশেডিং চোরেদের অনেকটাই সুবিধে করে দিয়েছে বলে প্রতিবেশীরা মনে করছেন। ঘটনার সংবাদ পেয়েই সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ এলাকায় যায় এবং তদন্ত শুরু করে। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের নিজস্ব সূত্র কাজে লাগিয়ে চোরেদের পাকড়াও করার জন্য পুলিশ সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের এক উচ্চ আধিকারিক বলেন বারবার তারা সতর্ক করছেন যে বাড়ি বন্ধ করে বাইরে গেলে প্রতিবেশী এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে যেন সুনির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে যান কিংবা বাড়িতে কাউকে রেখে যান, কিন্তু সে বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না অধিকাংশ গৃহস্থ।@প্রান্তভূমি
নাসিক থেকে উদ্ধার ডিএভি'র অপহৃতা ছাত্রী::সালানপুর পুলিশের বড়ো সাফল্য
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২৬ জুলাই ::
অবশেষে উদ্ধার হল রূপনারায়ণপুর ডিএভি স্কুলের দশম শ্রেণীর অপহৃত ছাত্রী। ২৫ জুলাই তাকে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সালানপুর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আজ, ২৬ জুলাই নাসিকের আদালতে পেশ করে তাকে পশ্চিমবঙ্গে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আসানসোলে শিশু সুরক্ষা কমিটির কাছে পেশ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সালানপুর ব্লকের বনজেমারি এলাকার বাসিন্দা ই সি এল কর্মীর ঐ কন্যা নিজেই অপহরণের গল্প ফেঁদেছিল। বাড়িতে সামান্য ঝগড়াঝাটির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনার দিন ১৯ জুলাই মেয়েটি নিজেই আসানসোল স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বসে। ট্রেন যখন বিহারের উপর দিয়ে যাচ্ছে সেই সময় ট্রেনের মধ্যেই কয়েকজন যুবকের সাথে তার আলাপ হয়। ওইসব যুবকেরা গুজরাট মহারাষ্ট্র ইত্যাদি রাজ্যে কাজে যাচ্ছিল। তাদের কাছে মেয়েটি নিজেকে অনাথ বলে উল্লেখ করে এবং জানায় তার নিজের বলতে কেউ নেই, তাই মনের দুঃখে সে ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এই কথায় ছেলেগুলির মধ্যে মেয়েটির প্রতি সমবেদনা জেগে ওঠে এবং তারা মেয়েটিকে সঙ্গে নেয়। এরপর তাদের সঙ্গেই মেয়েটি গুজরাট, মহারাষ্ট্রে যায়। বাড়ির লোকজনকে অপহরণের বিষয়টি নিজেই জানায়। ট্রেনের মধ্যে মেয়েটি নিজেই নিজের মোবাইলের সিম খুলে নেয়। অপহরণের তত্ত্ব প্রমাণ করার জন্য ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবিও মেয়েটি নিজেই মেসেজ করে বাড়িতে জানিয়েছিল। এমনকি ভিডিও কলিং করে কান্নাকাটি করা, তাকে মারধর করা হয়েছে বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য নিজের ওড়না হাতে জড়িয়ে তা দেখানো সবই সে করেছিল। কিন্তু দিনের পর দিন এই অবস্থা যখন তার আর ভালো লাগছিল না তখনই সে বাড়ি ফিরে আসার মতলব করে। যদিও সালানপুর থানার পুলিশ অপহরণের ঘটনা সামনে রেখেই যাবতীয় তদন্ত শুরু করে এবং উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে তদন্তকারী দল পাঠায়। কিন্তু মেয়েটি দিনের মধ্যে একাধিকবার নিজের ফোন অন করে বাড়িতে হয় মেসেজ পাঠাতো কিংবা ভিডিও কলিং করে কান্নাকাটি করতো - যে তাকে অপহরণকারীরা মেরে ফেলবে, তাই তাকে যেন দ্রুত উদ্ধার করা হয়। এদিকে ফোনের টাওয়ার লোকেশন ক্রমাগত চিহ্নিত করতে করতে সালানপুর থানার পুলিশ বুঝতে পারে মেয়েটি মহারাষ্ট্রের নাসিকে আছে। সেখানকার একটি বস্তিতে বিহার থেকে যাওয়া কয়েকজন যুবক ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। সেই ডেরা থেকেই স্থানীয় পুলিশ ২৫ জুলাই মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে মেয়ের বাবা প্রান্তভূমির প্রতিনিধিকে ২৬ জুলাই সকালে বলেন, পুলিশের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে তাদের মেয়েকে মহারাষ্ট্রে পাওয়া গেছে। এখন ভালয় ভালয় সে বাড়ি ফিরে এলেই তারা শান্তি পান। অন্যদিকে সালানপুর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মেয়েটি দশম শ্রেণিতে পড়লেও ইতিমধ্যেই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি নেটওয়ার্কে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। সেখান থেকেই বিভিন্ন জনের সঙ্গে বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছিল। তবে নাসিকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলেও সেখানে কোন ছেলেকে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় ১৯ জুলাই থেকে চলতে থাকা হাই ভোল্টেজ অপহরণ ড্রামার শেষ পর্যন্ত নিষ্পত্তি ঘটতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।@প্রান্তভূমি
.
.
কয়লাখনির গহ্বরে পর্যটন শুরু হচ্ছে আগস্ট থেকে
প্রান্তভূমি ।। ২৫ জুলাই ::
কয়লা খনির গহ্বর এবার খুলে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ পর্যটকদের জন্য। ঐতিহাসিক এই পরিকল্পনা প্রথম রূপ পেতে চলেছে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলায়। ৫ আগস্ট সর্বপ্রথম ভারত কোকিং কোল লিমিটেড বা বি সি সি এল-এর খনি গহ্বরে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে। এরফলে পর্যটকেরা ঝরিয়া কয়লা খনির ওসিপি বা ওপেন কাস্ট মাইনস এবং ইনক্লাইন খনিতেও ঢুকতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ কয়লা খনির ভেতরে ঢুকে দেখতে পারবেন কিভাবে কয়লা উত্তোলন হয়, মাটির নিচে কোথায় কিভাবে কয়লা থাকে, সেখানকার সুরক্ষা ব্যবস্থা সহ যাবতীয় পদ্ধতি। এরফলে সাধারণ মানুষের নানান জিজ্ঞাসার যেমন নিরসন হবে তেমনই পর্যটনেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।@প্রান্তভূমি
লক্ষ্য ছিল রূপনারায়ণপুরের যুবক! হত্যাকাণ্ডের আগেই গ্রেপ্তার দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতি::সিআইএসএফ জওয়ান হত্যায় গুলি চালিয়েছিল এই সুপারি শুটার!
প্রান্তভুমি প্রতিবেদন ।। ২৪ জুলাই ::
দুষ্কর্ম ঘটানোর আগেই তেমাথার মোড় ঘিরে ফেলে ২ কুখ্যাত দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাদের একজনের কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অন্যজনের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় তিনটি তাজা কার্তুজ। এছাড়াও দুজনের কাছে থাকা দুটি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃত দুজনের নাম যুবরাজ যাদব ওরফে যুবরাজ সিং এবং মুকেশ কুমার। দুজনেরই আদি বাড়ি বিহারে হলেও তারা বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তে হামেশাই আসা-যাওয়া করতো এবং সুযোগ বুঝে দুষ্কর্ম ঘটাতো। এদের মধ্যে যুবরাজকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল রূপনারায়ণপুর পুলিশ। রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত ডোমদহায় এপ্রিল মাসে সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল পাসোয়ানের হত্যাকাণ্ডে এই যুবরাজই গুলি চালিয়েছিল বলে পুলিশ মনে করছে। এছাড়াও ৩০ জানুয়ারি বাংলা ঝাড়খন্ড সীমানায় লেফটি সিংকে গুলি করে মারার অভিযোগও আছে যুবরাজের বিরুদ্ধে। যুবরাজ একজন সুপারি শুটার বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ২৪ জুলাই ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার মিহিজাম থানা এলাকায় এই দুষ্কৃতিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে যে মিহিজামের কাচড়াপট্টি তিনমাথার মোড়ে কয়েকজন দুষ্কৃতি বড় কোন কাণ্ড ঘটানোর জন্য জড়ো হয়েছে। বিষয়টি জানা মাত্রই মিহিজাম থানার ওসি বিবেকানন্দ দুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তিনমাথার মোড় ঘিরে ফেলে এবং ঘটনাস্থল থেকে যুবরাজ ও মুকেশকে আটক করে। যুবরাজের আসল ঠিকানা বিহার পাটনার বক্তিয়ারপুর জেলার গয়েশপুর হলেও সে এখন মিহিজামের কুর্মিপাড়ায় থাকছিল। অন্যদিকে মুকেশের স্থায়ী ঠিকানা বিহারের লক্ষ্মীসরাই জেলার তেতারহাট থানা এলাকার গুণসাগর গ্রাম হলেও সে অস্থায়ীভাবে মিহিজমের কানগোয়ে থাকতো। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, যুবরাজ প্রায়শই চিত্তরঞ্জন এবং মিহিজামে আসা-যাওয়া করে। এক সময় যুবরাজের দাদা চিত্তরঞ্জনের কর্মী ছিলেন। তবে তাদের পরিবার বিহারেই থাকে। ধরা পড়ার পর পুলিশকে যুবরাজ জানিয়েছে যে, এখানে তার প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য সে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত। এরই মধ্যে আম্বেদকরনগর এলাকার রাহুল গুপ্তা ওরফে মুরগি, মার্টিন এবং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তারা একত্রিত হয়ে এই এলাকায় বিভিন্ন দুষ্কর্ম ঘটাতে থাকে। রূপনারায়ণপুরের এক যুবক এদের নিশানায় ছিল বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুষ্কর্ম ঘটিয়ে তারা ফেরার হয়ে যেত। তবে, যুবরাজ তার প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য এই এলাকায় বারবার ফিরে আসতো। সূত্র মারফত বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাকে ধরার জন্য জাল পেতেছিল। কয়েকদিন আগেই এই চক্রের এক মাথা রাহুল ওরফে মুরগি ধরা পড়ে। এবার সিআইএসএফ হত্যাকাণ্ডের মূল মাথা যুবরাজ ধরা পড়লো বলে মনে করা হচ্ছে। যুবরাজ এবং তার দলবল দুই রাজ্যের সীমানাবর্তী অঞ্চলে ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা লুট, জমি বাড়ি কেনাবেচায় দাদাগিরি ট্যাক্স আদায়, এমনকি অপহরণের মত কাণ্ডেও হাত পাকাচ্ছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। এদের কথামতো টাকা না দিলে ভয় দেখানোর জন্য হামেশাই এরা শূন্যে গুলি চালাতো। তবে সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল পাসোয়ানের হত্যাকাণ্ডে এই সুপারি শুটার যুবরাজ গুলি চালিয়েছিল কিনা তা এবার পুলিশ নির্দিষ্টভাবে জানতে পারবে তাকে নিজেদের হাতে পাওয়ায়।@প্রান্তভূমি
মাঝ দামোদরে ভেঙে পড়লো জল সরবরাহের ব্রিজ
প্রান্তভুমি প্রতিবেদন ।। ২৩ জুলাই ::
নদে ভেঙে পড়লো লোহার ব্রিজ। এই ব্রিজের মধ্য দিয়ে নদী থেকে জল তোলার পাইপ বহন করা হতো। জল তোলার এই পাইপ সহ গোটা ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় আসানসোল জামুড়িয়া সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল সরবরাহ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় নদীগর্ভে পাম্প হাউসের মধ্যে পি এইচ ই বিভাগের এক কর্মী আটকে পড়েন। তাকে স্পিডবোট নিয়ে গিয়ে উদ্ধার করতে হয়। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ ব্রিজের পিলারের পাশাপাশি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে পিলারের ভিত আলগা হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, দামোদর নদের মাঝখান থেকে জল তোলার জন্য একটি পাম্প হাউস তৈরি করা হয়েছিল। সেই জল পাইপের মাধ্যমে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হত। ১৯৯৩ সালে এই ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ব্রিজ ভেঙে পড়ার ফলে কোন প্রাণ হানির ঘটনা না ঘটলেও আসানসোল মহকুমার প্রায় ৫২ টি অঞ্চল জলের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা। ২৩ জুলাই দুপুরের এই ঘটনায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বালি চুরির রমরমাকে দায়ী করেছেন বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা।@প্রান্তভূমি
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে আসানসোল-চিত্তরঞ্জন প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ
প্রান্তভুমি প্রতিবেদন ।। ২৩ জুলাই ::
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে সালানপুর ব্লকের আদিবাসী সম্প্রদায়ের শক্তিশালী সংগঠন ২২ মৌজার নেতৃত্বে আসানসোল-চিত্তরঞ্জন প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল বিকেল সাড়ে চারটা থেকে। তাদের দাবি বরাভু্ঁই গ্রামে ২৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফর্মারের পরিবর্তে ৬৩ কেভি উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সফর্মার বসাতে হবে। তাহলে এই গ্রামের প্রায় ১২০ জন গ্রাহক লো- ভোল্টেজের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। তাদের এই দাবি বিদ্যুৎ বিভাগ মেনে নিলেও যতক্ষণ পর্যন্ত না এই উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সফর্মার তাদের গ্রামে আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত জেমারিতে রাস্তা অবরোধ চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। এ বিষয়ে রঞ্জিত সরেন বলেন প্রায় ১০ বছর ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন। প্রায়শঃই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, লো ভোল্টেজ থাকে। গ্রামের একমাত্র ট্রান্সফর্মারটি ২৫ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন। সেটিও কয়েকদিন আগে পুড়ে যায়। এরফলে গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থার প্রতিকার চেয়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এ প্রসঙ্গে রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব মন্ডল বলেন ২২ জুলাই গ্রামবাসীরা তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একদিনের মধ্যেই নতুন একটি ২৫ কেভি ট্রান্সফর্মার বরাভুঁই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা সেটি বসাতে বাধা দেন। তিনি সমস্যার সমাধানে ২৪ জুলাই আরও একটি ২৫ কেভির ট্রান্সফরমার সেখানে বসানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন, তবুও গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ থেকে সরে আসতে চাননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সফর্মার দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগ। রাস্তা অবরোধ সরাতে পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে।@প্রান্তভূমি
গভীর রাতে গোপন অভিযান পুলিশের আটক বহু বালি ভর্তি ট্রাক্টর এবং কর্মী
প্রান্তভুমি প্রতিবেদন ।। ২৩ জুলাই
গভীর রাতে গোপন অভিযান চালিয়ে বালি বোঝাই একাধিক ট্রাক্টর বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি এই কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করল পুলিশ। এই ঘটনায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় বালি মাফিয়াদের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশে বর্ষার মরশুমে কোনভাবে নদী থেকে এক কণা বালিও তোলা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসকও সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তারপরও জেলার নদীগুলি থেকে গোপনে অবাধে বালি লুট চলছিল। বিষয়টি পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধরীর নজরে আসা মাত্রই তিনি পুলিশকে এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। এরপরই ২২ জুলাই গভীর রাতে দামোদর নদের ডামরা ঘাটে হানা দেয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশের গতিবিধি যাতে বালি মাফিয়ারা টের না পায় সেজন্য বিভিন্ন রাস্তা ধরে পুলিশের গাড়ি নদী ঘাটে গিয়ে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরেই ব্যাপক ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায় সেখানে। কয়েকজন অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে গেলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় বারোটি বালি ভর্তি ট্রাক্টর এবং চালক ও কর্মীরা। এগুলির মধ্যে ছ'টি বালি ভর্তি ট্রাক্টরকে নদীর পাশ থেকেই আটক করা হয়, বাকি ছ'টিকে রাস্তা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের এই হঠাৎ অভিযানে বালি মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক কোনও কাজেই আসেনি বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন। আটক ট্রাক্টর- চালক এবং বালি বোঝাইয়ের কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে বেশ কয়েকটি নাম বাতাসে ঘোরাফেরা করছে যারা বালির কারবারে অবৈধভাবে যুক্ত। তাদের মধ্যে পাপ্পু, বাপ্পা, বিবেকানন্দ, গোবিন্দ, সুজিত, হুলা, কৌশিক, সুমন ইত্যাদি নামগুলি লোকের মুখে মুখে ঘুরছে। তবে এই অভিযান প্রকৃতই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নাকি নামকাওয়াস্তে কর্মসূচী রূপায়ণ সেই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। কারণ ভরা বর্ষায় এখনো কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা এলাকায় বালির অবৈধ করবার বন্ধ হয়নি বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন। তবুও আসানসোল দক্ষিণ থানার এই পদক্ষেপকে সংশ্লিষ্ট সব মহল থেকেই সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। এখন দেখার আসল মাথারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নাকি ট্রাক্টর চালক এবং খালাসীদের উপর দিয়েই অভিযানের অভিঘাত শেষ হয়ে যায়!@প্রান্তভূমি
.
.
জাতীয় সড়কে হঠাৎ কুয়োর মতো বিশাল গর্ত
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২০ জুলাই ::
অত্যন্ত ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের একেবারে মাঝ বরাবর কুয়োর মতো বিশাল গর্তের সৃষ্টি হল। ধসের কারণেই এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। আসানসোল থেকে চৌরঙ্গী মোড়ের মাঝে মরিচকোটা এলাকায় ধানবাদগামী লেনে আজ ২০ জুলাই ভোরে এই অঘটন ঘটে। প্রায় ২০ ফুট গভীর এই গর্ত যে কোন মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। যদিও বিষয়টি জানতে পেরেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সহ এলাকাটিকে ঘেরার ব্যবস্থা করেছেন। এই ঘটনার ফলে সকাল থেকে ধানবাদগামী জাতীয় সড়কের লেনটিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী রঞ্জিত চ্যাটার্জি বলেছেন যে, উচ্চ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেছেন এবং অতি দ্রুত তারা গর্ত ভরাট করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন জাতীয় সড়কের নিচে কয়লা খনি আছে। এরই সঙ্গে বর্ষায় নাগাড়ে বৃষ্টির ফলে মাটির নিচে জল ঢুকে বারবার এই ধরনের বিপত্তি ঘটছে। কিছুদিন আগেই চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় ধস নেমেছিল। তারও আগে রঘুনাথবাটির একটি ক্লাব একেবারে মাটির নিচে ঢুকে গিয়েছিল। বারংবার এই ধরনের ঘটনা ঘটার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে আছেন। তারা বলছেন যে কোন সময় তাদের ঘরবাড়ি মাটির তলায় ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আজ ভোরে জাতীয় সড়কের একেবারে মাঝ বরাবর যেভাবে বিশাল এই গর্তের সৃষ্টি হয় তাতে দ্রুতগামী কোন গাড়ি অসাবধানতার বসে গর্তে পড়ে গেলে পাতাল প্রবেশ অবশ্যম্ভাবী ছিল। যদিও কোন গাড়ি দুর্ঘটনার খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ময় দেখা দিয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে জাতীয় সড়ক তৈরি করার পরও কেন এমন ঘটনা ঘটছে তাই নিয়ে।@প্রান্তভূমি
হেলমেট থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টই ধরিয়ে দিল সিআইএসএফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতকে:: সাফল্য রূপনারায়ণপুর পুলিশের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১৯ জুলাই::
বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমানায় সিআইএসএফ জওয়ান হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য পেল সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে রাহুল গুপ্তা ওরফে মুরগি (২৫)। সে ঝাড়খণ্ড জামতাড়া জেলার মিহিজাম আম্বেদকর নগরের বাসিন্দা। খুন- খারাপির বিভিন্ন ঘটনায় রাহুল ওরফে মুরগি এর আগেও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল।
উল্লেখ্য, এ বছরের ২৩ এপ্রিল সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল পাসোয়ান তার কেনা জমি দেখার জন্য বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তের ধাঙ্গুড়ি- ডোমদহ এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানেই সন্ধ্যার দিকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে মিহিজাম এবং রূপনারায়ণপুর পুলিশ। এলাকায় দফায় দফায় ছুটে যান আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি কুলটি জাবেদ হোসেন, সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি, রূপনারায়ণপুর ওসি অরুণাভ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য পদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা (সালানপুর থানা কেস নম্বর ৬৪/২৫, তারিখ ২৪/৪/২০২৫)। এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিজস্ব সূত্র কাজে লাগিয়ে পুলিশ জানতে পারে সেদিন ঘটনাস্থলে এক যুবক থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট এবং মাথায় হেলমেট পরে ছিল। প্রচন্ড গরমে কেন সে হেলমেট পরে ছিল সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে সেদিন হত্যাকাণ্ডের আগে স্থানীয় মদের দোকানের সামনে ওই যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় যেখানে সে হেলমেট এবং থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে ছিল। ২৩ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে ঘটনাস্থল থেকে ওই হেলমেট উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই বিভিন্নভাবে খোঁজখবর করতে গিয়ে পুলিশ সন্ধান পায় রাহুল ওরফে মুরগির। এদিকে রাহুল মিহিজামের একটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিল (মিহিজাম থানার কেস নম্বর ১০/২৫, তারিখ ১/২/ ২০২৫) । এ বছরের ৩১ জানুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ মিহিজাম কৃষ্ণানগরের বাসিন্দা রাহুল কুমার সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিল রাহুল ওরফে মুরগি। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালানোর মধ্যেই রাহুল আত্মসমর্পণ করে এবং জেলে যায়। রূপনারায়ণপুর পুলিশ সূত্র মারফত রাহুলের জেলে থাকার বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ৯ জুলাই নিজেদের হেফাজতে নেয় সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। দশ দিনের হেফাজতে থাকাকালীন রাহুলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ ২৩ এপ্রিল সিআইএসএফ হত্যাকাণ্ডের সময়ে পরে থাকা রাহুলের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, কমলা রঙের টি শার্ট তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আনে। সে সময় তার মাথায় থাকা হেলমেটটিকেও শনাক্ত করানো হয়।
দশ দিনের হেফাজত শেষে আজ, ১৯ জুলাই আসানসোল আদালতে চালান ক'রে রাহুল ওরফে মুরগিকে আরো চার দিনের হেফাজতে নিতে চাইছে রূপনারায়ণপুর পুলিশ। কারণ, এখনো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এবং সিআইএসএফ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড এখনো অধরা। পুলিশের অনুমান এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাথা বিহার কিম্বা অন্য রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছে। তার খোঁজ পেতে রাহুল সূত্র হিসেবে কাজ করবে বলেই পুলিশের আশা।
কিন্তু কেন এই হত্যাকাণ্ড? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার একটি চক্র ঝাড়খন্ড বাংলা সীমান্তে সক্রিয়। কেউ জমি কিনলে বা বিক্রি করলে অথবা ঘরবাড়ি কেনাবেচা করলে ওই চক্র ভয় দেখিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে টাকা আদায় করত । সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল পাসোয়ান তার কেনা জায়গায় বাড়ি তৈরীর পরিকল্পনা করেছিলেন। তার কাছেও রংদারি করতে গিয়ে বাধা পায় ওই চক্রের সদস্যরা। কারণ পুলিশ মনে করছে সাধারণ মানুষ ওদের ভয় পেলেও নিজে একজন প্রশিক্ষিত জওয়ান হওয়ায় তাদের কথায় ভয় না পেয়ে সুনীলবাবু রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এরই পরিণতিতে তাকে গুলি করা হয় বলে পুলিশের অনুমান। যদিও পুলিশের অন্য একটি সূত্র মনে করছে সুনীল বাবুর জমিতে নিত্য মদ্যপদের ঠেক বসতো। সেই বিষয়টি তিনি পছন্দ করেননি এবং তাদের সরে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি চালায় দুষ্কৃতিরা। গ্রেফতার হওয়া রাহুল ওরফে মুরগি এইসব কাজে অনেক আগেই হাত পাকিয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এপ্রিল মাসের খুনের ঘটনায় তিন মাসের মধ্যেই এক জড়িতকে গ্রেফতার করে পুলিশ অনেকটাই সাফল্য অর্জন করলো।@প্রান্তভূমি
মা ছেলে একসাথে কার্বলিক অ্যাসিড খাওয়ার আগে বিষ খাইয়েছিল তিনটি পোষ্যকে, আসানসোলের মৃত্যকাণ্ডে গ্রেফতার ভাড়াটে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১৭ জুলাই :: আসানসোলে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী মৃত্যু- কাণ্ডে পুলিশ গ্রেফতার করল ঐ বাড়ির ভাড়াটেকে। আসানসোল রাসডাঙ্গা সুমথপল্লীর যে বাড়ি থেকে যূথিকা দাস ও তাদের তিনটি পোষ্য কুকুরের মৃতদেহ এবং যূথিকা দেবীর পুত্র অরবিন্দ দাসকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছিল সেই বাড়ির নিচের তলায় ভাড়ায় থাকতেন নীলম বার্নোয়াল ও তার পরিবার। যূথিকা দাস ও অরবিন্দকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগে নীলম গ্রেফতার হয়েছেন। নীলমের স্বামী পলাতক।
ঘটনা প্রসঙ্গে নীলম পুলিশকে জানিয়েছেন অরবিন্দ বহু টাকার ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন। টাকার জন্য নিজেদের বাড়ি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। সেইসব ঋণ পরিশোধ করার জন্য নিলমের কাছ থেকে অরবিন্দ ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এবং কথা দিয়েছিলেন বাড়িটি নীলমদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেবেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও বাড়িটি তাদের নামে করার উদ্যোগ নেননি অরবিন্দ। এরই মধ্যে ১৪ জুলাই রাতে ভয়ানক ওই মৃত্যু- কান্ড ঘটে যায়। কিন্তু এই ঘটনা ঘটার আগে অরবিন্দ একটি সুইসাইড নোট লিখে রেখে যান। যেখানে নীলম বার্নোয়াল ও তার স্বামী নন্দকিশোর, অভিনাশ,সাগর এবং মুকেশের নাম লিখে রাখে। সুইসাইড নোটে অরবিন্দ লেখেন এদের চাপেই তারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। এই সুইসাইড নোট অরবিন্দ এস বি গরাই রোডের তুলসী রানী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাহুল মুখার্জিকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এই সুইসাইড নোটের সূত্র ধরেই আসানসোল দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ এফ আই আর (কেস নম্বর ২৪৩/২৫) দায়ের করে। এরপরই ১৬ জুলাই পুলিশ নীলমকে গ্রেফতার করে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মৃত্যু- রহস্যের উন্মোচন করতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ অরবিন্দকে হাসপাতালে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
অরবিন্দের লেখা সুইসাইড নোট থেকে জানা যাচ্ছে যে তাদের তিনটি পোষ্যকে প্রথমে মেরে ফেলার পর মা এবং ছেলে একসাথে কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে নেন। এরপর তারা হাতের শিরা কাটেন। এর ফলে যূথিকা দেবীর মৃত্যু হলেও অরবিন্দ প্রাণে বেঁচে যান। সুইসাইড নোটে নীলম সহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর সংবাদ যাতে দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয়কে দেওয়া হয় সেই বিষয়টিও সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছিলেন অরবিন্দ।
এদিকে পুলিশি তদন্তে এই মৃত্যু রহস্যের যে দিকটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে তা হলো অরবিন্দ ঋণে জর্জরিত হয়ে উঠেছিলেন। শেয়ার বাজারে তার বহু টাকার লোকসান হয়েছিল। ঋণগ্রস্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য নিজেদের বাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। এমনকি উচ্চ সুদে ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু ঝণও নিয়েছিলেন। এইভাবে একের পর এক আর্থিক বোঝা তার ঘাড়ে চাপছিল। এই অসহ্য অবস্থা থেকে রেহাই পেতেই মা ছেলে নিজেদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনটি পোষ্য কুকুর সহ মায়ের মৃত্যু হলেও ছেলে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার করতে চাইছে পুলিশ।@প্রান্তভূমি
বাড়িতে পড়ে মায়ের দেহ, ছেলের হাতের শিরা কাটা, তিনটি কুকুরও মৃত::আসানসোলে ভয়াবহ ঘটনা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১৫ জুলাই ::
একটি বাড়িতে বৃদ্ধা মায়ের রহস্যময় মৃত্যু, পুত্রের হাতের শিরা কাটা এবং তিনটি প্রিয় কুকুরের মর্মান্তিক পরিণতিতে শিউরে উঠেছেন আশেপাশের মানুষজন। কি কারনে এমন অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনা আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকার রাসডাঙ্গা সুমথ পল্লীর। এখানেই দোতলা বাড়ি প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকা যূথিকা দাসের। তার স্বামীও ছিলেন শিক্ষক। এই বাড়িতেই আজ যূথিকা দেবীর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ওই বাড়িতেই হাতের শিরা কাটা অবস্থায় অচৈতন্য হয়ে পড়ে ছিলেন যূথিকা দেবীর পুত্র অরবিন্দ দাস। অন্য ঘরে মৃত তিনটি কুকুর। যেগুলি অরবিন্দ বাবুর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। এদের এক প্রতিবেশী বলেন চুপচাপ শান্তিপ্রিয় এই পরিবারটির অভাব অনটন ছিল না। তবে নিচের তলায় থাকা ভাড়াটের সঙ্গে সম্প্রতি বিবাদ বেধেছিল। সেই বিবাদ মেটানোর জন্য অরবিন্দ বাবু এক উকিলের সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন। তবে আজকের মর্মান্তিক এই ঘটনা কেন ঘটলো তা এখনো পরিষ্কার নয়। এদিকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অরবিন্দ বাবু। ঘটনাস্থলে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ সহ কমিশনারেটের পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত হয়েছেন। ভাড়াটেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে। তবে যূথিকা দেবীকে খুন করা হয়েছে বলেই আশঙ্কা। তাহলে এই খুন কে করলো? অরবিন্দ কি নিজের হাতের শিরা নিজেই কাটলো? নাকি দুষ্কৃতীরা তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য এই কাজ করেছে? তিনটি কুকুরকে কেন মেরে ফেলা হলো? শীঘ্রই এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পুলিশ খুঁজে পাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।@প্রান্তভূমি
.
.
দেন্দুয়ার ইস্পাত কারখানায় মৃত্যু::১২.৫০ লক্ষ টাকা সহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা মৃতের পরিবারকে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ১১ জুলাই:: অশান্তি অবরোধ উত্তেজনা শেষে জয় হল শ্রমিক পক্ষের। মাইথন স্টিল এন্ড পাওয়ার লিমিটেড কারখানায় মৃত কর্মীর পরিবারকে যাবতীয় আর্থিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি মানবিকতার হাতও বাড়িয়ে দিলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে মৃত সঞ্জয় কুমারের স্ত্রী ও তিন নাবালক সন্তান এবং বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ এককালীন ১২ লক্ষ টাকা দিচ্ছেন। এই অর্থ ৩-৪ দিনের মধ্যেই মৃত সঞ্জয়ের স্ত্রী সঞ্জু কুমারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও তাৎক্ষণিক খরচ খরচার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে ই এস আই পিএফ ইত্যাদি বাবদ পাওনা প্রায় ৭ লক্ষ টাকা মৃতের পরিবার পাবেন। এছাড়াও সঞ্জু কুমারী আজীবন পেনশন পাবেন। এই পেনশন সঞ্জু কুমারী ছাড়াও তার তিন সন্তান ও শ্বশুর-শাশুড়ির নামেও নিয়মিত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর মৃতের পরিবারের উপস্থিতিতে এবং শ্রমিক নেতা মনোজ তেওয়ারি, ভোলা সিং, তীর্থ বাউরির মধ্যস্থতায় গতকাল ১০ জুলাই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ন'টা নাগাদ হঠাৎই এমএসপিএল কারখানার দুই নম্বর ভাটির কাছে একটি লোহার শেড ভেঙ্গে পড়ে। এর ফলে সেখানে কর্মরত একাধিক শ্রমিক গুরুতর জখম হন। মৃত্যু হয় বিহারের গয়া জেলার বারাচাট্টি বরাডি এলাকা থেকে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়ার এই ইস্পাত কারখানায় কাজ করতে আসা সঞ্জয় কুমারের। এছাড়াও আহত হন আরো পাঁচ কর্মী। তাদের মধ্যে রাজকুমার যাদবের পা ভেঙেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও আহত হন সীতারাম যাদব, পঙ্কজ কুমার, বাসুদেব যাদব, রাজা কুমার। তাদের চিকিৎসার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ কাছাকাছি হাসপাতালে ভর্তি করান। রাজকুমারকে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এদিকে এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘটনাস্থল থেকে দেহ বাইরে নিয়ে যেতে বাধা দেন। কর্মীরা বলেন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কারখানা থেকে দেহ বাইরে বের করা যাবে না। অন্যদিকে কারখানার গেটের বাইরে বিজেপি সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় এসিপি কুলটি জাবেদ হোসেন, সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি, কল্যানেশ্বরী ফাঁড়ির ওসি লাল্টু পাখিরা, রূপনারায়ণপুর ওসি অরুণাভ ভট্টাচার্য পরিস্থিতি সামাল দেন। অন্যদিকে মৃতের পরিজনদের নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি দাওয়া জানান তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সালানপুর ব্লক সভাপতি মনোজ তেওয়ারি, তৃণমূল কংগ্রেসের সালানপুর ব্লক সহ-সভাপতি ভোলা সিং। দুপুর থেকে দীর্ঘ আলোচনার পর সন্ধে প্রায় সাতটা নাগাদ আলোচনা ফলপ্রসূ হয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ মৃতের পরিবারকে যাবতীয় আর্থিক সহযোগিতা করতে লিখিত চুক্তিবদ্ধ হন। এরপরই পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে মনোজ তেওয়ারি এবং ভোলা সিং বলেন মৃত সঞ্জয় ছিলেন ওই পরিবারের একমাত্র পুত্র। তার রোজগারেই সংসারটি চলতো। কিন্তু তার দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর কারণে যাতে পরিবারের লোকজন আর্থিক সংকটে না পড়েন সেই বিষয়টি তারা সুনিশ্চিত করতে পেরেছেন। আজ ১১ জুলাই ময়নাতদন্তের পর সঞ্জয়ের দেহ বিহারের গয়াতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই পরিবারের লোকজনদের আসা-যাওয়া, আসানসোলে থাকা এবং অ্যাম্বুলেন্স খরচ সমস্তই কারখানা কর্তৃপক্ষ বহন করেছেন বলে শ্রমিক নেতারা জানান।@প্রান্তভূমি
.
.
চিত্তরঞ্জনের ৫০ ইঞ্জিন পাড়ি দেবে বিদেশে - সিআরএমসি'র সঙ্গে প্রথম পিএনএম বৈঠকে আশ্বাস জিএমের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ৯ জুলাই।।
শীঘ্রই চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা থেকে উৎপাদিত ৫০টি বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন দক্ষিণ আফ্রিকায় রপ্তানি করা হবে বলে সিএলডব্লু কর্তৃপক্ষ সিআরএমসি কর্মকর্তাদের আশ্বাস দিলেন। আজ ৯ জুলাই সিআরএমসি'র সঙ্গে প্রথম পিএনএম বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআরএমসি'র সভাপতি এস কে শাহী এবং সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং। প্রায় সাত ঘন্টা ব্যাপী দীর্ঘ বৈঠকে কুড়িটি বিষয় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তারা জানান । বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তারা বলেন শীঘ্রই বিদেশে ৫০ টি ইঞ্জিন রপ্তানির বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার বিজয় কুমার তাদের আশ্বস্ত করেছেন। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানাতেই আগের মত ইঞ্জিনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করার বিষয়ে জোর দেন সি আর এম সি প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে কোথায় কতটা ইন হাউস প্রোডাকশন সম্ভব তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার। এরই সঙ্গে চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো এবং এখানকার ব্লাড ব্যাংকটিকে আরো বড় এবং আধুনিক করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। এতদিন এই হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের জন্য কোন ওয়েটিং রুম ছিল না। এবার তাদের জন্য এসি সুবিধা যুক্ত বেড সহ ওয়েটিং রুম গড়ে তোলা হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছেন। কুলটি ডিসেরগড় অঞ্চলে বসবাসকারী কর্মীদের জন্য সেই এলাকার উন্নত কোন নার্সিংহোম বা চিকিৎসালয়ের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের গাঁটছড়া বাঁধার দাবি জানানো হলে তাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এ দিন। এছাড়াও চিত্তরঞ্জনে নতুন করে প্রায় ৭০০ এবং ডানকুনিতে ২৫০ টি সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ পড়ে থাকা স্কুলগুলিকে কমিউনিটি হলে রূপান্তরিত করার বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিআরএমসি কর্তৃপক্ষ বলেন বিয়ে বাড়ি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য রেলকর্মীরা এরিয়া কমিটির নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিউনিটি হল সবসময় পান না। মরশুমে সেগুলি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। স্কুল গুলিকে কমিউনিটি হলে রূপান্তরিত করলে সেই সমস্যা মিটবে। আমবাগান কুর্মিপাড়া ইত্যাদি এলাকা থেকে চিত্তরঞ্জনে ঢোকার জন্য বাইক চলাচলের উপযোগী একটি পকেট গেট খুলে দেওয়ার আবেদনেও রেল কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে এদিন পি এন এম বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কারখানার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে এদিন জানান সিআরএমসি কর্তৃপক্ষ। আজকের এই বৈঠকে এস কে শাহী, ইন্দ্রজিৎ সিং নেপাল চক্রবর্তী সহ মোট ১৫ জন প্রতিনিধি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।@প্রান্তভূমি
দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম তালাবন্ধ দু'বছর আগে থেকেই
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৪ জুলাই।।
সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ইউনিয়ন কার্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু আজ ৪ জুলাই পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি কোন নির্দেশ আসেনি বলে জানিয়েছেন চিত্তরঞ্জনের দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ত্রিদিব সন্তপা কুন্ডু। তবে, তিনি বলেন এই কলেজের ইউনিয়ন কার্যালয় সংস্কারের প্রয়োজনে অন্ততপক্ষে দু বছর ধরে বন্ধ আছে। কোনো ইউনিয়ন বর্তমানে এখানে নেই। প্রাক্তন বা বর্তমান যে কোনো ছাত্রই হোক না কেন ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য সহযোগিতা ও সহায়তা করার জন্য যে কেউ এগিয়ে আসতে পারে, কিন্তু তা হতে হবে কোনো ইউনিয়নের ব্যানার ব্যতিরেকে। এই আদেশ তিনি দিয়েছেন এবং সব ইউনিয়নের ছাত্র-ছাত্রীদেরই এই আদেশ কঠোরভাবে মানতে হবে। ত্রিদিববাবু বলেন, মূল সমস্যা তো ছিল কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়। এখন অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ার ফলে সেই সমস্যা মিটেছে, ইউনিয়নের কার্যকলাপও অনেকটাই লঘু হয়ে পড়েছে। অন্য একটি প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ শ্রীকুন্ডু বলেন, গভর্নিং বডিতে সরকারি নিয়ম হল স্থানীয় বিধায়ক কিংবা সাংসদ অথবা তাদের মনোনীত কোন একজন প্রতিনিধি, সরকার মনোনীত তিনজন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন, কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে তিনজন, অশিক্ষক কর্মী একজন এবং নির্বাচিত ছাত্র সংসদের সম্পাদক থাকেন। এখন যেহেতু কোন নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই সেহেতু এই পদটি দীর্ঘদিন খালি। কারণ ছাত্র সংসদ নির্বাচনই বহুবছর হয়নি। ১৭ জুলাই রাজ্য সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে হলফনামা দিয়ে দিনক্ষণ ঘোষণা করলে নির্বাচন হতে পারে তারপরেই ইউনিয়ন কার্যালয় খুলবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।@প্রান্তভূমি
চৌরঙ্গী থেকে রূপনারায়ণপুর রাস্তা সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৩ জুলাই।।
সালানপুর সংলগ্ন জাতীয় সড়কের চৌরঙ্গী মোড় থেকে রূপনারায়ণপুর হয়ে ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম পর্যন্ত রাস্তাটি দুই লেনের করার জন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় সড়ক ও হাইওয়ে মন্ত্রক। এবার এই রাস্তার জন্য সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের জমি অধিগ্রহণে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। ইতিমধ্যেই দুদিন রূপনারায়ণপুরের ব্লক কার্যালয়ে জমির মালিকদের যাবতীয় নথি পেশ করা এবং ক্ষতিপূরণের দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আরও তিন দিন এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই তৎপরতার ফলে ৪১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ অনেকটাই গতি পেল। ২৫ জুন প্রথম শুনানির পর ২ জুলাই দ্বিতীয় শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৪, ৮ এবং ১০ জুলাই আরও তিন দিন শুনানি হবে সালানপুর ব্লক কার্যালয়ে। উপভোক্তা তথা জমির মালিক যারা এই দিনগুলিতে হাজির থাকতে পারবেন না, তাদের জেলা শাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
২ জুলাই সালানপুর বিডিও অফিস কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তির নথিপত্র জমা নেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক দপ্তরের বিশেষ জমি অধিগ্রহণ বিভাগের আধিকারিক কমলনাথ রঞ্জন, সর্বানী চক্রবর্তী এবং যশমিন্দার সিং। এদিন শুনানিতে উপস্থিত আধিকারিকেরা বলেন - ঠিকমতো ফর্ম পূরণ করতে না পারা, সব নথিপত্র না থাকা, সর্বোপরি অসম্পূর্ণ নথি ইত্যাদির জন্য প্রথম দুই দিনের শুনানিতে কতজন মানুষ ঠিকঠাক নথিপত্র জমা দিয়েছেন তা বলা এখনই সম্ভব নয়। ভারত সরকারের জাতীয় সড়ক আইন ১৯৫৬ (১৯৫৬-এর ৪৮ নম্বর আইন) অনুযায়ী চৌরঙ্গী মোড় থেকে রূপনারায়ণপুর মোড় ৮.৫৬০ কিমি থেকে ঝাড়খণ্ডের পোখারিয়া মোড় ৪৩.৮০০ কিমি জাতীয় সড়ক নির্মাণে ধাঙ্গুড়ি ও ডোমদহ মৌজার যথাক্রমে ১১ ও ১০ জে এল নম্বরের প্রায় শতাধিক দাগ নম্বরের জমির মালিক উপভোক্তাদের মালিকানার উপযুক্ত প্রমাণপত্র সহ নির্দিষ্ট দিনগুলিতে হাজির হওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন পশ্চিম বর্ধমানের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগের অতিরিক্ত জেলা শাসক। সেই অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে চলেছে মসৃণ গতিতে।@প্রান্তভূমি
বিহার থেকে সাগরেদ জুটিয়ে চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুরে করতো চুরি, দেন্দুয়া ইস্পাত কারখানার কর্মী সহ ধরা পড়লো ৩ দুষ্কৃতি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২ জুলাই।। দেন্দুয়ার একটি ইস্পাত কারখানার কর্মী বিহার থেকে সাগরেদ জুটিয়ে সালানপুর ব্লকের চিত্তরঞ্জন, রূপনারায়ণপুর সহ অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছিল বলে বিশেষ সূত্রে পুলিশ জানতে পারে। তারপরই ১ জুলাই রাত্রে তিন সন্দেহভাজনকে আল্লাডি মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে রূপনারায়ণপুর পুলিশ। ধরা পড়েছে সুরজ কুমার (২৩), দয়ানন্দ কুমার ভারতী (৩৯) এবং অমরজিৎ পাসোয়ান (৩৫)। এদের তিনজনেরই আদি বাড়ি বিহারের জাহানাবাদ জেলায়। দয়ানন্দ এবং সুরজের বাড়ি জাহানাবাদ জেলার বিষ্ণুগঞ্জ থানা এলাকার বিজয়পুর গ্রামে। অমরজিতের বাড়ি ওই একই থানা এলাকার কৈরিবিঘা গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ধৃতদের মধ্যে সুরজ কুমার দেন্দুয়ার একটি ইস্পাত কারখানায় কাজ করে। থাকে দিন দেন্দুয়াতেই। কিন্তু রাতের বেলায় এলাকায় চুরি-চামারি করে। এই কাজে সহযোগিতার জন্য জাহানাবাদ থেকে দয়ানন্দ এবং অমরজিতকে মাঝেমধ্যেই ডেকে নিত। তারপর তিনজনে মিলে বন্ধ বাড়িতে চুরির মতলব সারতো।
১ জুলাই রাতে এই তিনজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে রূপনারায়ণপুর পুলিশ আটক করে। এদিকে কয়েকদিন আগেই রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন রেল শহরে পর পর চুরির ঘটনায় পুলিশ মহল অত্যন্ত সক্রিয় হয়েছিল। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল সুরজের ছবি। সেই ছবি দেখেই রূপনারায়ণপুর পুলিশ তাকে চিনতে পারে। ফলে এই তিনজনকে হাতে পাওয়ায় চিত্তরঞ্জন এবং রূপনারায়ণপুরে একাধিক চুরির কিনারা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। আজ ২ জুলাই ধৃতদের আসানসোল আদালতে তুলে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করেছে পুলিশ।@প্রান্তভূমি
রূপনারায়ণপুর-চিত্তরঞ্জনের মাঝে ট্রেনে কাটা পড়ে বহু মোষের মৃত্যু
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৯ জুন।।
রক্তে মাংসে ভেসে যাচ্ছে রেললাইন। আজ ২৯ জুন মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটেছে হাওড়া-দিল্লি মেন লাইনে। রূপনারায়ণপুর ছাড়িয়ে কিছুদূর যাওয়ার পরেই ঝাড়খন্ড চেকপোষ্টের ১০০ মিটার দূরত্বে আপ লাইনে আজ সকালে ট্রেনের ধাক্কায় আটটি মোষের মৃত্যু ঘটেছে। সকাল ১১:৩০ টার পর এই দুর্ঘটনায় রেললাইন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খন্ডিত দেহাংশ, রক্তের স্রোত। ঘন্টাখানেক বন্ধ হয়ে যায় আপ লাইনে ট্রেন চলাচল।
জানা গেছে সুপারফাস্ট অকাল তখত ট্রেনটি রূপনারায়ণপুর ছাড়িয়ে চিত্তরঞ্জনের দিকে এগোতেই ২৩৩/২৩ থেকে ২৩৩/২৭ নম্বর খুঁটির মধ্যবর্তী এলাকায় একের পর এক মোষের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় বহু মোষ। জানা গেছে অন্ততপক্ষে আটটি মোষ ট্রেনে কাটা পড়েছে। এদের মধ্যে কোন কোন মোষের পেটে বাচ্চা ছিল, সংঘর্ষের অভিঘাতে সেগুলিও পেট থেকে বেরিয়ে আসে। ঘটনার অব্যবহিত পরেই রূপনারায়ণপুর এবং বিদ্যাসাগর এ পি আই টিম এলাকায় পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে যায় সীতারামপুর আরপিএফ টিম। সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রায় ঘন্টাখানেক পর রেললাইন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। জানা গেছে ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়া মোষের দেহাংশে লেগে রেল লাইনের ধারে থাকা কিছু বৈদ্যুতিক বাক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, মোষগুলি কাছাকাছি কানগোই এলাকার। স্থানীয় মানুষজন বলছেন সকালে ঘাস খাওয়ার জন্য মোষগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘাস খাওয়া হয়ে গেলে তারা আবার গোয়ালে ফিরে আসে। কিন্তু আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেন নি।@প্রান্তভূমি
একই দিনে তিনটি রেল আবাসনে চুরি, আতঙ্ক চিত্তরঞ্জনে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৮ জুন।।
চুরির হ্যাটট্রিক চিত্তরঞ্জনে। আজ, ২৮ জুন একই দিনে শহরের তিনটি এলাকায় রেল আবাসনে দুষ্কৃতি তাণ্ডবের সাক্ষী থাকলেন রেল কর্মীরা। একটি ক্ষেত্রে রেলকর্মী তালা বন্ধ করে বাইরে গেলেও অন্য দুটি ক্ষেত্রে রেলকর্মীরা তাদের আবাসন তালা বন্ধ করে ডিউটিতে গিয়েছিলেন। ফলে এই চুরি এলাকার মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, শহরের আমলাদহি বাজার সংলগ্ন ২৫ নম্বর রাস্তার ১৭-এ আবাসনের বাসিন্দা রেলকর্মী অবধেশ প্রসাদ দিন চারেক আগে বাইরে যান। কিন্তু আবাসনের ভেতরে থাকা এ্যকোরিয়ামের দেখভালের জন্য এক বন্ধুকে আবাসনের চাবি দিয়ে যান। আজ ২৮ জুন ঐ ব্যক্তি এ্যকোরিয়ামের মাছেদের খাবার দিতে এসে দেখেন দরজার তালা ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে জানান। অভিযোগ পেয়ে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ সেখানে যায় এবং সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে। পৌঁছে যায় আরপিএফও।
এদিকে পরপর আরো দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে আজই। তার মধ্যে ২৩ নম্বর রাস্তার ১১৩/২-এ আবাসনের বাসিন্দা রেলকর্মী শ্রীবাস রাও আজ সকালে ডিউটিতে যান আবাসন তালা বন্ধ করে। দুপুরে ফিরে দেখেন দরজা খোলা, ভেতরে আলমারিও খোলা অবস্থায় পড়ে আছে।
অন্যদিকে প্রশান্ত এভিনিউ ১৫-বি আবাসনেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই আবাসনের বাসিন্দা রেলকর্মী নারায়ন সাউ সকালে ডিউটিতে যান দরজা তালা বন্ধ করে। দুপুরে কাজের মেয়ে ওই আবাসনে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা। ভেতরে আলমারিও খোলা অবস্থায় রয়েছে । সারা ঘর তছনছ করেছে দুষ্কৃতিরা।
একই দিনে শহরে তিনটি চুরির ঘটনায় ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যেই তারা নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন এইসব চুরির ঘটনায়। দ্রুত তদন্ত এগোচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।@প্রান্তভূমি
নিজস্ব তহবিল থেকে রাস্তা সংস্কারে হাত দিল জিতপুর উত্তররামপুর পঞ্চায়েত
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৭ জুন।।
রথের দিনেই সালানপুর ব্লকের একটি অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার প্রাথমিক সংস্কার কাজের সূচনা হলো। রাস্তাটি জিতপুর- উত্তররামপুর পঞ্চায়েত এলাকার কল্যাণগ্রাম-১ জল ট্যাংকির মোড় থেকে শুরু হয়ে ঘিয়াডোবা প্রান্তপল্লী পার করে কুসুমকানালি মোড় পর্যন্ত গেছে। অন্যদিকে কল্যাণগ্রাম হয়ে নেতাজি কলোনি ছুঁয়ে রাস্তার অন্য অংশটি চলে গেছে জিতপুর পর্যন্ত। এই দুটি অংশেরই ভাঙাচোরা এলাকাগুলিতে প্রাথমিক সংস্কার কাজের দায়িত্ব নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে আপাতত বর্ষায় মানুষজনের চলাচলের অসুবিধা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্লকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকারী এই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙেচুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে। এই রাস্তার উপরেই কল্যাণগ্রাম-১ এবং ৫ নম্বর অঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটির অবস্থাও যথেষ্ট নড়বড়ে হয়ে আছে । সেতুর রেলিং ভেঙে বিপদজনক হয়ে আছে। এছাড়াও সেতুর নিচের দিকের অংশের কংক্রিট খসে গিয়ে সেতুটিকে দুর্বল করে রেখেছে। রাস্তাটির পূর্ণ সংস্কারের পাশাপাশি সেতুটিকেও মজবুত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আজ রাস্তা সংস্কারের কাজ তদারকিতে নামেন পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস মন্ডল এবং উপপ্রধান সুরজিৎ মোদক। এ বিষয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহঃ আরমান বলেন এই রাস্তাটির সংস্কারের বিষয়ে ৪-৫ মাস আগেই জেলা পরিষদের মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। রাস্তা সংস্কারে অর্থের জন্য রাজ্যের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে। সেই অর্থ মঞ্জুর হলেই রাস্তাটির পূর্ণ সংস্কারে হাত দেবে জেলা পরিষদ। তার আগে মানুষজনের অসুবিধা দূর করতে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে এই রাস্তার প্রাথমিক সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে। এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান তাপস বাবু বলেন তারা আশা করছেন পুজোর আগেই সম্পূর্ণ রাস্তাটির পূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে জেলা পরিষদ সবুজ সংকেত দেবে। তবে এখন যেসব জায়গা অত্যধিক ভেঙ্গেচুরে গেছে, গর্ত হয়েছে, জল জমছে সেই অংশ গুলিকে ভালোমতো মেরামত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।@প্রান্তভূমি
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা আটা মিল বন্ধ হয়ে গেল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৬ জুন।।
রেশনের আটাকে ঘিরে সাম্প্রতিককালে বিস্তর চর্চায় থাকা একটি আটা মিলকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলো বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন রেশন ডিলারের কাছে বরাকর হনুমান চড়াইয়ের অম্বিকা ফ্লাওয়ার মিল থেকে "হোল মিল আটা" সরবরাহ হতো। প্যাকেটবন্দি সেই আটার গুণমান নিয়ে ঘোরতর প্রশ্ন ওঠায় খাদ্য দপ্তর দু'বার এই ফ্লাওয়ার মিলের আটার গুণমান যাচাইয়ে উদ্যোগী হয়। যদিও দু'বারই সেই আটার গুণমান সঠিক বলে খাদ্য দপ্তরের ল্যাবরেটরি রিপোর্ট পাঠায়। কিন্তু সেই আটা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয় এই অভিযোগ তুলে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন গ্রাহকেরা বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। তারা দাবি জানাতে থাকেন - সরকারি পরীক্ষাগারে যখন এই আটা "পাশ" করে গেছে, তখন সরকারি আধিকারিকদের এই আটার রুটি খেয়ে তাদের সামনে দেখাতেই হবে। যদিও সেই পথে হাঁটেন নি বিডিও বা ফুড ইন্সপেক্টর।
এরই মধ্যে আজ ২৬ জুন জানা গেল অম্বিকা ফ্লাওয়ার মিলই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। এ বিষয়ে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে জেলা খাদ্য দপ্তর ঐ আটা মিলকে "শো কজ" করেছিল। কিন্তু যে উত্তর মিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল তাতে সন্তুষ্ট হতে পারে নি খাদ্য দপ্তর। এরপরই মিলটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হল।
এ বিষয়ে সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অন্যদিকে সালানপুর ব্লকের খাদ্য সরবরাহ বিভাগের আধিকারিক বিনেশ্বর রায় বলেন এই মিলটি বন্ধ হয়েছে। এরপর সালানপুর ব্লকের রেশন ডিলারদের কাছে কোন ডিলারের কাছ থেকে আটা আসবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দপ্তরের উচ্চ কর্তারা। তবে অম্বিকা ফ্লাওয়ার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ডিলারদের এক বিশিষ্ট নেতা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শোনা যাচ্ছে ডিলাররা ঐ মিল থেকে আটা সংগ্রহ করতে রাজি হচ্ছিলেন না, কারন আটার গুণমান নিয়ে গ্রাহকদের রোষের মুখে তাদেরই সবচেয়ে আগে পড়তে হচ্ছিল। যদিও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
এখন দেখার, এবার কেমন সামগ্রী আসে রেশন দোকানগুলিতে।@প্রান্তভূমি
গর্বের উড়ান রূপনারায়ণপুর থেকে:: এয়ার ফোর্স এ্যকাডেমিতে ফ্লাইং অফিসার হিসেবে যোগ দিচ্ছে সৌম্যদীপ
#প্রান্তভূমি ২৪ জুন।।
গৌরাঙ্গ ঘোষ।। উড়ান, স্বপ্ন উড়ান। স্বপ্ন উড়ানের ইচ্ছেডানায় চেপে লক্ষ্যে পৌঁছে গেল রূপনারায়ণপুর সীমান্তপল্লী এলাকার বিভাস কর ও অপর্ণা রুজের জ্যেষ্ঠ পুত্র সৌম্যদীপ কর। ২৯ জুলাই ব্যাঙ্গালুরুর ডুন্ডিগালে এয়ার ফোর্স এ্যকাডেমিতে ফ্লাইং অফিসার হিসেবে যোগদানের আহবান এসেছে তার কাছে। সৌম্যদীপের সাথে আছে ১২০ ঘন্টা বিভিন্ন এয়ার স্টেশনে উড়ানের অভিজ্ঞতা। তার সামনে এখন স্থায়ী কমিশনের অধীনে ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরিজীবনে থাকছে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট, স্কোয়াড্রন লিডার এবং সবশেষে উইং কমান্ডারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তবে তার এই উজ্জ্বল জীবনের অপেক্ষায় দীর্ঘ পথ অতিক্রমণ কিন্তু অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। রূপনারায়ণপুর ডিএভি স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে প্রথম হয়ে সর্বভারতীয় সৈনিক স্কুল প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সৌম্যদীপ পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয় ২০১৭ সালে। সেবার জেনারেল কাস্ট থেকে একমাত্র সেই এই সুযোগ পেয়েছিল। ২০১৯ সালে সিবিএসই বোর্ড থেকে দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়। এই পরীক্ষায় রাজ্যে পঞ্চম এবং সারাদেশে সপ্তম হয়ে উজ্জ্বল ফলাফলের কৃতিত্ব অর্জন করে। জোটে নানান পুরস্কার। ২০২১-এ সৈনিক স্কুল থেকেই উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়। এরই মধ্যে ২০২০ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে ভর্তির জন্য ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষায় বসে সাফল্য অর্জন করে। কঠিন প্রশ্ন, উপস্থিত বুদ্ধি, তার সাথে তৎপরতার পরীক্ষা - কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তীক্ষ্ণধী হওয়ার জন্য। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পর ছিল সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের পরীক্ষা। প্রথমে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে অন্ততপক্ষে দশের অধিক পরীক্ষকের সামনে বসে তাদের প্রশ্নোত্তর পর্বের সম্মুখীন হতে হয়। শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় ছিল সীমিত সময়ের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার দৌড়, মহিশুরে সাত দিনের প্রশিক্ষণে ছিল দিনে অত্যন্ত কম সময়ের জন্য ঘুম, প্রতিদিন ভোরে সাড়ে তিন কিলোমিটার দৌড় এবং অন্যান্য পরীক্ষা, কথোপকথন, যুক্তি- তর্কে অভ্যস্ত হওয়া। শেষে ব্যাঙ্গালুরুর ইনস্টিটিউট অফ এ্যরোস্পেস মেডিসিনে শারীরিক পরীক্ষায় বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা হয়। এত বিধি-নিষেধের বেড়াজাল টপকে সৌম্যদীপ শেষ পর্যন্ত পুনের খাদাকওয়াসলাতে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে ভর্তির সুযোগ পায়। ২০২১ থেকে ২০২৪-এর মে মাস পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষে বি টেক অ্যাপ্লাইড ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন পাঠক্রম সাথে হাতে-কলমে উড়ানের শিক্ষাক্রম সম্পূর্ণ করে। প্রান্তভূমির সঙ্গে কথোপকথনে সৌম্যদীপ জানিয়েছে পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে তৎকালীন এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহা এসেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েই এই পেশা বেছে নেওয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে সে। সৌম্যদীপের ছোট ভাই বিশ্বদীপ বর্তমানে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পাঠরত। সেও পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের ছাত্র ছিল।
সৌম্যদীপ মফঃস্বল অঞ্চল রূপনারায়ণপুরকে আজ এক গর্বের উচ্চতায় পৌঁছে দিল।@প্রান্তভূমি
কেবলসে সশস্ত্র সীমা বল কর্তৃপক্ষ, আধা সামরিক বাহিনীর হাতেই নতুন উদ্যোগের আশা বাড়ছে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৪ জুন।। সিআরপিএফ, সি আই এস এফ-এর পর এবার বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলসের জমি পরিদর্শনে এলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধা সামরিক বাহিনী এসএসবি বা সশস্ত্র সীমা বল। আজ ২৪ জুন সকালে বারাসত থেকে এসএসবি ৬৩ ব্যাটেলিয়ানের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট রাজেশ কুমার কুজুর তার অধস্তন আধিকারিকদের নিয়ে হিন্দুস্তান কেবলসে পৌঁছান। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট শ্রী কুজুর বহুক্ষণ ধরে পরিত্যক্ত কারখানা এলাকা, মালবহালের দিকে থাকা সিকিউরিটি ব্যারাক, জলাশয়, প্রশাসনিক ভবন, নিউ কলোনি সহ কেবলসের বিভিন্ন এলাকায় থাকা কোয়াটার্স, শ্রমিক মঞ্চ, আপার কেশিয়া, স্কুল বিল্ডিং, লোয়ার কেশিয়ার পিছনের দিকে গিয়ে শালিমার শেড ছাড়িয়ে তারা একেবারে অজয় নদীর পাড় পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। এরপর প্রশাসনিক ভবনে কেবলসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আর এন ওঝা'র সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রী কুজুর। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই বৈঠকে তিনি হিন্দুস্তান কেবলসের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। জানা গেছে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের আহ্বানে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতিক্রমে হিন্দুস্তান কেবলসে নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার তৎপরতা শুরু হয়েছে। এখানকার ৯৪৫ একর জমিতে আধা সামরিক বাহিনীর একাধিক বিভাগ তাদের স্থায়ী ছাউনি সহ প্রশিক্ষণ শিবির এবং অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারে বলে জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আজকের পরিদর্শন তারই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। তবে সিআরপিএফ এখানকার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমি তাদের আয়ত্তে নেবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। সিআইএসএফ এবং এসএসবি আরপিএফের তুলনায় পরিমানে কম জমিতে তাদের পরিকাঠামো গড়ে তোলায় বিশেষ আগ্রহী হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। আপাতত এসএসবি তাদের পরিদর্শনের রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে দ্রুত পাঠিয়ে দেবে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই সিআরপিএফ এবং সিআইএসএফ তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠিয়েছে। আরও এক দুটি সংস্থার পক্ষ থেকে শীঘ্রই হিন্দুস্তান কেবলসে পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ এই বিশাল পরিমাণ জমি ও পড়ে থাকা বিল্ডিং কোন একটি সংস্থার জন্য অনেকটাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একাধিক সংস্থা কেবলসের পুরো এলাকা দখলে নেবে এই সম্ভাবনাই জোরদার হচ্ছে। এবং সংস্থাগুলি যাতে একই ধরনের হয় সেজন্য আধা সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগকে এখানে জমি দেওয়া হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আজকের পরিদর্শন নিছকই রুটিন মাফিক নাকি সত্যিই এসএসবি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছিল সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়ার মধ্যেই জানা যাচ্ছে এস এস বি আগাম পরিকল্পনা করেই এখানকার জমি দেখতে এসেছিল। তারা এখানে তাদের একটি বিশেষ ইউনিট গড়ে তুলতে যথেষ্ট তৎপর।
অন্যদিকে আজকের পরিদর্শন সম্পর্কে হিন্দুস্তান কেবলসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আরএন ওঝা বলেন তার কাছে যে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল তার সবকিছুই তিনি ইলেকট্রনিক্স এবং প্রিন্টেড দুই মাধ্যমেই তাদের দিয়েছেন। এখানকার পরিপূর্ণ মানচিত্র, কোথায় কতটা জবরদখল আছে, আবাসনগুলি কি অবস্থায় আছ, অন্যান্য বিল্ডিং সহ ফাঁকা মাঠ, জলাশয় সমস্ত কিছুরই তথ্য তারা নিয়ে গেছেন।
এদিকে প্রথম থেকে মানুষের দাবিকে সামনে রেখে কাজ করে যাওয়া হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির নেতা সুভাষ মহাজন আজ বলেন পরিদর্শন হোক, কিন্তু তারপর নতুন উদ্যোগও যেন গড়ে ওঠে। শ্রী মহাজন বলেন কেবলসের প্রাক্তন কর্মীদের এখানকার আবাসন লিজে দেওয়া, স্থানীয়দের হাতে কাজ দেওয়ার দাবি তারা জানাচ্ছেন।
তবে পরপর যেভাবে বিভিন্ন আধা সামরিক বাহিনীর কর্তারা ঘন ঘন এখানে পরিদর্শনে আসছেন তাতে এলাকার মানুষের মনে নতুন কিছু হওয়ার আশা জেগেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন কর্নেল সিং পার্ক কাণ্ডে গ্রেফতার ৪
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২২ জুন।।
অবশেষে গ্রেফতার করা হল চিত্তরঞ্জন কর্ণেল সিং পার্ক কাণ্ডে জড়িত চার অভিযুক্তকে। তারা হল বান্টি মন্ডল, বিমল মন্ডল, জীবন মণ্ডল ও রাহুল মণ্ডল। এদের মধ্যে প্রথম দু'জন অর্থাৎ বান্টি ও বিমল চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালের অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ধৃতদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয় (সিভিক পুলিশের) দিয়ে প্রতারণা, শ্লীলতাহানি, টাকা চাওয়া সহ একাধিক অভিযোগ এনে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা (নং ১৯/২৫, তারিখ ২২/৬/২০২৫) রুজু করা হয়েছে। আগামীকাল ২৩ জুন ধৃতদের আসানসোল আদালতে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল ২১ জুন সন্ধ্যায় চিত্তরঞ্জন কর্ণেল সিং পার্কে ঘুরতে গিয়ে রূপনারায়ণপুরের এক তরুণী ও তার সঙ্গী চার যুবকের হাতে নিগৃহীত হন। ঐ যুবকেরা নিজেদের সিভিক পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তরুণীর সঙ্গে থাকা মোবাইল কেড়ে নেয়। ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এরপরই এলাকা ছাড়ে ঐ চার যুবক। ঘটনার পরই ঐ তরুণী ও তার সঙ্গী চিত্তরঞ্জন থানায় ছুটে যান। পুলিশ অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়। সমস্ত সূত্র মারফৎ তথ্য যোগাড় করে পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে দু'জনকে কেজি হাসপাতাল থেকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতেই ধরা হয় জীবন ও রাহুলকে। আজ ২২ জুন চিত্তরঞ্জন থানায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন অভিযোগকারী তরুণী ও তার সঙ্গী।
হাসপাতালের ডিউটি ছেড়ে নিরাপত্তা কর্মীর ইউনিফর্মে এইসব অস্থায়ী কর্মীরা এই প্রথম এমন কাণ্ড ঘটালো নাকি আগেও এধরণের দুষ্কর্ম ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী হয়েও কোন সাহসে তারা সিভিক পুলিশের নাম নিয়ে দুষ্কর্ম করলো সেই বিষয়টিও ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
পুলিশ এই চারজনকে আদালতের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
.
.
গলিত লোহা ছিটকে গুরুতর জখম ৫::দেন্দুয়ার ইস্পাত কারখানায় দুর্ঘটনা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২০ জুন,২০২৫।। সালানপুর ব্লকের একটি বেসরকারি কারখানায় দুর্ঘটনার ফলে একজন সুপারভাইজার ও চার জন কর্মী জখম হয়েছেন। প্রত্যেককেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এর মধ্যে এক কর্মীর অবস্থা গুরুতর বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
দেন্দুয়া থেকে কল্যাণেশ্বরী যাওয়ার রাস্তায় বাঁ দিকের একটি ইস্পাত কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে ১৯ জুন। কারখানায় গলিত লোহা ছিটকে পড়ে কর্মরত সুপার ভাইজার ও চার জন কর্মীর উপরে। আহত প্রত্যেককে দুর্গাপুরের বিবেকানন্দ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতে, পিঠে, পায়ে গভীর ক্ষত নিয়ে আই সি ইউ-তে ভর্তি এক কর্মীর স্ত্রী নমিতা ভান্ডারি জানালেন, ১৯ জুন সকাল ১১ টা নাগাদ আমি জানতে পারি কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারজন্য আমার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় আমার স্বামী রাহুল ভান্ডারিকে আই সি ইউ-তে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, সুপার ভাইজারও গুরতর আঘাতপ্রাপ্ত । তবে বাকি তিনজনের আঘাত অপেক্ষাকৃত কম। ঐ কারখানা কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
চিত্তরঞ্জন বাসস্ট্যান্ডের অন্ধকারে গা ঢাকা দেওয়া ৬ দুষ্কৃতি গ্রেফতার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২০ জুন।।
চিত্তরঞ্জন এক নম্বর গেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে থাকা ৬ দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করলো আরপিএফের বিশেষ দল এবং চিত্তরঞ্জন পুলিশ। এরা প্রত্যেকেই চিত্তরঞ্জনে বড়সড় চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে আরপিএফ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গ্রেফতার হওয়া ছয় দুষ্কৃতির বাড়ি মিহিজামের বিভিন্ন এলাকায়। তারা হলো আমন রায় (২৫), মিহিজাম হাই স্কুল এলাকার দীনেশ দাস (২৬), মিহিজাম আমবাগানের দীপক সাউ ওরফে ছোটু (৩৫), নারয়া রজক (৩৭), মিহিজাম পিবি রোড মল্লিক পাড়ার সুরেন্দ্র হরি ওরফে নাথু (২৭), মিহিজাম গান্ধীনগর রেলওয়ে কলোনির পবন দাস (৩৩)। চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ ধৃতদের আজ ২০ জুন আসানসোল আদালতে পেশ করে চার দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে ১৫ জুন রাতে এরা চিত্তরঞ্জন রেল শহরের সানসেট এভিনিউয়ে ১৬ নম্বর বাংলোর পিছনে থাকা মেসার্স আদিত্য আরব দেব কনস্-প্রাইভেট লিমিটেডের গুদামে চুরির কান্ড ঘটিয়েছিল। গুদামের দরজা ভেঙে বহু মূল্য সামগ্রী চুরি করা হয়েছিল বলে ওই কোম্পানির সুপারভাইজার আনন্দকুমার মাহতো লিখিত অভিযোগে জানিয়েছিলেন। চুরি হয়েছিল কাটার মেশিন, ব্রেকার মেশিন, টুলু পাম্প, গ্যাস সিলিন্ডার, ওয়েট মেশিন, পাইপ জয়েন্টিং মেশিন, প্রায় লক্ষ টাকা দামি এমএস রড।
অভিযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে চিত্তরঞ্জন থানা ১৯ জুন বিএনএস ৩০৩(২) ধারায় মামলা (নম্বর ১৮ / ২৫) রুজু করে তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে চিত্তরঞ্জনে একের পর এক দরজা ভেঙে আবাসনে চুরির ঘটনা মাথায় রেখে আরপিএফের আইজি কাম পিসিএসসি এই ঘটনার দ্রুত কিনারা করার জন্য আরপিএফ সিআইবিকে দায়িত্ব দেন। এরপরই আইপিএফ/সিআইবি নরিন্দার সিং-এর নেতৃত্বে আরপিএফের বিশেষ টিম সমস্ত সূত্র কাজে লাগিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিদের গ্রেপ্তারে সমর্থ হয়। ধৃতরা ওই চুরির সঙ্গে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। চিত্তরঞ্জন পুলিশের পাশাপাশি আরপিএফের বিশেষ দলে ছিলেন ইন্সপেক্টর নরিন্দর সিং, এএসআই সুধীর কুমার, হেড কনস্টেবল অজিত চৌধরী, কনস্টেবল বিপিন কুমার, এসপি সিং, সানি যাদব, সরোজ কুমার এবং সিআইবি'র সুরেশ দাস।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন থেকে চুরি হওয়া বাইক উদ্ধার ঝাড়খণ্ডে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে চিত্তরঞ্জন পুলিশ এবং আরপিএফ-এর বিশেষ দল ঝাড়খন্ড থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এলো চোরাই বাইক। ১৫ জুন এই বাইক (জেএইচ ২১এ ৪৬৭৮) উদ্ধার হয় ঝাড়খন্ড জামতাড়া জেলার কারমাটার থানা এলাকার ছাইটাঁড় গ্রামে বকরিদ মিঞার বাড়ি সংলগ্ন ঝোপ থেকে। এই বকরিদ মিঞা বাংলা ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া বাইক দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে কিনে নিত বলে আগেই জানতে পেরেছে আরপিএফ ও পুলিশ। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ট্রাকশন মোটর বাইক স্ট্যান্ড থেকে এই বাইকটি ২ জুন চুরি হয়েছিল। উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জনে বাইক চুরির ঘটনায় আগেই ১১ এবং ১২ জুন তিনজন দুষ্কৃতি গ্রেফতার হয় আরপিএফ এসআইবি ও পুলিশের হাতে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বাইকের সন্ধান তারা জানতে পারেন। এরপরই চিত্তরঞ্জন পুলিশ ও আরপিএফের স্পেশাল টিম কারমাটার থানা এলাকায় ১৫ জুন তল্লাশি অভিযানে নামে। এর নেতৃত্ব দেন চিত্তরঞ্জন আরপিএফ সিআইবির নরিন্দার সিং। এ বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
.
.
৩২ দিন ডিজিটাল এ্যরেস্ট করে লুট ১.৬৫ কোটি টাকা, আসানসোল কমিশনারেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইবার ক্রাইম
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১৩ জুন।।
সেই পুরনো কায়দা। কিন্তু তাতেই জড়িয়ে দিয়ে সাইবার অপরাধীরা লুটে নিল ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আসানসোল- দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় যা এখনো পর্যন্ত বৃহত্তম অঙ্কের অর্থ খোয়ানোর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেল। এমন আশ্চর্যজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন আসানসোল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রাক্তন আধিকারিক সুকুমার দে। তাকে ৩২ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে এই টাকা হাতিয়েছে সাইবার চক্রের দুষ্কৃতীরা।
এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছে ১১ জুন। অভিযোগে শ্রী দে জানিয়েছেন, ৯ মে তার মোবাইলে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করেন। ওই ব্যক্তি সুকুমার বাবুকে নিজের পরিচয় দেন বিএসএনএল অফিসার হিসেবে। এরপর বলেন যে, সুকুমার বাবুর আধার নম্বর ব্যবহার করে মুম্বাইয়ে একটি সিমকার্ড নেওয়া হয়েছে। ওই সিম কার্ড দেশবিরোধী নানান কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এরপরই মুম্বাই পুলিশের এক আধিকারিকের বেশে সাইবার দুষ্কৃতি সুকুমার দে'র মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ কল করেন এবং বলেন তার নামে জারি হওয়া সিম কার্ড পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই)-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, অবৈধ উপায়ে আর্থিক লেনদেন, উগ্রপন্থী কার্যকলাপে ব্যবহার এমনকি পর্ন সিনেমা তৈরির সঙ্গেও ওই সিম কার্ডের সম্বন্ধ পাওয়া গেছে। এরপরই দুষ্কৃতিরা সুপ্রিম কোর্টের লেটারহেড, ব্যাংক স্টেটমেন্টের নকল কাগজ সুকুমার বাবুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেয়। যেখানে সুকুমার বাবুর নামে কানাড়া ব্যাঙ্কের একটি একাউন্টে ২০ কোটি ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৫০ টাকা জমা আছে বলে দেখানো হয়। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে তার একাউন্টে এলো সেই বিষয়ে এরপর সুকুমারবাবুর কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়। এরপরই সুকুমারবাবুকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তদন্তের পর সুকুমার বাবু সহ তার পরিবারের সকলের জেল হতে পারে বলে এবং যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে বলে ভয় দেখানো শুরু হয়। যদিও তদন্তে সহযোগিতা করলে কিছুটা সুরাহা মিলবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এইসব ঘটনার ঘনঘটায় সুকুমারবাবু এতটাই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন যে দুষ্কৃতীদের সমস্ত কথা তিনি মেনে চলতে শুরু করেন। দুষ্কৃতীদের কথা মত সুকুমারবাবু এরপর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যত টাকা ছিল সমস্ত কিছুই দুষ্কৃতীদের বলে দেওয়া একটি আর বি আই একাউন্টে জমা করে দেন। এ বিষয়ে আর বি আই গাইডলাইনের একটি পুস্তিকা পর্যন্ত সুকুমার বাবুর কাছে পাঠিয়ে দেয় দুষ্কৃতিরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে দেয় তদন্ত চলাকালীন কাক পক্ষিও যেন বিষয়টি টের না পায়। তদন্ত শেষ হলেই সুকুমার বাবু তার যাবতীয় অর্থ একাউন্টের মাধ্যমে ফেরত পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর সুকুমার বাবুর প্রতিটি মুহূর্ত হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখে দুষ্কৃতির দল। প্রতি দু ঘন্টা অন্তর সুকুমার বাবুর লোকেশন তাদের কাছে পাঠাতে হচ্ছিল। এই ভাবেই ৩২ দিন তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে। এদিকে সুকুমার বাবুর অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ার পর দুষ্কৃতীরা তার কাছ থেকে আরও টাকা দাবি করলে সুকুমার বাবু তাদের বাড়ির যাবতীয় গয়না মুথুট ফাইন্যান্সে বন্ধক রাখেন এবং সেই অর্থ দুষ্কৃতীদের দেওয়া একাউন্টে পাঠিয়ে দেন। এরপর আরও ৪০ লক্ষ টাকা পাঠানোর জন্য সুকুমার বাবুর উপরে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এবার সাইবার দুষ্কৃতীরা সুকুমার বাবুর কাছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর সি রঙ্গরাজনের স্বাক্ষর করা একটি আদেশনামা পাঠায়। কিন্তু প্রাক্তন গভর্নরের সই করা আদেশনামা কেন তাকে দেওয়া হল এই বিষয়টি ভাবতে গিয়েই সুকুমার বাবুর চেতনা ফিরে আসে এবং তিনি বুঝতে পারেন এতদিন তাকে বোকা বানানো হয়েছে। এরপরই ১১ জুন আসানসোল কোর্ট মোড়ের বাসিন্দা সুকুমার দে আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানাতে ছুটে যান। তিনি যে সময় সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানাচ্ছিলেন সেই সময়ও দুষ্কৃতীদের ফোন তার মোবাইলে এসেছিল। এই ঘটনায় পুলিশ আধিকারিকেরা অত্যন্ত বিস্মিত হন। সুকুমার বাবুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসানসোল সাইবার ক্রাইম বিভাগ একটি মামলা কেস নম্বর ৪৮/২৫ রুজু করেছে। এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৬/(২), ৩১৮/(৪), ৩১৯/(২), ৩৩৬/(৩), ৩৩৮, ৩৪০(২)/৬১(২) ধারায় এফ আই আর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে, এতবড় ঘটনা আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানা থেকে রাজ্য সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
কলেজে অনলাইন ভর্তির দিনক্ষণ জারি, চিত্তরঞ্জন দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ে থাকছে হেল্প ডেস্ক
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১৩ জুন।। অবশেষে রাজ্যের কলেজগুলিতে অনলাইন ভর্তির দিনক্ষণ জানানো হলো। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য অভিন্ন কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ১৭ জুন থেকে। ঐদিন বেলা দুটোয় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ভর্তি পোর্টালের সূচনা করবেন। এরপর ১৮ জুন বেলা দু'টো থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির জন্য পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য। তার ভিত্তিতে ৬ জুলাই মেরিট লিস্ট এবং সিট অ্যালটমেন্ট প্রকাশিত হবে। ৬ থেকে ১২ জুলাই চলবে প্রথম দফার ভর্তি ।
এরপর আপগ্রেড রাউন্ড সিট অ্যালটমেন্ট করা হবে ১৭ জুলাই। এই রাউন্ডের ভর্তি নেওয়া হবে ১৭ থেকে ২০ জুলাই। প্রথম দফার ভর্তি সম্পূর্ণ হওয়ার পর নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া কলেজে কলেজে চলবে ২৪ থেকে ৩১ জুলাই। চলতি শিক্ষা বর্ষে স্নাতক স্তরের পঠন-পাঠন শুরু হবে ১ আগস্ট থেকে।
এরপরও খালি থাকা আসল গুলিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হবে ২ আগস্ট থেকে। মপ-আপ রাউন্ড চলবে ২ থেকে ১১ আগস্ট।
শিল্পাঞ্চলের অন্যতম খ্যাতিমান উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিত্তরঞ্জনের দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের ভর্তিতে সহযোগিতা করার জন্য এ্যডমিশন হেল্প ডেস্ক থাকবে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ত্রিদিব সন্তপা কুন্ডু। তিনি বলেন আগের বছরের মতোই এবারও যে কোনো ছাত্র-ছাত্রী কলেজে এসে এই সহযোগিতা সহজেই নিতে পারবেন।@প্রান্তভূমি
হিন্দুস্তান কেবলসে এলেন সিআরপিএফের ডিআইজি, জাগছে নতুন উদ্যোগের আশা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ১২ জুন।।
হিন্দুস্তান কেবলসের জমি নিয়ে তৎপরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভারী শিল্প মন্ত্রক এখানকার জমিতে নতুন কিছু উদ্যোগ গড়ে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। তার ফলেই একাধিক পরিদর্শনকারী দল ঘনঘন কেবলসে আসছে। সপ্তাহখানেক আগে সিআইএসএফের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট অশোক ঝা হিন্দুস্তান কেবলস পরিদর্শন করার পর আজ সিআইএসএফ বার্ণপুরের ডিআইজি প্রবোধ চন্দ্রা স্বয়ং পরিদর্শনে এলেন। তার সঙ্গে অধস্তন দুই আধিকারিক ও নিরাপত্তা রক্ষীরা ছিলেন। জানা গেছে আজ এলাকা পরিদর্শন না করে ডিআইজি শ্রী চন্দ্রা ঘন্টাখানেক ধরে বৈঠক করেন হিন্দুস্তান কেবলসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আর এন ওঝার সঙ্গে। বৈঠকে মূলত কেবলসের কোন এলাকায় কত জমি, কোথায় কত কোয়ার্টার্স, অন্যান্য বিল্ডিং, মাঠ ইত্যাদি আছে সেগুলির তথ্য বিশদে জানতে চান ডিআইজি। খোঁজ নেন অনুমতিহীন দখলদারির বিষয় নিয়েও। বিকেল চারটে থেকে প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত হিন্দুস্তান কেবলসের প্রশাসনিক ভবনে সিআইএসএফের এই দলটি ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি কোন কথা বলতে চান নি। তবে তাদের ঘনঘন পরিদর্শন এবং আগ্রহ দেখে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন যে, কেবলসের জায়গা তাদের পছন্দ হয়েছে এবং কিছুটা সময় লাগলেও নিশ্চিতভাবে তারা এখানে তাদের ব্যাটেলিয়ান রাখার উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলবেন। কেবলসের জমি যথেষ্ট মূল্য দিয়েই যে কোনো সংস্থাকে সরকারের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ৯৪৭ একর জমি কোন একটি সংস্থার পক্ষে কিনে নেওয়া যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ। সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক সংস্থা এখানে জমি নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে। সম্ভাবনা জেগেছে আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এবং শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ ছাড়া অন্য কোন সংস্থাও এখানকার জমিতে তাদের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলবে। থাকতে পারে মহিলা ব্যাটালিয়নের জন্য পৃথক পরিকাঠামোর বিধি বন্দোবস্ত।
আজকের পরিদর্শন প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান কেবলসের আধিকারিক আর এন ওঝা বলেন, সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ এখানকার জমি, বিল্ডিং সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে যেসব তথ্য জানতে চেয়েছিলেন তা যথাসম্ভব তিনি তাদের জানিয়েছেন। সিআইএসএফ এখানে কি করবে বা কবে তা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এদিন সিআইএসএফ পরিদর্শনের সময় হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির পক্ষ থেকে সুভাষ মহাজন দাবি করেন এখানে শিল্প হোক কিন্তু তাতে যেন স্থানীয় মানুষের স্থায়ী চাকরি হয় এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কেবলস কর্মীদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও এখানকার আবাসনগুলি পুরনো কর্মীদের পরিবার ও আগ্রহীদের লিজে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন থেকে পরপর বাইক চুরির আন্তঃরাজ্য গ্যাংকে ধরলো আরপিএফ, ঝাড়খন্ডে চলছে আরও তল্লাশি অভিযান
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন::১১ জুন।।
চিত্তরঞ্জন থেকে পরপর বাইক চুরির আন্তঃরাজ্য গ্যাংকে পাকড়াও করল আর পি এফ। আরপিএফ-এর বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগ এই সাফল্য অর্জন করেছে। ধরা পড়েছে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার কারমাটারের বিকাশ কুমার পন্ডিত (৩০) এবং নাসিরুদ্দিন আনসারী (২৮)। উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ট্রাকশন মোটর স্ট্যান্ড থেকে পরপর তিনটি বাইক চুরি হয়ে যায়। বাইকগুলি চুরি হয়েছিল এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ, মে মাসের ৫ তারিখ এবং জুন মাসের ২ তারিখে। কারখানার স্ট্যান্ড থেকে এইভাবে বাইক চুরির ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। দুষ্কৃতিদের ধরার জন্য আরপিএফ ৭ জন দুঁদে কর্মী অফিসারকে নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করে গভীর তদন্তে নামে। সরাসরি খোঁজ-খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তারা দুষ্কৃতীদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তে নেমে তারা জানতে পারেন ঝাড়খন্ড থেকে বাইক চুরির একটি চক্র এই কাজ করে চলেছে। সূত্র মারফত তারা জানতে পেরেছিলেন আজ সকালে আবারও হানা দেবে দুষ্কৃতীরা। এরপরই কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় আরপিএফ ওৎ পাতে। এর ফলেই আজ ১১ জুন সকালের দিকে চিত্তরঞ্জন থেকে বাইক চুরি করতে এসে আরপিএফের হাতে ধরা পড়ে যায় বিকাশ ও নাসিরুদ্দিন। তাদের কাছ থেকে একটি "মাস্টার কি" উদ্ধার হয়। ওই মাস্টার কি দিয়ে হিরো কোম্পানির যে কোনো বাইক আনলক করে ফেলতো দুষ্কৃতীরা বলে জানা গেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এরপর আরপিএফ জানতে পারে কারমাটারেরই এক ব্যক্তি তাদের চুরির বাইকগুলি কিনতেন। এরপর আরপিএফ ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের কারমাটারে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি চোরাই বাইক উদ্ধার হয়। যদিও সেটি চিত্তরঞ্জন থেকে চুরি করা নয় বলেই বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে। চিত্তরঞ্জন থেকে চুরি হওয়া বাইকগুলি উদ্ধারের জন্য ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় আরপিএফের বিশেষ দল তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে বলে জানা গেছে। আরপিএফের বড়সড় এই সাফল্যের পর চিত্তরঞ্জন থেকে বাইক চুরির আতঙ্ক অনেকটাই দূর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। চিত্তরঞ্জন পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে নিয়েছে। তারাও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।@প্রান্তভূমি
সিসিএসের ডিরেক্টর্স পদে ৯-০ জয়ী লেবার ইউনিয়ন::প্রেস বিজ্ঞপ্তি মুম্বাই ট্রেন দুর্ঘটনা, চিত্তরঞ্জনে কোয়ার্টার্স বরাদ্দ নিয়ে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১১ জুন।।
সিএলডব্লু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড (সিসিএস)-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের ৯ টি আসনেই লেবার ইউনিয়ন সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেন। সিসিএস পরিচালনায় তাদের বিরুদ্ধ পক্ষ বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের একটি আসনও পায়নি । সিসিএসের ডিরেক্টর্স পদে এলেন অসীম মোহন ব্যানার্জি, সমীর কুমার দাস, বিল্ব মুর্মু, জয়দীপ ব্যানার্জি, অরিজিৎ দত্ত, রুপান চৌধুরী, বিদ্যাসাগর পাসোয়ান, শান্তা ঘোষ, সুপর্ণা রায়। ১০ জুন এদের অভিনন্দন জানিয়ে সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে গত ৭২ বছরের মতোই এই বোর্ডও স্বচ্ছতার সঙ্গে সিসিএস পরিচালনার কাজ করবে।
এদিকে এদিনই অন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লেবার ইউনিয়ন জানিয়েছে চিত্তরঞ্জনে 'কোয়ার্টার্স অ্যালটমেন্ট'- এর ক্ষেত্রে কর্মীর সিনিওরিটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মহাপ্রবন্ধক বৈঠকে জানিয়েছেন।
এদিন আরও একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সি আই টি ইউ। তাতে সর্বভারতীয় এই ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তপন সেন সি আই টি ইউ-র পক্ষ থেকে মুম্বাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ৯ জুন মুম্বাইয়ের থানে জেলায় দুটি মুখোমুখি লোকাল ট্রেনের দরজায় ঝুলতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ধাক্কায় একাধিক যাত্রীর মৃত্যু ও বহু যাত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় রেলের অব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। বলা হয়েছে রেল চলাচলের ক্ষেত্রে আবশ্যিক চাহিদাগুলির দিকে নজর না দিয়ে অযথা বুলেট ট্রেনের মত অত্যধিক ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্পে বহু অর্থ ব্যয় করে দেওয়া হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।@প্রান্তভূমি
.
.
মারণ রোগ সিলিকোসিসের খোঁজে শিবির বিশ্ব পরিবেশ দিবসে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ৬ জুন।।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মরণ রোগ সিলিকোসিস নির্ণয় শিবির অনুষ্ঠিত হলো সালানপুর ব্লকে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে সালানপুর ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগ এই শিবিরের আয়োজন করে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন সালানপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায়। ৫ জুন ব্লকের দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাঁশকেটিয়া গ্রামের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এই শিবিরে মোট ৩১ জন ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। মূলত এখানকার কলকারখানায় কর্মরত মানুষজনই এই শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১৬ জনের কফের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১৬ জনের এক্সরে করানো হয়েছে। এরা সিলিকোসিসে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতেই এই পরীক্ষার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, পাথরের সূক্ষ্ম গুঁড়ো, ধুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহের মধ্যে প্রবেশ করে ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। শুরু হয় ঘুষঘুষে জ্বর এবং একঘেয়ে কাশি। অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্ত উঠে আসে এবং তাতে পাথরের গুঁড়ো পাওয়া যায় । সচেতন না হলে এই উপসর্গ আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ডেকে আনে। ইতিমধ্যেই সালানপুর ব্লক সহ পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একাধিক ব্যক্তির সিলিকোসিসে মৃত্যু ঘটেছে। জেলা প্রশাসন এই মারণ রোগ আটকাতে ক্রমাগত ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে সালানপুর ব্লকের পাথর খাদান, ক্র্যাশার অধ্যুষিত দেন্দুয়া পঞ্চায়েত এলাকায় সিলিকোসিস নির্ণয় শিবিরের আয়োজন করা হয়। এদিনের শিবির থেকে নেওয়া নমুনা জেলায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে ব্লকে নতুন করে আরো কেউ এই মারন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না। এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার কিংশুক সমাদ্দার, স্টাফ নার্স বনানী চৌধুরী, সিএইচও পূর্ণিমা মন্ডল, সিএইচএ চন্দনা মাজি, আশাকর্মী রমা সেন, পদ্মা মন্ডল।।@প্রান্তভূমি
এই প্রথম ঐতিহাসিক পিএনএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো সিএলডব্লুতে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৫ জুন।।
চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ইতিহাসে এই সর্বপ্রথম স্বীকৃত ইউনিয়নের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক পি এন এম বা পার্মানেন্ট নেগোসিয়েটিং মেশিনারি অনুষ্ঠিত হলো। ৪ জুন সি এল ডব্লুর কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই বৈঠকে লেবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কুড়িটি নির্দিষ্ট দাবি আলোচনার জন্য রাখা হয়। তার মধ্যে ১২টি দাবি নিয়ে সদর্থক আলোচনা হয় এবং প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনার পর সেগুলি চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় লাগু করার বিষয়ে সম্মত হন দুই পক্ষই । সিএলডব্লু লেবার ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে ইঞ্জিনের জন্য উপযোগী যন্ত্রাংশ চিত্তরঞ্জনেই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি, শহরের আবাসন এবং কারখানায় ছাদ মেরামতি সহ সিভিল কাজের গতি বৃদ্ধি, কারখানার মধ্যে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার উপযোগী বিশেষ ট্রায়াল রেল লাইন তৈরি, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৩ সালের আগে যাদের স্ক্রিনিং হয়েছে সেই সব কর্মীদের এনপিএস থেকে ওপিএসে নিয়ে যাওয়া, কেজি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন কেনা সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া, যে কোন যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশিকা জারি এবং মেনে চলা, সমস্ত ঠিকা কর্মীকে পরিচয়পত্র দেওয়া ও সিএলডব্লুর উদ্যোগে তাদের জন্য পিএফ এবং ইএসআই সুবিধার ব্যবস্থা করার মত বিষয়গুলি নিয়ে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং লেবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মধ্যে মৌখিক সম্মতি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথম পিএনএম বৈঠক প্রসঙ্গে লেবার ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন ১৯৬৮ সাল থেকে তাদের পূর্বসুরীরা গোপন ব্যালটে ইউনিয়নের স্বীকৃতির মাধ্যমে কর্মীদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত নানা পথ পেরিয়ে ২০২৪ সালে গোপন ব্যালটে নির্বাচনের মাধ্যমে স্বীকৃত ইউনিয়নের মান্যতা আদায় করে লেবার ইউনিয়ন।
এই প্রথম অনুষ্ঠিত পিএনএম বৈঠক নিয়ে সিএলডব্লুর জনসংযোগ বিভাগ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কর্মীদের নানান বিষয় এবং সমস্যা নিয়ে যৌথভাবে রেল কর্তৃপক্ষ ও স্বীকৃত ইউনিয়নের আলোচনার জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে। এদিন বৈঠকের শুরুতে সংস্থার সিপিও রঞ্জন মহান্তি সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যৌথ আলোচনায় সমস্যা সমাধানের এই ফোরাম আগামী দিনে কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সংস্থার মহাপ্রবন্ধক বিজয় কুমার। বৈঠকে সিএলডব্লুর সমস্ত বিভাগের প্রধানেরা এবং লেবার ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।@প্রান্তভূমি
কেবলসে এলো সিআইএসএফ:: ঘাঁটি গাড়তে চলেছে সিআরপিএফের সঙ্গেই!
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৫ জুন।।
হঠাৎই হিন্দুস্তান কেবলস পরিদর্শনে আজ ৫ জুন সকালের দিকে সিআইএসএফের এক প্রতিনিধি দল এসে উপস্থিত হন। জানা গেছে এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইএসএফের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট অশোক ঝা। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকাই তিনি হিন্দুস্তান কেবলস অফিসে চলে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন একাধিক ক্যামেরাম্যান, নথিপত্র লেখালেখির জন্য উপযুক্ত এক আধিকারিক সহ অন্য দুই সহযোগী। তারা হিন্দুস্তান কেবলস রূপনারায়ণপুর ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আর এন ওঝার অনুপস্থিতিতে শহরের কয়েকটি এলাকা নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন। জানা গেছে তারা কারখানা সংলগ্ন মালবাহালের দিকের ফাঁকা মাঠ, সিকিউরিটি ব্যারাক, কারখানার পাশের ফুটবল গ্রাউন্ড, আসানসোল-চিত্তরঞ্জন রোডের পাশে কেবলসের আর অ্যান্ড ডি বিল্ডিং, প্রশাসনিক ভবন, পরিত্যক্ত কারখানা ইত্যাদির ছবি তোলেন এবং সেগুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই তারা ফিরে যান বলে জানা গেছে। সিআইএসএফের এই পরিদর্শনের ফলে সম্ভাবনা জেগেছে হিন্দুস্তান কেবলসের প্রায় ৯৪৭ একর জমিতে এককভাবে সিআরপিএফ তাদের কর্মকান্ডের বিস্তার না ঘটিয়ে সিআইএসএফকেও জমি দেবে। সম্ভাবনা জেগেছে লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদ পর্যন্ত অংশটিতে সিআরপিএফ এবং রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন অফিস বিল্ডিং এলাকা থেকে লোয়ার কেশিয়া পর্যন্ত সিআইএসএফ তাদের কব্জায় নেবে। আজ সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধি দল পরিদর্শনকালে হিন্দুস্তান কেবলসের জমির মানচিত্র মেলে ধরে বিভিন্ন পয়েন্ট উল্লেখ করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন। কোথায় তাদের নজরদারি টাওয়ার গড়ে তোলা হবে, কোথায় প্যারেড গ্রাউন্ড তৈরি হবে, কোথায় আবাসন ব্যারাক গড়ে উঠবে তা নিয়ে ম্যাপ ধরে ধরে কথা বলছিলেন বলে শোনা গেছে। এতেই সম্ভাবনা জেগেছে হিন্দুস্তান কেবলসকে দ্রুত দুটি নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী তাদের প্রয়োজনে কাজে লাগাবে বলে।
যদিও আগাম কোন সংবাদ না দিয়েই সিআইএসএফের এই আগমনকে আবারো চমক বলেই উল্লেখ করেছেন হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির সম্পাদক সুভাষ মহাজন।
এদিকে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে একাধিকবার সিআরপিএফ-এর পরিদর্শনের পর হিন্দুস্তান কেবলসের জমি নিয়ে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ভারী শিল্প দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে সিআরপিএফের পক্ষ থেকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত কেবলসের পড়ে থাকা জমিতে কোথায় কতটা অবৈধ দখলদারি এবং কত জমি ফাঁকা পড়ে আছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তথ্য আদান প্রদান হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে। ২০১৭ সালে হিন্দুস্তান কেবলসের প্রায় ৬০ একর এলাকা বিভিন্নভাবে দখলদারির মধ্যে ছিল বলে জানা গিয়েছিল।
আজ সিআইএসএফের প্রতিনিধি দল বার্নপুরে ফিরে যাওয়ার আগে শীঘ্রই আবার পরিদর্শনে আসার কথা জানিয়ে গেছেন বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।@প্রান্তভূমি
দশাবতার তাস সংরক্ষণে দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়কে অনুদান ব্রিটিশ মিউজিয়ামের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ৫ জুন।। রাঢ় বাংলার অন্যতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দশাবতার তাস সংরক্ষণে এগিয়ে এল চিত্তরঞ্জনের দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড প্রিজার্ভেশন অব কালচারাল হেরিটেজের গবেষক-অধ্যাপকেরা। অনুদানের হাত বাড়িয়ে দিল লণ্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামও। দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড.ত্রিদিব সন্তপা কুণ্ডুর উৎসাহে কলেজের একটি গবেষক দল, ইতিহাস বিভাগের ড. শ্রেয়সী চৌধুরী, ইংরাজী বিভাগের ড. শ্রাবণী বসু এবং সেন্টারের গবেষক অয়ন কুণ্ডু কিছু দিন ধরে গবেষণা শুরু করেন দশাবতার তাস নিয়ে - যা আজ বিলুপ্ত হবার মুখে। তাঁরা বিষ্ণুপুরে ক্ষেত্রসমীক্ষাও করেন। সেই গবেষণা ও ক্ষেত্রসমীক্ষার উপর নির্ভর করে তাঁরা একটি গবেষণা প্রকল্প পাঠান ব্রিটিশ মিউজিয়ামের তত্ত্বাবধানে চলা এন্ডেঞ্জার্ড মেটিরিয়াল নলেজ প্রোগ্রামে (ইএমকেপি), যারা লুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে উৎসাহ দিতে অনুদান দিয়ে থাকেন। ব্রিটিশ মিউজিয়াম নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের প্যানেল এই প্রকল্পকে নির্বাচিত করেছেন অনুদান দেবার জন্য। এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ব্রিটিশ মিউজিয়াম প্রায় ১৫০০০ পাউন্ড অনুদান দেবে কলেজকে। এই প্রকল্পের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করেছেন।
আশা করা যায় এই প্রকল্প রূপায়িত হলে রাঢ়বাংলার এই লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে আগামী প্রজন্মের জন্য।@প্রান্তভূমি
.
.
পকেট থেকে মোবাইল হাপিস হতেই ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব ১.৭০ লক্ষ টাকা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ৪ মে।।
সবজি বাজারে গিয়ে পকেট থেকে হাপিস হয়ে গিয়েছিল মোবাইলটি। জানতে পারার পরেই সচেতন ওই ব্যক্তি মোবাইল নম্বর বন্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও তাকে বিলক্ষণ চমকে দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে কয়েক ধাপে প্রায় এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা গায়েব করে দিল সাইবার অপরাধির দল। এমনই দুঃখজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার মহাবীর কলোনির বাসিন্দা অরূপ ভট্টাচার্য। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রাক্তন এই কর্মীর তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকেই গায়েব হয়েছে টাকা। এ বিষয়ে ৩ জুন রাতেই আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অরূপ বাবু। সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অরূপ বাবু জানান, ১ জুন রবিবার সকাল ন'টা নাগাদ তিনি রূপনারায়ণপুর ডাবর মোড় সবজি বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানেই তার পকেট থেকে মোবাইলটি চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পারার পরেই তিনি সকাল ১১ টা নাগাদ রূপনারায়ণপুর পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারপর বিএসএনএল কার্যালয়ে গিয়ে তার মোবাইল সিম কার্ড লক করান। পুরনো নম্বর ফিরে পেতে নতুন সিমের জন্যেও আবেদন জানান। সে সময় বিএসএনএল কার্যালয়ে থেকে তাকে বলা হয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার মোবাইল নম্বর চালু হয়ে যাবে। কিন্তু একদিন পরেও তা না হওয়ায় ৩ জুন তিনি ওই কার্যালয়ে আবার যান। এ সময় তাকে বলা হয় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিমটি চালু করা যায়নি, তবে আজ চালু হয়ে যাবে। এরপরেই অরূপ বাবু রূপনারায়ণপুর স্টেট ব্যাংক এবং চিত্তরঞ্জন স্টেট ব্যাংকে তার একাউন্টগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য পৌঁছান। কিন্তু ব্যাংকে পাশবই আপডেট করতেই তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। তিনি জানতে পারেন বিএসএনএল অফিস থেকে তার সিম কার্ডটিকে চালু করা মাত্রই পেনশন একাউন্টসহ মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে সেদিনই ধাপে ধাপে প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার টাকা গায়েব করে দিয়েছে দুষ্কৃতিরা। এমনকি ইউপিআই-এর মাধ্যমে ফোন রিচার্জও করেছে তার অ্যাকাউন্ট থেকে। অরূপ বাবু বলেন, তার একটি একাউন্টে এটিএম কার্ড সুবিধাও নেই, তবুও সেখান থেকে টাকা তুলে নিয়েছে সাইবার চক্রী। এই ঘটনায় বিধ্বস্ত অরূপবাবুর আক্ষেপ, মোবাইল গায়েব হওয়ার পরে পরেই তিনি পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেন, বিএসএনএল কার্যালয়ে সিমকার্ড লক করান। তারপরেও কিভাবে তার একাউন্ট থেকে এই বিপুল অর্থ দুষ্কৃতীরা হাতিয়ে নিতে পারল তা বিস্ময়কর। তার কাছে কোন ওটিপি বা মেসেজ কিছুই আসেনি, যদিও তার ফোন চালু না থাকায় তা আসার কথাও ছিল না। তার আবেদন, ঘটনার দিনেই তিনি সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন, তারা যেন তার টাকা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন। অরূপ বাবু বলেন, তার স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন, কন্যা বাইরে থাকেন; তিনি একাই থাকেন রূপনারায়ণপুরের বাড়িতে। এই অবস্থায় মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছেন।@প্রান্তভূমি
সালানপুর ব্লকে জল সরবরাহের বহু পাইপ চুরির অভিযোগে তোলপাড়
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৩ জুন।।
নানান সমস্যায় জর্জরিত সালানপুর ব্লকের জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবার পাইপ চুরির সম্মুখীন হল। ফলে "জল স্বপ্ন" কবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েই দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন যে পাইপলাইন পাতা হচ্ছে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ঠিকাদারের মধ্যে অন্যতম দীপ কনস্ট্রাকশনের মালিক সন্দীপ রুদ্র আজ ৩ জুন সালানপুর থানার অন্তর্গত কল্যানেশ্বরী ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন কাজের জন্য রাখা ৩৩ টি পাইপ গায়েব হয়ে গেছে রাস্তার পাশ থেকে। ব্লকের দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাঁশকেটিয়া থেকে সিধাবাড়ি মোড় পর্যন্ত পাইপ লাইন পাতার জন্য ৫০ টি ডিআই পাইপ আনা হয়েছিল। আরো ৩০ টি পাইপ সেখানে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সন্দীপবাবু লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন তিনটি গাড়িতে চাপিয়ে মোট ৫০ টি ৫.৫ মিটার করে লম্বা পাইপগুলি পিএইচই'র কল্যানেশ্বরী স্টোর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রান্তভূমির প্রতিনিধিকে ৩ জুন সন্ধ্যায় তিনি জানান, ২৮ মে এই পাইপগুলি তিনটি ট্রাকে চাপিয়ে স্টোর থেকে এনে রাস্তার ধারে রাখা হয়েছিল। ১ জুন সকালে কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা তাকে জানান যে ৩৩ টি পাইপ উধাও হয়ে গেছে। সন্দীপ বাবুর আশঙ্কা ৩১ মে রাত সাড়ে এগারোটা থেকে ভোর তিনটের মধ্যে এগুলি চুরি করা হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিধাবাড়ি বাঁশকেটিয়া এলাকায় রাস্তার কাজের জন্য আগের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে প্রায়ই ওই এলাকায় জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেজন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ গুলির পরিবর্তে নতুন করে ডিআই পাইপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু অস্বাভাবিক এই চুরির ঘটনায় এখন তাকে যথেষ্ট অসুবিধায় পড়তে হলো। তিনি বলেন যথেষ্ট বড় এবং ভারী পাইপগুলি কিভাবে চুরি হলো তা যথেষ্ট চিন্তার। জনবহুল এলাকায় এমন চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কল্যানেশ্বরী পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে নেমেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে কবে কখন কিভাবে এসব পাইপ রাখা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি বলেন চুরির বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো সে সম্বন্ধে তারা কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং বলেন চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের নম্বর প্লেট লাগানো একটি ট্রাককে চিহ্নিত করা গেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আল্লাডি এলাকায় সেটির গতিবিধি নজরে এসেছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
বিশ্ব সাইকেল দিবসে অভিযান রূপনারায়ণপুর থেকে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৩ জুন।।
প্রা:প্র:: বিশ্ব সাইকেল দিবসের অভিযানে মুখ হয়ে উঠল ছোট্ট দেবরূপ মজুমদার। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রূপনারায়ণপুরের দেবরূপ অন্য সকলের সাথেই সমানতালে পাল্লা দিয়ে রূপনারায়ণপুর থেকে দেন্দুয়া এবং ফিরতি পথে রূপনারায়ণপুর পর্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সাইকেল চালালো। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাইকেল আরোহী তপন নাথের উদ্যোগে আজ ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস পালিত হলো এই ভাবেই। এদিন সকাল সাড়ে সাতটায় রূপনারায়ণপুর ডাবর মোড়ে এলাকার সাইকেলপ্রেমী এবং পরিবেশ সচেতন বহু ব্যক্তি একত্রিত হন। এই ব্যতিক্রমি অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রূপনারায়ণপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তি বাসুদেব মন্ডল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বর্ষীয়ান গোপীনাথ হাজরা এবং অন্যান্যরা। অভিযানের শুরুতেই সকলের হাতে ঠান্ডা জলের বোতল তুলে দেন সুজয় শেঠ, প্রশান্ত মন্ডল। দেন্দুয়ায় সাইকেল অভিযাত্রীদের স্বাগত জানান দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি। এ প্রসঙ্গে তপন নাথ বলেন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সাইকেলের তুলনা নেই। তার আহ্বান, সপ্তাহের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা করে যেন সকলেই সাইকেল চালান। গোপীনাথ হাজরা বলেন ছোটখাটো প্রয়োজনে অবশ্যই সাইকেল নিয়ে বের হওয়া উচিত, তাতে সমস্ত ধরনের দূষণ থেকে এই পৃথিবীকে মুক্ত রাখা যায়। বাসুদেব মন্ডল রূপনারায়ণপুর অঞ্চলে একটি সাইকেল ক্লাব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। হরিশংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন সাইকেল কিভাবে শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তিনি বলেন সাইকেলের তিনটি অংশের স্প্রিং আমাদের শরীরের ভারকে মাটিতে নামিয়ে দেয়, ফলে সাইকেল চালালে শরীরের ক্ষতি হয় না বরং নানান ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সাইকেল দিবস উপলক্ষে আজকের এই অভিযান যেমন ব্যতিক্রমি তেমনই অতি প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রান্তভূমির সম্পাদক অভয় মন্ডল। দশ কিলোমিটারব্যাপি এই অভিযানে চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর সহ সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ৫০ জন উৎসাহী মানুষ অংশ নেন।@প্রান্তভূমি
মুহুর্মুহু বজ্রপাত, চিত্তরঞ্জনে মৃত্যু যুবকের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২ জুন।।
বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হল তরতাজা যুবক ঋষভ বিভূতির (২৪)। ঋষভের বাবা চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার কর্মী কমল কুমার বিভূতি । আমলাদহি বাজারে তার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান আছে। তাদের বাড়ি মিহিজাম কিশোরী গলিতে। জানা গেছে দিন ১৫ যাবৎ ঋষভ তার বন্ধুদের সঙ্গে চিত্তরঞ্জন কর্নেল সিং পার্ক এলাকার মাঠে ক্রিকেট খেলার জন্য যেতেন। আজকেও অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। হঠাৎই আকাশ কালো করে মেঘ উঠলে তারা সেখানে একটি টিনের চালার তলায় আশ্রয় নেন। এ সময়ে বিকট আওয়াজ করে বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের অভিঘাতে লুটিয়ে পড়েন ঋষভ, বিবেক কুমার, অভিনব কুমার, গৌতম কুমার এবং কে প্রণীত অভিনব। সন্ধে ৬ টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সকলকে চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অচেতন ঋষভের আর জ্ঞান ফেরেনি। অন্য ৪ যুবককে আই সি ইউ থেকে আপাতত সাধারণ বেডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তাদের অবস্থা বিপদমুক্ত বলেও জানা গেছে। আকস্মিক এই ঘটনায় একেবারে শোকে পাথর হয়ে গেছেন অত্যন্ত ভালো মানুষ বলে পরিচিত কমল কুমার বিভূতি। তার একমাত্র পুত্রের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া সমগ্র চিত্তরঞ্জন এবং মিহিজাম এলাকায়। পরিচিতজনেরা ঝড় জল জল উপেক্ষা করেই চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ সোমনাথ কুমার দাস জানিয়েছেন আজ বিকেলে চিত্তরঞ্জন রেল শহরে ২৮ টি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী এলাকা হিন্দুস্তান কেবলসেও চারটি বজ্রপাত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন এ সময় ফাঁকা জায়গায় কিংবা জলাশয়ের ধারে বা গাছের নিচে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চেষ্টা করতে হবে পাকা বাড়ির মধ্যে থাকার।@প্রান্তভূমি
মে মাসে ইঞ্জিন উৎপাদনে নজির ডানকুনির
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২ জুন।।
প্রা:প্র:: এক মাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৮ টি বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন উৎপাদন করে নজির সৃষ্টি করল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার শাখা ডানকুনি। মে মাসে "ইলেকট্রিক লোকো এসেম্বলি এন্ড এনসিলারি ইউনিট অফ চিত্তরঞ্জন লোকোমোডি ওয়ার্কস" ডব্লু এ জি-৯ এইচ সি ধরণের ১৮ টি ইঞ্জিন উৎপাদন করেছে, যা এখানকার এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬ টি এক মাসে ( নভেম্বর ২০২৪) ইঞ্জিন উৎপাদনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই সাফল্যের জন্য চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার মহাপ্রবন্ধক বিজয় কুমার সমগ্র ডানকুনি ইউনিটের কর্মী আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত আর্থিক বছরে ডানকুনি ইউনিট মোট ১৫৬ টি বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিন উৎপাদন করেছিল।@প্রান্তভূমি
আসানসোলে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করতে এসে ধৃত মুঙ্গেরের কারবারি, বাজেয়াপ্ত বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২ জুন।।
মুঙ্গের থেকে আসানসোলে এক ঝাঁক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে এসে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়ে গেল কুখ্যাত অস্ত্র কারবারি মহম্মদ ফিরদৌস আলম ওরফে লাড্ডু। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তার মধ্যে আছে দুটি নাইন এমএম পিস্তল এবং দুটি ম্যাগাজিন, সেভেন এম এম দুটি পিস্তল এবং চারটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি সিঙ্গল শট পাইপগান, ১৪ টি তাজা কার্তুজ। ধৃত অস্ত্র কারবারি লাড্ডুর বাড়ি বিহারের মুঙ্গের জেলার মফঃস্বল থানা এলাকার মির্জাপুর ওয়ার্ধা গ্রামে। আপাতত ধৃত অস্ত্র কারবারি এস টি এফ- এর অভিযোগক্রমে আসানসোল উত্তর থানায় (কেস নম্বর ২৪১/২৫) অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত হয়ে আসানসোল আদালতের নির্দেশক্রমে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অত্যন্ত চিন্তাজনক তথ্য পুলিশ উদ্ধার করেছে। ধৃত ফিরদৌস আলম এস টি এফ আধিকারিকদের জানিয়েছে যে সে অনেকদিন ধরেই আন্ত:রাজ্য অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ হাতিয়ার এবং কার্তুজ সরবরাহ করেছে। সে এই হাতিয়ার সরবরাহ চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে নিজেকে উল্লেখ করেছে। আন্ত:রাজ্য এই অস্ত্র সিন্ডিকেট গ্রাহকদের কাছে অর্থের বিনিময়ে যেকোনো ধরনের অস্ত্র পৌঁছে দেয় বলে লাড্ডু এসটিএসকে জানিয়েছে। এই তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই এস টি এফ আসানসোল সহ এই রাজ্যের কোথায় কোথায় কাদের কাছে অস্ত্র পৌঁচেছে তার খোঁজে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের এসটিএফের আধিকারিক সৌমাল্য আইচের কাছে ৩০ মে বিকাল চারটে নাগাদ গোপন সূত্রে সংবাদ আসে যে মুঙ্গের থেকে এক কুখ্যাত অস্ত্র কারবারি আসানসোলে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে আসছে। সংবাদ পেয়েই এসটিএফ অত্যন্ত সক্রিয় হয় এবং দ্রুত একটি দল গঠন করে এলাকায় নেমে পড়ে। আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় ওৎ পেতে থাকাকালীন রাত প্রায় পৌনে বারোটার সময় সূত্র মারফত তারা জানতে পারেন মুঙ্গের থেকে অস্ত্র কারবারি কিছুক্ষণের মধ্যেই আসানসোলের কোন একটি জায়গায় বাস থেকে নামবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনির্দিষ্ট ভাবে এসটিএফ জানতে পারে আসানসোল উত্তর থানা এলাকার আসানসোল-গৌরান্ডি রোডের উপর পলাশডিহার কাছে এইচপি পেট্রোল পাম্পের কাছাকাছি এলাকায় ওই কারবারি বাস থেকে নামবে এবং তারপর স্থানীয় এজেন্ট তাকে অন্যত্র নিয়ে যাবে। এসটিএফ টিম এই সময় কালীপাহাড়ির কাছে অপেক্ষা করছিল , সেখান থেকে তারা দ্রুত পেট্রোল পাম্পের কাছে চলে আসে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে তাদের গাড়ি লুকিয়ে রেখে অস্ত্র কারবারির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ব্যক্তি সেখানে বাস থেকে নামে, যার মাথায় একটি ব্যাগ দেখা যায়। গোপন সূত্র মারফত এসটিএফ এই ব্যক্তি সম্বন্ধে সুনিশ্চিত হয় এবং তাকে হঠাৎ করেই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই ধানবাদের কাছে একটি বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিস পায় পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ এবং ঝাড়খণ্ডের এটিএস। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে চারজনের বাড়ি বিহারের মুঙ্গেরে। ওই কারখানায় অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করতো কুলটি ডিশেরগড়ের বাসিন্দা আশ মহম্মদ।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এই রাজ্যে বেআইনি অস্ত্রের চাহিদা ততই বেড়ে চলেছে। এর ফলে অবৈধ অস্ত্র কারবারিদের রমরমাও দেখা যাচ্ছে। যদিও পুলিশ এদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভোটের আগে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে এইসব অবৈধ অস্ত্রের রমরমায়।@প্রান্তভূমি
.
.
সালানপুর ব্লকের ৩১ জন বিএলও'কে দায়িত্ব থেকে সরানো হলো
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ৩০ মে।। সালানপুর ব্লকে ১৪৫ জন বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারের মধ্যে ৩১ জনকেই পরিবর্তন করে দেওয়া হল। ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত এবং আরো কার্যকরী করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের ফলেই এমন পদক্ষেপ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনকে কিছুটা হলেও অসুবিধায় পড়তে হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। কারণ পুরনোরা এই কাজের সঙ্গে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন, নতুনদের তা বুঝে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এবার থেকে সরকারি বা আধা সরকারি কর্মীরাই বি এল ও'র দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেজন্য তেরোটি নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির উল্লেখও করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলির মধ্যে আছেন শিক্ষক শিক্ষিকা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আমিন, পঞ্চায়েত সেক্রেটারি, ভিলেজ লেভেল ওয়ার্কার্স, ইলেকট্রিসিটি বিল রিডার্স, পোস্টম্যান, অক্সিলারি নার্স/ মিডওয়াইভস, হেলথ ওয়ার্কার্স, মিড ডে মিল ওয়ার্কার্স, কন্ট্রাক্ট টিচার্স, কর্পোরেশন ট্যাক্স কালেক্টর এবং ক্লারিক্যাল স্টাফ। এতদিন এর বাইরেও সেলফ হেল্প গ্রুপ সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রাণী মিত্র, বিভিন্ন রিসোর্স পার্সনেরা বি এল ও'র দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু এখন আর তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। জানা গেছে, শুধুমাত্র বারাবনি বিধানসভা এলাকা থেকেই ৪৯ জন বি এল ও'কে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। এদের মধ্যে সালানপুর ব্লকে ৩১ এবং বারাবনি ব্লকে ১৮ জন আছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলার মধ্যে একমাত্র আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিধানসভাতেই বেশ কয়েকজন করে বিএলও'কে সরানো হয়েছে। বারাবনি ছাড়াও জামুড়িয়ায় ২১, পাণ্ডবেশ্বরে ১৭, আসানসোল উত্তরে ১৪, কুলটিতে ৪, রানীগঞ্জের ৩, দুর্গাপুর পশ্চিমে ২ এবং দুর্গাপুর পূর্বে ১ জন বিএলও'কে সরানো হয়েছে।@প্রান্তভূমি
অবৈধ অস্ত্র কারখানার হদিশ, যৌথ অভিযানে বাংলা ঝাড়খন্ড এসটিএফ এটিএস, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ৩০ মে।।
ধানবাদে চলছিল অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা। আর সেই কারখানায় পিস্তল তৈরির জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করা হতো কুলটি এলাকার আশ মহম্মদের মাধ্যমে। ২৮ মে ধানবাদের এই মিনি গান ফ্যাক্টরিতে অভিযানের কয়েকদিন আগেই সে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল পৌঁছে দিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এই আশ মহম্মদকেই ২০২১ সালের ২৩ মে বাংলা ঝাড়খন্ড সীমানার বরাকরে গ্রেফতার করা হয়েছিল নাকা চেকিং চলাকালীন। সে সময় ধৃত আশ মহম্মদের কাছ থেকে ২৭ টি ৭ এম এম পিস্তল এবং ৪৬ টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ আশ মহম্মদের ডিসেরগড়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং তার বাড়ির বেসমেন্ট বা মাটির নিচের ঘরে চলতে থাকা অবৈধ অস্ত্র কারখানার হদিশ পায়। সেই কারখানা থেকেও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সেই থেকেই পুলিশের নজরে থাকা আশ মহম্মদ জেল থেকে বের হয়ে আবার একই কারবারে নেমে পড়ে। এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল ধানবাদে অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়ার মাধ্যমে। এই মুহূর্তে বিহারের কোনো জায়গায় আশ মহম্মদ লুকিয়ে আছে বলে পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আছে।
উল্লেখ্য, ২৮ মে সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এস টি এফ) এবং ঝাড়খন্ড পুলিশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) যৌথভাবে ধানবাদের সিঙ্গরা বস্তির বাসিন্দা বছর ৪৫-এর মুর্শিদ আনসারীর ঘরে তল্লাশি চালায়। সে সময় সেখানে পাঁচ ব্যক্তি দেশী পিস্তল তৈরীর কাজে নিযুক্ত ছিল। অভিযানে মুরশিদ আনসারীসহ ধরা পড়ে যায় বিহারের মুঙ্গের জেলার মফঃস্বল থানা এলাকার মহম্মদ সাবির আনসারী (৩০), মহম্মদ মোস্তফা ওরফে মুস্সু( ৪২), মহম্মদ পারভেজ উরফে রিঙ্কু (৩০), মহম্মদ মিস্টার (৩৫)। এরপরই পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এই কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরার জন্য পশ্চিমবঙ্গ বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টিম পাঠিয়েছে। ধানবাদের এই অস্ত্র কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির নানান সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে আছে চারটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, আটটি ব্যারেল, ২৮ টি অর্ধনির্মিত ম্যাগাজিন, ৯ টি কেএফ ৭.৬৫ তাজা কার্তুজ, অর্ধনির্মিত দশটি দেশী পিস্তল সহ একাধিক ড্রিল মেশিন, রিসেল স্প্রিং, গ্রাইন্ডার মেশিন, হাতুড়ি, ছেনি, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল, ট্রেনের টিকিট, হ্যাকসো ব্লেড, রাউন্ড ফাইল ইত্যাদি।
অস্ত্র কারখানা থেকে ধৃতেরা জানিয়েছেন যে সেখানে কুলটি ডিসেরগড়ের বাসিন্দা আশ মহম্মদ বিভিন্ন কাঁচামাল নিয়মিত সরবরাহ করতেন। ফলে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার মহুদা থানা এলাকার সিংরা বস্তির সঙ্গে নাম জুড়ে গেল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার ডিসেরগড়েরও। উল্লেখ্য, বছর কয়েক আগে রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন ঝাড়খন্ড সীমানা ঘেঁষা চিতল ডাঙ্গায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার হদিস পেয়েছিল পুলিশ। সেখানেও মুঙ্গের থেকে অস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী লোকজন এসে ঘাঁটি গেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুলিশ জানতে পেরেছিল রূপনারায়ণপুর থেকে সেই জাল ছড়িয়েছিল ঝাড়খন্ড বিহারের বিভিন্ন অঞ্চলে। এবার সালানপুর থানার পড়শী কুলটি থানা এলাকায় অস্ত্রের কারবারি ও সরঞ্জাম সরবরাহকারীর হদিস পাওয়ায় এলাকায় এখনো যে বেআইনি অস্ত্রের কারবার চলছে তা প্রকাশ্যে এলো।@প্রান্তভূমি
মানুষের অখাদ্য রেশনের আটাও সরকারি পরীক্ষায় "ওকে", ক্ষোভ সালানপুরে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৯ মে::
"মানুষের অখাদ্য" রেশনের আটাও সরকারি পরীক্ষাগারে সঠিক বলে পাশ করে গেল। কোয়ালিটি কন্ট্রোলের এমন নমুনায় হতবাক সালানপুর ব্লকের রেশন গ্রাহকেরা। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, যে আটা গুণমান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল তা সরকারি স্তরে সংগ্রহ করা হয়েছিল রেশন ডিলারের কাছ থেকে। ভুক্তভোগী রেশন গ্রাহকেরা চাইছেন হয় তাদের কাছ থেকে আটা নেওয়া হোক কিংবা তাদের উপস্থিতিতে রেশন ডিলারের কাছ থেকে আটা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠানো হোক । কিন্তু এর কোনোটিই করা হয়নি। ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন রেশন থেকে পাওয়া আটা কোন মানুষ খেতে পারেন না। সেগুলি অবধারিত গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন তারা। কারণ সেই আটায় বালি কাঁকর সহ অন্যান্য অখাদ্য এতটাই মেশানো থাকে যে তা মানুষের মুখে ওঠে না। বারবার এই অভিযোগ পাওয়ার পর সালানপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেশনের আটার গুণমান পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সকলকে আশ্চর্য করে দিয়ে যে রিপোর্ট পাঠানো হয় তা হল - কোয়ালিটি কন্ট্রোল টেস্টে সেই আটা উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই রিপোর্ট সালানপুর ব্লকের রেশন গ্রাহক অমরনাথ মাহাতো, সাদ্দাম হোসেন সহ অনেক জনের কাছেই পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকারের ফুড এন্ড সাপ্লায়ার্স বিভাগের ইনফরমেশন /গ্রিভান্স সিস্টেম। এরপরই রেশন গ্রাহকদের অভিযোগেরও অপমৃত্যু ঘটিয়ে তা "ক্লোজ" করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগ সারবত্তাহীন, আটার গুণমান ঠিক আছে - তাই এ নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াও বন্ধ করে দেওয়া হলো। কিন্তু এই ঘটনায় যারপরনাই হতবাক অভিযোগকারীরা । তারা বলছেন প্রকাশ্যে প্রশাসনের সকলেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে আটার গুণমান সঠিক নয়, অথচ পরীক্ষাগারে কি করে সেই আটা গুণমান উত্তীর্ণ হয়ে গেল! তাহলে রেশন থেকে বালি পাথর পোকামাকড় ভর্তি আটা খাওয়াই কি এখানকার মানুষের ভবিতব্য? এই প্রশ্ন তুলে তারা বলেছেন আবার তারা একই অভিযোগ সরকারের কাছে জানাবেন এবং এবার যাতে সঠিক পদ্ধতি মেনে পরীক্ষা করা হয় তা নিশ্চিত করবেন। এ বছরের মার্চ মাসে ব্লকের বিভিন্ন এলাকার রেশন গ্রাহকেরা একযোগে রেশন সামগ্রীর খারাপ গুণমান নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। খাদ্য সরবরাহ বিভাগের গ্রিভান্স সেলে জানানো সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হতেই অভিযোগকারীরা যাতে তাদের অভিযোগ তুলে নেন সে জন্য অনেককেই লোভ দেখানো হয়েছিল, এমনকি ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিন্তু কেউ তাদের অভিযোগ তুলে না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এরপরই রেশন ডিলারের কাছ থেকে নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। গ্রাহকদের দাবি, রেশন ডিলারের কাছ থেকে তাদের যে আটা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েই পরীক্ষা করতে হবে। তবেই সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যাবে । কারণ গোপনে প্রায় সবাই - সে রেশন ডিলারই হোক কিংবা গ্রাহক মেনে নেন যে রেশন থেকে পাওয়া আটার রুটি খাওয়া যায় না। সেই আটা গরুর খাদ্য হিসেবে তারা ব্যবহার করেন। কেউ কেউ বেশি দামে সেই আটা বিক্রি করে দেন। তারপরও কি করে এমন অখাদ্য আটা ল্যাবরেটরি থেকে "ওকে" হয় তা যথেষ্ট বিষ্ময়কর । যদিও ডিলারদের সাফ কথা যে, তারা যেভাবে যেমন কোয়ালিটির সামগ্রি পান সেটাই গ্রাহকদের হাতে তুলে দেন। তাদের কাছে সীল করা প্যাকেটে আটা পাঠানো হয় আটা কল থেকে। নতুন করে সেই প্যাকেট ডিলারের ঘরে আর খোলা হয় না। রেশন গ্রাহকদের অভিযোগ - তাহলে কি আটা কল গুলির সঙ্গেই যোগসাজশ করে এমন কাণ্ড চালানো হচ্ছে? কিন্তু বিষয়টি যে এখানেই থেমে থাকবে না তা রেশন গ্রাহকদের কথাতেই পরিষ্কার হয়েছে - তারা জানিয়েছেন যতদিন না তারা "ন্যায়" পাচ্ছেন ততদিন থামবেন না।@প্রান্তভূমি
দশদিন পর চিত্তরঞ্জনের জলাশয় থেকে উদ্ধার মৃত রবিরঞ্জনের সাইকেল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৭ মে।।
অঘটনের দশ দিন পর চিত্তরঞ্জনের জলাশয় থেকে উদ্ধার হল রবিরঞ্জন সিংয়ের ব্যাটারি চালিত সাইকেলটি। আজ ২৭ মে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ফতেপুর ও সিমজুড়ির মাঝের জলাশয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিতে চিত্তরঞ্জন থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ ইসমাইল আলি ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় মাঝিরা অংশ নেন। জলাশয়ের প্রতিটি অংশে তন্ন তন্ন করে খোঁজ শুরু হয়। নৌকা, মাছ ধরার জাল, কাঁটা ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে খোঁজ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দুপুর একটা নাগাদ সাইকেলটির খোঁজ পাওয়া যায়। জানা গেছে সিমজুড়ি থেকে ফতেপুরের দিকে আসার পথে ডানদিকের জলাশয়ে রবিরঞ্জনের দেহের খোঁজ পাওয়া গেলেও সাইকেলটি উদ্ধার হয়েছে বাঁদিকের জলাশয় থেকে। পুলিশের অনুমান সম্ভবত তীব্র ঝড়ে জলের গতির সঙ্গে সাইকেলটি স্থির থাকতে পারেনি। এদিকে এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে জানতে পারে যে রবিরঞ্জনের সঙ্গে একটি ব্যাগ এবং নীল-টুপি ছিল। যদিও এদিনের তল্লাশিতে সেই টুপি এবং ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ১৭ মে শনিবার চিত্তরঞ্জন ও সন্নিহিত অঞ্চলে বিকেলের দিকে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়। সেদিনই নিখোঁজ হন রবিরঞ্জন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে যে, সেদিন রবিরঞ্জন তার কাজ শেষে টিফিনের সময় সাইকেল নিয়ে সিমজুড়ির দিকে গিয়েছিলেন। এই বিষয়টি সিসিটিভির ফুটেজেও পুলিশ দেখতে পেয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু সিমজুড়ি থেকে ফেরার পথে ঝড় জলের কবলে পড়ে রবিরঞ্জন জলাশয়ে পড়ে গেলেন কিনা তা নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। অন্যদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার পেটে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল। কিন্তু কিভাবে তার মৃত্যু হল সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মৃতের দাদা রাহুল রঞ্জন সিং তার ভাইয়ের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উল্লেখ করে পুলিশের কাছে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন। চিত্তরঞ্জন পুলিশ সমস্ত বিষয়ে নজর রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন শহরের নিরাপত্তায় আরও ৮০০ সিসি ক্যামেরা, ইন্ডোর ক্রিকেট গ্রাউন্ড, জিম
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২৭ মে।। চিত্তরঞ্জন রেল শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং কারখানার উন্নতি সাধনে ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বোর্ড। এই খবর জানিয়েছেন সিআরএমসি'র সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং। আজ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সিআরএমসি/ এনএফআইআর/ আইএনটিইউসি'র পক্ষ থেকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার জেনারেল ম্যানেজার বিজয় কুমারের সঙ্গে প্রায় ঘন্টাখানেক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ইন্দ্রজিৎ বাবু বলেন সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ শহরের ২৮ টি ক্লাব সংগঠন উচ্ছেদের যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তা পুনরায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মহাপ্রবন্ধক। এছাড়াও শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো আঁটো সাঁটো করার জন্য শহরজুড়ে অতিরিক্ত ৮০০ সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি সমস্ত স্ট্রিট লাইট মেরামতি করা হবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এখন শহর জুড়ে প্রায় চারশো সিসি ক্যামেরা আছে বলে জানা গেছে। এরই সঙ্গে কোয়ার্টার্স বরাদ্দ করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোয়ার্টার্স মেরামতি ও নিকাশি ব্যবস্থা মজবুত করার উপরে জোর দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। ইন্দ্রজিৎ বাবু বলেন, চিত্তরঞ্জন রেল শহরে দ্রুত একটি ইনডোর ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং দুটি জিম গড়ে তুলবে রেল। এর ফলে রাত্রে খেলাধুলার সুবিধা বিস্তৃত হবে। জিমগুলি রেলের পরিচালনায় বিনা ব্যয়ে রেল কর্মী ও তাদের পরিবারের লোকজন ব্যবহার করতে পারবেন বলে ইন্দ্রজিৎ বাবু জানিয়েছেন। এদিনের বৈঠকের শুরুতেই ইন্দ্রজিৎ বাবুরা মহাপ্রবন্ধকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন শহরের এরিয়া কমিটি গুলির নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ভাইস ওয়ার্ডেনদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর স্থগিত ছিল। কিন্তু মহাপ্রবন্ধক শ্রী কুমার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে অচলাবস্থা কাটিয়েছেন - সেজন্য তাকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।@প্রান্তভূমি
উচ্ছেদের নোটিশ পুনর্জন্ম ভবনেও! ৫ দিন পর পিছু হটলো রেল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২৩ মে।
উনচল্লিশ বছর আগে চিত্তরঞ্জন শহরে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর তৈরি করে শুরু হয়েছিল পথ চলা। তখন কেউ ভাবতেই পারেননি সেই সংস্থাই একদিন চিত্তরঞ্জন ও সন্নিহিত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের নির্ভরতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে। মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে পাবে দেশ বিদেশের নানান স্বীকৃতি। সেই সেলফলেস সার্ভিস সোসাইটির গোড়াপত্তন ১৯৮৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চিত্তরঞ্জনের আমলাদহি বাজার সংলগ্ন কস্তুরবা গান্ধী বিদ্যালয়ের সামনে হয়েছিল। কার্যালয়ের নামকরণ হয় পুনর্জন্ম ভবন। শিল্পাঞ্চল তথা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী এই সংস্থা রক্তদান, চক্ষুদান, দুঃস্থদের চোখের ছানি অপারেশন সহ নানান কাজে আত্মনিয়োগ করে। মানুষের প্রয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার , মেডিক্যাল বেড, ক্র্যাচ, হুইলচেয়ার, ওয়াকার, আইসব্যাগ সহ প্রাসঙ্গিক সমস্ত কিছুই যোগান দিতে থাকে এই সংস্থা। এই সংস্থার উদ্যোগেই ২০০৩ সালে প্রথম শুরু হয় সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত রক্তদান শিবির। রক্তদান আন্দোলনে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যা ছিল অনুসরণীয় উদ্যোগ। ২০২১ সালে শহীদ দিবস উপলক্ষে মহিলা পরিচালিত রক্তদান উৎসবে ১০৮ জন মহিলা রক্তদান করেছিলেন। সেই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিল। সরকারিভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল শ্রেষ্ঠ সংস্থার। সংস্থার উপদেষ্টা সোমনাথ দাস বলেন বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব ২০০২-০৩ সালে সেলফলেস সার্ভিস সোসাইটিকে শ্রেষ্ঠ অর্গানাইজেশনের পুরস্কার দিয়েছে, ২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে এই সংস্থা, ২০২১ সালে পায় ইন্টারন্যাশনাল লাইফ সেভার এ্যওয়ার্ড। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার সেলফলেস সার্ভিস সোসাইটিকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে। কিন্তু এমনই উপকারী একটি সংস্থাকেও শহর থেকে উচ্ছেদের নোটিশের কবলে পড়তে হয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেই। সম্প্রতি চিত্তরঞ্জন শহর থেকে যে ৩২ টি ক্লাব ও সংস্থাকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়েছিলেন তার মধ্যেই ছিল পুনর্জন্মভবনও। কিন্তু এই নোটিশের পরেই ব্যাপক বিস্ময় এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় সব মহলেই। সোমনাথ বাবু বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার এই সংস্থার রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছিল। ২০০০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে সংস্থার পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল তাদের কার্যালয় সংলগ্ন জায়গাটিকে পাকাপাকিভাবে মান্যতা দেওয়ার জন্য। রেলমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন চিত্তরঞ্জনের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, একই আবেদন পাঠিয়েছিলেন রেল বোর্ডের কাছেও। রেল বোর্ড সেই আবেদন পেয়ে সিএলডব্লুর জেনারেল ম্যানেজারকে ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য দায়িত্ব দিয়েছিল। যদিও ইতিবাচক কিছু ঘটেনি। শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন রেল কর্তৃপক্ষ। এতসবের পরেও ১৯ মে চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসন পুনর্জন্ম ভবনে বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়ে দেন এটিকে ভেঙে দেওয়া হবে বলে। তবে এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে বসে থাকেন নি সংস্থার সদস্যরা। তারা যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত তুলে ধরার পরিকল্পনা করেন। সোমনাথ বাবু আক্ষেপের সুরে বলেন, শহরে কোন ভিআইপি বা ভিভিআইপিএলে প্রশাসন থেকে তাদের চিঠি দিয়ে পরিষেবা চাওয়া হয় এবং তারা সমস্ত রকম সাহায্যও করে থাকেন। সোমনাথ বাবু বলেন, এখনো পর্যন্ত এই সোসাইটি ২৬ হাজার ৯১৯ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে, পাঁচ হাজার পাঁচশো চোখের ছানি অপারেশন করিয়েছে, ২১৯ জনকে চক্ষুদান করেছে। বিভিন্ন সময়ে রক্ত বিজ্ঞান, রক্ত দান বিষয়ে পড়ুয়াদের শিক্ষাদান, থ্যালাসেমিয়া শিবির, মানুষকে রক্তদান সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে ধারাবাহিকভাবে সচেতন করার পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও পড়শী রাজ্য ঝাড়খন্ডে তারা তাদের পরিষেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপরও তাদের সংস্থাকে উচ্ছেদ করার নোটিশ অন্যান্য সংস্থার মতোই পেতে হলো যা অত্যন্ত মর্মাহত করেছে সকলকে। তবে শেষ পর্যন্ত আজ ২৩ মে বিকেল পাঁচটা নাগাদ রেল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পুনর্জন্মভবনে এসে উচ্ছেদের নোটিশ সরিয়ে নেওয়া হয়। সোমনাথ বাবু বলেন, আপাতত পুনর্জন্ম ভবন উচ্ছেদ করা হবে না বলে রেল প্রশাসন তাদের জানিয়েছেন। এই সংবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে চিত্তরঞ্জন ও সন্নিহিত এলাকার সমাজকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষের মধ্যে।@প্রান্তভূমি
পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার ২৪ নাবালক
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২২ মে।।
এবার পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করা হলো ১৩ জন নাবালককে। ঠিক এক সপ্তাহ আগে উদ্ধার করা হয়েছিল আরও ১১ জনকে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পাচারকারীদের দুষ্ট চক্র থেকে রেহাই পেল ২৪ জন নাবালক। আসানসোল রেল স্টেশনে এদের উদ্ধার করে আরপিএফ এবং তারপর জিআরপির হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনা জশিডি-তাম্বারাম উইকলি সুপারফাস্ট ট্রেনে। ২১ মে বিকেল চারটে নাগাদ ট্রেনটি আসানসোলে ঢোকামাত্রই তৎপর হয়ে ওঠে আরপিএফ। সহযোগিতায় থাকে জিআরপি। স্টেশনে ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে প্রতিটি কামরায় তল্লাশি চলতে থাকে। গোপন সূত্রে সংবাদ এসেছিল যে, বিহারের বিভিন্ন জায়গা থেকে পয়সার লোভ দেখিয়ে কম বয়সীদের ভিন রাজ্যে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। তল্লাশি চালাতে গিয়ে ট্রেনের চারটি জেনারেল কামরায় দেখা যায় বেশ কয়েকজন কম বয়সী যাত্রী আছে যাদের সঙ্গে কোন অভিভাবক নেই। এরপরই ট্রেন থেকে মোট ২৪ জনকে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে আনা হয় এবং তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় আধার কার্ড অনুযায়ী ১৩ জন কম-বয়সী ১৮'র নিচে। আরপিএফ জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ১১ জন এজেন্ট এই ১৩ জন কম বয়সিকে চেন্নাই নিয়ে যাচ্ছিল অতিরিক্ত আয়ের লোভ দেখিয়ে। এরপর এই ১৩ জনকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে সঁপে দেওয়া হয়, সেখান থেকে তাদের বীরভূমের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। পাচারকারীদের আদালতে তোলা হয়। ঠিক একই ভাবে ১৪ মে ১১ জন নাবালককে উদ্ধার করে আর পি এফ। আসানসোল স্টেশনে সেদিন মোট ৩২ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করে পাঁচজন পাচারকারীকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। সেদিন ১১ জন নাবালককে চেন্নাইয়ে পাচার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল আসানসোল রেল স্টেশনে। উল্লেখ্য, মানব পাচার আটকাতে আরপিএফ এবং জিআরপি চূড়ান্ত সতর্ক আছে। জানা গেছে পাচার হতে চলা এইসব নাবালকদের বাড়ি জামুই, মুঙ্গের, বাঁকা, দেওঘর, দুমকা ইত্যাদি এলাকায়। তাদের পারিবারিক অবস্থা যথেষ্ট কষ্টকর। এইসব পরিবারের কম বয়সীদের চেন্নাইয়ে থাকা-খাওয়া সহ অতিরিক্ত আয়ের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিনিময়ে বড় অংকের কমিশন নেয় এজেন্টরা। কিন্তু এরপর ওইসব কম বয়সীদের জীবনের উপর কি অবস্থা নেমে আসে সে সম্বন্ধে কোন খোঁজ খবর রাখে না এজেন্টরা। ফলে অনেকেই দিনরাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে কোনক্রমে ডাল ভাতের জোগাড় করে সেখানে । কোন কোন ঠিকেদার এদের কাজ করিয়ে এদের হাতে পয়সা না দিয়ে তাদের বাড়িতে সরাসরি পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে বাড়ির লোকেরা কিছুটা টাকার মুখ দেখলেও ভিন রাজ্যে এইসব কম বয়সীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তার কারণ তাদের হাতে সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই পাচারের স্রোত রোখার জন্য আরপিএফ এবং জিআরপি কোমর বেঁধে নেমেছে।@প্রান্তভূমি
খুন করে চিত্তরঞ্জনের জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল রবিকে - অভিযোগ দাদার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২২ মে।।
প্রা:প্র:: বন্ধুরা ষড়যন্ত্র করে রবিরঞ্জন সিং( ২৭)- কে হত্যা করেছে বলে চিত্তরঞ্জন থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মৃতের পরিবার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রবিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু - যারা চিত্তরঞ্জনের ফতেপুর, সালানপুর ব্লকের জিতপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই অভিযোগের ফলে রবিরঞ্জনের মৃত্যু- রহস্য নতুন মোড় নিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। চিত্তরঞ্জন থানা রবি রঞ্জনের দাদা রাহুল রঞ্জন সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (১)/ ৬১(২)/ ২৩৮ ধারায় মামলা রুজু করে (কেস নম্বর ১৫/২৫) তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ১৭ মে শনিবার বিকেলে চিত্তরঞ্জন সহ সমগ্র এলাকায় ভয়ংকর ঝড়-বৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে অন্ধকার নেমে আসে। ঐদিনই বিকেল চারটে থেকে মিহিজামের বাসিন্দা রবিরঞ্জনের মোবাইল সুইচড অফ পাওয়া যায় বলে তার দাদা জানিয়েছেন। পরের দিন ১৮ মে চিত্তরঞ্জনের ফতেপুর ও সিমজুড়ির মধ্যবর্তী জলাশয়ে রবি রঞ্জনের দেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু দেহ উদ্ধার হলেও রবিরঞ্জন যে ব্যাটারি চালিত সাইকেল নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন সেই সাইকেল উদ্ধার হয়নি। এরফলেই সন্দেহ দানা বাঁধে এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজন পুলিশের কাছে ২০ মে সন্ধ্যায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন যে রবিরঞ্জনকে ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে রবিরঞ্জনের পেটে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। রাহুল বাবুর অভিযোগ, তার ভাইকে অতিরিক্ত মদ্যপান করিয়ে সম্ভবত জলাশয়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও একটি মহল মনে করছিল যে তীব্র ঝড় বৃষ্টির মধ্যে রবিরঞ্জন সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু তাহলে তার সাইকেলটিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাওয়া যেত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে রবিরঞ্জনের ওইসব বন্ধুরা প্রায়ই একসাথে মিলিত হতেন এবং গল্পগুজব খাওয়া-দাওয়া করতেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। পুলিশ দ্রুত এই মৃত্যুরহস্যের কিনারা করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ, রবিরঞ্জনের পকেট থেকে পাওয়া মোবাইলের কল ডিটেইলস রেকর্ড সহ সম্ভাব্য সমস্ত নথি যাচাই করছে।@প্রান্তভূমি
রক্তদানে রেকর্ড গড়লো সালানপুর থানা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ::২১ মে।। বিরক্তিকর ঘামঝরা গরমের মধ্যেই অত্যন্ত সফল রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত সালানপুর থানা। "উৎসর্গ" নামাঙ্কিত এই শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (কুলটি) জাবেদ হোসেন। তিনি বলেন পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি রক্তদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে। কমিশনারেটের সব থানাতেই এই উদ্যোগ আন্তরিকতার সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ সবসময়ই সমাজকে সবদিক দিয়ে সুস্থ রাখার চেষ্টা করে। এই কাজে সকলকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এসিপি'র সাথে উপস্থিত ছিলেন সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি, এসিপি ট্রাফিক সৌরভ চৌধুরী, রূপনারায়ণপুর ওসি অরুণাভ ভট্টাচার্য,কল্যাণেশ্বরীর ওসি লালটু পাখিরা, আসানসোল ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ ডাক্তার সনজিত চ্যাটার্জি। এক অর্থে সালানপুর থানার উদ্যোগে আজকের এই রক্তদান শিবির পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদাহরণ হয়ে রইল। কারণ, আসানসোল জেলা ব্লাড ব্যাংককে পুষ্ট করার জন্য এই থানা যে উদ্যোগ নিয়েছিল তাতে ১০৭ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন। রক্ত দাতাদের মধ্যে দশজন মহিলা। কমিশনারেটের বিভিন্ন থানার মধ্যে একটি শিবির থেকে এই পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হয়ে রইল। সকাল ১১ টা থেকে শিবির শুরু হয়ে শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যায়। একদিকে ঘর্মাক্ত গরম, অন্যদিকে আকাশ কালো করে ঝড়-বৃষ্টির আগমনের মধ্যেই থানা চত্বরে রক্তদাতাদের লাইন পড়ে যায়। তাদের দেখভাল করার জন্য থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জের সঙ্গেই অন্যান্যরা সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান সমাজকর্মী দুর্গাশঙ্কর চ্যাটার্জি, বিশিষ্ট সাংবাদিক বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, অভয় মন্ডল প্রমুখ। শিবির সংগঠনায় সহযোগিতা করে থানার অন্তর্গত দুটি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকেরাও।@প্রান্তভূমি
নতুন উদ্যোগের মধ্যেই হিন্দুস্তান কেবলসে সভা পুনর্বাসন সমিতির
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২০ মে::
একদিকে যখন ঘনঘন পর্যবেক্ষণ এবং কাগজপত্র তৈরীর কাজ এগিয়ে চলেছে সিআরপিএফের হাতে হিন্দুস্তান কেবলসের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য, অন্যদিকে তখন পুনর্বাসন সমিতি এখানে নতুন শিল্প চেয়েও দাবি জানিয়েছে স্থানীয়দের কাজে নিযুক্তি, কেবলসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও ঠিকা কর্মীদের বকেয়া মেটানোর বিষয়ে। আজ, ২০ মে সকালে কারখানার অফিস গেটের সামনে বেশ কিছু মানুষজন হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির ব্যানারে একত্রিত হন এবং মূলত তিনটি দাবি জানান। হিন্দুস্তান কেবলসের জমিতে নতুন শিল্প, যাবতীয় বকেয়া মেটানো এবং স্থানীয়দের কাজের দাবি নিয়ে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মহাজন, কল্যাণ বাল্মিকী, স্নেহময় মাজি । এরপর তারা কেবলস অফিসে গিয়ে আধিকারিক আর এন ওঝার হাতে এই দাবি পত্র তুলে দেন। দাবি পত্রটি হিন্দুস্তান কেবলসের সিএমডি'র উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। স্মারকলিপি দিয়ে ফিরে এসে সুভাষ মহাজন বলেন, সিআরপিএফের পরিদর্শন নিয়ে তাদের বলার কিছু নেই। এখানে শিল্প হলে প্রতিটি মানুষই তাকে সমর্থন জানাবেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার যে কোন নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন বলে সুভাষবাবু অভিযোগ করেন। তিনি বলেন এলাকার উন্নয়নে শিল্প হোক সে নিয়ে কারো কিছু বলার নেই। পুনর্বাসন সমিতি বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের সম্মতি নিয়েই এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।@প্রান্তভূমি
সামডি থেকে অপহৃত এক নাবালিকা::২ মাসে ৩১ টি অপহরণের অভিযোগে উদ্বেগ কমিশনারেটে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২০ মে:: আত্মীয়ের বিয়েতে মামাবাড়িতে এসে অপহৃত হয়ে গেল এক নাবালিকা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সালানপুর থানার অন্তর্গত সামডি গ্রামে। এই বিষয়ে সালানপুর থানায় দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে এফ আই আর ((কেস নম্বর ৮০/২৫), ধারা ১৩৭ (২)/ ৩৫১(২)/ ৩(৫)) দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম ফুচন খান ও লক্ষ্মীকান্ত খান। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার অন্তর্গত কুন্ডহিত থানা এলাকার নগরি গ্রামের ওই নাবালিকা কন্যা সালানপুর থানার অন্তর্গত সামডি গ্রামে তার মামার বাড়িতে এসেছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য। এখান থেকেই ওই নাবালিকাকে কুণ্ডহিত থানা এলাকার বেলডাঙা গ্রামের ফুচন এবং লক্ষ্মীকান্ত অপহরণ করে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ওই নাবালিকার বাবা। তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, ১৩ মে তার মেয়ে সামডিতে এসেছিল। ১৬ তারিখ তিনি খবর পান যে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বদ মতলবে তার মেয়েকে অপহরণ করেছে। কোনক্রমে অভিযুক্ত লক্ষ্মীকান্তের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোন করলে তাকে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় হুমকি দেওয়া হয় বলে পুলিশকে নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় এফ আই আর রুজু করেছে। এদিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকা থেকে একাধিক নাবালিকার অপহরণের ঘটনা সামনে আসছে বলে জানা গেছে। মাত্র দু মাসে এডিপিসি'র বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৩১ টি নাবালিকা অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩৬ টি এফ আই আর রুজু হয়েছে, যার মধ্যে 31 টিই নাবালিকা অপহরণের মতো চিন্তাজনক অভিযোগ। এই দুই মাসে কুলটি থানা এলাকায় ৬টি, আসানসোল দক্ষিণ থানায় ৩টি, রানীগঞ্জ থানায় ৪টি, সালানপুরে ২টি, অন্ডালে ৩টি, আসানসোল উত্তরে ৭টি, ফরিদপুরে ২টি, বারাবনিতে ১টি এবং পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকায় ১টি অপহরণের মামলা রুজু হয়েছে। পরের মাসগুলিতেও অপহরণের এই ধরনের ঘটনা লিপিবদ্ধ হচ্ছে থানায়। এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে ওয়াকিবহালমহল মনে করছেন। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ি এলাকার আল্লাডি পঞ্চায়েত এলাকার এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে 10 লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার কথা জানতে পেরেই পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্তে নেমে সেদিন বিকেলেই অপহৃতকে উদ্ধার করে। ধরা পড়ে যায় অপহরণের সঙ্গে যুক্ত চক্রীরা। কিন্তু বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা যথেষ্ট চিন্তা বাড়াচ্ছে বলে ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন।@প্রান্তভূমি
গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে নাম জড়ালো আসানসোলের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন:: ২১ মে।।
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার সঙ্গে আসানসোলের এক যুবকের পোক্ত যোগসূত্রের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট সূত্র জানিয়েছে ওই যুবকের নাম সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। তার বাবা বাপ্পাজিৎ ভট্টাচার্য একসময় আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। তারা থাকতেন আসানসোলের অভিজাত এলাকা সেনরেলে রোড সংলগ্ন নব অনন্যা কমপ্লেক্সে। তবে ওই আবাসনের সভাপতি কাজী জয়নাল আবসার এবং সচিব প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি পুলিশকে জানিয়েছেন ওই পরিবারটি প্রায় তিন বছর ধরে ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকতেন। বছরখানেক আগে তারা আবাসন ছেড়ে চলে যান। সারমেয়-প্রিয় ওই যুবক সৌম্যদীপ তার বাবা ও বোনের সঙ্গে এখানে থাকতেন। প্রায়ই তিনি পিঠে ব্যাগ নিয়ে বাইরে বের হতেন। আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে মেলামেশা বিশেষ করতেন না। তারা ভাবতেন বাইরে কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন ওই যুবক। কিন্তু দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এখন পুলিশি হেফাজতে থাকা ইউটিউবার জ্যোতির সঙ্গে ওই যুবকের বিভিন্ন ছবি ভাইরাল হওয়ার পরই কমিশনারেটের পুলিশ খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। কিভাবে জ্যোতির সাথে সৌম্যদীপের যোগাযোগ গড়ে উঠলো, কতটা ঘনিষ্ঠতা তাদের মধ্যে ছিল, কি কি তথ্য তারা আদান-প্রদান করেছেন সেই সবই এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজ করছে পুলিশ। এই বিষয়টিতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে আসানসোল জুড়ে। ওই আবাসন সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন এবার থেকে এখানে কেউ ভাড়া নিয়ে এলে তাকে অবশ্যই আগে পুলিশি ভেরিফিকেশন করিয়ে আসতে হবে, তা না হলে কাউকেই ভাড়ায় থাকতে দেওয়া যাবে না। এই বিষয়টি প্রত্যেকটি আবাসনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে ওয়াকিবহালমহল মনে করছেন। কারণ দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি সঙ্গে আসানসোলের নাম জড়িয়ে যাওয়া যথেষ্ট দুশ্চিন্তার বলে সকলেই মনে করছেন। ইতিমধ্যেই জ্যোতি মালহোত্রার পাশাপাশি তার একাধিক সঙ্গীকেও ধরা হয়েছে। এবার তাহলে কি সৌম্যদীপকেও পুলিশ ধরবে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে। কারণ জ্যোতির সাথে তার ছবি ভাইরাল হওয়া যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনের জলাশয় থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।।১৮ মে::
আজ ১৮ মে বিকেলে চিত্তরঞ্জনের জলাশয় থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। শহরের ফতেপুর থেকে সিমজুড়ি কালী মন্দিরের দিকে যেতে জলাশয়ের মধ্যে বিকেলে দেহটি ভেসে থাকতে দেখেন পথ চলতি মানুষজন। সঙ্গে সঙ্গে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ, আরপিএফ, এ্যাম্বুলেন্স সহ দেহ উদ্ধারে নামেন । জানা যায় মৃত ব্যক্তির নাম রবিরঞ্জন সিং (২৭)। তার বাড়ি মিহিজাম পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায়। তবে বহুদিন তারা চিত্তরঞ্জনের সিমজুড়ি এলাকায় রেল আবাসনে বসবাস করতেন। রবি রঞ্জনের বাবা চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা থেকে অবসর নেওয়ার পর তারা মিহিজামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। রবিরঞ্জনের দাদা রাহুল সিং এখন চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় কর্মরত। তিনি জানান অবিবাহিত রবিরঞ্জন সিএলডব্লুতে ঠিকেদারের মালপত্র সরবরাহের কাজ করতেন। ১৭ মে শনিবার রবি রঞ্জন সকাল ন'টায় ঘর থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। অন্যের ব্যাটারি চালিত একটি সাইকেল নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বলে রাহুল বাবু জানান। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেন নি। বাড়ির লোকজন তার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন। ইতিমধ্যে আজ ১৮ মে বিকেলে এই দুঃসংবাদ পাওয়া যায়। জলাশয়ের ধারে উপস্থিত রাহুল বাবু তার ভাইয়ের দেহ শনাক্ত করেন। এরপরই কান্নার রোল ওঠে সেখানে। চিত্তরঞ্জন পুলিশ আসানসোল জেলা হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে মৃত রবিরঞ্জনের পকেটে তার মোবাইল ফোনটি ছিল, তবে হাতে একটি কাপড়ের টুকরো ধরা ছিল; মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অনুমান, তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে পুলিশ মনে করছে। এদিকে যে জলাশয়ে রবিরঞ্জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে তাতে এখন মানুষ ডুবে যাওয়ার মত জল নেই। পুলিশ সমস্ত দিকই মাথায় রাখছে বলে জানিয়েছেন চিত্তরঞ্জন থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ ইসমাইল আলি।@প্রান্তভূমি
এবার শহরের সব ক্লাব উচ্ছেদে চিত্তরঞ্জনে নোটিশ, বিরোধিতায় সিআরএমসি
#প্রান্তভূমি ১৭ মে।। চিত্তরঞ্জন থেকে ৩২ টি ক্লাবঘর উচ্ছেদ করতে চায় রেল, প্রবল বিরোধিতা সিআরএমসি'র
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''""""""""""""""""''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
প্রা:প্র:: অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে চিত্তরঞ্জন রেল শহর থেকে সমস্ত ক্লাব উচ্ছেদ করার সংকল্প করেছে রেল প্রশাসন। ১৫ মে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা অনুমোদনহীন ক্লাব গুলির কার্যকলাপের ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি হচ্ছে। সেই সংক্রান্ত অভিযোগ রেল প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই রেল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শহরের সমস্ত অননুমোদিত ক্লাব ঘর ভেঙে ফেলতে হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই দায়িত্ব না নিলে নির্ধারিত সময়ের পরে আইনানুগ ব্যবস্থা রেল নেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং সমস্ত শহরবাসীর পক্ষে আজ ১৭ মে সিএলডব্লুর জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে এই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর প্রতিলিপি দিয়েছেন আরপিএফের আইজির কাছে। ইন্দ্রজিৎ বাবু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে শহরে ক্লাব গুলির বিভিন্ন অবদানের কথা বলেছেন। করোনার সময়ে ক্লাব সদস্যদের অক্লান্ত পরিষেবার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন শহর থেকে ৩২ টি ক্লাবঘর সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ করে দিলে চিত্তরঞ্জনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট দেখা দেবে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে নতুন কোন উপায়ের সন্ধান করার অনুরোধ জানিয়েছেন ইন্দ্রজিৎ বাবু।@প্রান্তভূমি
মুহুর্মুহু বজ্রপাত, ৭০ কিঃমিঃ বেগে ঝড়ে বিপর্যস্ত রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন:: সবচেয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখীর সম্মুখীন সালানপুর ব্লক
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।।১৭ মে:: ইদানিং কালের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী কালবৈশাখীর সম্মুখীন হল রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন সহ ঝাড়খন্ড সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সমগ্র সালানপুর ব্লক জুড়েই। বিকেল চারটে নাগাদ শুরু হয়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। আবহাওয়াবিদ সোমনাথ কুমার দাস জানাচ্ছেন মধ্য ঝাড়খণ্ডের মালভূমি থেকে প্রচন্ড শক্তিশালী এই কালবৈশাখীর উৎপত্তি হয়। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৫৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার। সালানপুর ব্লকে আজ বিকেলে ১৬০ টিরও বেশি বজ্রপাত হয়েছে বলে সোমনাথ বাবু জানাচ্ছেন। ভয়ংকর ঝড়ে বহু বাড়ির জানালা স্রেফ খড়কুটোর মত ভেঙে উড়ে গেছে। চিত্তরঞ্জন থেকে রূপনারায়ণপুর কল্যাণগ্রাম সর্বত্র অগুন্তি গাছ ভেঙে পড়েছে, এমনকি শিকড় শুদ্ধ উপড়ে গেছে। সমগ্র এলাকা বিকেল চারটে থেকেই সম্পূর্ণ নিষ্প্রদীপ হয়ে আছে। জানা গেছে চিত্তরঞ্জন এর ৩৫ নম্বর রাস্তা, ৩২ নম্বর রাস্তার ৬/বি আবাসন ইত্যাদি এলাকায় বহু পুরনো গাছ গোড়া শুদ্ধ উপড়ে পড়েছে। রূপনারায়ণপুরের ইয়ুথ ক্লাব সংলগ্ন রাস্তা, রাজেশ্বরী ইন সংলগ্ন এলাকা, কল্যাণগ্রাম-৪ এলাকা, সামডি রোডের শান্তশ্রী পল্লী এলাকা, আসানসোল-চিত্তরঞ্জন রোডের উপর হন্ডা শোরুমের সামনে বহু গাছ ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজে নেমেছে। সর্বক্ষণ এই কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব মণ্ডল নিজে। অন্যদিকে একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝুলে আছে। জানতে পারা মাত্রই সেগুলি মেরামতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে বিগড়েছে তাতে কত ঘন্টা পর অবস্থা স্বাভাবিক হয় তা কেউই বলতে পারছেন না। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কখন স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রূপনারায়ণপুরের একটি আবাসনে জানালার দুটি পাল্লা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে উড়ে গেছে। বহু ঘরে ঝড়ের তোড়ে জল ঢুকে জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, সমাজকর্মী এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ও রাজনৈতিক কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আজ রূপনারায়ণপুরে সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে ধন্যবাদ জানাতে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। তবে তাণ্ডবের নমুনা সামনে থেকে দেখে বিস্মিত হয়ে গেছেন এলাকার লোকজন। তারা বলছেন প্রকৃতি যেন হঠাৎ করেই মারাত্মক ক্ষেপে উঠেছিল। যদিও এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ সোমনাথ কুমার দাস আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন একেবারে নির্দিষ্ট সময় ধরে যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কালবৈশাখীর সঙ্গেই প্রচুর বৃষ্টি এবং বজ্রপাত চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর অঞ্চলে হবে । সেই অনুযায়ী তিনি সকলকে সতর্ক করে পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এবার ঘন ঘন কালবৈশাখীর এই পরিস্থিতি এলাকায় সৃষ্টি হবে বলে তিনি অনুমান করছেন।@প্রান্তভূমি
আধাসামরিক বাহিনীর হাতেই কি যাচ্ছে কেবলস! একসপ্তাহে দ্বিতীয়বার পরিদর্শন সিআরপিএফ ডিআইজির, হলো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।।১৪ মে::
বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলসের জমিতে নতুন উদ্যোগ গড়ে ওঠার তোড়জোড় আরো জোর কদমে এগিয়ে চলেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষের প্রথম পরিদর্শনের (৭ মে) ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় দ্বিতীয় পরিদর্শন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল আজ ১৪ মে। আজকেও সিআরপিএফ-এর ডিআইজি নাদিম আহমেদ আনসারি নিজে এই বৈঠকের জন্য হিন্দুস্তান কেবলসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন দুজন কমান্ড্যান্ট এবং অন্যান্য আধিকারিকেরা। ছিলেন অস্ত্রধারী নিরাপত্তা রক্ষীরাও। তারা হিন্দুস্তান কেবলসের জমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতেই এখানকার আধিকারিক আর এন ওঝার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন ডিআইজির সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলের কয়েকজন আধিকারিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার সাহায্যে কেবলসের বিভিন্ন জায়গার ছবি ও ভিডিও তোলেন। ডিআইজি নিজে যখন কেবলসের অফিসে বৈঠকে ব্যস্ত তখন তার প্রতিনিধিরা কেবলসের প্রশাসনিক ভবন, আর এন্ড ডি বিল্ডিং, ঊর্বশী সিনেমা হল, গেস্ট হাউস, হাই স্কুল, শালিমার এলাকা, হাসিপাহাড়ির মাঠ, আইটিআই সহ বিভিন্ন এলাকার ভিডিওগ্রাফি করেন। লোয়ার কেশিয়ার পিছনের দিক থেকে একেবারে অজয় নদ পর্যন্ত এলাকা বিশেষভাবে খুঁটিয়ে দেখেন তারা। এর ফলে মনে করা হচ্ছে শীঘ্রই এখানকার জমিতে সিআরপিএফ তাদের বড় কোন উদ্যোগ তৈরির পরিকল্পনাকে রূপ দিতে চলেছে। সরকার সিআরপিএফকে সমগ্র হিন্দুস্তান কেবলস নেওয়ার জন্যই আগ্রহ দেখিয়েছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। যদিও আধা সামরিক বাহিনীর কার্যকলাপ সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহল বলছেন - তারা নিজেদের প্রশিক্ষণ শিবির, ব্যারাক ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গেই নিজস্ব স্কুল আবাসন ট্রেনিং গ্রাউন্ড হাসপাতাল বাজার ইত্যাদি পরিকাঠামো পাঁচিল ঘেরা জায়গার ভেতরে গড়ে তোলে। এখানেও তেমনটাই হলে লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমি উপযুক্ত হবে। কারণ রূপনারায়ণপুর থেকে কল্যাণগ্রাম পর্যন্ত হিন্দুস্তান কেবলসের ছড়িয়ে থাকা এলাকায় নানাভাবে জবরদখল এবং অবৈধ নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরেই হয়ে রয়েছে। পরিত্যক্ত আবাসন গুলিতেও মানুষ মাথা গুঁজেছেন। কেবলসের জমিতেই একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ফাঁড়ি, সিনেমা হল সহ নানান পরিকাঠামো রয়েছে যেগুলি হাতে পেতে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হবে। তাই ফাঁকা জমিতে সিআরপিএফ তাদের কার্যক্রম শুরু করলে খুব একটা অসুবিধার সম্মুখীন তাদের হতে হবে না বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এছাড়াও প্রয়োজনে হাসিপাহাড়ির মাঠ, আইটিআই সংলগ্ন মাঠ, হাই স্কুলের মাঠ, কেবলস কারখানার বিশাল জমিও তারা ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে কল্যাণগ্রাম অঞ্চলের সামান্য বাড়ি এলাকা এবং কেবলস কলোনির ভেতরে থাকা বিভিন্ন বাজার উৎখাতের বিষয়ে কেবলস কর্তৃপক্ষ আইনি জয় পেয়েছেন। ধাপে ধাপে সেই সব এলাকাতেও সিআরপিএফ তাদের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু এখনই কাজ শুরু করতে চাইলে রাজ্য সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে তারা ফাঁকা জমিতে নিজেদের পরিকল্পনা রূপায়িত করতে পারেন বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
এদিকে আজকের বৈঠকে ঠিক কি বিষয়ে আলোচনা হলো এবং তার অগ্রগতি কি হলো তা নিয়ে কেবলস কর্তৃপক্ষ এবং সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কিন্তু মনে করা হচ্ছে তারা এখানকার জমি ঠিক কি অবস্থায় আছে, এখনই ব্যবহার করতে চাইলে কোথায় কতটা জমি তারা পেতে পারেন সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি ঘটেছে। অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল আজ সকাল ১১ টা থেকে দু'ঘণ্টারও বেশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। হিন্দুস্তান কেবলসের ঘাড়ে এখন কি কি দায়বদ্ধতা আছে সে সম্বন্ধেও সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ ওয়াকিবহাল হতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের আধা সামরিক বাহিনীর এই দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে করা হচ্ছে শীঘ্রই হিন্দুস্তান কেবলসে নতুন কিছু হতে চলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে সম্প্রতিক সময়ে দেশের কোন প্রতিষ্ঠান এতটা আগ্রহ হিন্দুস্তান কেবলসকে নিয়ে দেখায়নি, যা মাত্র একসপ্তাহে দেখিয়েছে সিআরপিএফ।@প্রান্তভূমি
ব্ল্যাক লিস্টে অকেজো আধার কেন্দ্রগুলি, নতুন নির্দেশ না মানায় চিত্তরঞ্জন থেকে মিহিজাম ভোগান্তি চরমে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১১ মে:: এপ্রিলের শুরু থেকেই বন্ধ হয়ে আছে চিত্তরঞ্জন, রূপনারায়ণপুর, মিহিজামের আধার কেন্দ্রগুলি। ফলে দিনের পর দিন মানুষ হয়রান হয়ে ফিরে আসছেন কোন পরিষেবা না পেয়ে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন অকেজো করে দেওয়া হলো এই অঞ্চলের সব ক'টি আধার কেন্দ্র তা নিয়ে স্পষ্ট জবাব নেই কোথাও। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে প্রান্তভূমির প্রতিনিধি জানতে পারলেন বিশেষ এক কারণ। এবং তাতেই প্রশ্ন উঠেছে দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যই কি এই পদক্ষেপ আধার কর্তৃপক্ষের?
জানা গেছে দেশে আধার পরিচয়পত্রকে আরো নির্ভরযোগ্য এবং প্রতারণামুক্ত করার জন্য প্রত্যেক আধার কেন্দ্রে "স্ট্যাটিক আই পি" বাধ্যতামূলক করেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া সংক্ষেপে ইউআইডিএআই। সম্প্রতি এই বিষয়ে ইউ আই ডি এ আই -এর আঞ্চলিক শাখা আসানসোল থেকে একটি নির্দেশ জারি করে ৩১ মার্চের মধ্যে আধার কেন্দ্রগুলিকে এই স্ট্যাটিক আই পি নিতে বলা হয়েছিল। তা না হলে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও স্ট্যাটিক আই পি না থাকায় চিত্তরঞ্জনের ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, চিত্তরঞ্জন হেড পোস্ট অফিস, আমলাদহি পোস্ট অফিস, বিএসএনএল কার্যালয় এবং মিহিজাম ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আধার কেন্দ্রগুলি অকার্যকরী করে দেওয়া হয়েছে 4 এপ্রিল থেকে। যদিও খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায় চিত্তরঞ্জন বিএসএনএল কার্যালয়ে স্ট্যাটিক আই পি আছে, কিন্তু সিস্টেম "ডি-রেজিস্ট্রশন" হয়ে গেছে । ফলে এই কেন্দ্রটি ব্ল্যাকলিস্টে চলে গেছে। হোয়াইট লিস্ট হলে তবেই মেশিন চালু হবে বলে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। একইভাবে বন্ধ হয়ে আছে অন্যান্য কার্যালয়গুলিরও আধার যন্ত্র।
এখন প্রশ্ন হল "স্ট্যাটিক আই পি" কি? এটি হলো এমন একটি আইপি ঠিকানা যা একটি ডিভাইসে নির্ধারিত হয় এবং স্থির থাকে। এটি অপরিবর্তনীয় ঠিকানা প্রদান করে। এই স্ট্যাটিক আইপি'র সাথে যুক্ত থাকে একটি কম্পিউটার - যা স্থানান্তর করা যায় না। আধার নবীকরণ, তথ্য সংযোজন বিয়োজন সবই এই বিশেষ কম্পিউটার থেকেই করতে হবে। কিন্তু আগে এই কম্পিউটার যত্রতত্র নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে বাড়িতে বসেও আধার কার্ড বানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে ঠিকানা বিকৃত বা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড সংযোগের সাথে স্ট্যাটিক আইপি থাকলে তবেই আধারের কাজ করা যাবে। সমান্তরাল সংযোগ বা প্যারালাল কানেকশন করা যাবে না। এখন দেখার শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের আধার আপডেট সংক্রান্ত সমস্যা কখন দূর হয়!@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনকে গর্বিত করলেন আরপিএফ আধিকারিক
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১১ মে।।
যাত্রী সুরক্ষা সহ নিজের কাজে দক্ষতা এবং দেশের সেবায় সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত থাকার জন্য গর্বের পুরস্কার এল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা আরপিএফের কাছে। আরপিএফ এবং আরপিএসএফ-এর আধিকারিকদের মধ্যে সারাদেশে ২০২৪ সালে যে ২০১ জন মর্যাদাপূর্ণ ডিজি প্রতীক চিহ্ন ও প্রশংসাপত্র লাভ করছেন তাদের মধ্যে চিত্তরঞ্জনের তিন সুদক্ষ আরপিএফ আধিকারিক আছেন। তারা হলেন ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইন্সপেক্টর নরেন্দ্র সিং, ইন্সপেক্টর প্রবীর কুমার দত্ত এবং কনস্টেবল সৌরভ কুমার। ৮ মে এই খুশির খবর এসে পৌঁছেছে চিত্তরঞ্জনে। রেলের সম্পত্তির রক্ষা, যাত্রী সুরক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এইসব আধিকারিকেরা সমগ্র সি এল ডব্লুকেই গর্বিত করলেন বলে চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসন উল্লেখ করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন ডিজি প্রশংসাপত্র ও প্রতীক চিহ্নের প্রাপক এই তিন আধিকারিক অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠলেন। রেল প্রশাসনের পাশাপাশি এরা চিত্তরঞ্জন রেল সুরক্ষা বলের দক্ষতা এবং সম্মানকে অত্যন্ত উচ্চে প্রতিষ্ঠিত করলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।@প্রান্তভূমি
নির্বাচনের ২ বছর পর ভাইস ওয়ার্ডেন পাচ্ছে চিত্তরঞ্জন রেল শহর, বিজ্ঞপ্তি জারি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৯ মে:: দীর্ঘ দু'বছর পর চিত্তরঞ্জন রেল শহরের নির্বাচিত ভাইস ওয়ার্ডেনরা দায়িত্বভার পেতে চলেছেন। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আজ চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসন জারি করেছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে আগামীকাল ১০ মে শহরের আটটি এরিয়ার নির্বাচিত ভাইস ওয়ার্ডেনরা তাদের এরিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। যেসব ভাইস ওয়ার্ডেন দায়িত্বভার নেবেন তারা হলেন - শ্যামল গোপ এরিয়া ১, সৌগত ভট্টাচার্য এরিয়া ২, বিদ্যুৎ কুমার দাস এরিয়া ৩, মৃণাল কান্তি গুহ এরিয়া ৪, সুরেন্দ্রকুমার ঝা এরিয়া ৫, সুদীপ কুন্ডু এরিয়া ৬, আনন্দ কুমার সিং এরিয়া ৭, রাজেন্দ্র কুমার এরিয়া ৮।
উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল এরিয়া কমিটির নির্বাচন হয়েছিল শহরজুড়ে। তারপর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে ভাইস ওয়ার্ডেন নির্বাচন হয় ১৭ মে ২০২৩ সালে। কিন্তু নির্বাচিত ভাইস ওয়ার্ডেনদের হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে শহরবাসীকে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে যথেষ্ট অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। কিন্তু কেন এই অব্যবস্থা? কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এসসিএসটি এ্যসোসিয়েশনের পক্ষে ভাইস ওয়ার্ডেন পদে সংরক্ষণের দাবি জানানো। সংরক্ষণের দাবি নিয়ে এ্যসোসিয়েশন আইনি লড়াই এবং এস সি এস টি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়। এইসব প্রক্রিয়ার ফলে চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার ভূতপূর্ব দুই জেনারেল ম্যানেজার কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার বিজয় কুমারের সক্রিয়তায় শেষ পর্যন্ত আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। এ বিষয়ে এসসি এসটি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সুভাষ চন্দ্র ব্রহ্ম বলেন তারা আজকেও এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজারের সাথে দেখা করেন। কিন্তু জেনারেল ম্যানেজার তাদের জানান এই নির্বাচন যেহেতু অনুষ্ঠিত হয়ে আছে তাই এক্ষেত্রে সংরক্ষণের বিষয়ে কিছু করা যাবে না, কিন্তু পরবর্তী সময়ে মহিলা ও এস সি এস টি সংরক্ষণ নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করা হবে। এই কথা শুনে তারা বলেন বিষয়টি এসসিএসটি চেয়ারম্যানকে তারা জানাবেন এবং আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে সিআরএমসি নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং রেল কর্তৃপক্ষের আজকের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসী যে অসুবিধায় ভুগছিলেন তা দূর হলো। ভাইস ওয়ার্ডেনদের যাতে দ্রুত দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয় সেই বিষয়ে বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তারা জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, বুঝিয়ে বলেছিলেন সমস্ত বিষয়। অবশেষে জট কাটায় তিনি খুশি বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে লেবার ইউনিয়ন নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন - কার ব্যর্থতায় প্রায় দু বছর দেরি হয়ে গেল দায়িত্বভার পেতে তা মনে রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন এরপর এমন কোন সিদ্ধান্ত কেউ যাতে না নেন যার ফলে এই প্রক্রিয়া আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তিনি নির্বাচিত ভাইস ওয়ার্ডেনদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন এর ফলে শহরবাসী উপকৃত হবেন।@প্রান্তভূমি
.
.
উচ্চ মাধ্যমিকে ব্লক-সেরা অর্পিতা::সু-ফল চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম ও আছড়া যজ্ঞেশ্বরের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ৮ মে::
উচ্চমাধ্যমিকে অত্যন্ত ভালো ফল করল সালানপুর ব্লকের পরীক্ষার্থীরা। মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চ মাধ্যমিকের ফল যথেষ্ট আশা ব্যাঞ্জক। ব্লকে মাধ্যমিকে যেখানে পাশের হার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ সেখানে উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হার প্রায় ৮৪ %। নম্বর প্রাপ্তিতেও যথেষ্ট উজ্জ্বল এখানকার পড়ুয়ারা। এবার মাধ্যমিকের মতোই উচ্চমাধ্যমিকেও সমস্ত পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম হাইস্কুলের। এই স্কুলেরই কলা বিভাগের ছাত্রী অর্পিতা চক্রবর্তী ৪৬৬ নম্বর পেয়ে ব্লকের সেরা হয়েছে। অন্যদিকে আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশনের ফলাফলও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। এই স্কুলেরই পরীক্ষার্থী ব্লকে দ্বিতীয় হয়েছে। সে হলো কলা বিভাগের সুজয় কুম্ভকার, প্রাপ্ত নম্বর ৪৫২। এছাড়াও তৃতীয় স্থানে আছে এই স্কুলেরই দুজন পরীক্ষার্থী - কলা বিভাগের সুমিতা কুম্ভকার এবং বিজ্ঞান বিভাগের অজয় কুমার মিত্র। এদের দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৪৪২।
এবার সালানপুর ব্লক থেকে ৪৬৬ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৯১ জন।
স্কুল হিসেবে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকেরা হল - চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুল অর্পিতা চক্রবর্তী ৪৬৬, চিত্তরঞ্জন মহিলা সমিতি গার্লস হাই স্কুল সাইমা মন্ডল ৪২৯, চিত্তরঞ্জন কস্তুরবা গান্ধী হাই স্কুল শিরিন সরকার ৪১৮, আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশন সুজয় কুম্ভকার ৪৫২, আছড়া রায় বলরাম গার্লস হাই স্কুল মীনা ভান্ডারি ২৫৮, এথোড়া শ্রীশচন্দ্র ইনস্টিটিউশন সোমনাথ দে ৪৩৬।
উত্তীর্ণ সমস্ত পরীক্ষার্থীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। এইসব পড়ুয়াদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী পড়াশোনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষক নেতা অর্ধেন্দু রায়। তৃণমূল শিক্ষা সেলের নেতা অর্ধেন্দুবাবু বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের মত শক্ত পরীক্ষায় ব্লকের ছাত্র-ছাত্রীরা যে ফলাফল করেছে তা যথেষ্ট আশা ব্যাঞ্জক। এছাড়াও সফল পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আরমান, সহসভাপতি ভোলা সিং এবং চিত্তরঞ্জন ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি তাপস ব্যানার্জি। আগামী দিনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের সহযোগিতা বিধায়কের নির্দেশে পড়ুয়াদের দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনে রাজধানী বন্দেভারত সহ ১৮ টি ট্রেনের স্টপেজ চেয়ে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ ইন্দ্রজিৎ সিং
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৭ মে:: চিত্তরঞ্জনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ চেয়ে এবার সরাসরি রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেন শ্রমিক নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং। ৬ মে তিনি এনএফআইআর-এর সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে এই দাবি তুলে ধরেছেন। জানা গেছে, হাওড়া-পাটনা বন্দে ভারত, হাওড়া-নিউদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, দুরন্ত এক্সপ্রেস সহ মোট ১৮ টি ট্রেনের স্টপেজ চিত্তরঞ্জনে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আরও যেসব ট্রেন হাওড়া-দিল্লি মেন লাইন হয়ে চিত্তরঞ্জনের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে অথচ এই স্টেশনে দাঁড়ায় না তেমন ট্রেনগুলির উল্লেখ করেছেন ইন্দ্রজিৎ বাবু। সেগুলি হল টাটা-জয়নগর এক্সপ্রেস, রউরকেল্লা-জয়নগর এক্সপ্রেস, কলকাতা-সীতামারি এক্সপ্রেস, কলকাতা- অমৃতসর এক্সপ্রেস, শালিমার-পাটনা দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-রক্সৌল এক্সপ্রেস, কলকাতা- পাটনা গরীব রথ, কলকাতা-গাজীপুর এক্সপ্রেস, অঙ্গ এক্সপ্রেস, হাওড়া- নিউদিল্লি দুরন্ত এক্সপ্রেস, কলকাতা-দ্বারভাঙ্গা এক্সপ্রেস, উপাসনা, কলকাতা- নাঙ্গাল ড্যাম, অনন্যা এক্সপ্রেস, পুরী-জয়নগর এবং বেঙ্গালুরু-জশিডি এক্সপ্রেস। এ প্রসঙ্গে ইন্দ্রজিৎ বাবু বলেছেন এশিয়ার বৃহত্তম রেল কারখানা সিএলডব্লুর কর্মী ও তাদের পরিবার এবং বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ চিত্তরঞ্জন রেল স্টেশনের পরিষেবা নিয়ে থাকেন। অথচ দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন ধরার জন্য ৩০ কিলোমিটার দূরের আসানসোলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় মানুষজনকে। দিনের পর দিন এই অসুবিধা ভোগ করে চলেছেন চিত্তরঞ্জন, রূপনারায়ণপুর, মিহিজাম, জামতাড়া সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। অথচ হাওড়া-দিল্লি মেন লাইন চলে গেছে চিত্তরঞ্জন স্টেশনের ওপর দিয়েই। তাই এখানে দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির স্টপেজ অবিলম্বে যাতে দেওয়া হয় তার দাবি রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আকারে জানানো হলো। তিনি বলেন এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশা করছেন তারা।@প্রান্তভূমি
উপর্যুপরি চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত চিত্তরঞ্জনবাসী:: রেলকর্মীই জড়িত বাইক চুরিতে!
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৭ মে:: চুরি থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না চিত্তরঞ্জন রেল শহরে। একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন রেল কর্মী ও তাদের পরিবার। সম্প্রতি আরো কয়েকটি চুরির ঘটনা সামনে আসায় আতঙ্ক চেপে বসেছে। জানা গেছে শহরের হিল কলোনি এলাকার ১১ নম্বর রাস্তায় পাশাপাশি দুটি কোয়াটার্স ২১ এ এবং ২১ বি- তে একাধিকবার চুরির চেষ্টা হয়েছে। এখানে থাকেন রেল কর্মী কুমার দেবু ও প্রলয় ঘোষ। তারা জানিয়েছেন আবাসনে লোকজন থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে প্রথমে ২৬ এপ্রিল পাঁচিল টপকে চোরেরা ঢোকে এবং বাড়ির ব্যবহার করা বালতি, মোটর বাইকের তেল ইত্যাদি চুরি করে পালায় । ৫ মে আবার সেখানে চোরেরা হানা দেয়। এবার বাড়ির উঠোনে থাকা তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার - যার মধ্যে একটি গ্যাসপূর্ণ ছিল নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পিছনের দিকে ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে ২৬ এপ্রিল চুরি হওয়া একটি বালতি খুঁজে পান । অন্যদিকে অক্ষয় তৃতীয়ার পরের দিন ১ মে শহরের হাসপাতাল কলোনির জলাধার সংলগ্ন কালী মন্দিরের দান বাক্স চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও মন্দিরের সাউন্ড বক্স চুরি করে পালায় দুষ্কৃতিরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিত্তরঞ্জন থানা এবং আরপিএফ সক্রিয়তা দেখিয়ে তদন্তে নামে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ এখনো ধরা পড়েনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার ট্রাকশন মোটর গেট বাইক স্ট্যান্ড থেকে সম্প্রতি যে বাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে তাতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা গেছে বলে জানা গেছে। যদিও সেই অভিযুক্ত এখনো অধরাই আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার কর্মী বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎই কেবলসে এলেন সিআরপিএফের ডিআইজি, ইঙ্গিত অন্য সম্ভাবনার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৭ মে:: দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎই হিন্দুস্তান কেবলস পরিদর্শনে এলেন সিআরপিএফের ডিআইজি নাদিম আহমেদ আনসারি। তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং মেশিনগান কার্বাইনের মত অতি ক্ষমতাশালী অস্ত্রধারী নিরাপত্তা রক্ষীরা ছিলেন। আজ, ৭ মে সকালে দুটি গাড়িতে এই প্রতিনিধি দল হিন্দুস্তান কেবলসে এসে পৌঁছায়। এরপর এখানকার আধিকারিক আর এন ওঝাকে সঙ্গে নিয়ে পরিত্যক্ত কেবলস উপনগরীর সমস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন তারা। একেবারে সুনির্দিষ্ট ম্যাপ ধরে ধরে তারা বিভিন্ন মৌজা ঘুরে দেখেন, এমনকি পৌঁছে যান কেবলসের সীমানায় বয়ে যাওয়া অজয় নদের তীর পর্যন্ত। ঢোকেন ঝোপ জঙ্গলে পরিণত হওয়া বন্ধ কারখানার ভেতরেও। সরেজমিন পর্যবেক্ষণ শেষে কেবলসের প্রশাসনিক ভবনে তারা বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে মনে করা হচ্ছে এবারের এই পরিদর্শন কোনমতেই রুটিন পরিদর্শন নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয়তায় কোন বড় উদ্যোগ হিন্দুস্তান কেবলসের মাটিতে রূপ পাবে বলে আশা করছেন তারা। যদিও এই পরিদর্শনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির সম্পাদক সুভাষ মহাজন । তিনি বলেন রাজ্যে নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে। এ সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এইসব লোক দেখানো পরিদর্শন করা হচ্ছে। তবে এখানে কোন উদ্যোগ গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের চাকরির দাবিকে প্রাধান্য দেওয়ার যে কথা বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় বলেছেন সেদিকে তাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে বলে শ্রী মহাজন উল্লেখ করেন। যদিও আজকের পরিদর্শনের পর যে রিপোর্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পর্যায়ে দাখিল করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে তাতে আশা জাগছে কেবলসের মাটিতে নতুন কিছু হওয়ার। যেহেতু সিআরপিএফের ডিআইজি নিজে এই এলাকা পরিদর্শন করে গেলেন তাতে সম্ভাবনা জাগছে আধা সামরিক বাহিনী বা দেশের সেনাবাহিনীর উপযুক্ত কিছু গড়ে ওঠার। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিন্দুস্তান কেবলসের আওতায় ৯৪৭ একর জমি আছে। তারমধ্যে বাজার, আবাসন এলাকা, কারখানা বাদ দিয়েও অন্ততপক্ষে প্রায় 550 একর জমি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পড়ে আছে। কল্যাণগ্রাম সহ কয়েকটি এলাকায় কেবলসের জমি দখলের যে মামলা চলছিল সেগুলিতেও কেবলস কর্তৃপক্ষ আদালতে জয়লাভ করেছেন। বাজার উচ্ছেদ নিয়ে ইতিমধ্যেই কেবলসের হাতে আদালতের নির্দেশ নামাও আছে। তবে পড়ে থাকা কোয়ার্টার্স এবং অন্যত্র বেশ কিছু মানুষ মাথা গুঁজেছেন। গজিয়ে উঠেছে দোকানপাটও। কেবলসের জমিতে ডিএভি, বিএসএনএল, আইটিআই প্রতিষ্ঠান থাকা নিয়েও একাধিক পর্যবেক্ষণ হয়েছে। কিন্তু ডিফেন্সের মতো বড় কোন উদ্যোগ এখানে এলে অনুমতিহীন দখলদারি কোন অসুবিধা ঘটাতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। আজকের পরিদর্শনের পর ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত যে, এখানে জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে বড় কোন উদ্যোগ সংঘটিত করা হবে। কারণ আজ ডিআইজি শ্রী আনসারি এখানকার অবৈধ দখলদারি, জলাশয়, লোক ঢুকে থাকা কোয়ার্টার্স সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখেছেন প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে। কিন্তু অতীতেও একাধিকবার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরে পরিদর্শন হলেও তার ফল কিছুই ফলেনি, তাই কিছু না হওয়া পর্যন্ত এখানকার মানুষজন কোন কিছুকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনে বেজে উঠলো যুদ্ধকালীন সাইরেন
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ৭ মে।।
গৌরাঙ্গ ঘোষ:: চিত্তরঞ্জনে বেজে উঠলো আপৎকালীন সাইরেন। এই সাইরেন বিপদ ঘনিয়ে এলে একরকম, আবার সমস্ত বিঘ্ন কেটে গেলে অল ক্লিয়ার সাইরেন আর এক প্রকার। এই সবেরই হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেওয়া হলো সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার লক্ষ্যে মানুষকে সচেতন করতে এই ধরনের লাগাতার কার্যক্রম শুরু করল সিভিল ডিফেন্স। আজ, ৭ মে দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে চিত্তরঞ্জনে দেশবন্ধু বালক ও বালিকা এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সুরক্ষা মহড়া করলেন সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের সামনে এদিন আক্রমণের সময় এবং অল ক্লিয়ার সাইরেন যেভাবে বাজানো হয় তা হাতে-কলমে দেখানো হলো। ইন্সপেক্টর এম কে সিংহ জানান সিভিল ডিফেন্সের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানো, সম্পত্তির ন্যূনতম ক্ষতি এবং শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বজায় রাখা। বোম পড়ার সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন, মাল্টি স্টোরিড বিল্ডিংয়ের নিচের তলায় আশ্রয় নিন। ফাঁকা জায়গায় থাকলে মুখে রুমাল গুঁজে, দুই কানে দুই আঙ্গুল দিয়ে সোজা মাটিতে শুয়ে পড়ুন। আক্রমণের সাইরেন বাজলে বাড়ি ও অন্যান্য জায়গার আলো নিভিয়ে একেবারে অন্ধকার করে দিন। হাতের কাছে টর্চ, মোবাইল চার্জার, জল, শুকনো খাবার ইত্যাদি রাখুন। আতঙ্কের কোন কারণ নেই, গুজব ছড়াবেন না। এরপর ছাত্র-ছাত্রীদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। এছাড়াও সুরক্ষাবিধিগুলি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর এম কে সিংহ, শুভেন্দু বিশ্বাস, ভূপেন্দ্র সিংহ, নারায়ণ সাউ, রাকেশ পান্ডে, শরৎচন্দ্র মাহাতো, রাজেশ কুমার সিংহ, রবি মন্ডল, সুভাষ প্রসাদ, রমাকান্ত মন্ডল, অজয় রাম, জে এন শর্মা এবং আর কে প্রসাদ।@প্রান্তভূমি
প্রথমবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেই ইতিহাস গড়লো সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৬ মে::
প্রথমবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেই ইতিহাস গড়লো সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি এবং ব্লক প্রশাসন। রূপনারায়ণপুর নান্দনিক হলে আয়োজিত এই শিবিরকে ঘিরে সমগ্র ব্লকের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ এবং উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছিল তা এক কথায় অভূতপূর্ব। এই বিষয়টিকেই তুলে ধরে শিবিরে উপস্থিত আসানসোল মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত সফল রক্তদান শিবিরের আয়োজনে পথ দেখালো সালানপুর। এভাবেই জেলা ও মহকুমা প্রশাসন এবং আসানসোল কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সঙ্গেই জেলার সমস্ত পঞ্চায়েতে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। আজকের শিবিরে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছিল। শিবিরের আয়োজনে সমগ্র ব্লক প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত সমিতি উপস্থিত হয়েছিল নান্দনিক হলে। নান্দনিকের প্রবেশ পথেই চেয়ার টেবিল নিয়ে রক্ত দাতাদের নাম নথিভুক্ত করার কাজে আগুয়ান হয়েছিলেন ব্লক ইনফরমেশন অফিসার শুভাশিস রায়। ভেতরে একের পর এক টেবিলে রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিষয় দেখার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন সমগ্র ব্লক প্রশাসনের কর্মী আধিকারিকেরা। হাত মেলায় ব্লকের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রক্তদাতা সংস্থাগুলি। রক্তদানে এগিয়ে আসেন স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান কর্মীরা, রক্ত দিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি স্তরের কাজে যুক্ত মহিলা পুরুষ। সকাল থেকে শিবিরের যাবতীয় দিক খেয়াল রেখে শেষে রক্ত দিলেন সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস, যুগ্ম বিডিও সৌরভ কুমার, সহসভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র। তারা যখন রক্তদান করছেন তখন তাদের ঘিরে উৎসাহ দিচ্ছেন আসানসোল ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ ডাক্তার সঞ্জিত চ্যাটার্জি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহঃ আরমান, সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৈলাশপতি মন্ডল, ব্লক স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ রানু রায়, স্বাস্থ্যকর্মী রুমেলি দাস, সমাজকর্মী তপন মাহাতা সহ সকলেই। উৎসবের আকার নেওয়া এদিনের রক্তদান শিবিরে বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিনয় রায়, রূপনারায়ণপুর ওসি অরুণাভ ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী মুকুল উপাধ্যায়, ভোলা সিং, বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, দেবদাস চ্যাটার্জি, যুগ্ম বিডিও শ্রেয়া নাগ, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ উৎপল কর, সাংবাদিক দীনবন্ধু মণ্ডল, উৎপল কর, প্রান্তভূমির সম্পাদক অভয় মন্ডল প্রমুখ। সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসনের এই শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করে আসানসোল জেলা ব্লাড ব্যাংক। এদিন অন্ততপক্ষে দেড়শো ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১০৬ ইউনিট রক্ত সংগৃহীত হয়। শারীরিক অসুবিধা ও তাৎক্ষণিক নানান কারণে বহু মহিলা রক্তদানে ইচ্ছুক হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মত রক্ত দিতে পারেননি। তা না হলে এ দিনের শিবির ব্লকের রক্তদানের ইতিহাসে অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেত। তবে অস্বস্তিকর গরমকে মাথায় নিয়েও যেভাবে এই শিবির থেকে ১০৬ ইউনিট রক্ত সংগ্রহীত হলো তা অত্যন্ত আনন্দের বলে উল্লেখ করেন ডাক্তার সঞ্জিত চ্যাটার্জি এবং বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন রেল কর্মীরা নতুন আতঙ্কের শিকার, কারখানার স্ট্যান্ড থেকে উধাও বাইক
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৫ মে।। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রেল কারখানা চিত্তরঞ্জনের কর্মীরা এখন এক নতুন আতঙ্কের শিকার। কারখানার বাইক স্ট্যান্ড থেকে কার কখন বাইক চুরি হয়ে যাবে সেই আশঙ্কা চেপে বসছে তাদের মনে। সম্প্রতি কারখানার অন্যতম ব্যস্ত ট্রাকশন মোটর গেটের স্ট্যান্ড থেকে তিনটি বাইক চুরির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাটি ঘটলো আজ, ৫ মে। কারখানার কাজ সেরে বাড়ি ফেরার জন্য স্ট্যান্ডে গিয়ে রেল কর্মী সুবীর চক্রবর্তী দেখতে পান তার বাইকটি উধাও। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরপিএফ-কে জানালে তারা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে উদ্যোগী হন। সহযোগিতার জন্য আরপিএফ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে যাওয়া হয় সুবীর বাবুকে। তবে, কারখানার গেট লাগোয়া এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাইক রাখার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ শেড তৈরি করলেও তার নিরাপত্তার জন্য ভাবনা-চিন্তা করেন নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য লেবার ইউনিয়ন নেতা রাজীব গুপ্ত বাইক স্ট্যান্ডগুলির টেন্ডার করে আগ্রহী ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে তুলে দেবার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগেও এখান থেকে রেল কর্মীদের বাইক চুরি হয়েছে। তা নিয়ে সরব হওয়ার পর সেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো হলো, কিন্তু চুরি আটকানো গেল না। ট্রাকশন মোটর গেট ছাড়াও টাইম অফিস গেট সহ সর্বত্রই ঝুঁকির মুখে বাইক রেখে কারখানায় ডিউটিতে ঢুকতে হয় কর্মীদের। এখন দেখার, সিসি ক্যামেরার ছবি এবার চোরকে ধরে দিতে পারে কি না!@প্রান্তভূমি
মাধ্যমিকে সালানপুর ব্লক-সেরা রাতুল:: স্কুল-ভিত্তিক ফল একনজরে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২ মে।।
মাধ্যমিকে সালানপুর ব্লকের সর্বোচ্চ নম্বর পেল চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুলের ছাত্র রাতুল পোদ্দার । তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৩৪। ব্লকের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে এই স্কুলেরই পরীক্ষার্থী দীপাঙ্কিত মন্ডল, সে পেয়েছে ৬০৪ । তৃতীয় স্থানে আছড়া রায় বলরাম গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী অন্তরা কর্মকার, তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৯৭। ৯০.৫৭% নম্বর পেয়ে ব্লকের সর্বোচ্চ স্থানে থাকা রাতুল চিত্তরঞ্জন রেল শহরের বাসিন্দা। তার মা পলি পোদ্দার এবং বাবা মিন্টু কুমার পোদ্দার। ছেলের সাফল্যে গর্বিত সিএলডব্লু কর্মী মিন্টু বাবু বলেন, রাতুলের ফলাফল আরো অনেকটাই ভালো হতো যদি বাংলায় সে আরো একটু বেশি নম্বর পেতো। রাতুলের প্রাপ্ত নম্বরগুলি হল - বাংলায় ৭০, অংকে ১০০, ইংরেজিতে ৯১, ভূগোলে ৯৪, জীবন বিজ্ঞানে ৯০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৫ এবং ইতিহাসে ৯৪।
এবার দেখে নেওয়া যাক এলাকার স্কুলগুলির ফলাফল এক নজরে::
*চিত্তরঞ্জন ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুল - মোট পরীক্ষার্থী ৭৪, পাশ ৭৪, সর্বোচ্চ ৬৩৪ রাতুল পোদ্দার। *চিত্তরঞ্জন পঞ্চম পল্লী হাইস্কুল - মোট ৩৪, পাশ ৩২, সর্বোচ্চ ৫৩৩ রাহুল গরাই। *চিত্তরঞ্জন মহিলা সমিতি গার্লস হাইস্কুল - মোট ৯৫, পাশ ৬২, সর্বোচ্চ ৪৭২ রিয়া পাল। *চিত্তরঞ্জন কস্তুরবা গান্ধী হাইস্কুল - মোট ১৮৫, পাশ ১২৩, সর্বোচ্চ ৪৮৯ হিমাংশী কুমারী। *চিত্তরঞ্জন দশম শ্রেণী হাইস্কুল (বিবেকানন্দ)- মোট ১৭, পাশ ১৫, সর্বোচ্চ ৩২৯ জয়ন্তী ধীবর। *আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশন - মোট ৩১২, পাশ ১৭৫, সর্বোচ্চ ৫৮৬ রূপম পাল। *আছড়া রায় বলরাম গার্লস হাইস্কুল - মোট ৩৬৬, পাশ ১৯৮, সর্বোচ্চ ৫৯৭ অন্তরা কর্মকার। *কল্যানেশ্বরী হাই স্কুল - মোট ১৪১, পাশ ৬৫। *এথোড়া শ্রীশচন্দ্র ইনস্টিটিউশন - মোট ১১২, পাশ ৭৮, সর্বোচ্চ ৫৩২ অতসী পাল। *ডিভিসি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল লেফ্ট ব্যাঙ্ক - মোট ৬৮, পাশ ৬৭, সর্বোচ্চ ৪৬২ অরিজিৎ দেয়াশী।। বারাবনি ব্লকের *গৌরাংডি আর কে এস ইনস্টিটিউশন - মোট ৩৮৭, পাশ ২৬০, সর্বোচ্চ ৫৭৭ শিবপ্রিয় চার।
মাধ্যমিকে এই অঞ্চলের সমস্ত সফল পরীক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। প্রত্যেকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল শিক্ষা সেলের নেতা অর্ধেন্দু রায়।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনে আবার শিউরে ওঠার মতো ঘটনা, শুয়ে থাকা ব্যক্তিকে অচৈতন্য করে ভয়ঙ্কর চুরি, প্রশ্নে রেল শহরের নিরাপত্তা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১ মে:: চিত্তরঞ্জন রেল শহর এখন এক কথায় দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। এতদিন ফাঁকা কোয়াটার্সে চুরির ঘটনা ঘটছিল, এবার আবাসনের মধ্যে লোক থাকা সত্ত্বেও ভয়ঙ্কর চুরির ঘটনা ঘটে গেল। চিত্তরঞ্জনের ৪৩ নম্বর রাস্তার ৭-এ আবাসনে গতরাতে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। আবাসনটি আরপিএফ ব্যারাক সংলগ্ন কাঙ্গোই পাহাড়ঘেঁষা এরিয়া ফাইভ অঞ্চলে। এই আবাসনের বাসিন্দা অশোক ভট্টাচার্য চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ১৬ নম্বর শপের কর্মী। তিনি রূপনারায়ণপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। গতকাল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে সেই ফ্ল্যাটে তার গৃহপ্রবেশের পুজো হয়। রীতি অনুযায়ী ওই রাতে অশোক বাবুরা ফ্ল্যাটেই ছিলেন। অন্যদিকে চিত্তরঞ্জনের কোয়ার্টার্সে থাকার জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন। সেই ব্যক্তি যথারীতি রাতের বেলায় ওই কোয়াটার্সে ছিলেন। আজ সকালে অশোক বাবুরা রূপনারায়ণপুরের ফ্ল্যাট থেকে কোয়ার্টার্সে গিয়ে দেখেন বাইরের গেটে তালা দেওয়া থাকলেও কোয়ার্টার্সের দরজা খোলা। তারা কোনক্রমে পাঁচিল টপকে কোয়ার্টার্সে ঢুকে দেখেন অচৈতন্য অবস্থায় ভেতরে তাদের পরিচিত ব্যক্তিটি পড়ে আছেন। আর ঘরের সমস্ত কিছু তছনছ করেছে দুষ্কৃতীর দল। খাট আলমারি ড্রেসিং টেবিল সহ সমস্ত সম্ভাব্য জায়গা তারা ওলট-পালট করেছে। আলমারি ভেঙে কিছু সোনার গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়েছে বলে অনুমান। এছাড়াও ল্যাপটপটিকে আবাসনের বাগানেই তারা ফেলে গেছে। উল্লেখ্য, ৪৩ নম্বর রাস্তার ৭-এ আবাসনে অশোক বাবুরা থাকলেও পাশের তিনটি কোয়ার্টার্স বি সি ডি ফাঁকা পড়ে আছে । ফাঁকা সেই কোয়াটার্সগুলি জঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। কিন্তু কোয়াটার্সের ভেতরে লোক থাকা সত্ত্বেও দুঃসাহস দেখিয়ে চোরেরা যে কান্ড ঘটিয়েছে তাতে অবাক অশোক বাবু। দরজার ছিটকিনি ভেঙে ভেতরে ঢুকে সম্ভবত কোন কিছু স্প্রে করে রাতে শুয়ে থাকা ব্যক্তিটিকে অচৈতন্য করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সংবাদ পেয়েই চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ এবং আরপিএফ সেখানে যায়। তারা সম্ভাব্য সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। যদিও পাঁচিলঘেরা আধুনিক এই রেল শহর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মোড়া। শহরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথে ২৪ ঘন্টা আরপিএফের পাহারা। আইজি রাঙ্কের আধিকারিক এখানে দায়িত্বে আছেন। মাত্র কয়েক বর্গ কিলোমিটার এলাকার জন্য রাজ্য পুলিশের একটি পূর্ণাঙ্গ থানা আছে। যার দায়িত্বে আছেন ইন্সপেক্টর ইনচার্জের মত আধিকারিক। তবুও একের পর এক রোমহর্ষক চুরির ঘটনায় সকলেই বিস্মিত। রেলকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে আছেন। তারা চাইছেন যে কোন প্রকারে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং। এ বিষয়ে পুলিশ ও রেল প্রশাসনের আরও সক্রিয়তার দাবি করেছেন শ্রমিক নেতা রাজীব গুপ্তও।@প্রান্তভূমি
.
.
দলছুট পাখিকে পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী মহকুমা শাসক, সঙ্গী হলেন ডিএফও সহ বনবিভাগ
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ৩০ এপ্রিল::
একটি বৃহদাকার পাখিকে বিপদজনক অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তার মনোমতো পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিল বন দপ্তর। আসানসোল টেরিটোরিয়াল রেঞ্জ বন বিভাগের এই তৎপরতার সঙ্গেই যুক্ত হল আসানসোল মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের আগ্রহ। জানা যায় বার্নপুরে হীরাপুর থানার কাছে ২৯ এপ্রিল স্থানীয়রা একাকী একটি বড়সড়ো পাখিকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে অবাক হয়ে যান। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কয়েকজনকে জানান। তাদের কাছ থেকেই এই পাখির বিষয়টি মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার ডক্টর অনুপম খানকে অনুরোধ করেন। এরপরই দ্রুত ওই পাখিটিকে আসানসোল রেঞ্জ অফিসার বিশ্বজিৎ শিকদার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার করেন। আজ সেই পাখিটিকে রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন বৃহৎ জঙ্গলাকীর্ণ জলাশয়ের ধারে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে পাখিটির নাম হাড়গিলে। এছাড়াও এটি মদনটাক নামেও পরিচিত। এই পাখি সাধারণত জলাশয় থেকে পুঁটি মাছ সহ অন্যান্য ছোট মাছ এবং পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। যদিও খাওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা বাছ-বিচার করে না এই মদনটাক পাখি। রেঞ্জ অফিসার বিশ্বজিৎ শিকদার বলেন পূর্ণবয়স্ক পাখিটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। কোন কারনে পাখিটি একা হয়ে গিয়েছিল। তাই কিছুটা মনমরা হয়ে বসে ছিল। তবে সার্বিক সক্রিয়তায় এটিকে উদ্ধার করে প্রকৃতির মধ্যে ফিরিয়ে দিতে পারায় তিনি আনন্দিত । এ বিষয়ে মহাকুমা শাসক এবং ডিএফও'র উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মদনটাক পাখি চিত্তরঞ্জন সহ এই এলাকার অন্যত্রও দেখা যায়। রূপনারায়ণপুর রেঞ্জ অফিসের এক কর্মী বলেন কিছুদিন আগে চলবলপুর থেকে একটি মদনটাক পাখিকে তারা উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলেন। এই কাজে সাধারণ মানুষ যাতে বন বিভাগের পাশে থাকেন সেই আবেদন জানিয়েছেন রেঞ্জ অফিসার শ্রী শিকদার।@প্রান্তভূমি
দেন্দুয়া মোড়ে দুর্ঘটনা, ক্ষোভের আঁচে স্তব্ধ যান চলাচল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৯ এপ্রিল:: যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সেটাই ঘটতে চলেছিল আসানসোল-চিত্তরঞ্জন রোডের উপর দেন্দুয়া মোড়ে। শিবমন্দিরের কাছে মালবাহী ডাম্পারের তলায় প্রায় চাপা পড়ছিলেন এক বাইক আরোহী ও তার সন্তান। তারা দেন্দুয়ার বাসিন্দা। এমনিতেই যানজটে অস্থির দেন্দুয়াবাসী এই ঘটনায় একেবারে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হয়ে যায় পথ অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ দেন্দুয়া মোড় অবরুদ্ধ থাকায় চিত্তরঞ্জন, আসানসোল এবং কল্যাণেশ্বরীর দিকে যাতায়াত সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি, কল্যাণেশ্বরীর ওসি লাল্টু পাখিরা, কুলটি ট্রাফিক গার্ড ওসি। তারা পরিস্থিতি সামাল দেবার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। ক্ষুব্ধ মানুষজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইসিএল বনজেমারির এজেন্ট দীনেশ প্রসাদের কার্যালয়ে পৌঁছে যান। এ বিষয়ে দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি বলেন, আজ দুটি প্রাণ কোনক্রমে রক্ষা পেয়েছে। এই ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে মানুষজন আর স্থির থাকতে পারেন নি। তাদের দাবি, সালানপুর ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে স্থির হওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসিএলের ডাম্পার রাত ৯ টা থেকে সকাল ছটা পর্যন্তই চলাচল করুক। কারখানার মালবাহী ট্রাক কল্যাণেশ্বরী হয়ে জাতীয় সড়ক ধরে চলাচল করুক। এছাড়া অন্য কোন সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। যদিও, বিষয়টি নিয়ে ২ মে শুক্রবার আবার আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জনে কড়া নিরাপত্তায় চলছে সিসিএসের নির্বাচন:: কার্যতঃ সীল শহরের সীমানা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৯ এপ্রিল।।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চিত্তরঞ্জনে সিএলডব্লু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি বা সিসিএস-এর ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ১১ টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এজন্য আছে ৩১ টি বুথ। মোট ভোটার ৬৩০০ জন। ভোট গ্রহণ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে শ্রীলতা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ ও পশ্চিম আমলাদহি প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গণ যা এখন ওবিসি গ্রাউন্ড নামে পরিচিত - সেখানে। শ্রীলতায় ১৫ টি এবং ওবিসি গ্রাউন্ডে ১৪ টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। এছাড়াও ডানকুনি এবং কলকাতা স্টোরে একটি করে বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য আরপিএফ এবং পুলিশের বিশেষ দল কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের কাজে একাধিক ইন্সপেক্টর সহ ৩০ জন আরপিএফ এবং চিত্তরঞ্জন থানার ৪ অফিসার ও মহিলা পুলিশ কর্মী সহ ১৮ জন পুলিশ মোতায়েন আছেন। ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে চিত্তরঞ্জনের বাইরে থেকে যাতে অবাঞ্ছিত কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সমস্ত পকেট গেট এবং প্রধান তিনটি যাতায়াতের পথ ১, ২ ও তিন নম্বর গেটে ব্যাপক নজরদারি রেখেছে আরপিএফ। ভোট গ্রহণের জন্য নিযুক্ত হয়েছেন ১১৪ জন কর্মী। এবার সি সি এস-এর পরিচালন সমিতি বা বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স নির্বাচনে মূলত লড়াই হচ্ছে লেবার ইউনিয়ন ও সি আর এম সি সমর্থকদের মধ্যে। তারা ৩১ টি করে আসনেই প্রার্থী দিয়েছেন। তবে লেবার ইউনিয়নের ৩১-টির মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থী আছেন সংগ্রামী শ্রমিক মঞ্চের। এছাড়াও এই নির্বাচনে আছেন কর্মচারী সংঘের ৬ জন প্রার্থী। মোট ৩১ টি আসনের মধ্যে মহিলা সংরক্ষিত তিনটি এবং এস সি/এস টি সংরক্ষিত ৬ টি আসন আছে। সকাল থেকেই ভোট দাতারা উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন এবং নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ চলছে বলে প্রান্তভূমির সংবাদদাতা জানিয়েছেন। এদিকে ভোটদাতাদের আঙ্গুলে বিশেষ ধরণের কালি লাগানোর যে চল আছে তা এই ভোটে ব্যবহার করা হচ্ছে না, মূলত ভোটদাতারা নির্দিষ্ট জায়গায় স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার নিচ্ছেন এবং ভোট দান করছেন। আঙুলে কালি লাগানোর দাবি জানানো হলেও সমবায় নির্বাচনে সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় না জানিয়ে কর্তৃপক্ষ সেই দাবি খারিজ করেছেন। আজকেই ফলাফল ঘোষণা হবে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জেমারিতে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৭ এপ্রিল।।
জাতীয় পতাকা হাতে তিন কিলোমিটার মৌন মিছিলে পা মেলালো একরত্তি বালক। অভিভাবকের হাত ধরে তারও চোখে যেন আগুন জ্বলছে। আজ জ্ঞান মঞ্জরি চ্যারিটেবল এডুকেশনাল সোসাইটির উদ্যোগে সালানপুর ব্লকের জেমারি সিরিশবেড়িয়া অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে আল্লাডি মোড় ঘুরে আবার এই মৌন মিছিল আয়ুষ পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন অঞ্চলে গিয়ে শেষ হয়। বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের আলোয় এরপর হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মোমবাতি। গাছের নিচে জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে শতাধিক মানুষ শপথ নেন এই দেশকে, এই সমাজকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখার জন্য সন্ত্রাসবাদের সম্পূর্ণ নির্মূল চেয়ে। নীরবতাই আজ বিক্ষোভ জানানোর সবচেয়ে সঙ্ঘবদ্ধ উপায় বলে উল্লেখ করেন সোসাইটির সম্পাদক শেখ ওয়াসিম ভুট্টো। তিনি বলেন সন্ত্রাসবাদের কোন ধর্ম হয় না, সীমানা হয় না। তারা সবসময় সর্বত্র মানবতার শত্রু । কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যেভাবে ২৬ জন প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটককে ২২ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তা অমানবিকতার সমস্ত নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে । এইসব ঘৃণ্য ঘাতকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। তারই কথার রেশ ধরে প্রান্তভূমি পত্রিকার সম্পাদক অভয় মন্ডল বলেন পহেলগাঁওয়ে নরসংহারের পর সারা দেশ এমনকি বিশ্বের মানুষ যেভাবে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন তাতে এই সমাজ অনেকটাই আশ্বস্ত। কিন্তু যারা এই মানবতাবিরোধী কাজ করেছে তাদের শাস্তি না দিলে দেশের মানুষ শান্তি পাবে না। একই কথা বলেন সমাজকর্মী অরূপ কুমার পাল, গৌরচন্দ্র তেওয়ারি, দীনেশ মন্ডল, শচীন নাগ, সিন্টু মণ্ডল সহ উপস্থিত সকলেই। সামাজিক সংগঠন জ্ঞান মঞ্জরি চ্যারিটেবল এডুকেশনাল সোসাইটির এই উদ্যোগ সালানপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে বিশেষ সাড়া ফেলে। বহু মানুষ আজকের এই মৌন মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পা মেলান।@প্রান্তভূমি
বহিষ্কৃত বংশগোপাল, সিপিআইএম বলছে গুরুতর নৈতিক অবক্ষয় ও দীর্ঘ সময় ধরে সংশোধনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৭ এপ্রিল:: শেষ পর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কারই করে দেওয়া হলো শিল্পাঞ্চলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত বামপন্থী নেতা বংশ গোপাল চৌধুরীকে। এ সম্পর্কে সিপিআইএম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক যে কারণ দেখিয়ে বংশ গোপালকে বহিষ্কার করেছেন তা হল - "দীর্ঘ সময় ধরে সংশোধনের চেষ্টা করার পরেও সংশোধিত না হওয়ায়, পার্টির রাজ্য কমিটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি (আইসিসি)'র সুপারিশক্রমে গুরুতর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে পার্টির পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য বংশ গোপাল চৌধুরীকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলো।" ৬৫ বছর বয়সী এই বাম নেতার বহিষ্কারে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর রত্না দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে এই বহিষ্কারকে অনেকেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। রত্না দাস গত নভেম্বরে সমাজ মাধ্যমে অভিযোগ এনেছিলেন যে বংশগোপাল চৌধুরী তাকে হোয়াটসঅ্যাপে অশ্লীল বার্তা পাঠিয়েছেন। তার অভিযোগ ছিল গভীর রাতে বংশগোপাল মেসেঞ্জারে তাকে অশ্লীল বার্তা পাঠাতেন। এ ব্যাপারে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে তিনি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে বংশগোপাল বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি ওই মহিলাকে চেনেন না। কিন্তু রত্না দাস বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত বিভিন্নভাবে প্রচার ও চাপ বজায় রাখেন। এ বিষয়ে বংশগোপাল সে সময় মন্তব্য করেছিলেন যে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বিষয়টি দেখছেন এবং প্রকাশ্যে কিছু না বলার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সময়মতো তিনি সাংবাদিক বৈঠকে সমস্ত বিষয়টি খোলসা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে নানান তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েই বিভিন্নভাবে উঠে আসছিল যে, বংশগোপাল চৌধুরীকে এ জন্য শাস্তি দেবে দল। শেষ পর্যন্ত তাইই হল এবং তাকে একেবারে দল থেকেই বহিষ্কার করে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, রানীগঞ্জের বাসিন্দা বংশগোপাল ছাত্র রাজনীতি থেকেই একেবারে প্রথম সারির বাম রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি 1987 থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ছিলেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী। এরপর ২০০৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। বহু সরকারি এবং দলীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বংশগোপাল। পশ্চিম বর্ধমান জেলা সি আই টি ইউ'র সম্পাদক ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন এ ডি ডি এ'র চেয়ারম্যান হিসেবেও। তার সময়েই গড়ে উঠেছিল হিন্দুস্তান কেবলসের বুকে নজরুল সেন্টিনারি পলিটেকনিক। স্ত্রী, দুই পুত্র নিয়ে সংসারী বংশগোপালের বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যৌন বার্তার এই অভিযোগকে ঘিরে দ্বিধা বিভক্ত জেলার বাম রাজনৈতিক মহল। তবে রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। যদিও তরুণ বাম নেতৃত্ব বলছেন রাজ্য তথা জেলায় সর্বপরিচিত এইরকম মুখ খুবই কম আছে, তাই আগামী দিনে বংশগোপালের অভাব অনুভূত হবে সিপিআইএম পার্টিতে।@প্রান্তভূমি
পহেলগাঁও সন্ত্রাসীদের ফাঁসির দাবি তৃণমূলের, আক্রমণ বিজেপিকেও
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৫ এপ্রিল।।
শুধু বড় বড় কথা বললেই হবে না, এবার সরাসরি "এ্যাকশন" নিতে হবে। দোষীদের দ্রুত বিচার করে ফাঁসি দিতে হবে - এই দাবি জানিয়ে ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করল সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। নিহতদের স্মরণে আজ ২৫ এপ্রিল বিকেলে রূপনারায়ণপুর আমডাঙ্গা মোড় থেকে ডাবর মোড় পর্যন্ত বিশাল এক মৌন মিছিল আয়োজিত হয়। এই মিছিলে ব্লকের সর্বস্তরের মানুষজন যোগ দেন। মিছিল শেষে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত ২৬ জন পর্যটকের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলিত করা হয়। এরপর প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আরমান, সহ-সভাপতি ভোলা সিং, আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি মনোজ তেওয়ারি, মহিলা নেত্রী অপর্ণা রায়, জিৎপুর-উত্তররামপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুরজিৎ মোদক, প্রাক্তন প্রধান তাপস চৌধুরী। বক্তারা বলেন পাকিস্তানি মদতে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ সংগঠিত করেছে সন্ত্রাসবাদীরা। এই জঘন্য ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই হবে। এরই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা দেশের আর কোথাও যাতে না ঘটে তার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পহেলগাঁওয়ে সেনা মোতায়েন থাকলেও কেন এখন সেই ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছিল! পরে সাংবাদিকদের সামনে মহঃ আরমান বলেন, ২০১৪'র পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে অন্তত ৩৭ টি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে। ছত্রিশগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় মাওবাদী হামলা হয়েছে। বহু মৃত্যু দেখতে হয়েছে দেশকে। মনিপুর উত্তপ্ত হয়েছে, প্রাণ গেছে নিরীহ মানুষের।কুম্ভ মেলায় পুন্যার্থীরা প্রাণ দিয়েছেন। নোটবন্দীর পর সন্ত্রাসবাদীদের কোমর ভাঙেনি, মরেছে দেশের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি। এরপরও বড় বড় ভাষণ দেওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু পদক্ষেপ করতে পারেনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কিন্তু এবার দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারকে বড় রকমের কিছু পদক্ষেপ করতেই হবে বলে তারা দাবি জানান।@প্রান্তভূমি
মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ ২ মে:: পর্ষদ দিল মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২৫ এপ্রিল।।
এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতে চলেছে ২ মে। পরীক্ষা নেওয়া শেষ হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে প্রায় ৭০ দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এ বিষয়ে ২৪ এপ্রিল পর্ষদের সচিব সুব্রত ঘোষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন ২ মে সকাল ন'টায় পর্ষদের অ্যাড হক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করবেন। সকাল ৯ঃ৪৫ মিনিটে এই ফলাফল ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। সকাল ১০ টা থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প অফিসগুলি থেকে এলাকার স্কুলগুলি মাধ্যমিকের মার্কশিট এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবে ওই দিনই। ফলাফল জানার জন্য পর্ষদ নির্দিষ্ট আটটি ওয়েবসাইট এবং চারটি মোবাইল অ্যাপের উল্লেখ করেছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। সংবাদের সঙ্গেই সেইসব ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের হদিশ দেওয়া হলো।@প্রান্তভূমি
.
.
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় দিনের ব্যস্ততম সময়ে সভা আসানসোলের কেন্দ্রস্থলে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৪ এপ্রিল:: দিনের ব্যস্ততম সময়ে আসানসোলের মূল জায়গায় মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় সভাকে ঘিরে চরম বিপাকে পড়লেন সাধারণ মানুষজন। পশ্চিম বর্ধমান জেলা তাহাফুজ ওয়াকফ কমিটির ডাকে এই সভা সকাল দশটা থেকে শুরু হয়। সভা শেষ করার সময় দুপুর একটা পর্যন্ত নির্দিষ্ট থাকলেও তা চলে প্রায় দুটো পর্যন্ত। আসানসোল বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন জি টি রোডের হটন রোড মোড় সংযোগস্থলে এই প্রতিবাদ সভার জন্য চার্চের কাছে মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। এই সভাকে ঘিরে ব্যাপক পুলিশি বন্দোবস্তের পাশাপাশি সকাল থেকেই হটন রোড থেকে স্টেশন রোড যাওয়ার রাস্তায় পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছিল অন্যান্য দিকেও। বিভিন্ন জায়গার মুসলিম সংগঠনের সদস্যরা এই প্রতিবাদ সভায় শামিল হয়েছিলেন। সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে বক্তারা বলেন এই আইন তাদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। এই আইন ভারতের সংবিধানেরও পরিপন্থী। মুসলিমরা এই আইন কখনোই মেনে নেবেন না। দিনের ব্যস্ততম সময়ে একেবারে সিটি বাসস্ট্যান্ডের সামনে জিটি রোডকে কেন্দ্র করে এই সভার জন্য সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হলেও পুলিশের বক্তব্য হল যে তারা যান চলাচল সহ অন্যান্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যদিও মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে মুসলিম নেতারা কোন শব্দ উচ্চারণ করেন নি বলে পথে বের হওয়া মানুষজন মন্তব্য করেন।@প্রান্তভূমি
সিআইএসএফ হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা, চরম উত্তেজনা রূপনারায়ণপুর সীমান্তে; চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন ।। ২৪ এপ্রিল ::
বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তের ডোমদহ কাশিডাঙ্গা ধাঙ্গুড়ি অঞ্চলে একের পর এক দুষ্কর্মের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বাংলার সালানপুর থানা ও রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় এবং ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম থানার আয়ত্বের বাইরে থাকায় এখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা জোরদার নয়। এরই সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। গতকাল ২৩ এপ্রিল রাত ৯ টা নাগাদ এখানেই গুলিতে খুন করা হয়েছে সিআইএসএফের হেড কনস্টেবল সুনীল পাসোয়ানকে (৪৫)। সুনীলবাবু বোকারোর ফুসরায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মিহিজামের বরাইপাড়া এলাকায়। হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ি এলাকার ডোমদহ উপর পাড়া এলাকায়। এখানেই কিছুদিন আগে জমি কিনেছিলেন সুনীল বাবু। সেই জমিতে বাড়ি তৈরির প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছিল। জানা গেছে ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় জনা পাঁচেক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন সুনীল বাবু। তারা সেখানে খাওয়া-দাওয়া করেন বলেও পুলিশের অনুমান। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তারা ওই এলাকায় যাওয়ার আগে ডোমদহর সরকারি মদের দোকানের কাছে থাকা একটি দোকান থেকে কিলোখানেক মুরগি কেনেন। ঘটনাস্থল ডোমদহ সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে শুনশান জায়গায়। এখানেই গুলি চলে এবং সুনীল বাবুর মাথার পিছনের দিকে কানের পাশে গুলি লাগে। বিষয়টি জানতে পেরেই মিহিজাম থানা এবং সালানপুর ও রূপনারায়ণপুর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটে আসেন এসিপি কুলটি জাবেদ হোসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনীল বাবুদের সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করে পুলিশ। কিন্তু কিভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, কেইবা গুলি চালালো, কেনই বা সিআইএসএফের হেড কনস্টেবল পদে কর্মরত সুনীল পাসোয়ানকে খুন হতে হলো সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানাচ্ছেনা পুলিশ । তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি বাইক, মদের বোতল ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আজ এসিপি কুলটি জাবেদ হোসেন বলেন তিনি নিজে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টির দেখভাল করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত বলার মত বিশেষ কিছু পাওয়া যায়নি। আরো কিছুটা সময় পুলিশকে দিতে হবে। মিহিজাম থানার ওসি বিবেকানন্দ দুবে এই ঘটনায় সমস্ত দিকে দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বয়ের উপর জোর দেন। তিনি বলেন দ্রুতই এই ঘটনার কিনারা হবে। সুনীল বাবুর মর্মান্তিক এই পরিণতিতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী ও দুই পুত্র। এদিকে আজ ২৪ এপ্রিল সকালেও পুলিশের বিশাল বাহিনী ওই এলাকায় যায় এবং দিনের আলোয় সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে। গতরাতে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কোথায় কিভাবে ঘটনা ঘটানো হয়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে চাইছে পুলিশ।@প্রান্তভূমি
.
.
গ্রীষ্মে ব্লাড ব্যাংকের আকাল মেটাতে এগিয়ে এল জেমারি রেলগেট ব্যবসায়ী সমিতি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৩ এপ্রিল :: গরমের সময় ব্লাড ব্যাংকে চলছে রক্তের আকাল। এইরকম মুহূর্তে জেমারি রেলগেট ব্যবসায়ী সমিতি পরিচালিত জীবন জ্যোতি'র উদ্যোগে স্থানীয় দুর্গা মন্ডপ প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির হল। ২১ এপ্রিল শিবিরকে ঘিরে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত বিশ্বজিৎ হালদারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিবির শুরু হয়।
এদিন শিবিরে ২২ জন রক্তদান করেন। অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে শিবিরটি সম্পন্ন হয়। আসানসোল জেলা হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সংগৃহীত হয়। শিবির পরিচালনার জন্য সুব্যেন্দু নাথ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। শিবিরে রক্তদান করেছেন পাপ্পু দাস, জীবন সরেন, পরিমল নাথ, সুশান্ত মণ্ডল, অভিষেক তেওয়ারি, উৎপল কেওড়া, নীলকান্ত সাধু, গৌতম কুম্ভকার, রবি সিং, অশোক দাস, সুমিতা মণ্ডল, মানিক পাল, মীর জায়েদ আলম, নবীন পাল, আরিফ মহম্মদ, মহম্মদ বাবু আনসারি, নিতাই শর্মা, চন্দন মন্ডল, রঞ্জিত কুম্ভকার, তাপস পাল, অরূপকুমার পাল, প্রবোধ পাল।@প্রান্তভূমি
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গী হামলায় ২৬ পর্যটকের মৃত্যুতে কেঁপে উঠলো চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২৩ এপ্রিল:: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়ংকর নরসংহারের ঘটনায় কেঁপে উঠলো রূপনারায়ণপুর চিত্তরঞ্জন। কারণ এখানকার প্রতিষ্ঠিত একাধিক ভ্রমণ সংস্থা বহুদিন ধরেই ভ্রমণার্থীদের কাশ্মীর বেড়াতে নিয়ে যান। এবারও অক্টোবর থেকেই সেই যাতায়াত শুরু হয়েছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মাত্র একদিন আগেই কাশ্মীর থেকে ফিরেছেন এই অঞ্চলের ৩০ জনের একটি দল। এই ঘটনায় তাদের ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া "শুভেচ্ছা ভ্রমণ" সংস্থার তত্ত্বাবধায়কেরা শিউরে উঠছেন। কোন কারনে একটি দিন দেরি হয়ে গেলে কি ভয়ংকর পরিণতির সম্মুখীন তাদের হতে হতো সেই কথা ভেবে। তারা বলছেন এতদিন জম্মু-কাশ্মীর সফরের মধ্যে পহেলগাঁওয়ে পৌঁছে গেলে তারা নিজেদের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভাবতেন। কিন্তু সবকিছু বদলে গেল। অন্তত আগামী দু'বছর কাশ্মীরে যাওয়ার কথা চিন্তা করা অসম্ভব বলে তারা মনে করছেন। একই কথা শিল্পাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ভ্রমণ সংস্থা "ট্রাভেল এক্স" কর্তৃপক্ষেরও। তাদেরও একটি দল ১৪ এপ্রিল কাশ্মীর থেকে ফিরে এসেছেন। কিন্তু ২০০৩ থেকে অন্তত ৩০ বার কাশ্মীর ভ্রমণে এই অঞ্চলের মানুষজনকে নিয়ে যাওয়া এই সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে আগামী দু'বছর তারা কোনভাবেই কাশ্মীর ভ্রমণের সূচি তাদের তালিকায় রাখবেন না। কাপুরুষের মত যেসব জঙ্গিরা নিরীহ পর্যটকদের প্রাণ নিলো সেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে তারা বলেন, এবছর মার্চ মাস থেকেই কাশ্মীর ভ্রমণের ব্যাপক ঢেউ উঠেছিল। সেখানকার কোন হোটেলের একটি রুমও খালি ছিল না। কিন্তু ২২ এপ্রিলের ঘটনা সমস্ত কিছু বদলে দিল। এই এলাকার আরেকটি প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ সংস্থা "ট্রাভেল প্ল্যানার"-এর পক্ষ থেকে কাশ্মীর ভ্রমণে যাওয়া একটি দল এখনো শ্রীনগরের হোটেলে আছেন। ১৮-১৯ এপ্রিল তারা পহেলগাঁও ঘুরে এসেছেন। এখন শ্রীনগরে কারফু জারি হয়েছে। কিন্তু ফেরার ট্রেন ধরার তাড়া আর ভূস্বর্গের অস্থির পরিস্থিতি তাদের অস্থির করে রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ট্রাভেল প্ল্যানারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে ২০০৫ থেকে কাশ্মীরে পর্যটক নিয়ে যাওয়ার সূত্রে সেখানকার সমস্ত রকম পরিস্থিতির তারা মুখোমুখি হয়েছেন। একমাত্র ২০০৭ সালে একটি পশ্চিমবঙ্গের দল ও আরেকটি গুজরাটের পর্যটকদের বাসের উপর হামলা হলেও তার পরবর্তী সময়ে কখনোই পর্যটকেরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হননি। কারণ সাধারণ ধারণা ছিল উগ্রপন্থীরা সরকারি নিরাপত্তা বিভাগের উপরে হামলা চালালেও কখনোই পর্যটকদের ক্ষতি করে না। এবার সেই ধারণাও বদলে গেল। ভরসার জায়গাটা চলে গেল। ট্রাভেল প্ল্যানার কর্তৃপক্ষ বলছেন আগামী পাঁচ বছর কাশ্মীরের ট্যুর নিয়ে তাদের যথেষ্ট ভাবতে হবে। তবে ২২ এপ্রিলের হামলায় তিন বাঙালি পর্যটকের প্রাণ গেলেও চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর অঞ্চলের ভ্রমণপ্রিয় মানুষজনকে সেই আতঙ্কের মুখোমুখি হতে হয়নি এটুকুই যা সান্ত্বনা।@প্রান্তভূমি
জাতীয় সড়কে এ্যাসিড বোঝাই ট্যাঙ্কার উল্টে বিপত্তি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২২ এপ্রিল:: বিহার থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে 19 নম্বর জাতীয় সড়কে উল্টে গেল একটি হাইড্রোক্লোরিক এ্যসিড বোঝাই ট্যাঙ্কার। এরফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র ধোঁয়া এবং গ্যাসের কটূ গন্ধে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আসানসোল এবং বর্ধমানের দিকে যাতায়াতকারী জাতীয় সড়কের দুটি দিকেই যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দিতে হয়। যদিও এই দুর্ঘটনার ফলে হতাহতের কোন খবর নেই বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর মুচিপাড়া সংলগ্ন উড়ালপুলের কাছে। আজ সকালে এই ঘটনার পরেই স্থানীয় মানুষজন পুলিশ এবং দমকলে সংবাদ দেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দমকলের ইঞ্জিনের সঙ্গেই এলাকায় পৌঁছে যায় ভারী ক্রেন। শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত গ্যাসের ট্যাংকারটিকে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, হাইড্রোক্লোরিক এ্যসিড হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের জলীয় দ্রবণ। তীব্র কটূ গন্ধের এই গ্যাস বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি নানান শিল্প প্রক্রিয়াকরণে কাজে লাগে। লোকালয়ে এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে নানান স্বাস্থ্য-সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এদিন ঘটনার পরে পরেই পুলিশ ও দমকল বাহিনী স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ায় বড় অঘটন কিছু ঘটেনি।@প্রান্তভূমি
ল্যাবরেটরিতে বিষ্ফোরণের জেরে মৃত্যু অধ্যাপকের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ২১ এপ্রিল:: ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণের জেরে আগুনে ঝলসে মারা গেলেন অধ্যাপক। তবে জখম হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন এক ছাত্র। অস্বাভাবিক এই ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি)-তে। উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল থার্মিট ওয়েল্ডিং নিয়ে পরীক্ষাগারে গবেষণায় রত ছিলেন অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ বসাক (64) এবং এন আই টি'র ছাত্র আকাশ মাঝি। হঠাৎই পরীক্ষাগারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঝলসে যান এই দুজন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুর্গাপুর গান্ধী মোড়ের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৭০% দগ্ধ অধ্যাপক বসাকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠায় তাকে রাতেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এন আই টি কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন যে কোনো মূল্যেই তারা অধ্যাপক বসাককে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলবেন। এরপর থেকে দিল্লিতেই ভেন্টিলেশনে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে আজ ২১ এপ্রিল তিনি প্রয়াত হন। তার প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুর্গাপুর এন আই টি-তে। উল্লেখ্য, নিজের বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ বসাক এই এন আই টিরই ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৪ সালে তিনি এখানে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ছিল অবসর নেওয়ার কথা। এরই মধ্যে কিছুদিন তিনি দুর্গাপুর এন আই টি'র ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টরের দায়িত্বও পালন করেছেন। সিটি সেন্টার রিকল পার্কের বাসিন্দা অধ্যাপক বসাক এনআইটির একজন কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী পুত্র ও কন্যাকে।@প্রান্তভূমি
ডিএভি'র নতুন অধ্যক্ষ ডঃ পুনম সিং
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ২১ এপ্রিল।।
হিন্দুস্তান কেবলস ডিএভি পাবলিক স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ডক্টর পুনম সিং। রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডালিস্ট ডক্টর সিং অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার সুদীর্ঘ শিক্ষক জীবনে ২৫ বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি কুড়ি বছর ধরে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন। ছত্রিশগড় রাজস্থান সহ বিভিন্ন জায়গায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে তার গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন। হিন্দুস্তান কেবলস রূপনারায়ণপুর ডিএভি পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ছিলেন রাজস্থান কোটায়। ৯ এপ্রিল এখানে যোগ দেওয়ার পর আজ ২১ এপ্রিল থেকে পুরোদমে তিনি স্কুলের পরিবেশ, পরিকাঠামো এবং শিক্ষাদানের বিষয়গুলি নিয়ে জোর কদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। প্রান্তভূমির সম্পাদক অভয় মন্ডলের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি জানান অবিলম্বে এখানকার একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য স্কুলেই বিশেষ কোচিং শুরু হচ্ছে। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সি এ কোর্সের যাবতীয় প্রশিক্ষণ স্কুলেই দেওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রিন্সিপাল ডক্টর সিং বলেন, অতিরিক্ত অর্থ এবং সময় ব্যয় করে পড়ুয়াদের কোচিং নেওয়ার জন্য বাইরে ছুটতে হয়। এবার সেই অসুবিধা আর থাকবে না। ইতিমধ্যেই সায়েন্স আর্টস এবং কমার্সের প্রায় ১৮০ জন পড়ুয়া বিশেষ কোচিংয়ের জন্য তাদের নাম নথিভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে। প্রিন্সিপাল বলেন, তার দীর্ঘ শিক্ষক জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এই বিষয়টিকে পরিচালনা করবেন। পরবর্তী সময়ে অষ্টম শ্রেণী থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিশেষ এই কোচিংও চলতে থাকবে বলে তিনি জানান। এই স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থায় আরও আধুনিকতা আনার জন্য প্রতিটি ক্লাসে স্মার্ট বোর্ড, কম্পিউটার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যাতে মানসিকভাবে উন্নত থাকতে পারে সেজন্য স্কুল পরিসরে আরো গাছ লাগানো, সবুজ ঘাসের এলাকা বৃদ্ধি করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও পড়ুয়াদের পরীক্ষাভীতি কাটিয়ে ওঠা ও মানসিক অস্থিরতা দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতির প্রয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। নতুন অধ্যক্ষ বলেন, তার লক্ষ্য হলো এই স্কুলের প্রতিটি পড়ুয়াকে সব দিক দিয়ে সুযোগ্য করে তোলা।@প্রান্তভূমি
ফিল্মি কায়দায় রূপনারায়ণপুর থেকে এক অভিযুক্ত গ্রেফতার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৯ এপ্রিল:: রূপনারায়ণপুরের ভরা বাজারে দিনের আলোয় একেবারে ফিল্মি কায়দায় এক অভিযুক্তকে পাকড়াও করল চিত্তরঞ্জনের রেল রক্ষী বাহিনী। রূপনারায়ণপুরের ওই বাসিন্দা সি শ্রীবাস্তব চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ভেতর থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরিতে অভিযুক্ত। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় লুকনোর জন্য হেলমেট পরে ১৫ এপ্রিল কারখানার ভেতরে ঢুকে যান। এরপর যন্ত্রাংশ চুরি করে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। যদিও কারখানার আনাচে কানাচে বসানো সিসিটিভি ফুটেজে সর্বক্ষণ নজর থাকে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মী আধিকারিকদের। এদিকে কারখানার একটি নির্দিষ্ট বিভাগে যন্ত্রাংশ কম থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের। এরপরই সুনির্দিষ্টভাবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে হেলমেট পরিহিত ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারেন ওই ব্যক্তি কারখানার কর্মী নন। এরপরই জোরদার তদন্ত শুরু হয় এবং রূপনারায়ণপুরে তার খোঁজ মেলে। সেই মত আজ ১৯ এপ্রিল সকালে তার বাড়িতে হানা দেয় আরপিএফ। কিন্তু বিপদ বুঝে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে সন্তর্পণে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু নাছোড় আরপিএফ রূপনারায়ণপুর ডাবর মোড় সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে থেকে তাকে রীতিমতো ধাওয়া করে ধরে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন এ সময় আরপিএফকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। ওই অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা এক মহিলা আর পি এফকে বাধা দেবার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আরপিএফ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জানা গেছে কর্মী সেজে ভিড়ের মধ্যে ওই ব্যক্তি আগেও কারখানার ভেতরে ঢুকে যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল। এবার যাতে ওই ব্যক্তি কড়া শাস্তির মুখে পড়ে সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছে আরপিএফ।@প্রান্তভূমি
৩১ লক্ষ টাকা তছরুপের দায়ে সালানপুর থানায় অভিযোগ বিডিও'র
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৮ এপ্রিল:: প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগে সালানপুর থানায় এফ আই আর দায়ের হল। এই অভিযোগ দায়ের করেছেন সালানপুর ব্লক প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত হয়েছেন জিতপুর উত্তররামপুর এলাকার "আদর্শ সংঘ মহিলা মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড"-এর ২ জন কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার। তারা হলেন সংঘনেত্রী যিনি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য চেকে স্বাক্ষর করার অধিকারী বাসন্তী সরেন এবং তার সহযোগী রাসমণি বেসরা। বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার জন্য স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের অত্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণদানের জন্য যে টাকা অভিযুক্ত সংঘকে দেওয়া হয়েছিল তার পুরোটাই তারা কাউকে না দিয়েই আত্মসাৎ করেছেন বলে জানতে পারার পরেই পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্তে পুলিশ যে সহযোগিতা চাইবে তা ব্লক প্রশাসন থেকে করা হবে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে এই আদর্শ সংঘ মহিলা মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড গঠিত হয়। এরপর ভারত সরকারের প্রকল্প "জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন" বা এন আর এল এম ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৩১ লক্ষ টাকা দেয় এই সংঘকে। এই অর্থ স্থানীয় স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের আর্থিক উন্নয়নে বার্ষিক ৬ থেকে ৯ শতাংশ সুদের হারে ঋণ দেওয়ার কথা। এছাড়াও হতদরিদ্র পরিবারগুলির অবস্থা ফেরানোর জন্য বিনা সুদে টাকা ধার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্লক মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট লাগাতার অডিট করে দেখতে পায় কো-অপারেটিভের ক্যাশ বইয়ের সঙ্গে ব্যাংক স্টেটমেন্টের নথিপত্রে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২২ সালের স্ট্যাটুটরি অডিট রিপোর্টও খতিয়ে দেখে ব্লক প্রশাসন বুঝতে পারেন তহবিল ব্যবহারের কোন নথিই সঠিক নয়। বলতে গেলে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রই তারা পাননি। একাধিক তদন্তে টাকা তছরুপের বিষয়টি সামনে আসায় চলতি মাসে বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস সালানপুর থানায় অভিযোগ (কেস নং - ৫৮/২৫) দায়ের করেন। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাসন্তী সরেন এবং রাসমণি বেসরাকে অভিযুক্ত করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৯ (২)/ ৩১৮ (৪)/ ৩১৬(২)/ ৩১৬ (৫) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত এক কর্তা বলেন গরীব মানুষকে সহযোগিতার জন্য সরকার যে অর্থ দিয়েছিল তার পুরোটাই আত্মসাৎ করে নেওয়ার এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সেল্ফ হেল্প গ্রুপের সদস্যদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে, নিজেদের জীবিকা অর্জনে প্রকল্প গড়ে তুলতে জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এই অর্থ ব্যয় করে, কিন্তু সেই অর্থ প্রাপকের কাছে না গিয়ে সংঘের নেত্রী ও তার সহযোগী আত্মসাৎ করেছেন এই অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসন অত্যন্ত কড়া মনোভাব নিয়েছে। বাকি কাজ পুলিশকে করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে এই বিষয়টি নিয়ে আছড়া পঞ্চায়েত এলাকার একটি কমিউনিটি হলে বৈঠক চলাকালীন চূড়ান্ত অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল এই সংঘের সঙ্গে জড়িত সদস্যাদের। টাকা তছরুপের বিষয়টি সে সময় উঠে এলেও ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু এবার বিডিও এফআইআর করায় ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিল বলে মনে করা হচ্ছে।@প্রান্তভূমি
অজয় নদে তীব্র বিষ্ফোরণ পাথর কারবারীদের::বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ক্ষতির আশঙ্কা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৮ এপ্রিল:: অজয় নদে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর তোলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসলো চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসন। তাদের আশঙ্কা অতি ভারি মাত্রার এই বিস্ফোরণের জেরে নদ সংলগ্ন চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শ্মশানের চিমনি এবং চুল্লির ঘর যে কোন মুহূর্তে এই বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে রেল প্রশাসনের নির্দেশে আরপিএফ আধিকারিকেরা আজ ১৮ এপ্রিল ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন বলে জানা গেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সকাল দুপুর রাত সবসময়ই প্রয়োজনমতো অজয় নদের একেবারে বালির মধ্যে ডিনামাইট জাতীয় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মূল্যবান পাথর তুলে নেওয়া হচ্ছে। নদীগর্ভ থেকে সেই পাথর পরিবহনের জন্য অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এই বিস্ফোরণের জেরে নদীগর্ভে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সব গর্ত জলে ভরে গেলে সমূহ বিপদে পড়বেন নদীতে স্নান করতে যাওয়া কিংবা হেঁটে নদী পারাপারকারী মানুষজন। নদীগর্ভ থেকে পাথর তুলে নেওয়ায় নদীর গতিপথ যেমন অবিন্যস্ত হচ্ছে তেমনই সেখানে ডুবে মৃত্যুর আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উত্তম কুমার মাইতি বলেন তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরপিএফকে নির্দেশ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন সংশ্লিষ্ট ভূমি দপ্তর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি জানতে সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটিকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের আওয়াজ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শুনতে পাওয়া যায় বলে চিত্তরঞ্জনের এক বাসিন্দা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন মৃতদেহ চুল্লিতে দাহ করার জন্য নিয়ে গিয়ে তারা ওই বিস্ফোরণের প্রায় মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ বিষয়ে চিত্তরঞ্জন থানার আইসি ইসমাইল আলি বলেন ঘটনাস্থল কোথায় পড়ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য অবিলম্বে পুলিশ তদন্ত করবে। এদিকে জানা গেছে বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় যাতে কোন বিপত্তি না হয় সেজন্য পাথর কারবারীরা ওই এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চিত্তরঞ্জন শহর ঘেঁষা অজয় নদের ধারে অবস্থিত বৈদ্যুতিক চুল্লিতে বাংলা এবং ঝাড়খণ্ডের সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে অহরহ মৃতদেহ দাহ করার জন্য লোকজন আসেন। তারা যে কোন সময় জখম হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এক শ্মশান যাত্রী।@প্রান্তভূমি
.
.
দুদিন কালবৈশাখী বাধা হলেও রূপনারায়ণপুর বই মেলায় বিক্রি ছাড়ালো ৬ লক্ষ টাকা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১৭ এপ্রিল।।
বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে প্রায় দুটি দিন। তারপরও রূপনারায়ণপুর সুভাষ গ্রামীণ বইমেলায় এবছর বই বিক্রি এবং বইপ্রেমীদের সংখ্যা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক ছিল। এবার বই বিক্রির পরিমাণ প্রায় সওয়া ৬ লক্ষ টাকা। কম করেও ৮০০০ মানুষ বইমেলায় প্রবেশ করেছেন। ৮ থেকে ১৬ এপ্রিল নির্ধারিত ৯ টি দিনের মধ্যে ১৪ এপ্রিল বিকেল থেকে নাগাড়ে ঝড়-বৃষ্টির কারণে প্রকাশকেরা তাদের স্টল খুলতেই পারেননি। অন্যদিকে ১০ এপ্রিল সন্ধের পর ঝড় বৃষ্টি থামলেও বইমেলামুখো হওয়ার সাহস পাননি পুস্তকপ্রেমী মানুষজন। তার মধ্যেই ঐদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। তবে বিক্রির হিসেবে শেষ দুটি দিনে ১৫ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ এবং ১৬ এপ্রিল প্রায় সওয়া লাখ টাকা করে বই বিক্রি হয়েছে। ৮ এপ্রিল উদ্বোধনের দিনেই বই বিক্রি হয়েছিল ৪৯ হাজার টাকার। বইমেলার আয়োজক সংস্থা পশ্চিম রাঙ্গামাটিয়া ইয়ুথ ক্লাব বইমেলাকে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এলাকার প্রায় প্রতিটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যের প্রবেশপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন। কালবৈশাখীর দুর্যোগ সত্ত্বেও বিক্রি-বাটার পরিমাণ নিয়ে প্রকাশকেরাও সন্তুষ্ট।@প্রান্তভূমি
বদলি হলেন এলাকায় ছাপ রেখে যাওয়া ডিএভি'র জনপ্রিয় অধ্যক্ষ সঞ্জয় মজুমদার
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১৬ এপ্রিল।।
হিন্দুস্তান কেবলস রূপনারায়ণপুর ডিএভি পাবলিক স্কুলকে এক অন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন এই স্কুলের অধ্যক্ষ সঞ্জয় মজুমদার। এবার শ্রী মজুমদারকে এখান থেকে বদলি করে দায়িত্ব দেওয়া হল মেজিয়ার ডিভিসি এমটিপিএস-ডিএভি'র। খুব কম সময়ের কার্যকালের মধ্যে সঞ্জয়বাবু রূপনারায়ণপুর ডিএভির সার্বিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। মজবুত শিক্ষাদানের পাশাপাশি স্কুলকে কেন্দ্র করে নানান সামাজিক কর্মকান্ড তার সময়ে এলাকায় বিশেষ সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে স্কুল ভবনের সংস্কারের পাশাপাশি স্কুল সংলগ্ন অঞ্চলকে স্কুলের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছিল। স্কুলের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে তার এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন স্কুলের উচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বৌদ্ধিক মহল। স্কুলের উন্নয়নে স্থানীয় অন্যান্য ডিএভি স্কুল এবং এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নানান সামগ্রী সহযোগিতা হিসেবে তিনি চেয়ে-চিন্তে জোগাড় করেছিলেন বলে জানা গেছে। পড়ুয়াদের লেখাপড়ার একঘেয়েমি থেকে মুক্ত করতে তার নানান পদক্ষেপ অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল । বিশেষ করে মানুষের মনে দাগ কেটেছে ডান্ডিয়া ফেস্ট, রঙ্গোলি এবং নৃত্য প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম। রাজ্য প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হিন্দুস্তান কেবলস রূপনারায়ণপুর ডিএভি পাবলিক স্কুল সামাজিক অবদানের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উজ্জ্বল সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, যখন তৎকালীন অধ্যক্ষ সঞ্জয় মজুমদারের প্রচেষ্টায় যক্ষা রোগীদের পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য যোগানোর দায়িত্ব নেয় এই স্কুল। এই মহান উদ্যোগের জন্য পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ এই স্কুলকে নিক্ষয় মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এলাকার একটি অগ্রণী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সঞ্জয়বাবুর হাত ধরে ডিএভি ধারাবাহিকভাবে সামাজিক অবদান রেখে গেছে। যেমন বৃদ্ধাশ্রমে একাধিকবার আবাসিকদের শীতবস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য দেওয়া; এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, কুষ্ঠ কলোনিতে গিয়ে মানুষের সেবায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের সেবায় নিয়োজিত করা তার সময়েই দেখা গেছে। এছাড়াও জোনাল স্পোর্টস মিট আয়োজন, ডিএভি জাতীয় ক্রীড়ায় এই স্কুলের সাফল্য অভিভাবকদের সঙ্গেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যক্ষ করেছেন। স্কুলের ছেলেমেয়েরা যাতে সকলেই ভালো ফলাফল করতে পারে সেজন্য নানান চিন্তাভাবনা করেছিলেন শ্রী মজুমদার। আমরা জানতে পেরেছি যেসব ছেলে মেয়েরা পড়াশোনার দিক দিয়ে কিছুটা দুর্বল তাদের বাড়িতে বাড়িতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাঠিয়ে তাদের পড়াশোনায় নিয়োজিত রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। তার এই অনুসরণকারী পদক্ষেপের সংবাদ প্রান্তভূমি সহ অন্যান্য জাতীয় স্তরের সংবাদপত্রে স্থান পেয়েছিল। তার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বহু অভিভাবক তার সাথে দেখা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, পরিবেশ নির্মল রাখার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় গাছের চারা রোপন, স্কুলে রক্তদান উৎসব আয়োজন সমস্ত কিছুই ছাত্রছাত্রীদের কাছে নতুন এক দিক খুলে দিয়েছিল। স্কুলের প্রাক্তনী যারা এখন কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রশাসক, কেউবা সাংবাদিক বা আরো বড় কোন পদে আসীন তাদের স্কুলে এনে বর্তমান পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে শ্রী মজুমদারের প্রচেষ্টা ছিল লক্ষ্যণীয়। এ হ্যানো অধ্যক্ষের বদলিতে মন খারাপ চিত্তরঞ্জন রূপনারায়ণপুর হিন্দুস্তান কেবলস সালানপুরের। তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে প্রান্তভূমির প্রতিনিধিকে সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ডিএভি একটি অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সারাদেশে বহু যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান লক্ষ লক্ষ পড়ুয়াকে জীবনে প্রতিষ্ঠা এনে দিচ্ছে। সেই কাজে তিনি একজন সৈনিক মাত্র। তার লক্ষ্য, এই স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই যেন ভালো থাকেন সেই প্রচেষ্টা জারি রাখা। তিনি যেখানেই থাকুন সেই কাজ আজীবন করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন।@প্রান্তভূমি
দেন্দুয়ার যানজট নিরসনে বিডিও অফিসে বৈঠক, ইসিএলকে এক সপ্তাহ সময় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরের; বিকল্প রাস্তা তৈরির প্রস্তাব
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৬ এপ্রিল:: আসানসোল- চিত্তরঞ্জন রোডের উপর দেন্দুয়া মোড়ের অভূতপূর্ব যানজট নিয়ন্ত্রণে পাকাপাকি ব্যবস্থা নিতে আজ সালানপুর বিডিও অফিসে অতি গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসের পৌরহিত্যে এই বৈঠকে অংশ নেন- ইসিএল বনজেমারির এজেন্ট দীনেশ প্রসাদ, সংশ্লিষ্ট কোলিয়ারির নিরাপত্তা আধিকারিক, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান, সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৈলাশপতি মন্ডল, সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র, তৃণমূল নেতা মুকুল উপাধ্যায়, সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি, কুলটি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ইনচার্জ সৌরভ চৌধুরী, কল্যানেশ্বরী ফাঁড়ির ওসি লাল্টু পাখিরা, সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং, দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি, সালানপুর পঞ্চায়েতের পক্ষে ফুচু বাউরি। বৈঠকে মুকুল উপাধ্যায় বলেন এখন সালানপুর ব্লকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে দেন্দুয়ার যানজট। এই জট ছাড়ানোর জন্য পাকাপাকিভাবে ব্যবস্থা নিতেই হবে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনায় উঠে আসে যে, মূলত ইসিএল-এর কয়লাবাহী ডাম্পার, বড় বড় ট্রাক, ট্রেলার চলার জন্যই যানজটে বিপর্যস্ত হচ্ছে দেন্দুয়া মোড়। সেজন্য ইসিএলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাত ন'টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত তারা কয়লা পরিবহনকারী বাহন চালাক। দিনের বেলায় সকাল সাতটা থেকে রাত্রি ন'টা পর্যন্ত এইসব ভারী বাহনের জন্য "নো এন্ট্রি" ব্যবস্থা কড়া হাতে কার্যকরী করবে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও দেন্দুয়া শিল্প তালুকের মূলত দুটি বড় কারখানা থেকে মালবাহী ট্রাক দেন্দুয়া মোড় হয়ে যাতায়াত করে। সেগুলিকেও কল্যানেশ্বরী হয়ে জাতীয় সড়ক ধরার ব্যবস্থা করবে ট্রাফিক পুলিশ। এরই সঙ্গে ই সি এল কর্তৃপক্ষকে মুকুল উপাধ্যায় একটি বিকল্প রাস্তা তৈরীর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন ধুন্দাবাদ মোড় থেকে ডানদিকে খুদিকা হয়ে মেলেকোলা এলাকার জাতীয় সড়ক পর্যন্ত একটি নিজস্ব রাস্তা তৈরি করুক ই সি এল। তাহলে ডালমিয়া সাইডিংয়ে যাতায়াতের জন্য কোনভাবেই দেন্দুয়া এলাকা প্রভাবিত হবে না। দেন্দুয়া মোড়কে ঘিরে যেভাবে দিনের পর দিন যানজট বেড়ে যাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ মারাত্মক অসুবিধায় পড়ছেন জানিয়ে এদিনের বৈঠক থেকে ই সি এল কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পরে কোনোভাবেই দিনের বেলায় তাদের কয়লাবাহী বাহন চলতে দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক উভয় স্তর থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বনজেমারির এজেন্ট শ্রী প্রসাদ অবিলম্বে ইসিএলের উচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও তিনি বলেন দিনের বেলায় কয়লা পরিবহন করতে না দিলে তাদের কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। কিন্তু এই বিষয়টিতে বিডিও শ্রী বিশ্বাস সহমত পোষণ করেননি। বৈঠক থেকে উঠে আসে যে, এখন দৈনিক প্রায় ৬০০ খেপ কয়লাবাহী ডাম্পার দেন্দুয়া মোড় হয়ে চলাচল করে। ইসিএল কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে দেওয়ায় কয়লাবাহী বাহনের সংখ্যা হাজার ছুঁয়ে যাবে। এত চাপ আসানসোল-চিত্তরঞ্জন রোডের উপর নেওয়া কোন মতেই সম্ভব নয় বলে সকলেই উল্লেখ করেন। সালানপুর এরিয়ার কেন্দ্রীয় সাইডিং বনজেমারিতে হওয়ায় সমস্ত কোলিয়ারীর কয়লা এখানে এসে জমা হওয়ার পর তা অন্যত্র পাঠানো হয়। এই কাজ দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাবে । সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে বিকল্প রাস্তা তৈরীর প্রস্তাব ইসিএল যাতে দ্রুত কার্যকর করে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে চাপ দেন মুকুল উপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। তারা বলেন দেন্দুয়া মোড়কে কোনভাবেই আর যানজটে ফেলা যাবে না। তার জন্য এক সপ্তাহ সময় ই সি এলকে বরাদ্দ করা হয়েছে। বৈঠকের কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট আশাবাদী মহম্মদ আরমান বলেন এই ব্যবস্থা যে কোন মূল্যেই কার্যকরী করতেই হবে। তিনি বলেন গতকাল পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে রূপনারায়ণপুরে এসে বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।@প্রান্তভূমি
চাকরিহারা শিক্ষকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন কংগ্রেসের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১৩ এপ্রিল:: অভূতপূর্বভাবে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। চাকরিহারা এইসব শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা আন্দোলন করতে গিয়ে ডিআই অফিসের সামনে যেভাবে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার প্রতিবাদে সারা রাজ্যে আজ থানাগুলিতে ঘেরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। তারই অঙ্গ হিসেবে সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ি এবং চিত্তরঞ্জন থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। রূপনারায়ণপুরে সালানপুর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অংশুমান মাহাতা সহ সর্বজিত সিনহা ও অন্যান্যরা ওসি অরুনাভ ভট্টাচার্যের হাতে প্রতিবাদ পত্র তুলে দেন। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ পত্রের প্রতিলিপি চিত্তরঞ্জন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন এস কে শাহি সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ পত্রে বলা হয়েছে ডিআই অফিসের সামনে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর পুলিশ যে নির্মম আচরণ করেছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। এমনকি অনশনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে গিয়ে সহানুভূতি দেখাতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সহ অন্যান্যদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে পুলিশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব পুলিশকে বলেছেন সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের জন্মদিনের প্রাক্কালে তারা পুলিশকে মনে করিয়ে দিতে এসেছেন যাতে পুলিশ কোন দলের প্রতি নয়, একমাত্র সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তাদের সঠিক কর্তব্য পালন করেন।@প্রান্তভূমি
মৌমাছির মুহুর্মুহু দংশনে বিপর্যস্ত চিত্তরঞ্জন ৩ নং গেট, হাসপাতালে ভর্তি ৬, গুরুতর জখম ১
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১৩ এপ্রিল।।
আজ সকাল থেকেই চিত্তরঞ্জনে প্রবেশের প্রধান দরোজা তিন নম্বর গেট এলাকায় মৌমাছির মুহুর্মুহু আক্রমণে বিপর্যস্ত হচ্ছেন পথচারীরা। এপর্যন্ত চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে মৌমাছির দংশনে গুরুতর জখম হয়ে ৬ ব্যক্তি ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রত্যেককেই আইসিইউ- এ রাখতে হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাকে চিত্তরঞ্জন থেকে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলেও বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। আজ সকাল ১১ টা নাগাদ তিন নম্বর গেট এলাকায় মৌমাছির ব্যাপক আক্রমণে বহু পথচারী রাস্তায় পড়ে ছটফট করছিলেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান আর পি এফ এবং স্থানীয় মানুষজন। পরবর্তী সময়ে মৌমাছির আক্রমণের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দুপুর দেড়টা নাগাদ ওই এলাকা দিয়ে পারাপার করা মানুষজন আবার মৌমাছির আক্রোশের শিকার হন। তাদের মধ্যে আমলাদহি বাজারের বহু পুরনো ব্যবসায়ী স্বস্তিক ঘড়ি ঘরের মালিক সুশীল দাস। সুশীলবাবু দোকান বন্ধ করে কল্যাণগ্রাম ২/৩ এলাকায় রামকৃষ্ণপল্লীর বাড়িতে ফেরার পথে মৌমাছির আক্রমণের মুখে পড়েন। এই আক্রমণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তাকে বাঁচানোর জন্য সহজে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। বেশ কিছুক্ষণ তিনি অসহায়ের মত মৌমাছির দংশন সহ্য করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অচৈতন্য হয়ে যান। এ সময় সেখান দিয়ে পার হওয়া সমাজকর্মী ছাত্রনেতা মিঠুন মন্ডল অন্যান্যদের সহযোগিতায় সুশীল বাবুকে কোনক্রমে উদ্ধার করে কেজি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত তার শরীর থেকে মৌমাছির হুল বের করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। তবে তার মুখ মাথা এবং শরীরের সমস্ত অংশে যেভাবে হুল ফুটে আছে তা যথেষ্ট অস্বস্তিকর বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
.
.
মাত্র ২ জন পড়ুয়া নিয়ে চলছে একটি গোটা হাইস্কুল! শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষিকাদের বদলির দাবিতে সোচ্চার সিআরএমসি
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১২ এপ্রিল:: একেবারে যাকে বলে উলট পুরাণ - সম্পূর্ণ সেটাই ঘটে চলেছে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের একটি স্কুলে। সিনিয়র বেসিক স্কুল চিত্তরঞ্জন নামের এই হাইস্কুলটি রাজ্য সরকার পরিচালিত। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সারা রাজ্যে যখন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়ে হাহাকার করছেন, স্কুলগুলি চরম সমস্যায় পড়েছে শিক্ষক শিক্ষিকা না থাকায় - সেখানে চিত্তরঞ্জন সিনিয়র বেসিক স্কুলে মাত্র নামকাওয়াস্তে দুজন পড়ুয়া থাকলেও এখানে রয়ে গেছেন ৭ জন টিচার ও একজন ক্লার্ক। যদিও চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং পশ্চিম বর্ধমানের জেলা স্কুল পরিদর্শককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এই স্কুলে ১৩ জন টিচার এবং একজন ক্লার্ক আছেন যাদের আক্ষরিক অর্থেই কোন কাজ নেই। এদের অবিলম্বে এখান থেকে অন্যত্র বদলি করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আজ ১২ এপ্রিল ইন্দ্রজিৎ বাবু সেই চিঠির প্রতিলিপি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দাবি করেছেন এই স্কুলের অবস্থা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানকার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে। ইন্দ্রজিৎ বাবুর দাবি এইসব টিচাররা দিনের পর দিন কোন কাজ না করেই মোটা অংকের বেতন নিচ্ছেন যা সরকারি কোষাগারের অপচয়। চিঠিতে তার অভিযোগ এই স্কুলে মিড ডে মিল ব্যবস্থাও চালু আছে, কিন্তু তার প্রশ্ন - সেই মিড ডে মিল কে খায়! এই বাবদ ধার্য অর্থই বা কোথায় যায়!
যদিও এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল শিক্ষা সেলের নেতা অর্ধেন্দু রায় বলেন, তারা এই বিষয়ে একাধিকবার ডেপুটেশন দিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। সেই ডেপুটেশনের ভিত্তিতে ডিআই বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য এসআই চিত্তরঞ্জনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এস আই স্কুলে গিয়ে সমস্ত কিছু দেখে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। এরপর ডিআই নিজেও স্কুলটি দেখে যান। পরবর্তী সময়ে ডিআই তার রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়ে দেন বলে মাস পাঁচেক আগে অর্ধেন্দু বাবুরা জানতে পেরেছিলেন, কিন্তু তারপর আর কিছুই হয়নি। অর্ধেন্দু বাবু বলেন সরাসরি মিড ডে মিলের ব্যবস্থা এখানে ছিল না। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে সালানপুর বিডিও থাকাকালীন তপন সরকার স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে রান্না করা খাবার এই স্কুলে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি বলেন এখানকার টিচারদের কাছাকাছি মহিলা সমিতি, আছড়া রায় বলরাম বা কল্যানেশ্বরী হাইস্কুলে বদলি করে দিলে ওই স্কুলগুলির শিক্ষকের ঘাটতি কমতো, অন্যদিকে এই
স্কুলটিকে পাশাপাশি কোনো স্কুলের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে যে কজন পড়ুয়া সেখানে ছিল তারাও প্রাণ ফিরে পেতো। কিন্তু কোন কিছুই হয়নি । উল্টে এখানকার টিচাররা অলসভাবে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঘটনা অত্যন্ত অস্বস্তিকর বলে তিনিও মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জন রেল শহরের অত্যন্ত নামকরা স্কুল ডি ভি গার্লস হাই স্কুলের ভেতরের একটি অংশে রাজ্য সরকারের পরিচালনায় এই স্কুলটি চলছে। কিন্তু এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখানকার টিচারদের অন্যত্র বদলি করে সেখানকার শিক্ষক শিক্ষিকার ঘাটতি মেটাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অর্ধেন্দু বাবু বলেন এখন দশম শ্রেণীতে পাঠরত মাত্র দুজন পড়ুয়া আছে। তাদের স্কুলে আসার কোন ঠিক ঠিকানাই থাকে না। অন্যদিকে ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন এইসব টিচারদের এই স্কুলটিতে রেখে দিয়ে বসিয়ে বসিয়ে মাইনে দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ। দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন শ্রী সিং।@প্রান্তভূমি
দেন্দুয়া মোড়কে যানজট মুক্ত করতে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদিক সম্মেলন তৃণমূলের
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১২ এপ্রিল:: দেন্দুয়াকে যানজট মুক্ত করতে এবার আসরে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। কিভাবে আসানসোল-চিত্তরঞ্জন রোডের উপর এই এলাকার অভূতপূর্ব যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেই বিষয়ে আজ হিন্দুস্তান কেবলস শ্রমিক মঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আরমান। ছিলেন সহ-সভাপতি ভোলা সিং এবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র। শ্রী আরমান বলেন এই অঞ্চলের যানজটে এলাকার মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আসানসোল যাতায়াতের ক্ষেত্রে দিনে এক থেকে দুই ঘন্টা এই দেন্দুয়া মোড়ে আটকে পড়তে হচ্ছে পড়ুয়া, অফিসযাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স সহ সমস্ত ধরনের বাহন ও মানুষকে। এই পরিস্থিতি শেষ করার জন্য ইতিমধ্যেই বহু সংগঠন আবেদন নিবেদন করেছে। সেইসবের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বারাবনির বিধায়কের কাছে দরবার করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ১৬ এপ্রিল সালানপুর বিডিও অফিসে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানান শ্রী আরমান। তিনি বলেন ওই বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হবে ই সি এল-এর বনজেমারি সাইডিং যাতে অতি দ্রুত ডালমিয়ায় সরে যায় সেই কাজ অবিলম্বে শেষ করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় শিল্প তালুকে মালপত্র বহনকারী যেসব ট্রাক ট্রেলার ডাম্পার দেন্দুয়া মোড় হয়ে যাতায়াত করছে সেগুলিকে পুলিশ যাতে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কল্যানেশ্বরী বাইপাস হয়ে জাতীয় সড়কে ওঠে তার জন্য ট্রাফিক পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। দিনের বেলায় দেন্দুয়া মোড় হয়ে কোনো বড় ট্রাক যাতে যেতে না পারে সেজন্য নো এন্ট্রি কঠিনভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়াও কোলিয়ারীর ডাম্পার অবশ্যই রাত দশটা থেকে সকাল ছটা পর্যন্ত যেন চলাচল করে সেজন্য দিনের বেলায় তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই বিষয়গুলি অনুসরণ করলে দেন্দুয়া মোড় যানজট মুক্ত হবে বলে এদিন সাংবাদিকদের জানান তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কথা প্রসঙ্গে জানা যায় চৌরঙ্গী থেকে ঝাড়খন্ড পর্যন্ত ৪১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের বিষয়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার কাজ শুরু হতে চলতি বছরের শেষাশেষি লেগে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইতিমধ্যে এই কাজের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট দিল্লিতে গেছে। সেখানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে অর্থ মঞ্জুর করার পর টেন্ডার হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে শ্রী আরমান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন কোনভাবেই দেন্দুয়া মোড়কে আর যানজটে ফেলা যাবে না। তিনি বলেন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন এই বীভৎস অবস্থায় যাদের জন্য পড়তে হচ্ছে তাদের উদ্যোগ নিতে হবে এই রাস্তাটিকে চলাচলের উপযুক্ত করে রাখার জন্য। তিনি বলেন 16 এপ্রিল এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তারা দৃঢ় বিশ্বাসী।@প্রান্তভূমি
বন্ধ ফ্ল্যাটে দুঃসাহসিক চুরি রূপনারায়ণপুরে
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন :: ১১ এপ্রিল।।
রূপনারায়ণপুরে আবার চুরির ঘটনা ঘটলো। এবার বন্ধ ফ্ল্যাটে। রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কয়েক হাত দূরেই হিন্দুস্তান কেবলস রোডের উপর শিবানী অ্যাপার্টমেন্টে ১০ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটেছে। সম্ভবত চুরির বিষয়টি ঘটানো হয়েছে দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা ছ'টার মধ্যে। ফলে দিন দুপুরে এমন ঘটনায় ভয়ানক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্ল্যাট নাম্বার এস-১'এর বাসিন্দা সুমিতা ব্যানার্জি ৯ এপ্রিল জামশেদপুরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গতকাল ১০ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা তাকে জানান যে তার ফ্ল্যাটের তালা ভাঙ্গা এবং দরজা হাওয়ায় দুলছে। এরপর প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে দেখেন শাবল জাতীয় কিছু দিয়ে তালা ভাঙ্গা হয়েছে, তারপর ইন্টারলক ভেঙে চোরেরা ভেতরে ঢুকেছে। খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যাতেই রূপনারায়ণপুর পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে। এদিকে আজ ১১ এপ্রিল সুমিতাদেবী এবং তার জামাতা অভিরূপ জামশেদপুর থেকে ফিরে ফ্ল্যাটের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। তারা দেখেন প্রত্যেকটি ঘরের সমস্ত আলমারি খাট ড্রেসিং টেবিল অন্যান্য বাক্স একেবারে ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ভেতরের ঘরে টেবিলের ওপর একটি পিঠে-ব্যাগ ফেলে গেছে দুষ্কৃতীরা। যার মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি লোহা কাটার যন্ত্র, শাবল, স্ক্রু ড্রাইভার ইত্যাদি রাখা ছিল। এছাড়াও ওই ব্যাগের মধ্যে ধানবাদের একটি গয়নার দোকানের একাধিক খালি বাক্স, জামতাড়ার ঠিকানা দেওয়া এক যুবক ও এক যুবতীর প্যান কার্ড আধার কার্ড এটিএম কার্ড পেনশন তোলার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি ওই ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। এই বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে রূপনারায়ণপুর পুলিশের এক আধিকারিক সুশীল কিস্কু সেখানে গিয়ে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সেগুলি ফাঁড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেতা ভোলা সিং। তিনি পুলিশকে শক্ত হাতে এই ঘটনার কিনারা করার আবেদন জানান। এদিকে একেবারে মেন রোডের উপর এমন চুরির ঘটনায় নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ওই ফ্ল্যাটে কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় পুলিশের পক্ষে তদন্তে কিছুটা অসুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পাশেই একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ছবি তাদের সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে সুমিতা দেবীর জামাতা অভিরূপ বলেন প্রাথমিকভাবে তারা বুঝতে পারছেন ঘরে থাকা কিছু সোনার অলংকার এবং কিছু অর্থ চোরেরা নিয়ে গেছে। তবে সমস্ত ঘরদোর লন্ডভন্ড হয়ে থাকায় এখনো তারা বুঝতে পারছেন না কি গেছে আর কি আছে। এই ঘটনায় তারা মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন সুমিতাদেবী। অন্যান্য বাসিন্দারা থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা একটি বন্ধ ফ্ল্যাটে এমন দুষ্কর্ম ঘটানোর সাহস কি করে পেল তা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না।প্রতিবেশী ধ্রুব সেনগুপ্ত বলেন গতকাল বিকেলে কালবৈশাখী শুরু হয়েছিল। বৃষ্টির গতিপ্রকৃতি দেখার জন্য এক বাসিন্দা বারান্দায় বের হলে দেখতে পান সুমিতা দেবীর ঘরের তালা ভাঙ্গা এবং দরজাটি হওয়ার দাপটে দুলছে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা সেখানে ছুটে গিয়ে বুঝতে পারেন ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। এই ঘটনায় তারা অত্যন্ত আতঙ্কিত বলে উল্লেখ করেন। কারণ তারা বলেন বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত তারা দেখেছেন ওই ফ্ল্যাটে তালা লাগানো ছিল, কিন্তু সন্ধে ছ'টা নাগাদ সেই তালা ভাঙ্গা থাকায় তাদের ধারণা বিকেলের মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গুরুত্বসহকারে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে।@প্রান্তভূমি
চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় আবার দুর্ঘটনা
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ১০ এপ্রিল:: চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় আবার দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক কর্মী। ট্র্যান্সফর্মারে কাজ করতে গিয়ে ৯ এপ্রিল ঝলসে গেলেন সাজন কুমার (৪৪)। তিনি সিএলডব্লুর ইআরএস বিভাগের কর্মী। জানা গেছে, ট্র্যান্সফর্মারে সংস্কার কাজ চলাকালীন হঠাৎই একটি অংশ ফেটে যায় এবং তার আগুনে সাজন বাবুর হাত মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ তীব্র আগুনে ঝলসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেজি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তিনি এখন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
.
.
গ্রীষ্মে জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে মহকুমা শাসকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, পিএইচই'র সঙ্গেই দায়িত্ব নেবে ইসিএল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৯ এপ্রিল:: চলতি গ্রীষ্মে আসানসোল মহকুমার কোন এলাকাতেই যাতে পানীয় জলের সমস্যা না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিল প্রশাসন। যেসব এলাকায় এখনো পাইপলাইনে জল পৌঁছাচ্ছে না সেখানে ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহের বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য আজ, ৯ এপ্রিল আসানসোল মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের পৌরহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে মহকুমা শাসক শ্রী ভট্টাচার্যের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন ইসিএলের সমস্ত এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজারেরা, সমস্ত বিডিও, পিএইচই'র আধিকারিকেরা এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলির সভাপতি ও সহ-সভাপতিরা। বৈঠক প্রসঙ্গে মহকুমা শাসক বলেছেন যেসব এলাকায় জল সরবরাহের প্রয়োজন হবে তা মেটাতে ইসিএল এবং পি এইচ ই উদ্যোগী হবে। জানা গেছে অন্যান্য বছরের গ্রীষ্মকাল গুলিতে পি এইচ ই যে পরিমাণ ট্যাঙ্কার জল সরবরাহের জন্য দিত তা এবছর কম করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়। পিএইচই'র বক্তব্য, অনেক জায়গাতেই পাইপলাইনে জল সরবরাহ করা হচ্ছে তাই সেখানে ট্যাঙ্কার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু জল সরবরাহ সর্বত্র এখনো চালু না হওয়ায় ট্যাঙ্কারের গুরুত্ব যথেষ্টই রয়ে গেছে। ফলে যেখানে পিএইচই'র পক্ষে জলের ট্যাংকার দেওয়া সম্ভব হবে না সেসব জায়গায় যাতে ই সি এল উদ্যোগ নেয় তার ব্যবস্থা এদিন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সালানপুর ব্লকের অন্ততপক্ষে ছয়টি পঞ্চায়েত - সামডি, কল্যা, ফুলবেড়িয়া-বোলকুন্ডা, আছড়া, বাসুদেবপুর-জেমারি, দেন্দুয়া ইসিএলের এলাকায় পড়ছে। এইসব পঞ্চায়েতের যেসব অঞ্চলে পানীয় জলের তীব্র সংকট আছে সেখানে যাতে ইসিএল ট্যাংকার পাঠানোর ব্যবস্থা করে তা দেখবে প্রশাসন। জানা গেছে বাসুদেবপুর-জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় পুরো অঞ্চল, রূপনারায়ণপুরের বড়ো এলাকা, জিতপুর উত্তররামপুর পঞ্চায়েতের নামোকেশিয়া সহ অন্যান্য এলাকা এখনো পাইপ লাইনের জল ঠিকমতো পায় না। গত গ্রীষ্মে সালানপুর ব্লকে জল সমস্যা মেটানোর জন্য পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টি করে ট্যাংকার ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে হতো। এমনও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল যে কোন কোন দিন ৩০০ টাকার জল পাঠাতে হতো। তবে এবার সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন ব্লক প্রশাসন। কারণ বহু জায়গাতেই নতুন পুরনো পাইপলাইন মিলিয়ে পানীয় জলের সরবরাহ চলছে। যদিও এ বিষয়ে সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি কর্তৃপক্ষ মনে করছেন সর্বত্র পাইপ লাইনে জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহ চালিয়ে যেতেই হবে। এই বিষয়ে যাতে পি এইচ ই'র সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট এলাকার ইসিএল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেন তা নিশ্চিত করতেই মহকুমা শাসকের এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে।@প্রান্তভূমি
চাকরিহারা শিক্ষকরা তালা ঝোলালেন ডিআই অফিসে, বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল আসানসোল
প্রান্তভূমি প্রতিবেদন।। ৯ এপ্রিল:: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিলের পর আজ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা ডিআই অফিসে তালা ঝুলিয়ে করিডোরে বসে শ্লোগান দিচ্ছেন । এর আগে শনি মন্দির থেকে শুরু করে বিরাট একটি মিছিল এসবি গরাই রোড ধরে সুকান্ত ময়দানে পৌঁছায়। তবে এই প্রচন্ড গরমে এবং চাকরি হারানোর উদ্বেগের মধ্যে একাধিক শিক্ষক রাস্তাতেই বেহুঁশ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিক্ষুব্ধ চাকরিহারা শিক্ষকদের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশি ব্যবস্থাও আঁটোসাটো করা হয়েছে। র্্যপিড অ্যাকশন ফোর্স, পুলিশ এলাকায় মজুত করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শিক্ষকরা ক্রমাগত শ্লোগান দিতে দিতে বলেন, ডিআই অফিসে তারা কোন কাজ হতে দেবেন না। অবিলম্বে তাদের শিক্ষক পদে নিয়োগ করে হারানো সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা বলেন আদালত এবং সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পরিষ্কার রাস্তা বের করুন। তাদের দাবি দুর্নীতি যারা করেছেন তারা শাস্তি পান, কিন্তু শিক্ষকদের সাজা দেওয়া চলবে না। তারা বলেন তারা যোগ্য বলেই এতদিন শিক্ষকতা করেছেন, স্কুলে গেছেন; আজ বেতন বন্ধের কোন সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। ডি আই এই বিষয়ে কেন চুপ সেই প্রশ্ন তুলে তারা বলেন তাদের কাছে ডিআইকেই জবাবদিহি করতে হবে।@প্রান্তভূমি



























.jpeg)
